চন্দননগর, বগুলা, বেহালা এসব অসংখ্য আটপৌরে লিটল ম্যাগাজিন মেলাই লিটল ম্যাগাজিন মেলা। কলকাতা বইমেলা পুরোটাই বাণিজ্যিক যেখানে লিটল ম্যাগাজিনের স্পেস বাথরুমের ধারে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকলে বইমেলায় যাওয়া যায়। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়নেও মূলত ব্যবসাই হয়।না হলে সেখানে এতো বই বিক্রি হবে কেন? আমি বছর দুয়েক সেখানে যাই সে উদ্দেশ্যে। বই বিক্রি করতে। আগে কিছু লেখক কালেকটিভে আড্ডাবাজি করতে, বই বিক্রি ... ...
আমি কিছুদিন স্কুল শিক্ষা বিভাগের ওএসডি ডিডিও ছিলাম। একদিন দেখলাম কলকাতার কিছু প্রাথমিক শিক্ষিকা এসে মরিয়া হয়ে একে ওকে বলছেন তাঁদের অন্যত্র ট্রান্সফার করে দিতে। একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম তিনি দশ বছরে কোন ছাত্রের মুখ দেখেননি। সেটা ২০১৭। তার মানে বামফ্রন্টের শেষ টার্ম বা তারও আগে থেকে এরকম চলছে। কয়েক বছর পরে দেখা গেল এরকম কয়েক হাজার স্কুল উঠে গেছে। কলকাতার ভেতর কর্পোরেশনের বেশ কিছু স্কুল ছিল। তার কটা আছে কে জানে। দীর্ঘদিন ধরে প্রথমে শহরে আর এখন গ্রামেও সরকারী স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমছে। কাজ চালাতে, টিঁকে থাকতে ভুয়ো নাম ... ...
বুঝতে পারছি না এই মামলাটা কি অন্য মামলার সঙ্গে জড়িয়ে নেই? যদি থাকে তবে সেগুলোর নিস্পত্তি না হলে কী করে "দোষী" সাব্যস্তকরণ হবে? কী করে বোঝা যাবে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য? তা না করে শুধুমাত্র সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টির ব্যাপারটা থেকে শুরু করে নিয়োগ পদ্ধতির মূল্যায়ন করা হলো। তাতে রীতি বহির্ভূত পন্থায় নিয়োগ হয়েছে প্রমাণ করে পুরো প্যানেলটা খারিজ করা হয়েছে। এই খারিজের যুক্তিযুক্ততা নিয়ে পুরো আলোচনাটা হয়েছে এই রায়ে। অন্য সমতূল্য মামলার রেফারেন্সও আছে নিশ্চয়। এই চিন্তনের যুক্তি যুগিয়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য এ্যান্ড কোম্পানি। এটা বিচার পদ্ধতিকে একপেশে করেছে। কানুনের অন্ধত্বই প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আজ সংখ্যাতিরিক্ত ... ...
কী যে হচ্ছে বোঝা মুশকিল ! আমাদের সৈকতই ঠিক করছে। সে এ সময়টাকে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে নানা প্যারোডি গানে সব অলীক অলীক বাইনারির মধ্যে দিয়ে। কিছুদিন ঔরঙ্গজেবের তিনশো বছরের কবর নিয়ে সবাই পড়লো অর্থাৎ শম্ভাজি-ঔরঙ্গজেব বাইনারি। তারপর দেখা গেল দোল মানে হোলি যারা খেলে আর খেলে না তাদের অর্থাৎ হিন্দু মুসলিম বাইনারি। সে নিয়ে কদিন খুব চললো তারপর ওয়াকফ বিল লোকসভায় পাশ হয়ে গেল। ইতিমধ্যে রামনবমী ঘিরে সাজো সাজো রব। সেখানে যথারীতি হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা - কী হয় কী হয় ভাব। ইতিমধ্যে নেপালে যোগীজি আর সেখানকার প্রাক্তন রাজার ছবি ... ...
একটা বড় কাজ শেষ করলাম ডকুফিকশন আলমগীর। ওটাকে ধরে প্রচুর ব্লগ লিখেছি আর সেসব নিয়ে দুটো বিষয় ভিত্তিক বই - মনোগ্রাম বেরিয়েছে গঙ্গা যামুনি তেহজিব - হিন্দুস্থানের মিশ্র সংস্কৃতি ২০২৩ এ আর মোঘলকথা ২০২৫। এসব করার আমি কে? আমি কি ইতিহাসের পণ্ডিত? তবে আমি কেন করলাম? আনন্দের বিষয় এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না আজকাল। হিন্দুত্বের রমরমার যুগে পপুলার হিস্ট্রি সম্পৃক্ত যুক্তিবাদী পলিটিক্যাল ন্যারেটিভকে গ্রহণ করার লোকের অভাব নেই। তাই ওই দুটো বই জনপ্রিয় হয়েছে আরো হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। বাঙালি ভদ্দরলোক জন্ম বদ আর ইংরেজ দেখলে ল্যালা করলেও ব্ল্যাকশিপদেরও বাজার আছে অতএব আমারো ... ...
আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের ধারণা মোঘল আর মারাঠা বা অন্যদের ওপর আরোপ করে একটা বাইনারি তৈরি করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এটা আলোচনাতেই আসে না যে সেসময়টায় জাতি রাষ্ট্রের ধারণাই ছিল না। এই যে এতবড় মোঘল স্টেটের ম্যাপ দেখানো হয় সেটা ব্রিটিশদের আঁকা। তখন ম্যাপের ধারণাই ছিল না। ফিরিঙ্গীরা এই স্পেসিয়াল ইমেজিংয়ের বা কার্টোগ্রাফিক ম্যাপের ধারণা নিয়ে আসে। ঔরঙ্গজেবের না ছিল ম্যাপের ধারণা, না ছিল এখনকার মতো সেন্ট্রালাইজড আর্মি। সঞ্জয় সুব্রামনিয়ম মোঘল স্টেটকে বলেছেন এ্যালায়েন্স স্টেট। ফারহাত হাসান বলছেন শেয়ারড বেসিস অফ সভরিনিটি। মোঘল যুগে এমনকি সেন্ট্রালাইজড ট্যাক্সও ছিল না। স্থানীয় রাজারা মোঘলদের জন্য ট্যাক্স তুলত আর সে করতে গিয়ে নিজেরা ঝাড়ত ... ...
আমার ওতো জানার সুযোগ নেই কেমনে একাদেমি দেয়। ওসব ভদ্দরলোকী খবর জানার ইচ্ছেও নেই। এই পরিস্থিতিতে চাড্ডি ষড়যন্ত্রের থেকে অন্য কিছু প্রাসঙ্গিকও নয়। ভদ্দরলোক অবশ্য সেটা মনে করে না। সে আগে সাহেবের গুখোরি করত। মাঝে কংগ্রেস আর এখন চাড্ডির গোমস্তাগিরি করতে করতে কী ভাবে? সে কী ভাবে আমি বেঁচে যাব? একাদেমি পুরষ্কার না দিয়ে বাংলা ভাষাকে হতচ্ছেদ্দা করল চাড্ডি প্রশাসন। এটা কতজন ভদ্দরলোক বিবি ও বাবু কলমচী মনে করেন জানতে মন চায়। করলে চাড্ডি সম্পৃক্ত সরকারী ও কর্পোরেট পুরষ্কার বয়কট/প্রত্যাখ্যান করুন। চিরকেলে হাত কচলানর কায়দা আর চলবে না। ... ...
আপনে আপ মে মস্ত দারা শুকোহ, শাহেনশাহের পছন্দের। অতীন্দ্রিয় মহিমায়, পবিত্র স্বর্গীয় আশীর্বাদপুষ্ট সার্বভৌমত্বের - সেক্রেড সভরিনিটির ইমেজে আবদ্ধ বুদ্ধিজীবী, ফলে তাঁর নাকও একটু বেশি রকমের উঁচু হয়ে আকাশে ছুঁইছুঁই। তিনি নিজের পছন্দের কথা গোপনও করেন না ফলে অপছন্দের লোকেরা সংখ্যায় বেড়েই চলে। কিন্তু যুদ্ধ হয় মাঠে, স্বর্গ থেকে বড্ড জোর আশীর্বাদ আসতে পারে। সে যুদ্ধের, সেই মাঠের কী হবে? সেখানে শাহাজাদা সুলতান ঔরঙ্গজেব বাহাদুর ঘোড়ার পিঠে হাতির পিঠে চড়ে কখন ও আক্রমণে যাচ্ছেন কখন ও পেছিয়ে আসার শিক্ষে হচ্ছে তাঁর। প্রধান সেপাইসালার আলি মার্দান খান সাহেবের কাছে নিজে যাচ্ছেন। আরও যাচ্ছেন পাঁচ হাজারি সব বড় বড় মনসবদার সাদাউল্লাহ খান ... ...
তুকারামের আভাঙে ব্রাহ্মণদের মোঘল আর বিজাপুর কোর্টের পেয়ারের লোক বলে গাল পাড়া আছে। সেটা শাজাহানের সময়। আর জাহাঙ্গীর তো হাবশি সহ মারাঠাদের প্ৰতি জাতি বিদ্বেষী ছিলেন। বরং আলমগীর নিজে ছোটবেলা থেকে শাজাহানের হয়ে মারাঠা সঙ্গ বা হাবশি সঙ্গ করেছেন। তাঁর মহলের গুরুদায়িত্বে ছিলেন জনৈক আহমদনগরের হাবশি জেনারেল যাঁকে হাবশ খান উপাধি দেওয়া হয়। এটা জাহাঙ্গীরের আমলে অকল্পনীয় ছিল। দারা সুজার সংগে লড়াইতে ... ...
কাল আনন্দবাজারে শম্ভাজিকে নিয়ে লেখাটা আমার ভালো লাগেনি। শিবাজি যে সামাজিক পরিস্থিতির ফসল তার কোন প্রতিফলন নেই। আর শম্ভাজিকে নিয়ে একান্ত ভাবে মারাঠা ব্রাহ্মণ ন্যারেটিভ নির্ভর। ওই ন্যারেটিভের সম্পূর্ণ বিপরীত একাধিক জনপ্রিয় নিম্নবর্ণের ন্যারেটিভ আছে। শিবাজির আদর্শায়িত প্রতিরূপ সর্বজনমান্য কিন্তু শম্ভাজিকে নিয়ে বিতর্ক আর তাঁর খ্রিস্টসুলভ রেসারেকশন এই দুই বিপরীত ন্যারেটিভের ফসল। মাহার-দলিত বা ওবিসি ন্যারেটিভ বলে তাদের স্ব স্ব প্রতিনিধিরা ব্রাক্ষ্মণ ষড়যন্ত্রে ধরা পড়া ও টুকরো করে কাটা শম্ভাজির দেহটাকে জুড়ে দাহ করেছিল। আসলি দাবীদার কে সে নিয়ে মাহার আর শিভালে পাতিলদের মধ্য দাঙ্গা ... ...