প্রীতির সঙ্গে কথা বলতে চাই।” অংশুমান বলল, "কি করতে হবে বল?"তুই বলবি রমেন তােমাকে চন্দন হলের কাছে থাকতে বলেছে,ঠিক আছে বলব। কিন্তু কখন ?"বিকাল তিনটের সময়।"ঠিক আড়াইটে থেকে অংশুমান প্রীতির কলেজ যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে আছে। এখন কলেজ থেকে বাড়ি আসবে। হঠাৎ দেখল সবুজ শাড়ি পরে প্রীতি ফুটি চালিয়ে আসছে। অংশুমান বলল, “এই যে ম্যাডাম, একটু দাঁড়ান।”প্রীতি অংশুমানকে চেনে রমেনের বন্ধু হিসাবে। প্রীতি বলল, "কি বলছেন ... ...
গল্প বলতে বলতে কখন যেনো মেনকার চোখে জল এসে গিয়েছিলো। সোমা জল মুছে দিলো। বললো, আর পনের দিন পরেই পুজোর ছুটি। সবাই বাড়ি যাবো। কি মজা বল। মেনকা বললো, ঠিক বলেছিস। কথায় বলে না ভালোলোকের শত্রুর অভাব নেই। সুমন নানারকম অসুবিধা থাকলেও এদল ওদল করে না। টাকার লোভ তার নেই। আর এইসব গান বাজনার লাইনে রাজনীতি খুব বেশি। অনেকে ভালো শিল্পীকে নিয়ে টানাটানি করে। সুমন আর রূপসী বড় শিল্পী। তবু তারা মুরারী অপেরা ছাড়ে নি। মুরারী এখন ভালো ব্যবহার করে। আলকাপের দল খোলার পর থেকে লাভের অঙ্কটা হু হু করে বেড়ে চলেছে। তাই সে খুব খুশি। সুমন এবার নেশা ধরেছে ... ...
সুমনের বাঁশি বাজানো দেখে লাইনের অনেকে হিংসা করে। রূপসী বল, ভালো কাজ করলেই শত্রু বেড়ে যায়। সুমন বল, ছেড়ে দাও ওসব কথা। এসো আমরা সাধনা চালিয়ে যাই। তারপর সুমন বাঁশি বাজানো শুরু করলো। তার বাঁশির নবসুরে রূপসীর দেহ কেঁপে উঠলো। সুমন খুশি মনে স্নান সমাপন করলো। রূপসীর হাতের রান্না খুব ভালো। সুমন খেলো। রাতে আজ কাজ নেই। মুরারী রাতে রূপসীর ঘরে এলো। সে বললো, শোনো সবাই। যাত্রাদলের এখন কোনো কদর নেই। তাই আমি আপাতত আলকাপের দল করবো। সুমন বললো, যাত্রাদল তাহলে ... ...
জীবনটা ঠিক ছবির মত। মনখেয়ালের তুলিতে রাঙানো যায় জীবনের ক্যানভাস। ইংরাজী ১৯২০ সাল। বৃটিশদের বিরুদ্ধেলড়াই চলছে জোর কদমে। তখনকার সময়ে রায় পরিবারের সুমনের জীবনের ঘটনা। সুমন যাত্রাদলে বাঁশি বাজায়। আর গোপনে বিপ্লবীদের সাহায্য করে নানারকমভাবে। ঠিক একশো বছর আগে রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো ভারতেও কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। গত শতাব্দীতে ভারতের বামপন্থী রাজনীতিও নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গেছে, আর তাতে অক্টোবর বিপ্লব ... ...
৩৫ পিসেমশাই বললেন, আমার জীবনের গল্প না বললে আমার পরিবেশ ও বড় হয়ে ওঠার কাহিনী জানতে পারবি না। আমি আজ তান্ত্রিক হলেও সাধারণ ঘরের ছেলে। সংস্কৃত নিয়ে পড়াশুনা করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ বংশ অনুক্রমে কালীসাধক। সাধনায় আমাদের মদ, মাংস, নারী সবই প্রয়োজন। বায়ুরূপ যোনীতে প্রকৃতিরূপ লিঙ্গ স্থাপিত করে স্তম্ভন প্রক্রিয়ায় বির্যধারণ করতে হয়।কিছুলোগ পাকামি মারতা হ্যায় লেকিন পারতা নেহি। খুব কঠিন ব্যাপার হ্যায়। রতন বললো, বেশ ওসব বুঝি না। আপনার ছোটবেলার গল্প বলুন। পিসেমশাই বললেন, এমনি এমনি নেহি হবে কিছু খাওয়াতে হবে। আমি তিনজনের জন্য ছটা সিঙারা নিয়ে এলাম বাজার থেকে। পিসেমশাই এলে এমনিতেই মা চা করে আনেন। আমার ঘর আলাদা। এঘরে ভিড়ভাট্টার ... ...
৩২ পিসেমশাই বললেন, আরে বাবা ভূত পেত্নীর একটু ভালোবাসাবাসি করার জায়গাটুকু পর্যন্ত নেই। একটু নিরালা একটু আড়াল নেই। শুধু বসন্তকাল জুড়ে হরিনাম সংকীর্তনের পালা। আর এই বসন্ত কালেই তো একটু পেত্নীর মাথায় সোহাগের হাত দিয়ে উকুন বাছতে ইচ্ছে হয়। তারও জো নেই। মানুষগুলোর হরিভক্তি যেন উছলে উঠেছে। পিসেমশাই এর তিরানব্বই বছরের ভূত বিশেষজ্ঞ জিতেন দাদু এই বসন্তকালেই ভূতপেত্নী নিয়ে গবেষণায় মাততেন। কারণ এই বসন্তে গত বছর লাইনে বুক পেতে দিলো রমা সুন্দরী চলন্ত ট্রেনের সামনে। দেহের একভাগ এপারে আর এক ভাগ ওপারে পড়লো। রমার আত্মা ভাবলো মুন্ডু থাকা অংশেই প্রবেশ করে শয়তান মানুষকে ভয় দেখাবো। সঙ্গে সঙ্গে জিতেন দাদুর সামনেই রমার মৃত মুন্ডুযুক্ত ... ...
পিসেমশাই বললেন, লম্বা চুল হলে হিন্দু সমাজের একাংশে বিধান রয়েছে, সমস্ত শ্মশানযাত্রীকে মস্তক মুণ্ডন করতে হবে। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, চুলের শিকড় পথেই আত্মা প্রবেশ করে শরীরে (হিন্দু ধর্ম মতে)। এদিকে প্রচলিত ধারণা, শ্মশানে ঘুরে বেড়ায় অনেক আত্মাই! তার মধ্যে কোন দুষ্ট আত্মা যদি শরীরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তা রোধ করার জন্যই মস্তক মুণ্ডন! এই কুসংস্কার বাদ দিয়ে ব্যাপারটাকে দেখা যায় অন্য ভাবেও। মস্তক মুণ্ডনকে যদি মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ সম্মানজ্ঞাপন বলে ধরা হয়, তাহলেও সমস্যা রয়েছে। কেন না, যে সময় থেকে এই নিয়মের উদ্ভব, তখন নারী সন্ন্যাসিনী না হলে তার মস্তক মুণ্ডনের প্রশ্নই উঠত না। তাই নারীর শ্মশানে যাওয়ার ... ...
মন থেকে থেকে যদি বিচিত্র আওয়াজ শোনেন ফাঁকা বাড়িতে, তবে নিশ্চিত হন, সেটা ছুঁচোর কীর্তি বা বিড়ালের ডাক কি না। তাতে যদি সন্দেহ না-মেটে, তবে সাবধান। আর একটা ব্যাপারেও তিনি খেয়াল রাখতে বলেছেন, যদি হঠাৎ হঠাৎ বাড়ির ভিতরে শীত বোধ হয় গরমকালে, তা হলে সমস্যা রয়েছে। তবে এটাও ঠিক, সামান্য ঠান্ডা অনুভব করা মানেই তেনারা এসে গিয়েছেন, তা একেবারেই ঠি নয়।হঠাৎ কোনও বিশেষ গন্ধ পাওয়া। গন্ধপিশাচ হতে পারে। মতে। বিশেষত, আপনার কোনও অনুপস্থিত প্রিয়জনের সুবাস যদি ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে ধাক্কা মারে, তা হলে সাবধান। গন্ধটা খুবই সন্দেহজনক বলে জানবেন। তান্ত্রিক এবার বললেন একটি নতুন গল্প। এক নরখাদকের কাহিনী। সারা পৃথিবী জুড়েই ... ...
চন্ডীদাসের মত ছিপ ফেলে বিপিন মাছ ধরা দেখছে ফাতনার কথা ভুলে। বাউরি বৌ গুগুলি আর ঝিনুক ধরছ জলের তলা থেকে। তার সুডৌল স্তন ঝুঁকে পরেছে জল ছুঁয়ে। জল কখনও সখনও রসে ডুবিয়ে দিচ্ছে যুবতী হৃদয়। বিপিন দেখছে ভিজে নিতম্ব ফুটে উঠেছে খাজুরাহের ছবির মত। বিপিন ভাবছে ঝিনুক, গুগুলির জীবন বাউরি বৌকে স্বামী সোহাগী করে তুলেছে কোমল দেহসৌষ্ঠবের মাধ্যমে। পুকুরের পাড়ে গাছ গাছালির স্নেহচ্ছায়া। এই দুপুর হয়ে উঠেছে বসন্তমায়া। কোন এক অদৃশ্য মায়ায় বৌ মাঝে মাঝে তাকায় বিপিনের দিকে। কেউ কোথাও নেই। দুপুরের অবসর বাউরি বৌ ধরে শামুক, ঝিনুক। অলস স্বামীর খপ্পরে পরে জীবনে তার লড়াই প্রকট হয়ে উঠেছে। বিপিন বেকার ... ...
৫ পিসেমশাই আজ নতুন একটা গল্প শুরু করলেন। সেদিন ছিল ভীষণ কুয়াশা। শীতকালের পৌষ মাসের সকাল। যথারীতি ভোর পাঁচটার ট্রেন ধরে হাওড়া যাবে বলে লাইন পার হচ্ছিল মনোজ। আর ঠিক সেই সময়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসছিল গ্যালোপিং ট্রেন। তাকে পিষে দিয়ে চলে গেল নিমেষে।একটু পরেই মনোজের শরীর বেশ হালকা লাগছে। সে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে শুরু করলো। কিন্তু দেখলো সে হাওয়ায় ভাসছে কেন? আর তার শরীরটা পড়ে আছে লাইনের উপর।শরীর ছাড়া হয়ে মনোজ বেশ উপরে উঠে উড়ে উড়ে বেড়াতে লাগল। তারপর দুপুর গড়িয়ে রাত নামলো রাতে আরো অনেকে শরীর ছাড়া। শরীর ছাড়া আত্মা উড়ে উড়ে বেড়াতে বেড়াতে তার কাছে এলো। সকলের সাথে ... ...