( ৮ ) সন্ময় সেদিন মাঠেই বলেছিল, ' হোয়াইট বর্ডারের সঙ্গে খেলাটা কোন মাঠে পড়েছে বড়দা ? ' ---- ' ওদের মাঠেই। '----- ' খুব টাফ টিম। তাছাড়া ওদের মতো উইকেট বানাবে। এই ক'দিনের মধ্যে অন্তত চারদিন সলিড প্র্যাকটিস চাই। এই গেমটা খুব ভাইটাল। এটা জিতে রাখতে পারলে ... অনেকটা অ্যডভান্টৈজ ... ' ইরাবান সন্ময়ের কথাটা সমর্থন করল, ' একদম ঠিক কথা। ওদের ব্যাটিংয়ে ডেপথ আছে। তিনটে ভাল স্পিনারও আছে। ওরা যে স্পিনিং ট্র্যাক বানাবে এটা শিওর .... আর একটা কথা বলে ... ...
( ৭ ) রাত নটা নাগাদ সন্ময়ের কাছে দীপেন বাবুর একটা ফোন এল। ---- ' হ্যা... বলুন স্যার .... ' ----- ' হ্যা ... সন্ময় একটু ডিসটার্ব করছি ... কাল নেট পড়ছে তো ? '----' হ্যা পড়বার তো কথা আছে ... কেন স্যার ? '---- ' কাল একজন যাবে একটা নাগাদ। তোমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি ... '---- ' কোনও প্লেয়ার ? ' ---- ' হ্যা ... ইরাবান মুখার্জি ... '---- ' ইরাবান মুখার্জি ... মানে বেনিয়াটোলা অ্যথলেটিক্স -এর ওই ... '----- ' হ্যা হ্যা ... ওই। ওর মতো ... ...
( ৬ ) মিনতি এগারো দিন হাসপাতালে ছিল। তার মধ্যে পাঁচদিন স্পেশাল কেবিনে। বাইশ রকম টেস্ট হয়েছে। ব্রেনের সি টি স্ক্যানও বাদ যায়নি। সোডিয়াম পটাশিয়ামের মাত্রা ভীষণভাবে নেমে গেছে। মূত্রে ভালোরকম সংক্রমণ আছে। একটা কিডনি স্বাভাবিকের থেকে আয়তনে ছোট। এনলার্জড হার্টের সমস্যা আছে। হিমোগ্লোবিন বেশ কম। তবে কোন সমস্যাই প্রাণঘাতি নয়।মিনতি শতকরা নব্বই ভাগ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এল। টোপাই আর লোকনাথ গিয়ে মিনতিকে বাড়ি নিয়ে এল দীপেনবাবুর গাড়িতে। হাসপাতালের মোট বিল হল চার লাখ একুশ হাজার টাকা। তাছাড়া দীপেন বাবুর নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতাল থেকেই এক মাসের ওষুধ কিনে দিল সুরেশ জানা। সেও প্রায় হাজার দশেক টাকার ব্যাপার। সমস্তটাই দীপেন বাবু ... ...
( ৫ ) স্বপ্নেন্দু ঘোষ আর আকাশ কুন্ডু ইনিংস ওপেন করল। দুজনেরই গত বছরের পারফর্মেন্স মোটেই আশাপ্রদ নয়। অনেক মাজাঘষা করা হয়েছে এই সিজনের আগে। শিবাজীর বোলিং শক্তি তেমন কিছু নয়। টার্গেটও সামান্য। তবু কিছু বলা যায় না ক্রিকেট খেলায়। আকাশ আর স্বপ্নেন্দু স্বচ্ছন্দে স্ট্রাইক রোটেট করতে লাগল প্রথম ওভার থেকেই। দুটো বাউন্ডারি এল স্বপ্নেন্দুর ব্যাট থেকে পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় আর ষষ্ঠ বলে। পাঁচ ওভারে আঠাশ। নতুন ওভার শুরু করতে যাচ্ছে একজন মিডিয়াম পেসার। আকাশের স্ট্রাইক। আগের ... ...
( ৪ ) পরের ব্যাটসম্যান সুমিত পাঁজা ব্যাট করতে নামছে। সুমিত ব্যাটিং অলরাউন্ডার। মাঝারি মানের অফস্পিনার। কিন্তু রীতিমতো ভাল ব্যাটসম্যান। ফুটওয়ার্ক খুব ভাল। বিতান কাঞ্জিলালের ওভারের পঞ্চম বল। সন্ময় টোপাইকে স্কোয়্যার লেগ থেকে সরিয়ে লেগ স্লিপে নিয়ে এল। লেগ অ্যন্ড মিডলে পুরো লেংথের ইনসুইং। একটু জড়সড় ভঙ্গীতে হাফকক মতো খেলল সুমিত। ব্যাটের বাইরের দিকের কানায় লেগে উইকেটকিপারের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে গেল বাউন্ডারিতে তড়িৎগতিতে, লেগস্লিপ থেকে টোপাই নড়বার আগেই। শেষ বল লেংথে ছোট। অফস্টাম্পের বাইরে। সুমিত ব্যাকফুটে গেল। ... ...
( ৩ ) সকাল সাতটা নাগাদ ঘুম ভাঙল টোপাইয়ের। দেখল মিনতি আগেই উঠে বসে আছে। বাবাও উঠে পড়েছে। বাইরে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করছে। রুকু আর ভাই সৌমিক এখনও শুয়ে আছে। টোপাই তাড়াতাড়ি মায়ের পাশে গিয়ে বসল। ----- ' এখন শরীরটা কেমন লাগছে মা ? 'কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে কিনা। ----- ' এখন ঠিক আছি ... জ্বরটা নেমেছে মনে হচ্ছে ... '----- ' নামলেই ভাল। নাহলে অজিতাভ পালের কাছে নিয়ে যাব সন্ধেবেলা। 'লোকনাথ গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকল। ----- ' হ্যা ... ...
( ২ ) শশী ঠাকুরমার পুরো নাম শশীবালা ভট্টাচার্য্য। বয়স পঁচাশি পেরিয়ে গেছে। শরীর ঝুঁকে গেছে। একটা লাঠি নিয়ে ঠুক ঠুক করে চলেন। চোখে মোটা ঘোলাটে কাঁচের মান্ধাতার আমলের চশমা। তিনকূলে তেমন কেউ নেই। দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নে আছে, শিবশঙ্কর। বড় ভাল লোক। তারও বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। সে আহিড়িটোলা থেকে প্রায় প্রতিদিন এসে মামীর দেখাশোনা করে। যতদিন মামী বাঁচবে শিবশঙ্করকে বিবেকের তাগিদে এ কর্ত্তব্য পালন করে যেতেই হবে। আজও লাঠিটায় ভর দিয়ে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শশীবালা। বোধহয় শিবশঙ্করের আগমনের অপেক্ষা ... ...
( ১ ) টোপাই বাবার ভাঙা সাইকেলটা নিয়ে মন্ডলপাড়ায় রেশান দোকানের দিকে যাচ্ছিল। পাড়ায় অনিতা মাসী খবর দিল যে, রেশানে কাল চাল ঢুকেছে। যেতে যেতে রাস্তায় দুবার চেন খুলে গেল সাইকেলের। দোকানে গিয়ে দেখল বিরাট লাইন। সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী রাস্তার একপাশে ছোট কার্ড আর থলে হাতে নিয়ে হতাশ মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। টোপাই সিদ্ধেশ্বরবাবুর সামনে গিয়ে সাইকেল থেকে নামল। --- ' কিরে ..... এখন এলি? আজ আর কিছু পাবি না .... কাল ভোরে এসে লাইন দিতে হবে আমাদের .... ' --- ' কেন? ' --- ' এ...ই আজ বলছে কুড়িজনের বেশি পাবে না। আবার কাল কুড়িজন। লাইনে তো দেখছি অন্তত পঞ্চাশজন .... ' --- ' ও হরি ... ...
( ৩৭ ) ফাল্গুন মাস পড়ে গেছে। সদানন্দবাবুর আনন্দের সীমা নেই। না, বসন্তের হিল্লোল উন্মাদনায় নয়। ওসব অশরীরি উচাটন তিনি তেমন বোঝেন না। ব্যাপার হল, তিনি আবার একটা নেমন্তন্ন পেয়েছেন। সীতেশ সাহার নাতির অন্নপ্রাশন। সীতেশবাবুর বাড়ি অবশ্য রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে নয়। বেথুন রোয়ে। সদানন্দ আগে একসময়ে সাহাবাবুর বই বাঁধাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। তার সাদা সিধে স্বভাবের জন্য সীতেশবাবু তাকে খুব পছন্দ করতেন। তাই তিনি সীতেশ সাহার নেমন্তন্নের লিস্টে রইলেন এবং সস্ত্রীক। এ ব্যাপারটা অবশ্য সদানন্দের ঠিক পছন্দ হল না। গিন্নীর ... ...
( ৩৬ ) মণিলাল চ্যাটার্জির বড়মামার কথাই ঠিক হল। ইন্দিরা গান্ধী ধৈর্য ধরে পাকিস্তানি সেনা সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালাবার পরও ওদের হুঁশ না ফেরায় শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে নামিয়ে দিলেন। ডিসেম্বর মাস, কী শীত পড়েছে ! তিন তারিখে যুদ্ধ লাগল, ষোল তারিখে ফিনিশ। এই নিয়ে তিন তিনবার গোবেড়েন খেল পাকিস্তান। এর আগেরবার খেয়েছিল পঁয়ষট্টি সালে, লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে। মণিলালের বড়মামা অবশ্য বললেন, ' জহরলালের মেয়ে বলে কথা, রক্তের ধারা যাবে কোথায় ... '। কেউ অবশ্য তাকে আর বাষট্টি সালে চীন যুদ্ধে ... ...