এটা আরজিকর আন্দোলন নয়, যেখানে একটা মর্মান্তিক ঘটনা এবং প্রশাসনের চূড়ান্ত অপদার্থতার পর, চর্চা হল স্রেফ অজস্র আষাঢ়ে গুজব নিয়ে। গুজব নিয়ে প্রশাসনের কোনো দায় থাকা সম্ভব না, ফলে তারা ফাঁকতালে পাশমার্ক পেয়ে বেরিয়ে গেল স্রেফ ধৈর্য দেখিয়ে। কিন্তু এখানে গুজব কিচ্ছু নেই। সবই আদালতে হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে কেউ কনটেস্টই করেননি, ফলে ওটা প্রমাণিতই বলা যায়। এবং সেটার মাপ কম না, আন্দাজ ২৫% নিয়োগে গরমিল আছে। এবং এর জন্য বিকাশরঞ্জন বা আদালত বা গ্রহান্তরের জীব, কাউকে দোষ দিয়েই লাভ নেই। রায়ে যে ন্যাচারাল জাস্টিসের নীতি মানা হয়নি, তার সঙ্গে আমি একমত না, আগেও লিখেছি। কিন্তু তারপরেও, দুর্নীতি না হলে এসব কিচ্ছু ঘটতনা। উকিলের কাজ উকিল করবেই, এজেন্সি রাজনৈতিক কাজ করবেই, আদালত রায় দেবেই, কিন্তু এতদূর জিনিসটা গড়াতই না, দুর্নীতি না হলে। দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রী তো বিচারাধীন হয়ে জেলে আছেন, বলেও কোনো লাভ নেই, কারণ, তিনি দোষী হন বা না হন, এই দুর্নীতিটা চোখের সামনে হতে দেওয়া হয়েছে। এবং খুব কম করে ধরলে, সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে। এবার, এই কেলেঙ্কারির দায় আর কেউ নেবেনা, রত্নাকরের মতো সরকারকে নিজেকেই নিতে হবে। এবং তাদেরই মেটাতে হবে। কীকরে মেটাবেন জানা নেই, কিন্তু মেটাতে হবে। কীকরে মেটাবেন জানা নেই বললাম, কারণ, জটিলতা আছেই। প্রথম সম্ভাব্য জটিলতা, ... ...
বাংলার অর্ধেক বিষয়ই নারী এবং সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে পরিণত হয়। সন্দেশখালি দেখুন, স্রেফ গুন্ডামি বা জমিদখল নয়, একটা রগরগে যৌনদাসীর ফ্যান্টাসিতে পৌঁছল, যে যৌনদাসী পুষত এক বিশেষ সম্প্রদায়। ঠিক যেন আরব্য রজনী। আরজিকরে দেখুন, একটা সরকারি হাসপাতালে খুন, ধর্ষণ, অধ্যক্ষের প্রাইজ-পোস্টিং, এইসব না, জিনিসটা পৌঁছল কুৎসিততম একটা পর্নোগ্রাফিতে। এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ছেলেদের দ্বারা গণধর্ষণ, একটা মেয়ের অবধি হাত চেপে ধরে রাখা, এইসব মিলিয়ে আমি-সোমা-বলছি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তাকে টপকানো সম্ভব বলে মনে হচ্ছিলনা। কিন্তু তাকেও টপকে এল লাশের সঙ্গে সঙ্গমের গল্প। দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়। বিকৃতির এই মাপ আগে কখনও দেখা গেছে বলে মনে হয়না। এবারও এই মুর্শিদাবাদ নিয়ে দেখুন, সংখ্যালঘু তো ছিলই, এখন মহিলা কমিশন এসে গেছে। ... ...
এটা একটু মন দিয়ে পড়ুন, কারণ, চিত্র ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার মতো সংখ্যাগুরুর উপর "অত্যাচার"এর অডিও-ভিশুয়াল পাচ্ছিলেন। শুধু হিংসা না, দলে-দলে সংখ্যাগুরু মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পালাচ্ছে। তার সঙ্গে মর্মস্পর্শী চোখে-দেখা বিবরণী। সঙ্গে ছবি, পোস্টার, ভিডিও। মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল, হোয়াটস্যাপ তো বটেই। তা, কাল সুকান্ত মজুমদার এই সিরিজের সর্বশেষ পোস্টারটা ছেড়েছিলেন টুইটারে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগুরুদের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে, ছবিতে গল্পের মতো। সেখানে সংখ্যালঘুদের যথারীতি বলা হয়েছে, দুধেল গাই, এবং চারদিকে জ্বলন্ত বাংলার ছবি। পোস্টটা তিনি তুলে নেন, খানিক পরেই, কারণ ঠাণ্ডা মাথায় লোকে সব মিলিয়ে দেখে। দেখা যায়, গণেশ চতুর্থীর ছবিটা আসলে সিএএ আন্দোলনের। সরস্বতী পুজোরটা আসলে লক্ষ্নৌয়ের। জলন্ধরের একটা ছবিকে বলা ... ...
কাল থেকে আর মিডিয়া দেখা যাচ্ছেনা। হোআ খুললেও পরিচিতদের একটাই আর্তনাদ, "খুব খারাপ অবস্থা"। নতুন কিছু নয়। বছর ১১ আগেও শোনা যাচ্ছিল অবস্থা খারাপ, এবং "আচ্ছে দিন" আসবে। এবার সঙ্গে একটা "খুব" যোগ হয়েছে, এবং ভুল করার কোনো কারণ নেই, নিশ্চিতভাবেই এরপর "বহুত আচ্ছে দিন" আনার আহ্বান আসতে চলেছে। এতে আমরা সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করেছি। মিডিয়া নির্লজ্জভাবে মিথ্যে কথা বলেছে, গুজব ছড়িয়েছে, উসকানি দিয়েছে। সরকার দুর্নীতি করেছে, অপকম্মো করেছে, পুরোনো কংগ্রেসি লাইনে দুই ধর্মকেই তোল্লাই দিয়েছে। অপকম্মো বলতে একটাই, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ধৈর্য না দেখালে এতদিন আচ্ছে দিন এসেই যেত। প্রগতিশীলরাও মিডিয়ার সঙ্গে নেচেছেন, বীরদের বিরোধিতাকে চুরি-চামারি-চটিচাটা বলে অভিহিত করেছেন। ... ...
রাম কহিলেন, ওহে সুগ্রীব, বঙ্গজয় আর কদ্দূর? সুগ্রীব কহিলেন, রাত দশটায় দখল করে ফেলব স্যার। রাম নিশ্চিন্ত হইলেন। তখন সকাল সাত ঘটিকা। বানর সেনা বঙ্গে মার্চ করিতে লাগিল। তাদের মুখ নিশ্ছিদ্র কালো, কোনটি মুখ কোনটি মাথা, কোনটি সম্মুখ, কোনটি পশ্চাত বোঝার উপায় নাই। পশ্চাতে বৃহল্লাঙ্গুল দোদুল্যমান। দুই নগরললনা পথে হাঁটিতেছিল। তাহাদের একজন দেখিয়া আঁতকে উঠিয়া কহিল, মুখপোড়াদের শরম নাই গো, সব কিছু বার করে হাঁটছে? দ্বিতীয়জন তাহাকে সান্ত্বনা দিয়া কহিল, ওটা তো পিছন দিক রে, পিছন থেকে ন্যাজ বেরিয়ে আছে। এই লইয়া কিছু রঙ্গ হইল। এইসব তামাশা সত্ত্বেও যুদ্ধজয় অনিবার্যই ... ...
১। অক্সফোর্ডে বাঙালি হিন্দুরা মমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আরজি করের খুন-ধর্ষণের বিরুদ্ধে, সন্দেশখালির মেয়েদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে, এবং হিন্দুদের গণহত্যার বিরুদ্ধে। আমি বলছিনা, অমিত মালব্য টুইট করেছেন। সঙ্গে একটা ভিডিওও দিয়েছেন, সেখানে কয়েকজন "বাঙালি হিন্দু"কে দেখলাম। এতদিন রিলের কল্যাণে ম্যাক্সির উপরে গামছা জড়ানো মহিলাদের দেখেছি, এই প্রথম সুটের সঙ্গে টিপ পরা পুরুষ দেখলাম। বাঙালি হলে বঙ্গজাতির লজ্জা বলা যায়। আরও অনেক লোকজন ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে অভয়া-অভয়া করে চিৎকার করেছেন। হিন্দু-হিন্দু করে গলা ফাটিয়েছেন। কতজন হিন্দু মারা গেল হিসেব চেয়েছেন। আমাদের পরিচিতরা চারদিকে সেই ভিডিও আবার শেয়ার করে ফাটিয়ে দিয়েছেন। দেখতেও লজ্জা লাগে।এসএফআই ও ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, তারা ওখানে ছিল। অক্সফোর্ডে ... ...
কলকাতার বিপ্লবীদের দঙ্গলে মাঝে মাঝেই নানা কাণ্ড ঘটে। কিন্তু এবারে যা পড়লাম, সেটা মাত্রার অনেক উপর দিয়ে। সবই "সত্য" ঘটনা, কিন্তু ফিকশনের বাবা। একজন মহিলা, ধরা যাক তাঁর নাম প্রথমা, যিনি সব সময় ছুরি আর পেপার স্প্রে নিয়ে ঘোরেন, তিনি কাল একটা ফেসবুক পোস্ট করেন, যা থেকে এটা জানাজানির শুরু। প্রথমা লিখেছেন, কোনো এক রাতে, তিনি প্রচুর ফেমিনিস্ট আইডিওলজির লোকজন, মহিলা এবং নিজের বাবার সঙ্গে, বাবার বাড়িতে বসে উপরোধে মদ্যপান, গান-বাজনা এইসব করছিলেন। তারপর রাত্তির দুটোয় নিজের ঘরে শুতে গেলে সেখানে একজন মহিলাও শোবার জন্য এসে উপস্থিত হন, ধরা যাক তাঁর নাম দ্বিতীয়া। তারপরে তৃতীয় এক পুরুষ, ধরা যাক তাঁর নাম মহিষাসুর, তিনিও চলে আসেন। দ্বিতীয়া মহিষাসুরকে বলেন, তুমিও ... ...
সিরাজগঞ্জে ২০০১ সালে একটা মর্মান্তিক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সে বছর বিএনপি-জামায়েত ভোটে জেতে এবং তারপর নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে গণধর্ষণের শিকার হন পূর্ণিমা রানী শীল। ঘটনাটা সেই সময় খুব আলোড়ন ফেলেছিল। কাগজে যা পড়েছিলাম, তখন সে নেহাৎই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে আমলে ঘটনাটার কোনো বিচার হয়নি। চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। বরং মেয়েটির পারিবারিক ব্যবসা দুবার লুট করা হয়। তার পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় ফেরার পরে, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এটাও কাগজে পড়া, যে, পূর্ণিমা এতে খুশি হননি, কয়েকজনের মৃত্যুদন্ড চেয়েছিলেন। পূর্ণিমাকে নিয়ে রাজনীতিও হয়েছিল বিস্তর। তিনি আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত ... ...
খবরে দেখছি, জায়গায়-জায়গায় এসএফআই ছাত্রদের উপর হামলা হচ্ছে। বিরাট বড় কিছু না, কিন্তু হচ্ছে। কলকাতায় এইটুকু হলেই ফেটে যেত, কিন্তু বাইরে বলে তেমন হচ্ছেনা, কারণ, আমরা তো কলকাতার বাইরে বিশেষ দেখতে পাইনা। অথচ বিষয়টা খুবই উদ্বেগজনক। ছাত্রসংসদ যাদবপুরে যতটা দরকার, ততটাই মেদিনীপুরে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কলকাতায় যতটা দরকার, মুর্শিদাবাদেও ততটাই। এখানে প্রতিহিংসা বা প্রতিক্রিয়া কথাগুলোও অর্থহীন, কারণ, উত্তরবঙ্গের কোনো ছাত্র তো এসে যাদবপুরে কোনো শিক্ষককে পেটাননি। যাদবপুরে ব্রাত্য বসু এসে নির্বিঘ্নে সভা করবেন, ইচ্ছে হলে যেকোনো বিরোধীর মুন্ডপাত করবেন তাদেরই সামনে, আর কল্যাণীতে ছাত্ররা নির্বিঘ্নে ব্রাত্য বসুর পিন্ডি চটকিয়ে স্লোগান দেবেন, উত্তপ্ত তরজাও হতেই পারে, কিন্তু কেউ কাউকে আটকাবেনা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে এই দুটোই একই রকম গুরুত্বপূর্ণ। এই ... ...
ইন্দ্রানুজ কীকরে চোট পেলেন? তৃণমূল একটা ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইন্দ্রানুজ ব্রাত্য বসুর গাড়ির পাদানি থেকে ঝুলছিলেন, পাশের একটা স্কুটারে ধাক্কা লেগে ধপ করে পড়ে গেছেন। বামরা পাল্টা আরেকটা ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যে পড়ে গেছে, সে ইন্দ্রানুজ না, একজন পাদানি থেকে ঝুলছিলেন, একজন বনেটে বসে ছিলেন, ইন্দ্রানুজ ছিলেন গাড়ির উল্টোদিকে, তিনি সামনে থেকে চলন্ত গাড়ি ঠেলছিলেন, সেই অবস্থায় ধপ করে পড়ে যান। ইনি গাড়ির ডানদিকে পড়েন, উনি বামদিকে। দুটোর যেটাই ঠিক হোক, যিনিই 'আসল' ইন্দ্রানুজ হন, কোনোটাই 'পিষে' দেবার ছবি না। যাঁরা এই তত্ত্বটা আবিষ্কার করেছেন, তাঁদের নমস্কার। আর যাঁরা এই বাজারেও একটা স্টিল পেলেই কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই চারদিকে ... ...