শ্রীমল্লার বলছি কে?
শ্রীমল্লার বলছি কী? বৃষ্টি থেমে যেতে যেতে রোজ---দেখেছি জলের কাছে এতবড় বাড়িও সহজ।বাবা মা’র মাঝখানে আমি একা পার্থিবশোক।তবু আমি মা-বাবার রোজ। এতবড় বাড়িটারও, জলে মন নেই---তবু জল তার নিয়ে যায় খোঁজ।মা জানে আমার প্রেম, হেরে গিয়ে উঠে আসে রোজ।বুকের মধ্যে ভয়। আর আমি যতই হই---বাবার প্রেমের কাছে মেনে নিই পরাজয় রোজ।আমি আর কোথায় সহজ? ... ...
তাকে তুমি আটকে রাখো ঘরে। ম’রে যাক অন্ধঅনাহারে...সবটুকু নিয়েই তো জীবন। ভালবাসা কিনতে এসে জানি, মৃতপ্রায় গোধূলিরমণী। বয়স্ক, আদিম এই শ্রাবণ... তারকা মহাত্মা। তবু সফল। তৈরি হ’য়ে ওঠে মৃতআদল। বিপরীতে স্নিগ্ধ নম্রযোনি। এ সময় তুলতে এসে হাতে, কবিরা ম’রেছে অপঘাতে। বিজ্ঞাপনের দিকে উড্ডীন, ভ্রাম্যমাণ জয়–মায়ের ঠোঁটের দিকে তাকাই না। অজানা এক ভয়... ... ...
হেরে গেছো তুমি–অথচ তোমার স্নায়ু শান্ত মরুভূমি। রাত নেমে আসে। বাবার অফিস ছুটি। সন্ধেবেলা তাড়াতাড়িবৃষ্টি নেমে আসে। আমার সহজমা—সকালে কলেজে যায়, রাত্রে বাবাকে ভালবাসে। এইভাবে দিন হ’য়ে আসে। চারচাকা ক’রে বাবা, দূরেচ’লে যায়। মাও হাসে। কলেজে যাওয়ার আগে, মা আমায় ব’লে যায়— ‘সুতপা মুছবে ঘর। বিন্তি তোমাকেখেতে দেবে।’ ... ...
১চলো সন্তাপ ঘুরে আসি। চলো... আমার বাবার চাকরি, আমার মায়ের চাকরি আর আমার চাকরি মাথায় নিয়ে চলো শহর থেকে গ্রাম, দার্জিলিং থেকে পুরী.... আর মাঝখানে বাবা মা আর আমাকে রেখে যাও প্রজ্ঞার সামনে। প্রজ্ঞাকে আমি ভালবাসি না। কিন্তু প্রজ্ঞা আমাকে ভালবাসে। এটা কোনওভাবে হোক প্রজ্ঞা, মা আর বাবাকে বোঝাতেই হবে। যদি খুব এলোমেলো বাজেগন্ধে কথা বলি, তো মার্জনাফার্জনা কোরো, কেমন? ২তারপর রাজপুত্তুর গেল কন্ডোম কিনতে। ততক্ষণে আমি চান সেরে বেরিয়ে কাকের আওয়াজ শুনছি। যাচ্চলে! কাকের ডাক... যাইহোক! যে বৌদিরা দুপুরে একা একা শুয়ে থাকে..... না, শোয় না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে... তাদেরকে আদর ক’রে আসি— আমাদের এই ছ’তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে। এরইমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছে। পুলিশের ঝাঁক দিশাহারা ... ...
মিশেছে মেঘে মেঘে আহত ঘোড়ারা... বাতিল বিচ্ছেদে, যৌনপরিধান! সেজেছে জলদোষ, কপালে বৈভব–বাতিল বিচ্ছেদে, লাজুক কৌরব। তবুও চোরাপথে রিকশা হৃদিবাঁক—বাতিল বিচ্ছেদে, ইশারা ছোঁবে হাত। মিশেছে মেঘে মেঘে আহত ঘোড়ারা... তোমাকে উপহারে, জাহাজ তোলা থাক। ... ...
শুনেছি মানুষ আকাশের চেয়ে বড়–বাতাস যেমন পথে নামে বিদ্রোহে। পাপ ক’রে বলি, ‘ভগবান ক্ষমা করো...’অথচ কিন্তু অবশেষ নেই মোহের। এই পৃথিবীতে বিশ্বাস ভাঙা সহজ–মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে বুঝেছি।অবসরে গিয়ে আকাশের কাছে রোজ—মাথা নীচু ক’রে ঘরে ফিরে এসেছি। ... ...
জবাব দাও লিখতে না জানলেও, লেখার চেষ্টা করতে থাকে যারা— তাদেরই মধ্যে আজ দেখতে পাচ্ছি, শ্রীমল্লারকিশোর। যারা প্রাক্তনবান্ধবীর প্রশংসাকে পৌরসভার ময়লা নিতে আসার গাড়িতে তুলে দেয় আর গণ্ডির বাইরে না বেরোতে পেরে, বাবা-মা’র দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করে— ‘কেন জন্ম দিয়েছিলে আমাকে? জবাব দাও!’ প্রশংসা আর ক্ষতি‘না রে আমার জীবনানন্দ পড়া হয়নি। দিব্যেন্দু পালিত অল্প অল্প জানি। এসবের বাইরে সিলভিয়া আর এলিয়ট আমার কাছেরপ্রিয়। আর তোর কবিতা পড়ছি। নতুন রকমের ভাবনা আর ছন্দ নিয়ে বেশ একটা ব্যাপার স্যাপার, বেশ লাগছে। তুই লেখ। লিখে চল...’ প্রাক্তনবান্ধবীর বর্তমানবার্তা এমন। কল্পনা করা যেতে পারে, কতটা গভীরভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রীমল্লারকিশোরেরা! ... ...
কেন, কারণকঠিননালিশ কাজল দিলিকাজল দিলি বান্ধবীকেহতে পারিস পছন্দঝোঁকআমাকে নে নিজের কোরে।জব্দহন্যে মেঘ মোছালিমেঘ মোছালি বৈঋণীকেযেমনভাবে আহাদারুণবলিস চ’লে যাওয়ার পরে।গতিশীতল চোট লেখালিচোট লেখালি নবীনফাঁদেকারণ জানা উচিত ছিল,‘কেন’ হওয়ার অনেক আগেই... চলো, এক্ষুনিদাওদরিদ্র, পাওদরিদ্রসাধ্য মতোই ভরিয়ে দাওনাওআনন্দ, যাওআনন্দশিক্ষা দেওয়ার সাহস নাওখাওঅপূর্ব, চাওঅপূর্বসময় মতোই খাবার খাওদাওদরিদ্র, যাওআনন্দ—রোদের মধ্যে লাইন দাও ... ...
বলতে পারো ছিঁড়তে পারো মারতে পারো আমায়আকাশ লিখে নামিয়ে দেবো দুরন্তসহনায় জানতে পারো ডাকতে পারো ছাড়তে পারো আমায়ভুল হবে না কোনওমতেই তারার প্রতীক গোনায় ছাড়তে পারো ফিরতে পারো মারতে পারো আমায়তোমার সঙ্গে আমার যেমন দূরত্বকে মানায় ... ...
শোনো প্রেমিক হও, বান্ধবীদের আগলে রাখো। ভালোবাসো। ভুলেও তোমার নিজের সঙ্গে গোপন কথোপকথন, প্রকাশ কোরো না খুব বৃষ্টিদিনে।তার চাইতে এসো, বরং আমরা দেখা করি। বন্ধু হই, ভালবাসি–আর শোক করা ছেড়ে দিয়ে রাতের অপেক্ষায় থাকি। তারাদের কোনও অভিমান-অভিযোগ নেই।কেন তুমি জীবনকে ভালবাসছ না? উত্তর যদি থাকে, আমাকে A4 সাইজের পেজে লিখে কবিতার ঠিকানায় পাঠিয়ে দাও। দেখে নেবো। ... ...