লম্বা লম্বা চায়ের কাপ। গরম জলে সাঁতার শিখে সে এক কাণ্ড! এদিকে মন্দিরের বাইরে যাচ্ছেতাই লাইন। যেমন ভেবেছিলাম, তেমন করিনি। যেমন ভাবিনি, তেমনই করেছিলাম। এই অধিকার, এই ভরসা— সমস্তটাই বাড়তি। প্রয়োজন ছিল না তো, একেবারেই ছিল না। নাক দিয়ে কেমন এক রক্ত ঝরত মাঝরাতে। এখনও আবার ইলিশ মাছের ডিম খেতে বেশ সাহস লাগে। টেবিল ছিল। ছাদ ছিল। আর ছিল বিশ্বাস। উঠে গিয়েছে, উঠে যেতেই এত তাড়াতাড়ি জড়ো হয়েছিল ছুট্টে এসে। জলস্তর কোনদিকে বাঁক নেবে সেকথা প্রকৃতি ছাড়া আর কেউ বলতে পারে কি? থালায় থালায় পনিরের ছড়াছড়ি। পালং শাক দেখলে কোন এক দূর দিদির কথা মনে পড়ে, পড়বেই। সে আজ চাষের ... ...
গভীর থেকে এক ঢেউ উঠল। যার অতীত বলতে আলোকসজ্জা। আর ভবিষ্যৎ কেবলই পাখিদের বন্ধুত্ব পেয়ে আত্মীয়দের বিছানায় স্বপ্নকোমল। এরপর ধরো সন্দেহ আছে। আর এই সন্দেহের ওপরে ওপরে কী আক্রান্ত মেঘ নিয়ে ছেলেবেলার গোরু হারানোর শোক। তারপরে দেখা যায়, একটা হাত— যে ঘুরে চলেছে বাঘের গর্ভে বিসর্জনের গন্ধ নিতে। এদিকে জোনাকিরা অপরাধ করেছে, সেদিকে লোকজনের মন নেই বললেই চলে। আর কুকুরের বমি দেখে গির্জার সামনে নিজেদের মধ্যে তৈরি গুজব, সেও ভোলা যায় সহজে! কিংবা সোজা লাথি চ’লে যায়— পূর্বজন্মের বেফাঁস মন্তব্যের গলায় নাক ঢাকা দিতে৷ ঠোঁট কাঁপে। বিপ্লব তো সহজে আসে না। ভালবাসা ছিঁড়তে গিয়ে হাতে আগুন লেগে যায়। সমসাময়িক কুচক্রের ... ...
স্বীকারোক্তিএই লেখা কতদূর এগোবে জানা নেই। কেবলই অজানায় পা রেখে এগিয়ে যাওয়া। আমার জানা নেই, কীভাবে গদ্য লিখতে হয়। এমনকী কী ক’রে কবিতাও লিখতে হয়— জানা নেই, আমার। অনেক কথাই বলার থাকে, যা বলা যায় না কবিতায়। আর তাই বেছে নেওয়া গদ্যের এই পথকে, এই আবিষ্কারকে। যা দেখছি, যা শুনছি– সেইসবের ভিত্তিতেই লিখে চলা নিরন্তর। লেখার চেষ্টা করতে করতে বুঝেছি, শিল্পের এই পথ বড় কঠিন, আবার বড়ই সহজ। আজ পর্যন্ত মনের মতো একটা কবিতাও লিখতে পারিনি। অজস্র কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আদৌ সেগুলো কবিতা হ’য়ে উঠতে পেরেছে কি না জানা নেই আমার। আর গদ্য লিখিনি বললেই চলে। যখন যেমন ... ...
অসম্ভবের পাঁজরে যখন ঝড় উঠতে থাকে তখন পায়েরা ছন্দ ভুলে গোলমাল ক’রে ফ্যালে। এদিক ওদিক তাকায় বটে কিন্তু কিছুতেই নক্ষত্র হওয়ার মুখচোরা ভাব এড়িয়ে যেতে পারে না। এরপরে গর্জনের আহ্বানকে অন্ধকারে মিলিয়ে দিতে সে এক পরিকল্পনা মাফিক বস্তুত বিড়ম্বনা। তাছাড়া সঙ্গের ভবিষ্যৎে দৌড়নোর পুঁজি যদি অল্পবিস্তর শিখে নেওয়া না যায়, তবে হয়রানির একশেষ। তবুও ঝামেলার বিশ্লেষণ কোনও মতেই আপেক্ষিক নয়— এও ঠিক। সেই বুঝেই আদরের স্বভাব বদলাতেই বাকিরাও অলস হ’তে চেয়ে ঢেউয়ের সমগ্র লিখতে যায়। তাও কিনা মেপে, বড্ড মেপেই এগোনোর নাগাল পেয়ে চিন্তার খোরাক পাওয়া। আর বর্ণনার আশীর্বাদে ক্ষত কেনার হুজুগ— না এভাবে যদি চলতেই ভালবাসে, লাগেও বা ভাল, ... ...
যেভাবে ছাদে ছাদে ফুলগাছ বেড়ে ওঠে হাতের যত্নয়, যেভাবে মেঘেরা এসে সাজিয়ে তোলে রঙিনময়লাটে বাড়িদের, যেভাবে কাক দেখলেই ডানা পাওয়ার কথা মনে পড়ে হেরে যাওয়া মানুষদের অনেকটা তেমন একটা ভাব নিয়ে বলা ভাল তেমন এক ঘোর আনন্দ নিয়ে রোশনাই সংকেতের চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে আরম্ভ করল, “কিছু কথা যদি তুলোর মতোই নাছোড়বান্দা হয় তো কিছু কথা প্লাস্টিকের মতোই একগুঁয়ে সাইকেলের সমান। এরা চুপ থাকে না। অবসাদ ভালবাসে, আর তা নিয়ে যাচ্ছেতাই রকমের হুল্লোড়পনা...”সংকেতের মাথার ওপর দিয়েই সব বেরিয়ে গেল। সে না কিছু বুঝল, না কিছু বোঝার চেষ্টা করল। বোঝার চেষ্টা করবেই বা কী ক’রে! মাথার ওপর দিয়েই যে রোশনাইয়ের সব ... ...
“তোমাকে যদি একব্যাগ বাতাস দিই, কীভাবে খরচ করবে?”রোশনাই একপ্রকার হাসতে হাসতেই সংকেতের দিকে ছুঁড়ে দিল প্রশ্নটা।“কেন জানতে চাইছ বলো তো?”“বলোই না... শুনি একবার!”সামান্য অন্যমনস্ক হ’য়ে সংকেত বলতে শুরু করল—“বাতাসকে খরচ করার আমি কে? বাতাস যে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাবে, আমাকেও সেই সেই ভাবে এগোতে হবে। বাতাস তো নিজেই নিজেকে অনুবাদ করতে পারে। বাতাসের আলাদা কোনও অনুবাদক প্রয়োজন পড়ে না। তাই আমি বাতাসকে অনুবাদ করতে পারি না। বাতাস নিজেকে যেমনভাবে অনুবাদ করবে, আমাকেও মেনে নিতে হবে তেমনটাই। আমাদের অনেক কিছুর ওপরে অধিকার থাকে না। আমরা জোর ক’রে যখন তার ওপরে অধিকার ফলাবার চেষ্টা করি, তখন সেটা আর তেমন ... ...
“আমারই ভুল। ভুল আমারই। প্রশ্ন করতে শিখিনি। যা শিখেছি, তাকে প্রশ্ন করা বলে না। তবে শোনো, আমরা যখন কোনও কিছুকে একেবারের জন্যই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবি বা মনে করি, তখন আরও বেশি ক’রেই থেকে যেতে চায় মন সেইখানে। ছাড়তে দিতে চায় না। কিন্তু যদি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারো, তখনই সমুদ্রে পড়লে! তবুও জেনো, সমুদ্রে পড়ার আগে ছোট ছোট সাঁতার শিখে নিতে হয়। প্রস্তুতি সেই অর্থে তিন রকমের— পুকুর, নদী আর সমুদ্র। ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা যখন আসে, তখন তুমি পুকুরের কাছে এসে এক পা এগোও সাঁতারে। ছেড়ে যখন দেবে ভাবছ, তখন তোমাকে নদীর কাছে এসে আরও এক পা এগোতে হয় এই ... ...
“ঘরটা একটু গুছিয়ে রাখবে তো! ঘরই যদি গোছাতে না পারলে, যদি না ছাড়াতে পারলে এক এক ক’রে ভাবনার গিঁট— তবে আর কী করলে?”— রোশনাইয়ের দিকে সে কেমন এক অলসচোখে তাকিয়ে কথাগুলো ব’লে গেল সংকেত। রোশনাইয়ের গোটা জীবন দাঁড়িয়ে আছে, যুক্তি এবং আবেগের ওপরে। সে বোঝে, আবেগের মাত্রা একটু বেশি হ’য়ে গেলেই জীবনকে আর মুখে তোলা যাবে না। তাই বুঝেশুনে সে আবেগ খরচ করতে চায়। পেরে ওঠে না। রোশনাইয়ের বয়েস, উনিশ বছর তিন মাস।“না গুছোলেও সমস্যা নেই। যাকে গোছানো দেখছ, দেখতে পাও— সে তো আরও বেশি ক’রেই অগোছালো। ‘গোছানো’ একটা বিশ্বাস। আমি কোনও বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে চাই না।” রোশনাই এমন এক চোখে সংকেতের দিকে তাকিয়ে ... ...
দোষের মধ্যে এই যে, কবিতাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি যখন তখন। কিন্তু কিছুতেই নাগাল পাচ্ছি না। ... ...
শ্রীমল্লার বলছি আঁতেল হতে পারলেননা। তাঁর পড়ার উপযুক্ত বইঃকীকরে সিনেমায় চান্স পেতে হয় ... ...