জেলের আখ্যান আমরা কম পড়িনি। কমবয়সে সতীনাথ ভাদুড়ির জাগরী পড়েছি। জুলিয়াস ফুচিক পড়েছি। জয়াদির হন্যমান পড়েছি। মীনাক্ষী সেনের জেলের ভিতরে জেল পড়েছি। কিন্তু সবই বহুদিন আগের। নিদেন পক্ষে সত্তরের দশকের। তাহলে জেল কী উঠে গেছে? রাষ্ট্র কি নরম-সরম-পেলব বার্বি-পুতুলে পরিণত? তাই যদি হবে, তো প্রায় পঙ্গু সাইবাবা জেল খাটতে খাটতে মরে গেলেন কেন? উমর খলিদ কদিনের মাত্র জামিন পেয়ে আবার জেলে কেন? আসলে রাষ্ট্র ততটা বদলায়নি, যতটা আমরা বদলে গেছি। যে মস্তিষ্কগুলো চল্লিশ-বছর আগে কিছু চিন্তাভাবনা করত, এখন টিভির সান্ধ্যকালীন খেউড়কেই রাজনীতি ভাবে। টিভি যদি দেখায় আফগানিস্তানে তালিবান খারাপ তো খারাপ, ইরানে খুব অনাচার তো অনাচার। নইলে কিছু নেই। পশ্চিমে এটা ... ...
সাংসদ এবং তারকা দেবকেও নাকি হল পেতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। হবারই কথা, কারণ, বাংলা সিনেমা ব্যাপারটাই উঠে যেতে বসেছে। কাগজে পড়লাম, ২০২২ এ বাংলা সিনেমা রিলিজ করেছিল ১৭০ টা। ২০২৩ এ ১৩৭। আর ২০২৪ এ শুটিং হয়েছে মাত্র ৩৪ টার। রিলিজ তো পরের কথা। এর একটা কারণ বলা হচ্ছে ফেডারেশনের দাদাগিরি। আর একটা কারণ সম্পূর্ণ উহ্য থাকছে, সেটা হল বঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযোজক যে সংস্থা এসভিএফ, যারা একই সঙ্গে ডিসট্রিবিউটর এবং মালটিপ্লেক্স-মালিকও বটে, হাতে আবার হাতের-পাঁচ ওটিটিও আছে, তাদের বাংলা সিনেমা নিয়ে বিশেষ হেলদোল তো নেইই, বরং বাংলা সিনেমাকে হল না দেওয়াটাই তাদের ব্যবসার পক্ষে ভালো। কারণ, তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, তারাই পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ডিসট্রিবিউটর। ... ...
গতকাল শ্রী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তিলোত্তমার বাবা-মাকে নিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছেন 'দা প্রিন্ট'এ। তাঁকে নাকি হোয়াটস্যাপ করে মামলাটা ছেড়ে দিতে বলা হয়। তিনি বলেছেন, "আমি চিঠিটা পড়ে খুবই আহত(শকড) হয়েছিলাম। পড়ে মনে হয়েছিল কোনো আইনজীবীর ভালো করে করে মুসাবিদা করা। আমার মনে হয়েছিল ওঁরা প্রভাবিত হয়েছেন, কে করেছে জানিনা, এবং আমাকে সুপ্রিম কোর্টের বিষয়টা ছেড়ে দিতে বলেন।" এটা বড় অভিযোগ না। বড় কথাটা বিকাশ বলেন ... ...
আজকে এবিপি আনন্দে সুমন্দে দেখি অন্যরকম একটা কোট পরে পিছনে লাইব্রেরি সাজিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখাচ্ছেন। একাত্তরে কী হয়েছিল সেই নিয়ে, সঙ্গে কিছু হুঙ্কার। হাতে আবার একটা বই। দেখে মনে হল, ঠিক যেন ৬২ সাল। সুমন্দে অবশ্য তখন জন্মাননি, আম্মো না, কিন্তু কী হয়েছিল, সবার জানা উচিত। হয়েছিল চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ। দেশে তখন এর চেয়েও বেশি মার-মার-কাট-কাট পরিস্থিতি। কমিউনিস্ট পার্টি কার্যত দু-টুকরো, বুদ্ধিজীবীরা গর্জে উঠছেন, দেশ পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে সম্পাদকীয়, যার নাম "শত্রুকে ঘৃণা"। তার অংশবিশেষ এরকমঃ "শ্রী নেহেরু ও রাষ্ট্রপতি শ্রীরাধাকৃষ্ণন দুজনেই উপদেশ ... ...
আমি বাংলাদেশ থেকে সোমা বলছি রে। এত কষ্ট পেয়েছি আর চুপ করে বসে থাকতে পারছিনা। তোরা নিশ্চয়ই খবর পেয়েছিস, যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, কিন্তু আসলে কী জিনিস যে হচ্ছে ভাবতে পারবি না। এখানে চারদিকে শুধু মোল্লা। সবাই লুঙ্গি তুলে ঘুরছে। কী আর বলব, আমাদের শুধু একটা রাত দখল হয়েছিল, বাকি সব ফ্লপ, আর এখানে প্রতি রাতেই ডায়রেক্ট অ্যাকশন। মোল্লারা রাত দখল করো। সে কী হল্লা রে ভাবতে পারবিনা, আরবীতে স্লোগান দিচ্ছে, জল্লাদ আও, কল্লা লাও, মোল্লালোগ হালাল হিন্দু খাও। নিজেরা কাঁচা খাচ্ছে, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাবাব বানিয়ে বৌ-বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে। পুরো জাতটাই নরখাদক হয়ে ... ...
হইচইয়ের একটা সিরিজ নিয়ে হইচইয়ের চোটে দেখেই ফেললাম, তার নাম 'তালমার রোমিও-জুলিয়েট'। সে এক অপূর্ব জিনিস। ঝকঝকে ক্যামেরা, দুর্ধর্ষ সাউন্ড, অসাধারণ সম্পাদনা, চৌকো চৌকো ফ্রেম, মাঝখানে একটা থাম, দুদিকে দুজন কুচক্রী, এইসব ঝিনচ্যাক ব্যাপার, দেখলেই শেক্সপিয়ারের কথা মনে পড়ে যায়। কিন্তু অপূর্ব সে জন্য না, এই কারণে, যে, এত ভালো ভালো জিনিস দিয়ে যে একটা আস্ত অশ্বডিম্ব প্রসব করা যায়, এ না দেখলে জানা যেতনা।বাংলার ব্যক্তিত্বরা কেন শেক্সপিয়ার, ইবসেন এসবে নালেঝোলে হন সেটা অবশ্য এমনিই জানা নেই। এঁরা লোক খুবই ভালো, কিন্তু নাটকগুলো, বিশেষ করে শেক্সপিয়ার তো বহু ... ...
বাংলাদেশে খুব খারাপ লোক ছিলেন শেখ হাসিনা। একবার "আমি হাসিনা" বলায় জ্যোতিবাবু নাকি বলেছিলেন "আমিও হাসিনা"। ফরাসিরা পরে এটাকেই টুকে জে-সুই-শার্লে করে দেয়। হাসিনার মূল দোষ ছিল, তাঁর পুরো পরিবার ফৌত হয়ে গেলেও তিনি বেঁচে। তাই বাংলাদেশে "আমরা হলাম রাজাকার" স্লোগান দিয়ে একাত্তরের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ২০২৪ এ একদল মেধাবীর উত্থান হয়। হাসিনা তাদের উপর গুলি-টুলি চালিয়ে দেন, কিন্তু এ তো বাবা মেধাবী ছেলেপুলে, একাত্তরের মাথামোটারা নয়। তারা মেটিকিউলাসলি প্ল্যান করে হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল। পৃথিবীতে হুলুস্থুলু পড়ে গেল। এপারের বাঙালিরা হাঁ করে তাকিয়ে বলল, "উফ কিছু দেখাল বটে। কত লোক।" শুনে সবাই বলল, "ঠিক ঠিক। কত লোক"। এরপর ... ...
তাপস পালকে মনে পড়ে? একদা বাংলার মহানায়ক, তারপর জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে তাঁর একটা ভিডিও ফাঁস হয়। কোনো এক কর্মীসভা বা ওই জাতীয় কিছুতে তিনি গরম-গরম বাণী দিচ্ছেন, ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব। খুবই নিন্দেমন্দ হয়, আমিও করেছিলাম। তৃণমূল তাপস পালকে আর টিকিট দেয়নি। এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু জিনিসটা তারপর জিনিসটা ক্রমশ মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ার দীর্ঘস্থায়ী খাপে পরিণত হয়। তারপর রোজভ্যালি কাণ্ডতে গ্রেপ্তার হন তাপস, এক বছর পরে ছাড়াও পান, সিবিআই য়ের আর চাট্টি গ্রেপ্তারির মতো এটাও স্রেফ ফালতু। কিন্তু এটাতেও সমর্থন করার মতো কেউ ছিলনা। তাপস জেল থেকে ছাড়া ... ...
পশ্চিমবঙ্গে যখন বামফ্রন্ট সরকার সবে তৈরি হয়েছে, ইরানে তখন বিপ্লব হল। এর দশ-বারো বছর আগে বাংলায় যখন নকশালবাড়ি, ফ্রান্সে তখন চতুর্থ ফরাসি বিপ্লব। দুটোই ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে ফরাসি বুদ্ধিজীবীরা ইরান দেখে লাফিয়ে উঠলেন। মিশেল ফুকো তখন মধ্যগগনে। ফরাসি বিপ্লবের সময় তিনি লিফলেট বিলিয়েছিলেন, আর এই সময় 'যৌনতার ইতিহাস' প্রথম খণ্ড বেরিয়ে গেছে। উৎসাহ পেয়ে জীবনে প্রথমবার ফুকো সাংবাদিকতা শুরু করলেন। সোজা চলে গেলেন ইরান, খোমেইনি সহ একগাদা সাক্ষাৎকার নিলেন। তারপর যে লেখাগুলো ... ...
বন্ধুরা, আমি সোমা বলছি। এত কষ্ট হচ্ছে, যে, এইভাবে আর বসে থাকতে পারছিনা। এই ধরণের জিনিস যে ঘটতে পারে, কখনও ভাবিনি। ওরা বলছে দীঘায় কিছু হয়নি, সব নাকি উড়িষ্যায় হয়েছে। কোনো ফ্লাডের কোনো ছবি তোরা দেখতে পাবিনা। কিন্তু সত্যি কী ঘটেছে, তোদের বলি। তোরা তো সবাই জানিস, দীঘায় একটা গার্ডওয়াল আছে। পাথরও ফেলা আছে। ওটার উপর দিয়ে বন্যার ছবি তুলবে বলে তিনদিন ধরে ঠিক করে রেখেছিল কিছু ভ্লগার। ওদের তাই বারণ করা হয়েছিল ... ...