মগজ বনাম মেশিন: এক যান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র ও নাগরিকত্বের ডিজিটাল প্রহসনএকটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা যে সুস্থ গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত, সে কথা কেউ অস্বীকার করছে না। মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার কিংবা অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম সরিয়ে দিয়ে তালিকাটি পরিচ্ছন্ন করা নির্বাচন কমিশনের একটি আবশ্যিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-এর এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়াটি যে কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে, তা হলো এর যান্ত্রিক ও অমানবিক পদ্ধতি। রাষ্ট্র যখন মানুষকে কেবল একটি ‘ডিজিটাল ডেটা’ বা অ্যালগরিদমের বিন্দুতে রূপান্তর করে, তখন জন্ম নেয় এক ভয়াবহ অস্তিত্বের ... ...
সুরক্ষার বন্ধন ও প্রতীক্ষিত ইশারা: সমকালীন জনমতের এক নিবিড় ব্যবচ্ছেদনির্বাচনের ফল বেরোলেই একটা অদ্ভুত ছবি আমাদের চোখে ভাসে—হাজারো বিকল্প আর প্রার্থীর ভিড়েও দেখা যায়, এক অদৃশ্য জাদুবলে জনস্রোত একজনের বাক্সেই পাহাড়ের মতো জমা হচ্ছে। কেউ পাচ্ছেন পঞ্চাশটি ভোট, আর ঠিক তার পাশের জন হয়তো স্রেফ দুটো ভোট নিয়ে ধুঁকছেন। এই যে সংখ্যাতত্ত্বের আকাশ-পাতাল তফাৎ, এটা কি কেবলই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা? নাকি এর গভীরে কাজ করে মানুষের এক জটিল মনস্তত্ত্ব আর ‘অস্তিত্ব রক্ষার আদিম প্রবৃত্তি’? এই প্রশ্নটি থেকেই জন্ম নেয় আজকের এই বিশ্লেষণ। ব্যক্তি কি একান্তই নিজের স্বাধীন ও যৌক্তিক বিচারবুদ্ধি দিয়ে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করে, নাকি এক বিশাল অদৃশ্য জনস্রোতের টানে নিজের ... ...
মুখোশের মহোৎসব পাথরের চোখে জলের প্রত্যাশা, মিছে এই আয়োজন,যেখানে কসাই নিজেই সেজেছেব্যথার বিজ্ঞাপন।ত্যাগের বসনে লেগেছে গোপন লালসার গাঢ় দাগ,সেবার আড়ালে ফণা তুলে আছে কুটিল সর্প-রাগ।শহিদ রক্তে আলপনা দেয় যে বিষাক্ত হাত,তারাই সাজায় মঞ্চ এখন, জাগে সুবিধায় রাত।যারা লড়েছিল বিচার চেয়ে ওই কালবৈশাখী রাতে,তাদেরই স্বপ্ন আজ বিক্রি হয় ক্ষমতার ঐ-হাটে।আশ্রয়-বৃক্ষে লুকিয়ে ছিল যে অন্ধ মোহ-পাশ,বিশ্বাসে আজ ছোবল মারে—বিষাক্ত এক আশ।যারে ভেবেছি অটল পাহাড়, ন্যায়ের অতন্দ্র প্রহরী,সে-ও তো দেখি চোরাবালিতে—স্বার্থের জপমালা ধরি।বিচারপতির হাতুড়ি এখন হাততালি খোঁজে মঞ্চে,আদর্শ আজ ধুঁকছে কেবল স্বার্থপরতার দংশে।যাদের আমরা ভেবেছি ধ্রুবতারা, আঁকড়ে ধরেছি ত্রাণে,তারাই আজ গিরগিটি সম, মিশেছে সুবিধাবাদী গানে।এ এক শূন্য মাঠের খেলা, যেখানে রেফারিও বিক্রীত,বিবেক এখানে সস্তায় কেনা, সত্য আজ নির্বাসিত।মানুষ খুঁজছে মানুষকেই, কিন্তু পাচ্ছে কেবল ছায়া,রাজনীতির এই মরীচিকায় মিথ্যে মায়ার কায়া।দেউলিয়া সব তাসের ঘর, আজ সব ... ...
আস্থার অপমৃত্যুকল্পনাতে যখনই ওই কড়া হিসেবের হানাদারি,কষ্টেরা তখন কুঁড়ি মেলে দেয়, সুখের সাথে আড়ি। ভাবনারা সব ডানা ঝাপটায় বিষাক্ত খাঁচায় পড়ে,বিকিয়ে গিয়েছে বিশ্বাস আজ অর্থের থলি ভরে।বিত্তের রথে চড়েছে মানুষ, ধুলোয় মিশেছে প্রাণ,ভরসার হাটে পসরা সাজিয়ে নেমেছে অসম্মান।মানুষের কোনো মূল্য তো নেই, টাকাটাই বড় সত্য,আস্থার ঘাড় মটকে সেখানে মিটিমিটি হাসে ভৃত্য।পূর্ণিমা রাতে আলোর মুখোশেঅমাবস্যা দেয় হানাআলোর ভেতরে লুকিয়ে বসেছে অন্ধকারের ছানাবিবেকের ঘর পুড়ে ছাই হয় স্বার্থের এই রোষে,স্বপ্নরা সব ফ্যাকাশে হয়ে ঝড়ে অপরাধের দোষে। ... ...
হরমুজের জাঁতাকলে হ য ব র ল: বিবর্তনের এক ‘স্মার্ট’ প্রহসন বিবর্তনের চকমকি পাথর ঘষা সেই আদিম গুহামানব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের এই ‘গ্যাস-সংকট’ দেখে নির্ঘাত শিউরে উঠতেন। চার্লস ডারউইন হয়তো তাঁর লম্বা দাড়ি চুলকে যোগ করতেন, "বিবর্তন মানে তো খাপ খাইয়ে নেওয়া! কিন্তু এই 'হোমো সেপিয়েন্স'রা তো বিবর্তিত হতে হতে উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করেছে।" যে প্রজাতি একসময় বনের শুকনো ডাল দিয়ে আগুন জ্বেলে টিকে ছিল, তারা আজ পঁচিশ দিনের গ্যাস ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে কাঁপছে। একে 'সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট' না বলে 'সার্ভাইভাল অফ দ্য বুকড' বলাই ভালো।এই চরম সংকটে সেন্টিনেলিজরাই আসলে বিবর্তনের আসল চ্যাম্পিয়ন। ... ...
তত্ত্ব বনাম তপ্ত জিলিপি...বাঙালির রঙিন জগাখিচুড়ি...পন্ডিতদের জন্য এক চিলতে আবির... আজকের এই দোল-পূর্ণিমা-গ্রহণ-মহাপ্রভু-গোপাল পূজা-রবীন্দ্রনাথের মহাজাগতিক বসন্ত উৎসবের ককটেলটি আসলে আমাদের তথাকথিত নাস্তিক আর শুষ্ক তাত্ত্বিক পণ্ডিতদের জন্য এক চরম দুঃস্বপ্ন। যখন কোনো মার্ক্সবাদী সমাজতত্ত্ববিদ চশমা ঠিক করতে করতে ল্যাপটপে টাইপ করেন—"ধর্ম হলো জনসাধারণের আফিম এবং দোল উৎসব হলো আসলে সামন্ততান্ত্রিক আধিপত্যের অবশেষ", ঠিক তখনই তাঁর জানলার বাইরে 'ওরে গৃহবাসী'-র রবীন্দ্র-সুর আর 'হরিবোল' ধ্বনি মিলেমিশে বাংলায় একাকার হয়ে তাঁর থিওরিকে সপাটে চড় মারে। আমাদের এই পণ্ডিতকুল যখন সেমিনারের এসি রুমে বসে ''সাবঅল্টার্ন কালচার" নিয়ে খাতা ভর্তি করেন, তখন রাঢ় বাংলার পিন্ডারের পলাশ বনে আগুন লেগে গেছে, আর সেই পলাশের রঙে রাঙা হয়ে ... ...
গিন্নি থেকে প্রশাসক: নারী কল্যাণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিঃশব্দ বিপ্লব মহাভারতের কুরুসভায় দ্রৌপদীর অসহায়তা থেকে শুরু করে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমাজ সর্বদা নারীকে দয়ার পাত্রী বা পুরুষের অধীনস্থ সত্তা হিসেবেই দেখে এসেছে। ব্রিটিশ আমলের সংস্কার আন্দোলন যেখানে নারীকে কেবল আইনি সুরক্ষার ‘লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে দেখেছিল অর্থাৎ নারীকে আইনি খাঁচায় বন্দি করে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল, সেখানে বাম আমলের মার্ক্সীয় দর্শন নারীমুক্তির সমাধান খুঁজেছিল শ্রেণী-সংগ্রামের তত্ত্বে, যেখানে নারীকে উৎপাদনের কারখানায় ‘শ্রমিক’ হিসেবে পাঠানোর কথা বলে অথবা বড়জোর বামপন্থী মিছিলে ‘সর্বহারা শ্রমিক’ হিসেবেই ... ...
ছায়ার সীমান্তনাগরিক থেকে ‘আগন্তুক’—একটি মুহূর্তের দূর,বুকের খাঁচায় অচেনা ভয়ের বাজছে করুণ সুর।এখনও আমি মানুষ আছি, এখনও আমিই আমি,একটু পরেই তালিকার ভিড়ে তুচ্ছ এবং দামী। ... ...
অন্ধকার ঘুচলো ঠিকই, কিন্তু যে ক্ষত রয়ে গেল তার দায় কার? অরবিন্দ কেজরীওয়াল ও মণীশ সিসৌদিয়ার এই আইনি নিষ্কৃতি আসলে ক্ষমতার দম্ভ বনাম ব্যক্তিগত সততার এক অসম লড়াইয়ের সমাপ্তি, যা আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। এটি কেবল একটি আইনি জয় নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্রের সেই সর্বগ্রাসী রূপের বিরুদ্ধে সত্যের প্রতিবাদ, যেখানে আইনি প্রক্রিয়াকেই প্রতিপক্ষ দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোন প্রমাণ ছাড়াই মাসের পর মাস নির্জন কারাবাস একজন ব্যক্তির আত্মপরিচয় ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর যে গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা অপূরণীয়। এটি ছিল তিলে তিলে গড়া একটি রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে জনমানসে ধূলিসাৎ করার এক সুক্ষ্ম মানসিক ষড়যন্ত্র। ... ...
রোবট চুরি থেকে ঘণ্টা বাজিয়ে ভাইরাস নিধন: ভারতীয় মেধাকে কৌতুক বানানোর দায় কার? বর্তমানে ভারতবর্ষ এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের গরিমা আর থালা বাজিয়ে ভাইরাস তাড়ানোর প্রলাপ একই সমান্তরালে অবস্থান করছে। গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক রোবট জালিয়াতি (২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই সামিটে চীনের 'Unitree' কোম্পানির তৈরি রোবট কুকুরকে নিজেদের আবিষ্কার বলে চালিয়ে দেওয়া) কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আসলে একটি গভীর ও বিস্তৃত বৌদ্ধিক মহামারীর চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। যখন আইআইটি-র মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণ হিসেবে "মাংস ভক্ষণ"(!) (আইআইটি মান্ডির ডিরেক্টর লক্ষ্মীধর বেহেরা দাবি করেছিলেন যে পশুহত্যার কারণেই হিমাচলে ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে) কে দায়ী করেন, কিংবা ইন্ডিয়ান ... ...