সন্দর্ভ ওড়ে। তার বাতাসে দমবন্ধ। বিপদ মাসোহারা। সেও অনুপ্রীতিপ্রবণ...সামলে ওঠা সহজ। জানি সম্ভাবনা অমিল। আটকে রাখো পিরিত। সাজায় গন্ধেমৃত মানব... দোতলা নেই হৃদয়। প্রেমের শিখাশিশ্ন উঁকি। সন্দর্ভ ওড়ে। তাও আকাশ মেঘলাবাহক...কঠিন আততায়ী। আরাম পিছলে চেনে অবাক। গণিতপ্রিয় বালক। রাখে ঘোড়ার পায়ে পূজা... ... ...
আমাকে আজ শান্তি দে তুই একটু জীবন। আর পারি না অশান্তিতে বাঁচার লড়াই...কবি হওয়ার ঝক্কি আছে। তাই তো এখন—কবি হতেই সারাটাদিন ইচ্ছে করে,কিন্তু তখন, কিন্তু তখন ব্যস্ত কাজে। চাকরি করি।আমার প্রিয় জীবন তো তুই চিনিস আমায়...সারাজীবন লিখব ব’লেই ২৩ সালের,২৩ সালের অক্টোবরে কলেজ ছেড়ে—নতুন নতুন ডাইরি কিনে লেখার শুরু।আমাকে আজ শান্তি দে তুই একটু জীবন। আর পারি না অশান্তিতে বাঁচতে এখন!মাথার মধ্যে ছিঁড়ে খাচ্ছে দৃশ্যকোটি। Chaos... Chaos... অথচ চোখ নিভতে আসে। সময় কোথায়?লেখার থেকে দূরে এসে এখন ভাবি—কেন এলাম? কেন এলাম? এতটা দূর?লেখার কাছেই ফিরতে চাইছি, অথচ আজ—নিজের হাতেই মরছি নিজে। আমিই দোষী...শ্রীজাতকে বলেওছিলাম, ‘প্রস্তুতিকে দেখা যায় না।’এসব ভাবনা এখন অতীত। হাসিও পায়। আজকে ... ...
এই তো সময়। বৃষ্টি দেখার। এই তো সময়। যখন মেঘ আসছে, শহরকে অন্ধকারে ঢেকে দিতে৷ এই তো সময়। ঘরের জানলা বন্ধ করার বদলে খুলে দেওয়া ভালবেসে। বৃষ্টি। কী ঝড়। কী তাণ্ডব। দুর্যোগের ভয়ংকর রূপ। স্মৃতির সঙ্গে তর্ক এবং কথাবন্ধ শেষমেশ। দুর্যোগ আসছে জন্ম পেরিয়ে। বাইরেটা অন্ধকার। কথাবন্ধ রেখেছি। তবু ভাষা পেয়েই চ’লেছে আমার নবীন কবিতাবাতাস... ... ...
তবে বাবার ফোন নম্বর আর মুখস্থ রেখো না। এমনকী মনেও রেখো না। মায়ের মুখ ভুলে যাও। যদি মনে আসে, তবে জেনো সেটা অভ্যেস। কৃষ্ণনগর ছেড়ে কলকাতা ছেড়ে আরও দূরে, আরও অন্য কোথাও গিয়ে শুধুমাত্র মনে রেখো প্রজ্ঞার তোমাকে লেখা চিঠির সেই বিশেষ অংশটা: “অন্যের সাহসকে কখনও অনুকরণ করবি না। তোর ভেতর থেকে যে সাহস বাইরে প্রকাশ পেতে চাইছে, তাকে বেড়ে উঠতে দিস। শুধু জানবি যে, সাহস স্বতন্ত্র আর স্বাধীন। সাহস কারও অধীনস্থ নয়। তোর সাহস, তোর জন্ম। তোর ভয়, তোর মৃত্যু।” জীবনকে কোনও উপমায় আমি বাঁধতে চাই না। জীবন যতটা সম্ভাবনাময়, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। বুঝলে বন্ধু? ... ...
যা যা দেখতে পাচ্ছি, তাই তাইই তোমাকে বলব। জেনে রেখো, আমার কবিতা গল্প ছাড়া আর কোনওদিন কিচ্ছু, কিচ্ছুই বলেনি। ভাতের হোটেলে খুব দুপুরভিড়। ম্যাগাজিনের দোকানে মাছিও নেই। কে পড়বে তবে এত লেখা? তরুণ যে কবিরসদ্য কবিতা প্রকাশিত হ’তে শুরু করেছে, তার লেখা কে পড়বে? আমি জানি, খুবভালমতোই জানি যে, গণপিটুনি বিষয়েদু’চার কথায় একটা ছোট্ট কবিতা লিখেছিল আমাদের তরুণ কবি। আর লিখেছিল, আলিপুর চিড়িয়াখানা আর ভিক্টোরিয়ার মেঘকেন এত বেমানান— সে বিষয়ে। আমি ভেবেছিলাম, আমাদের তরুণ কবি অন্যমনস্ক। পরে ভেবে দেখেছি, আমিও কি বৃষ্টি বিষয়ে পড়াশোনা করেছি কিছু? মনে পড়ে না! পড়েই না!... তরুণ কবি লিখুক। সে আমার চেয়েও অনেক বেশি পড়ুয়া। অনেক বেশি দৃশ্য দেখেছে, ঘরের চার দেয়ালের বাইরে। কৃষ্ণনগরের গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে যে মানুষটা ঝালমুড়ি ... ...
দেখতে দেখতে গুরুচণ্ডা৯-তে কবিতা জমা করছি একবছর হ’য়ে গেল। এই একবছরে আমি কবিতা কী, কবিতা কীভাবে লিখতে হয়, কবিতা কীভাবে আসে, কবিতা কীভাবে লেখা হয়— এসবের কিছুই জানিনি। শিখিওনি। শুধুমাত্র কবিতা কীভাবে ফিরে যায়, সে দৃশ্য দেখেছি কত না বার! কবিতাকে কিছুসময় ফিরিয়ে দেওয়াটাও আসলে একটা শিল্প। যে কবিতা লিখে আমি আগের তুলনায় এগোব না, এমনকী কবিতাও কোথাও এগোবে না— সে কবিতা লেখার চাইতে না লেখাই ভাল ব’লে মনে করি। এখন মনে হয় আরও বেশি। গুরুচণ্ডা৯-তে যখন নিজের কবিতা জমা করতে শুরু করেছিলাম, মনে আছে, রঞ্জন রায়, কেকে, যদুবাবু, র২হ, অরণ্য, রমিত, অরিন এবং আরও অনেকেই আমাকে ভরসা আর সাহস দিয়েছিলেন মনোযোগী ... ...
তোমাকে ভালবাসি ব’লে–গিয়েছ অজুহাতে চ’লে। এখন ফিরে আসা বারণ... অনামী কবি আজ আমি–শিল্পে বিরহ সময়ই। কলেজ ছেড়েছি তো, কারণ— আমার মন শুধু লেখায়। ঝড়ের গতিবিধি মেপে, ভাসিয়ে সাদাপাতা সঁপে—অরণি হাওয়া মোছে এখন... এখন ফিরে আসা বারণ... তোমাকে ভালবাসা বারণ... আমার মন শুধু লেখায়, তোমার নাম নেওয়া বারণ। ... ...
সাহস এবং আগুন পাশাপাশি—বানিয়েছিল অসীম তাড়না। দূরে গিয়েও আবার কাছে আসি, তখন তুমি আমায় চেনো না... প্রতীক এবং সহজ সোজাসুজি—ছাড়িয়েছিল দিগন্তের মন। এখন আমি ততটুকুই বুঝি, যতটা আজ বোঝার রাখি মন... দূরে গিয়েও আবার কাছে আসি, তখন তুমি আমায় চেনো না... আমার মুখে কবিসুলভ হাসি, তোমার ঠোঁটে শিকারছলনা! ... ...
আয় শত্রু যায় শত্রুখায় দস্যু বিদ্যুৎআয় সৃষ্টি যায় বৃষ্টিচাই নিম্নে চারখুঁতধ্যাৎ তন্বী থাক আর্তিহাতবন্যা মারকুটতুই চাইলে সব পারতিশোকশিল্প তোর দূত ... ...
বন্ধ বাতাস। একলা জীবন। সমীক্ষা ভুল।কবির কাছে সকালবেলার আকাশও ভুল।মেঘ পুরোনো। উটকো ব্যথা। হৃদয়গণিত। কবির কাছে নতুন লেখাও অপেক্ষানীল। সন্ধে নামে। সূর্য লুকোয়। বৃষ্টিসহজ। কবির প্রতি দুঃখ এলে, করবে কী মন?জানছে সময়। ছদ্মগোপন। অরণ্যশীত। তরুণ কবির স্বীকৃতিও অপেক্ষানীল। ... ...