Malay Roychoudhury
গ্রাহক হন
অপর মানে আপনার কাছে মাথা নীচু করে থাকবেহেঁ হেঁ করবেহাত কচলাবে। বলবে, আপনার মতো লোক হয় নাঅপর মানে তাকে নীচু চোখে দেখবেঅপর মানে যা খুশি বলা যাবেঅপর মানে নেমন্তন্ন করে খাওয়াবেঅপর মানে ম্লান মুখে ঘুরে বেড়াবেঅপর মানে সংখ্যালঘুঅপর মানে সুবিধাবঞ্চিতঅপর মানে মহিলাঅপর মানে দলিতঅপর মানে অপরঅপর মুখ খুললে বলে দাও, কমিউনালবলে দাও, কাস্টিস্টবলে দাও, নারীবাদীবলে দাও, জঙ্গি কিংবা মাওবাদীঅপর যেদিন তোমাকে অপর বানাবেহে হোঁদল কুঁতকুঁত হায়নামুখো ... ...
বাইশে এপ্রিল, পঁচিশ, যেন বাইশে শ্রাবণের শূন্যতা নিয়ে আছে -বছর পেরোলো প্রায়;শুধু ছাব্বিশ প্রাণ শুয়ে আছে আজো -বৈসারন উপত্যকায়!বিস্ফারিত চোখে প্রশ্ল শুধূই, কেন যে ছিল না প্রহড়ীর গর্জন! -অথচ ভূস্বর্গের টানেপর্যটকের বারোমাসই আগমন!এ কেমন নাট্যরূপ হে তোমার বহুরূপী !লাবণ্যে ভরা শিল্পীরা সব মহড়া দিতে মত্ত !মঞ্চ সাজাতে প্রকৃতি এঁকেছে দুহাত দিয়ে আল্পনা ! বেলা বয়ে যায় পাদপ্রদীপের আলো ছায়া সামলাতে !অরুন তখন আয়েশ করে আলতো হেলেছে পশ্চিমে।তার বর্ণালী ছটায় শেষ দুপুরে, মঞ্চ দিব্যময় !এক অপার্থিব সৌন্দর্যের রহস্য দিয়ে ঢাকা রয়েছেমঞ্চ!মৃদু মন্দ বাতাস যেন উথলে উঠেছে সঙ্গতে।গুন গুন করে বাঁধছে সে সুর সন্তুর আর সারেঙ্গীতে !উপত্যকা আজ টইটম্বুর ধ্রুপদী সঙ্গীতে -আসর ... ...
তখন নিতান্তই হাতেখড়ি র বয়স। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যা দেবীর পূজায় নামাবলীতে মোড়া একটা শক্ত হাত, আমার খড়ির পেন্সিলে ধরা হাতটা আর ও শক্ত করে ধরে কালো স্লেটের ওপরে লিখিয়ে নিলো - অ,আ, ই, ঈ... আমি প্রচন্ড কাঁদছিলাম !সঠিক কারণ আজ আর মনে নেই! তা প্রায় সেই থেকে, কোনো দিনই তাকে দেবী বলে মনে হয়নি আমার!আমার শৈশব কৈশোর নমঃ নমঃ করে, পার হলোযৌবনে হলো মতিভ্রম, আমি হলাম নষ্ট নর!তোমরা যারা পায়ের কাছে বই খাতা কি বাদ্যযন্ত্র রাখতে-আমার কিন্তু তেমনটা নয়! পুষ্পাঞ্জলি নয় - অনায়াসে খেয়েই চলেছি - শাঁখালু, নারকোলি আর টোপা কুল! এছাড়াও ছিল দুই চুরির গুঞ্জন। দিনে ক্ষিচুরি, রাতে কচু্রি!তবু ... ...
( ১ )সংশোধনের তালিকা তৈরি শুরু!ভেতর থেকে সার্কাসটা চালায় ভন্ড গুরু! অনুগত গোবর গনেশ চাইছে কাগজ, আতঙ্কে দেশ! বকলমে লিখছে ভাগ্য;জনগন কি গরু! ( ২ )হরেক রকম ভেক ধরে সেফিকির খোঁজে ফকির বেশে ; স্বাস্থ্য কোমায় আই সি ইউ তে !শিক্ষা মনুসংহিতা তে! মাইক্রোস্কোপের তলায় শুয়ে শিল্প মুচকি হাসে! ( ৩ )হতাশায় মরে পোলাপান; -শুধু দুঃস্থ বাবার পেনসান ! চলছে না আর চলছে না!! সূর্য শিকার হচ্ছে না! দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সওয়ার চন্দ্রযান! ... ...
মার্গারেটকে নিয়ে আসবে কে? চারিদিকে তো ধর্মের ষাঁড়, বাঘের গর্জন শুনি না! তুমিই না হয় আরো একবার এলে... উন-চল্লিশ তো তিরানব্বই হতেই পারতো কেন গেলে এত তাড়াতাড়ি !! আইরিশ শিষ্যা তোমার। সাগর ছেঁচে এনেছিলে মুক্তা-রক্তেই তার বিদ্রোহের বীজ। তুমি তাকে সেবার দীক্ষা দিলে। সে হয়ে উঠলো অগ্নিকন্যা! কিন্তু বিধি বাম; বিদ্রোহ করলো তার স্বাস্থ্য; অচিরেই সেও করলো তোমার পথেই গমন! ভারতবর্ষের উৎসন্নে যাওয়া হলো শুরু। তোমার তৈরি মিশন দেয়নি তাকে ঠাঁই! ভারতবর্ষের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে অগ্নিকন্যার যোগাযোগ সহ্য হলনা, মিশন-কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিষিদ্ধ ... ...
পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী? ১৯৯৯ এ একটা বই প্রকাশ করেছিলাম। বইয়ের পরিকল্পনা, লেখা জোগাড়, প্রচ্ছদ --প্রায় সব। সংস্থার অলিখিত নিয়মে নাম ছিল না কোথাও। প্রচ্ছদে ছিল। একটা লেখাও ছিল। সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী? প্র চার! বইটির নাম ছিল তথ্য সাম্রাজ্যবাদ। সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করে দেখবো, বইটা আবার বের করা যায় কি না?. বইটিতে আজকে বিখ্যাত শুভময় মৈত্র, স্টেটসম্যান-এর প্রাক্তন মুখ্য সাংবাদিক অচিন্ত্য চক্রবর্তী, তাঁর ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (এখন 'নন্দন' সম্পাদক, পরবর্তীকালে গণশক্তি সম্পাদক অভীক দত্ত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান প্রধান অঞ্জন বেরার লেখা ছিল। অনেকেরই সেই লেখা কোনও বইয়ে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই বইয়ে লেখকরা দেখিয়েছিলেন তথ্য সাম্রাজ্যবাদ কত ভয়ঙ্কর। কত কত মিথ্যা কাহিনি রচিত হয় ... ...
নিঃস্ব প্রদীপ সামিল হল কল্পতরু উৎসবে। ধার করা তেল আর নির্জীব সলতে নিয়ে প্রায় নিভু নিভু আলো আজ বেপরোয়া¡ এলোমেলো বাতাসে; তার বুক পুড়ে যাচ্ছে সলতে উসকে দিতে কেউ নেই - নীরবে জ্বলছিল তুচ্ছ প্রদীপ শেষ সম্বল দিয়ে তবে কি অসংখ্য নিঃস্ব প্রদীপের বুক পুড়েই যাবে?কল্পতরুর প্রতিটি শাখায় শাখায়, পাতায় পাতায়, শিরায় উপশিরায় কি জ্বলে উঠবে না শিখা এই হাহাকারের ফতোয়া নিয়ে ?তা যদি না হয় তবে তো লম্পট স্বেচ্ছাচারী বাতাস শুধু ফুলকি সঙ্গে করেই দাবানল হয়ে উঠবে তখন কি আর কেউ রেহাই পাবে কল্পতরু?আজকের বারাব্বাস কি চৈতন্য ফিরে পাবে কল্পতরু?আজ ও তো 'চৈতন্য' মন্দির গাত্রে গাঁথা হয়ে আছে চিরকালীন 'জুডাসের' অচৈতন্য স্বরূপ!এতদিন প্রদীপের নীচে ... ...
নতুন বছর ভালো কাটুক। ইংরেজদের দেশে ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২৫ মার্চ নববর্ষ শুরু হতো। ইংরেজি নববর্ষ নয়, খ্রিস্টিয় নববর্ষ। শুভেচ্ছা। প্রথম নববর্ষ উদযাপন শুরু করেন পারসিক বা ইরানিয়রা। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। অর্থাৎ ৫০০০ হাজার বছর আগে। ব্যাবিলনিয়রা নববর্ষ পালন শুরু করে ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। দুটোই কিন্তু পয়লা জানুয়ারি নয়। মিশরিয়দের অনুসরণ করে সিজার ক্যালেন্ডার চালু করেন। পরে এটা গ্রেগরিয় বর্ষপঞ্জি হয়। আর ইংল্যান্ড তো মাত্র ৪৫৩ বছর আগে পয়লা জানুয়ারি নতুন বছর মানা শুরু করে। ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ মার্চ।নববর্ষ মানে খাজনা আদায়ের দিন। ভারতে তার আগেই নববর্ষ পালন শুরু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। ১ বৈশাখ। নববর্ষ পালন এবং কর আদায়ের দিনে করদাতাদের খাইয়ে। পারসিক নওরোজ উৎসবের অনুসরণ করে।এটা ইংরেজি নববর্ষ নয়। যেমন 1 ... ...
মিশ্র সংস্কৃতির ঐতিহ্য: ১. তুলসীদাস 'রামচরিতমানস' লেখেন অবধি ভাষায়। ২. সংস্কৃত থেকে ভাবানুবাদ করায় মনুবাদী পণ্ডিতরা তাঁকে পতিত ঘোষণা করেন। ৩. প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দেয়। তুলসীদাস মসজিদে আশ্রয় নেন। ৪. তুলসীদাসকে রক্ষা করার জন্য ১৪ জন মুঘল সৈনিক ভিখারি বেশে তাঁর পাশে থাকতেন। আকবরের নবরত্নের একজন বৈরাম খাঁর পুত্রর আদেশে। ৫. মুসলমানদের ওপর এত রাগ, মুসলমানরা না থাকলে 'রামচরিতমানস' পেতেন কোথায়? তুলসীদাস কি বেঁচে থাকতেন? রাম মন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হলে তুলসীদাস একবারও লিখতেন না? লিখেছেন? ৬. রামের অকালবোধনের কথা সংস্কৃত 'রামায়ণ' -এ নেই। সীতার লক্ষ্মণরেখাও নেই। আছে কৃত্তিবাসী রামায়ণে। ৭. কৃত্তিবাস ... ...
মেসি মারাদোনার কাছে ফুটবল শিখেছেন। বামপন্থী ভাবধারা নয়। মেসির কলকাতায় ফুটবল চাওয়া ও ছোটদের সঙ্গে খেলা দরকার ছিল। আম্বানির চিড়িয়াখানায় যেতেন কি মারাদোনা?কলকাতার মাঠের ভেতরে অব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সত্তর হাজার দর্শক তো তাঁকে দেখতেই এসেছিলেন। তাঁর টিম কি বলতে পারতো না-- বাকিদের সরানো দরকার। মেসি ও তাঁর দুই ফুটবলার বন্ধু থাকবেন। ছোটদের সঙ্গে খেলবেন। মাঠ ফাঁকা করা দরকার। শতদ্রু দত্ত, অরূপ বিশ্বাস দুজনেই আবেদন করেছেন, পরে ইউ টিউবে দেখেছি। মাঠের মাইক/ বক্সে কিন্তু সে আওয়াজ পৌঁছায় নি। শুরুতেই গণ্ডগোল। ৪০-৫০ নিয়ে মাঠে ঢোকাটাই ভুল। দরকার ছিল মেসি সমেত বড়জোর ৬-৮ জন। কিন্তু বড় দলবল। বেশিরভাগ কালো পোশাক পরা। মেসির গেঞ্জিও ছিল কালো। ফলে আলাদা করা যাচ্ছিল না। দিল্লি মুম্বাই ... ...