সোনার হরিণের সন্ধানে বাংলা নাটক একটা প্রবল আক্ষেপ ছিল, বাংলাদেশের নাটকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ততটা আসে আমাদের সাম্প্রতিক নাটকে তা প্রায় অনুপস্থিত কেন? আর তার ফলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পদলেহী রয়াল সিক্রেট সার্ভিসের লয়াল বা অনুগত খোচর/ টিকটিকিরা নিজেদের দ্বেষপ্রেম কে দেশপ্রেম বলে দাগিয়ে দিয়ে জনমনের ৩৯% কে দখল করতে পারে। আর পয়সা ছড়িয়ে প্রচার মাধ্যমের এক বড় অংশকে। তার ফলে, খেলা হয়ে যায় যুদ্ধ।১৫ আগস্ট উপলক্ষে যে-সব চলচ্চিত্র দেখানো হয়, তাতে মনে হয়, স্বাধীনতা সংগ্রামটা পাকিস্তানের বিপক্ষে হয়ে ছিল।ভারতের বহু বিপ্লবী যে বর্তমান পাকিস্তানের সন্তান তা আড়াল করে রাখা হয়।আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াকু উধম সিং কে সাম্প্রতিক ভারতীয় চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ ছবি --সর্দার ... ...
ভয় হয়। যে-ভাবে সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। নানা বিপরীতে বিপত্তি স্রোতে। চিন্তার বিপত্তি সবচেয়ে বড় বিপদ। ১ আপত্তি একটা জায়গায়: প্রথম নবজাগরণ কি হয়েছিল? নাকি নবজাগরণের নামে একটা বিদ্বেষমূলক ও অনতিঅতীত নিন্দাকারী সমাজ ও সংস্কৃতির সচেতন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিন্তু নিজে মনে করতেন রেনেসাঁ বলে কিছু হয়ে থাকলে পঞ্চদশ ষোড়শ শতকে। উনিশ শতকে বাঙালি শিকড় বিচ্ছিন্ন হয়। গ্রাম মানে পিছিয়ে পড়া এই ধারণা তৈরি শুরু করানো হয়। স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলা হয়। শহুরে আধা অসভ্য জীবনকে অসমবায়িক ... ...
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়--- সীতারাম উপন্যাস বন্দী সেখানে আসিবার আগেই লোক আসিতে আরম্ভ হইল। অতি প্রত্যূষে,-তখনও-গাছের আশ্রয় হইতে অন্ধকার সরিয়া যায় নাই—অন্ধকারের আশ্রয় হইতে নক্ষত্র সব সরিয়া যায় নাই, এমন সময়ে দলে দলে পালে পালে জীয়ন্ত মানুষের কবর দেখিতে লোক আসিতে লাগিল। একটা মানুষ মরা, জীবিতের পক্ষে একটা পর্বের সমান। যখন সূর্যোদয় হইল, তখন মাঠ প্রায় পুরিয়া গিয়াছে, অথচ নগরের সকল গলি, পথ, রাস্তা হইতে পিপীলিকাশ্রেণীর মত মনুষ্য বাহির হইতেছে। শেষ সে বিস্তৃত স্থানেও স্থানাভাব হইয়া উঠিল। দর্শকেরা গাছে উঠিয়া কোথাও হনুমানের মতন আসীন—যেন লাঙ্গুলাভাবে কিঞ্চিৎ বিরস, কোথাও বাদুড়ের মত দুল্যমান, দিনোদয়ে যেন কিঞ্চিৎ সরস। পশ্চাতে, নগরের যে কয়টা কোঠাবাড়ী দেখা যাইতেছিল, তাহার ... ...
সঙ্ঘ পরিবারের রাষ্ট্রীয় মুসলিম মঞ্চ তো প্রকাশ্য। আর যাঁরা সংঘ পরিবারের বিরোধিতার নামে সংঘ পরিবারের মেরুকরণের রাজনীতির পালে বাতাস দিলেন, সংঘ পরিবারের এজেন্ডাকেই বিরোধিতার নামে কার্যকর করলেন-- দেশে বিদেশে কোণঠাসা সংঘ পরিবারের সরকারকে অক্সিজেন দিলেন বা দিয়ে চলেছেন!ভেবে দেখুন, নয় জুন মুম্বাইগামী জাতীয় সড়কের ওপর ১১ ঘন্টার অবরোধ ও তারপর একাধিক অবরোধ মিছিল সমাবেশের পর বাংলা এবং ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ বেড়েছে না কমেছে?পশ্চিমবঙ্গে ঝিমিয়ে পড়া বিজেপি চাঙ্গা হয়েছে না হয়নি?ওরা জানে, নবীজির নামে কিছু বললে, মুসলিমরা রাস্তায় নামবে, ওরাও বলবে, দেখেছো ওরা কত ঐক্যবদ্ধ।আমাদেরও এক হতে হবে।শুধু আরব দুনিয়ার বয়কটটা ওদের হিসেবে ছিল না।যা ক্ষতি হয়েছিল, একদল মুসলিম ভারতে মিছিল সমাবেশ ... ...
আর এস এসের মুসলিম সংগঠন রাষ্ট্রীয় মুসলিম মঞ্চ নাচাচ্ছে, কিছু ইমাম বিক্রি হয়ে গেছেন বা রাজনৈতিক নেতাদের চেয়েও তারা বেশি ক্ষমতাশালী প্রমাণ করতে জমায়েতের ডাক দিচ্ছেন। তার মধ্যে কয়েকটি জমায়েত থেকে সংঘ পরিবারের লোক টুপি পরে বা কিছু অপরিণত মস্তিষ্ক বা কিছু অতি উৎসাহী বা কিছু টাকা খাওয়া মুসলিম দুষ্কৃতি অশান্তি পাকাচ্ছে। কোথাও অনেকে মিলে অবরোধ করছে ট্রেন, জাতীয় সড়ক। বদনাম হচ্ছে, সমগ্র মুসলমানদের। দল মত নির্বিশেষে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সক্রিয় হোন। বাংলাকে আসন্ন প্রলয় থেকে বাঁচতেই হবে।বিজেপি চায় সমাজ হিন্দু মুসলমানে ভাগ হয়ে যাক।কিছু ইমাম বুঝে বা না বুঝে সেই কাজটাই করছেন।বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত কিছু অপরিণত মস্তিষ্ক আরো বড় নেতা হওয়ার বাসনায় ... ...
সঙ্ঘ পরিবার সবচেয়ে বেশি ভারত ও ভারতীয়ত্ব বিরোধী। ভারত মানে বহুত্ববাদ, ভারত মানে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, ভারত মানে মিলেমিশে থাকা। সঙ্ঘ পরিবার ভারত তো বটেই হিন্দু ধর্মেরও কলঙ্ক। এক সম্প্রদায় ( নাগপুরি ব্রাহ্মণ), এক ভাষা, এক খাদ্যাভ্যাস ভারতীয় ধারণার বিরোধী।ভারতের হিন্দুদের খাদ্যাভ্যাস বিচিত্র।এমনকী বেদ উপনিষদে বর্ণিত খাদ্যাভ্যাসের বিরোধী সঙ্ঘ পরিবার ও তার শাখা সংগঠন ভাজপা। রামায়ণ একটি সুলিখিত মহাকাব্য। তার বর্ণনা অনুযায়ী রামচন্দ্র এবং সীতা তো নিরামিষ খেতেন না। রীতিমতো বহু ধরনের মাংস খেতেন। এবং সঙ্ঘ পরিবারের বেছে বেছে আপত্তি করা একটি বিশেষ মাংসের রুচি ছিল বলেই তো রামায়ণ বলছে।মহাভারত। আরেকটি বহু পঠিত বহু শ্রুত মহাকাব্য।তাতে 'অনুশাসন' অংশ পড়লে কী পাবেন।পিতৃআত্মা তো ... ...
কুবের তো নই, তাই উবের চড়তে ভয়। ওলা? আছে টাকার ঝোলা? নেই। তাই রাপিড। সে তো খাপিড। টাকার অঙ্ক বাড়াইয়া দিলে তবে যাইব। বাড়াইয়া দিব! তো খাইব কি? বাজার আক্রা। কে কথা বলবে? তখনো কে কে পর্ব আসে নি। মৌন মুখর হয়ে উঠবে মুখবদন-- কে জানতো। ফেসবুকে সাড়া পাইনে, কে কে সাইনে বুঝিলাম -- উহারা সব লক্ষ্য করিয়া থাকেন, 'উপর্যুক্ত' নরম সরম লক্ষ্যবস্তু পাননি বলিয়া চরম অসন্তোষে ছিলেন। এইবার মিলিয়াছে। ইউরেকা ইউরেকা। সহি 'ভারতিয়' হইবার পেরমাণ দিবার নাগপুরিয়া বা এম্নিপুরিয়া অনুপ্রেরণা জুটিয়াছে-- খাপ আর খাপ খাইয়ে নিতে পারলেই লাইক লাইক লাইক।আমি তো চৈতন্য অনুপ্রেরণার মানুষ। মাথা ঝোঁকানো হাত তোলা লোক। উবেরে ... ...
বাঙাল-ই ও কাঙাল-ই বদলে যাচ্ছে নাকি বদলে ফেলা হচ্ছে, কলকাতার রাস্তাঘাটের বাণিজ্যিক মানচিত্র। আশির দশকে নতুন দোকান বলতে মনোহারি নয় ভিডিও পার্লার, ক্যাসেট বা জুতোর দোকান। নয়ের দশকে বাড়ল কম্পিউটার দোকান। অল্প। আর চলল টেলিফোন বুথ। একুশের প্রথম দশকে সোনার দোকানের বিজ্ঞাপন বাড়ল। বাড়ল একটু একটু করে মোমো ও বিরিয়ানি দোকান। এখন পাড়ায় নতুন দোকান মানে বিরিয়ানি মোমো সোনা মিষ্টি বা কেকের দোকান।বাঙালি খাবারের দোকানও বেড়েছে। তবে পাড়ার মোড়ে নয় শহরের নানা জায়গায়।এছাড়া বাড়ছে চা ও সিগারেটের দোকান।বাঙালি তাতে নেই। সিকঞ্জি মেলে মেলে ঠান্ডা ও উষ্ণ পানীয়।নগরে উষ্ণতা বাড়ছে। বাড়ছে ম্যাসাজ পার্লার। বাঙালিনী ম্যাসেজকারিণী। খদ্দের বেশি ভিন্নভাষী।নগরে বাঙালি কমছে। সল্ট লেক ... ...
কংগ্রেস মানেই তখন নিন্দার বিষয়। সিপিএমের চোখে। আমাদের চোখেও। রাজীব তো আরো সর্বনাশা! মডেল স্কুল, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি, গ্যাট চুক্তি, প্ল্যাস্টিক আমদানি, স্যাম পিত্রোদা-- রাতদিন মুন্ডপাত। এরপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এল বোফর্স চুক্তি। চোর চোর ধ্বনিতে মেদিনী কম্পিত।১৯৯১ এর ৭ মে আসানসোল পোলো গ্রাউন্ডে প্রথম দেখলাম সাংবাদিক হিসেবে। বেশ কাছ থেকে। দেখে মনে হল, ইনি আর যাই হোন চোর নন। স্বপ্ন দেখা চোখ। জনতা উন্মাদ তাঁকে ছুঁতে চেয়ে। তিনি ছুঁতে দিচ্ছেন। জনতার সঙ্গে মিশে এগোচ্ছেন। মনে হল, এতো ভয়ঙ্কর ভয়ের বিষয়। যে কেউ মেরে দিতে পারে। এভাবে নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে জনতার মাঝে।ঠিক দু সপ্তাহ পর ২১মে কাগজের অফিসে বসে ... ...
মুখে লেখায় খুব মুসলিম প্রীতি দেখালেও অনেকেই ভাবেন, মুসলমানরা একটি এঁদোডোবা এবং তাঁরা আসলেই মুসলমান। বাঙালি নন। রবীন্দ্রনাথ বা বাঙালিয়ানা তাঁদের কাছে অস্পৃশ্য। এক আধজন অতি ব্যতিক্রমী। কোনো লেখায় এই উপাদান খুঁজে পেলে একদল গদগদ হয়ে যান ... ...