albert banerjee কে?
albert banerjee কী? বাসায় ফেরা। দরজার চাবি ঘুরানো। কাচড়ে শব্দ। ভিতরে ঢুকেই নিঃশব্দতা গিলে ফেলা। শুধু ফ্রিজের গুঞ্জন, একটানা ইঁ-ইঁ করা। কম্পিউটারের টাওয়ার চাপ দিতেই ফ্যান ঘুরতে শুরু করা। পুরনো যন্ত্র, ধুলো খাওয়া। হাউইইই- শব্দ। মনিটরে নীল আলো জ্বলা। সাদা পর্দা খোলা। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড। ফাঁকা ডকুমেন্ট। কার্সারটা সাদার ওপর ঝিকিমিকি করা, ডগমরুর পোকাটার মতো। কাঁপছে। হার্টবিটের মতো টকটক করা।আঙুল কি-বোর্ডের ওপর রাখা। প্লাস্টিক ঠাণ্ডা। ক্লিক করার শব্দ। প্ৰথম শব্দটা বেরোতে কষ্ট হওয়া। আটকে থাকা গলায় থেকে। তারপর লিখা: "আমি বিরক্ত।"তাড়াতাড়ি ডিলিট করা। আবার লেখা: "আমার এক্কেবারে জিরগিট ধরে গেছে।"হাঁ। এটাই। এটাই ঠিক কথা। আঞ্চলিক শব্দটা গায়ে সটকা মারা। বইপড়া ভাষা না। জীবন্ত ভাষা। ... ...
রাত নামা। শহরের নিওন আলো জ্বলা। বিজ্ঞাপনের প্যানেল ঘুরতে থাকা। দেয়ালের উপর চলচ্চিত্রের পোস্টারে মানুষের মুখ কেটে ফেলা। মুখের জায়গায় ফাঁকা। স্লোগান লেখা: "আপনার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়।" কী অধ্যায়? কেন কিনব?বেশ্যালয়ের দিকে যাওয়া। পুরানো বাণিজ্যিক পাড়া। সময়ের সাথে পিছিয়ে পড়া এলাকা। উচ্চভবনের ছায়ায় ঠেসে দাঁড়িয়ে থাকা দুই তলা বাড়ি। সংকীর্ণ গলি। দেয়ালে স্টিকার, পুরনো পোস্টার ঝুলে থাকা। কোনোটাতে ভোটের প্রতীক, কোনোটাতে সস্তা মোবাইলের বিজ্ঞাপন। নর্দমার গন্ধ। গলির মোড়ে চায়ের দোকানে টিভি জ্বলা। খবর পড়ছে: "দেশ উন্নতির পথে... যুবসমাজকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে..."লাল বাতির আলো জানালা থেকে পড়া। কখনো একটানা, কখনো টিমটিম করে। একটি আলোর রেখা কালো দেয়ালের উপর দিয়ে হেঁচড়ে ... ...
অচিন ছায়াঅ্যা লবার্ট সিরাজ ব্যানার্জি প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় সে প্রাসাদের সর্বোচ্চ বারান্দায় দাঁড়ায়। লালচে আকাশের নিচে হস্তিনাপুরের অপরূপ রূপ যেন আগুনে ঝলসে উঠে। কিন্তু তার চোখে পড়ে না সৌন্দর্য। চোখে পড়ে শুধু সেই একই দৃশ্য—সবুজ মাঠের ওপারে দূরের কুটির, যেখানে পাঁচ ভাই ও তাদের এক স্ত্রী বাস করে। আরও ক্লিয়ারভাবে দেখে সে—সেই সুন্দরী স্ত্রী, যার হাসিতে একদিন পুরো সভা ভেসে গিয়েছিল। আজ সেই হাসি নেই, আছে শুধু লজ্জা, ক্ষোভ এবং অপেক্ষা।হাতের রেলিংটা শক্ত করে ধরে। নখ গেঁথে যায় কাঠের ভেতর। মনে পড়ে যায় সেই সভার দিন। তার হাত ধরে টেনে আনা হয়েছিল সেই নারীকে। চুলের মুঠি ধরে টানা হয়েছিল। শুনতে হয়েছিল ... ...
বাবার ফোন কল। ভোরে ভোরে। রিংটোনটা সেই পুরানো লোকগান—"আমার ঘর খাঁড়া করবে কে"। বাবা অপেশাদার গায়ক, এইটাই সেট করছে। ভাইব্রেশন। হাতে নিয়া দেখি—বাবার ছবি। হ্যাঁ, এটাও সে ফোরস করে দিছে। "আনসার"।ঠোঁট শুকাইয়া যাওয়া। কল রিসিভ করা। বাবার গলা ভাঙা ভাঙা, পটেশিয়ামের ঘাটতি। "বাবা?""উই... টিউশন ফি। সেমিস্টার ফাইনালের। কাল ডেডলাইন। কলেজ হইতে এসএমএস আসছে না? তুমি পড় না?"আমি পড়ি। কিন্তু দেখি না। অথবা দেখার ভান করি না। ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাপ খুলি। বালান্স দেখি—যেমন তেমন। মায়ের সংসার খরচের টাকা। বাবার ওষুধের টাকা। আমার "হলুদ নীলের" ক্যাম্পাসের ফি।বাবার ক্যালকুলেশন শুরু হয়। "দেখ, সেমিস্টার ফি এক লক্ষ বিশ হাজার। ডেভেলপমেন্ট চার্জ আট ... ...
কর্ণ এক অস্তিত্বের রথচক্র আলবার্ট সিরাজ ব্যানার্জি (একটি প্রাচীন স্মৃতির ঘূর্ণিপাকে, ধূলিধূসরিত মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে, আমি। রথচক্রের শব্দ এখনো কানে, কিন্তু তা দূরাগত পায়ের পাতার শব্দের মতো, কখনো আসে কখনো যায়। আকাশে চিলের ডাক। মনে পড়ে, স্বর্ণকবচের ভার, সেই অভিশাপ, যেন মাথার খুলির ভিতরে শঙ্খের ধ্বনি।)সূর্য। সর্বদা সূর্য। অস্ত যায় না, কখনো অস্ত যায় না, শুধু ঘুরে ফিরে আসে পুবে, পশ্চিমে, আবার পুবে, সময়ের কাঁটার মতো নয়, বরং একই জায়গায় স্থির এক তাপ, এক আলো, যা রেখে যায় ... ...
বাসার দরজা খোলা। লকটা শিকায় আটকে যাওয়ার চেষ্টা করা। ঠেলে দেওয়া। বের হওয়া। করিডোরের ফ্যান অফ থাকা। গুমোট গরম।লিফটে দাঁড়ানো। নিঃশব্দে নামা। চতুর্থ তলা থেকে প্রথম তলায়। মাঝখানে থামা না। লিফটের দেয়ালে স্ক্রিন। চলমান ছবি। একটি নতুন সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসের বিজ্ঞাপন। "আপনার জীবনকে সাজান, মাসে মাত্র পাঁচশ টাকায়।" একজন মডেলের মুখ, অতিরিক্ত সাদা করা। হাসি দেখানো। দাঁতের মাড়ি পর্যন্ত দেখা যাওয়া। লিফটের অন্য যাত্রী-বুড়ো কাকু। চোখ স্ক্রিনের দিকে আটকে থাকা। দেখতে থাকা। কিছু না বলা। কিছু না ভাবা। শুধু দেখাই কাজ।রাস্তায় পা রাখা। গরম আস্ফাল্টের গন্ধ। গাড়ির ... ...
দোকানের ভিতরে ঢোকার ঝোঁক সংবরণ করা। মালিকের দিকে শুধু তাকানো। একটা বুড়ো মানুষ। মোটা চশমার পিছনে চোখ, জলের মতো। তিনি জানেন। তিনি অনেক কিছু দেখেছেন। তিনি কিছু বলেন না। শুধু একটা ইঙ্গিত, একটা ম্লান হাসি: চুপ থাকা। মুখের ভাব বজায় রাখা। নিরাপদ থাকা।ফিরে যাওয়া বাসার দিকে। রাস্তায় মানুষের ভিড়। সবাই দ্রুত হাঁটছে। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না। সবাই নিজের গন্তব্যে। সবাই নিজের ফোনে।হঠাৎ একটা শিশুর কান্না শোনা। একটা মা শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করছে। শিশুর মুখে আসল কান্না। আসল আবেগ। কোনো মুখোশ নেই। কোনো ভান নেই। শুধু বিশুদ্ধ পাওয়া না পাওয়ার হিসাব।দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকা। মা নজর দেখে এক আমাকে। আবার ... ...
বাইরে থেকে গাড়ির হর্নের শব্দ আসা। স্ক্রলিং থামানো। জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া। নিচে একটা অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত চলে যাওয়া। তার সাইরেনের শব্দ কানে বাজা। শহরের নিয়মিত সঙ্গীত।ফিরে এসে ফোনের স্ক্রিন দেখতে পাওয়া। নতুন নোটিফিকেশন। একটা শপিং অ্যাপ থেকে। "আপনার কার্টে থাকা আইটেমের দাম কমেছে! এখনই কিনুন!" হাসি পেতে চেষ্টা করা। পারা না। শুধু একটা ভারী নিঃশ্বাস ফেলা।টেবিলের উপর রাখা পুরোনো ডায়েরির দিকে তাকানো। কাগজের ডায়েরি। লাল মলাট। তাতে কিশোর বয়সের কবিতা লেখা। এখন সেসব পড়লে লজ্জা লাগে। কিন্তু সেসব সময়ে কথা বলতে ভয় পেতাম না। এখন কথা বলার আগে ভাবতে হয়।ডায়েরিটা হাতে নেওয়া। পাতা উল্টানো। একটা লাইন চোখে পড়া: "আমার মুখ ... ...
ফিরে এসে ফোন ধরতে হবে। আবার স্ক্রল করতে হবে। ব্রেনওয়াশ চলতে থাকবে। একটা অদৃশ্য নলের মাধ্যমে চোখে ঢোকা। মগজে পৌঁছানো। তারা বলে বাকস্বাধীনতার কথা। গণমাধ্যমের পর্দায় লাল-নীল লোগোওয়ালা চ্যানেলে পরিপাটি মুখের কথা বলা। টাই পরা। চুল আঁচড়ানো। মাইক্রোফোন হাতে বলতে থাকা: "আমরা মুক্ত। আমরা উন্নত। আমরা প্রতিবাদী।"কিন্তু একই চ্যানেলে, একই সুরে, নিচে টিকার টেপে চলে আসা আরেক খবর। একটা ছাত্র আটক। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের জন্য। একটা বই নিষিদ্ধ। "সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী।" একটা লেখার বিরুদ্ধে মামলা। "মতবিরোধ নয়, বিদ্বেষ।" মুখ না বদলানো। একই সুর। একই পেশাদার হাসি। একই শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি।মনে পড়া গ্রামের কথা। বাবার মুখ। মায়ের হাত। নদীর পাড়। সেখানে ... ...
চরিত্রদের নিয়ে একটি সতর্কবাণীএখানে যেসব চরিত্র আসবে—বেশ্যালয়ের নর্তকী মিলা, গ্রামের জেলে, শহরের রিকশাওয়ালা, ট্যাক্স অডিটে জর্জরিত একাউন্টেন্ট, সুপারশপের আলোয় নিশ্চুপ এক গৃহিণী—তাদের কাউকেই ‘পিটিশ’ ভেবে পড়ো না। তারা কোনো আদর্শের মূর্তি নয়। তাদের দুর্বলতা আছে, দ্বিধা আছে, স্ববিরোধ আছে। তারা ভালো-মন্দের ঊর্ধ্বে—তারা শুধু আছে। আর তাদের এই ‘থাকা’টাই সমাজের জন্য অস্বস্তিকর। শেষে...‘ছায়া ও মুখশ্রী’ পড়তে গিয়ে হয়তো তুমি বারবার বিরক্ত হবে, থেমে যাবে, বা বইটি দূরে ছুড়ে ফেলতে চাইবে। তেমন করো। থেমে যাও। বিরক্ত হও। কারণ এই বিরক্তিই বইটির প্রাণ। আর যখন আবার ফিরে এসে পড়বে, তখন হয়তো খুঁজে পাবে—কোনো এক পৃষ্ঠায়, কোনো এক উদ্ধৃতিতে—তোমার নিজের মুখের একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব। যে ... ...