( ৩৫ ) জন্মেজয়বাবুর ছেলে অখিলদের অনেক স্বজন পূর্ব পাকিস্তানে আছে এখনও। হয়ত ভালই আছে। কিন্তু অখিলের পিসতুতো ভাই চন্ডীদাস ইন্ডিয়ায় এসেছে চিকিৎসার জন্য। সে বলল ... বড় গন্ডগোল বাধসে ঢাকার দিকে। এহনে আমাগো ওদিকেও ছড়িয়ে পড়তাসে ... ' আরও অনেক খবর দিল। ইয়াহিয়া খান নাকি ওদিক থেকে প্রচুর মিলিটারি পাঠাচ্ছে। ' হালায় অনেক অত্যাচার শুরু করসে। আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবর রহমান লড়াইয়ের ডাক ... ...
( ৩৪ ) প্রতিবিম্ব দেশে ফিরে এসেছে। ছেলে স্কটিশ চার্চ স্কুলে ভর্তি হয়েছে। শশীকলার মতো দিনে দিনে বেড়ে উঠছে ছেলে। স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসার কাজটা সুমনাকেই করতে হয়। সে আবার পরমানন্দবাবুর বাড়িতেই ফিরে গেছে। অলোকেন্দুবাবু মাঝে মাঝে এসে দেখে যান। তিনি চান তার ছোট মেয়ের যেন কোনরকম অসুবিধে না হয়। তার এই ঘড়ি ঘড়ি খোঁজখবর নেওয়াটা সুমনা ঠিক নিতে পারে না। কেমন একটা অস্বস্তি বোধ করে। তার মনে হয় এতে প্রতিবিম্বকে ছোট করা হচ্ছে। সে ভাবে, প্রতিবিম্বর মতো ছেলের জন্য ... ...
( ৩৩ ) স্নেহাংশু মিত্র, অমিতাভ সেন, সুনির্মল বরাট। অমিতাভদের লিটল ম্যাগাজিনটা বন্ধ হয়ে গেল। নৈঋত অনেকদিন চালিয়েছিল ওরা। পরের দিকে আর টানতে পারছিল না। ওদের মধ্যে সুনির্মল কবি হিসেবে বেশ নাম করেছে। দেশ পত্রিকায় তার কবিতা মাঝে মাঝেই বেরোয়। চার পাঁচটা বইও বেরিয়ে গেছে। লাইনের নিন্দুকেরা অনেকে বলে সুনির্মল কবিতা কেমন লেখে তা সবাই জানি, তবে সে যে ধামা ধরার শৈলিতে এক্সপার্ট হয়ে উঠেছে সেটা একেবারে পাক্কা। অমিতাভ লেখালেখি পুরোপুরি ... ...
( ৩২ ) সাগর আর রাত্রি পরদিন সকাল নটা নাগাদ নিখিল ব্যানার্জীর বাড়ি গিয়ে খবরটা পেল। একজন গৃহ পরিচারিকা কোচিং ঘরের বাইরের বারান্দাটা ঝাট দিচ্ছিল। ' স্যার আছেন ? ' শুনে সে বলল, ' ওমা ! এত কান্ড হয়ে গেল ... আপনারা কিছু জানেন না ? ' সরস্বতী মাসি তো আকাশ থেকে পড়ল। রাত্রি আর সাগরের হৃদপিন্ডে দ্রুতগতিতে ঘা পড়তে লাগল। নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সরস্বতীর মুখের দিকে। সৌভাগ্যবশত সে ঘটনা পরম্পরা অসংলগ্নভাবে বর্ণনা করলেও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের হদিশটা ঠিকঠাক দিতে পারল। রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় প্রায় ছুটতে ছুটতে ... ...
( ৩১ ) নিখিলবাবুকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করারই সিদ্ধান্ত নিলেন তার বাড়ির লোকেরা। তার চোখের দৃষ্টি কাল বিকেল থেকে কেমন শূন্য ভাবলেশহীন হয়ে গেছে। কোন কথা তিনি শুনতে পাচ্ছেন বলেও মনে হয় না। আস্তে আস্তে ধরে তাকে শুইয়ে দেওয়া হল। তার চোখের পাতা বুজে এল। তিনি যেন তলিয়ে গেলেন গহন ঘুমের ঘোরে। বাড়ির ডাক্তারবাবু এসে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বললেন, ' সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে ... ইমিডিয়েটলি হসপিটালাইজ করুন ... '। কে একজন বললেন ... ...
( ৩০ ) দুর্বার ঠিক করেছে কাল শনিবার অফিস করে বর্ধমানের মেমারিতে দেশের বাড়িতে যাবে। সোমবার বিকেলে ফিরবে। সোমবার একটা ছুটি নেবে। ওরা চারজন অনেক দিন ধরে একসঙ্গে থাকার সুবাদে পারস্পরিক সম্বোধনটা 'তুমি' থেকে 'তুই' তে পৌঁছেছে। অবশ্য সুভাষ এদের মধ্যে সামান্য বড় বলে বাকি তিনজন তাকে 'তুমি' বলে। সুভাষ বলল, ' ঠিক আছে, বিকেলে তখন তো আমরা কেউ থাকব না। তোর কাছে একটা চাবি রেখে দিস। ---- ' হুঁ হুঁ ... ' ---- ' আমিও অবশ্য সোমবার হাফ ডে নিতে পারি। বউবাজারে একটা কাজ ... ...
( ২৯ ) হরি হরায় নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নম ... যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ .... মানিকতলা মেন রোডে কোন উপলক্ষ্যে অষ্টপ্রহর নামগানের আসর বসিয়েছে হরিমোহন বোসের বাড়িতে। মাইক লাগিয়েছে বাড়ির দুদিকে দুটো। কোন পারিবারিক পূজা পার্বণ বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হচ্ছে নিশ্চয়ই বোস বাড়িতে। সদানন্দ সরখেল বোস বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সার্কুলার রোডের দিকে। ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন ভিতরে দালানের ওখানে বেশ ব্যস্ততা। রান্নাবান্নার তোড়জোড় চলছে। ভাজাভুজির গন্ধ ভেসে আসছে। তা শ'পাঁচেক লোক খাবে বলে মনে হয়। বাড়ির গেটে সাদা কাপড় কুঁচি করে ... ...
( ২৮ ) ইউনিভার্সিটি ফেরতা মধুমিতা আবার একদিন এসে হাজির হল মাসির বাড়ি বেলা আড়াইটে নাগাদ। বিভূতিবাবু ঘুমোচ্ছেন। রমাদেবী এই সবে খাওয়াদাওয়ার পরে হাত ধুয়ে আঁচলে হাত মুছছেন। একটু গড়িয়ে নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময়ে মধুমিতা হঠাৎ এসে হাজির। ---- ' কিরে ... তুই ! আর ক্লাস নেই ? ' ---- ' আছে, কিন্তু হবে না ... ওই একটা গন্ডগোল হয়েছে ... দু দল ছেলে মারামারি শুরু করল ... ওঃ কি ঝামেলা রোজ রোজ ... পালিয়ে এলাম ... কলেজ স্কোয়্যারের সামনের গেটে বিদ্যাসাগরের হাফ বাস্ট স্ট্যাচুটা আছে না ... ...
( ২৭ ) কমল সাহা আর সাগর কথা বলতে বলতে গীরিশ এভিনিউয়ের মুখ পর্যন্ত এল। কমল বলল, ' তাহলে ওই কথাই রইল। সামনের সোমবার একটু কষ্ট করে আর একবার এস। তোমাকে নিয়ে বেরব বারোটা সাড়ে বারোটা নাগাদ। মহাজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। পাঁচশ টাকার মতো অ্যাডভান্স করে রেখ। মাল তুলতে অসুবিধে হবে না। বাকিটা পরে আস্তে আস্তে তোমার সুবিধে মতো দেবে। অসুবিধে হবে না। আমার সঙ্গে ভাল খাতির আছে ... ' ---- ' ঠিক আছে, দেখ যদি হয় ... ব্যবসাটা ... ...
২৩শে আগস্ট পোস্ট করা কবিতাটা আর একবার দিতে ইচ্ছে হল ---- কানের কাছে ফিসফিসালো কে ...মোমবাতির ন্যাকামি ফেলে তলোয়ার ধর এবার নইলে পাবে না কিছু রাষ্ট্র তোমায় বানাচ্ছে বোকা, বোঝাচ্ছে যা তাই বুঝ না ঘাড় করে নীচু। রাজা রানীরা ভোলাচ্ছে তোমায় সাজিয়ে তদন্ত নামের খেলা এ কোর্ট সে কাছারি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে করবে সাজানো নাটক মেলা। উন্মুখ চোখে তাকিয়ে আছ এজেন্সিদের পানে আবেগতপ্ত তাকিয়ে দেখছ ধুরন্ধর ঘোরপ্যাঁচ ... ...