( ১ ) বেলা দশটা। বসন্ত কাল, কিন্তু মোটেই রোদ ঝলমলে নয়, মেঘলা আকাশ। আজ কালের মধ্যে বৃষ্টি হবে হয়ত। কলতান ভাবল কুলচা অনেকদিন আসে না। একটা ফোন করে দেখা যাক। কুলচার নম্বর ডায়াল করল কলতান। ফোন রিং হয়ে যেতে থাকল। শেষে নারীকন্ঠে ঘোষণা হতে লাগল --- আপনি যে ব্যক্তিকে কল করছেন তিনি এখন উত্তর দিতে পারছেন না ... কলতান লাইন কেটে দিল। ভাবল, হয়ত বাইরে কোন কাজে ব্যস্ত আছে। ফোন তোলার পরিস্থিতি নেই। কুলচার তো ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার কথা ছিল ক'দিনের জন্য। সেখান থেকে ফিরেছে কিনা কে জানে। যাক, পরে আবার ডায়াল করা ... ...
( ১৬তম ও শেষ পর্ব ) পরের দিন সকালে দীপেনবাবুর আর সুরেশের সঙ্গে সন্ময়ও হাসপাতালে গেল। গৌরীদেবী আজ আসেননি। ইরাবানকে জেনারেল বেডে দেয়নি এখনও। ড. আলোকবিন্দু চক্রবর্তী মিনিট পনের পরে ঢুকলেন। --- ' ও মিস্টার মল্লিক ...আপনারা এসে গেছেন .... ভালই হল। সব রিপোর্ট এসে গেছে। গুড নিউস আছে আপনাদের জন্য। ক্রিয়েটিনিনটা শুধু একটু বেশি আছে। আর সব নর্মাল ... ' দীপেনবাবু বললেন, ' আর ওর যে অসুখটা আছে .... ' --- ' হ্যা ... ওটা আছে। তবে স্টেজ ওয়ানে। ম্যানেজেবল। আগে মেডিসিন, মানে ইঞ্জেকশান অ্যপ্লাই ... ...
( ১৫ ) গলির মধ্যে গাড়ি ঢুকল না। গলির মুখে গাড়ি থেকে নামলেন দীপেনবাবু। সঙ্গে সুরেশ জানা। গলির খানিকটা ভিতরে অনেক পুরনো দোতলা বাড়িটা। একতলায় দুঘর ভাড়াটে আছে। তার মধ্যে একঘর হল ইরাবানরা। সেখানে ইরাবান আর ইরাবানের মা থাকে। দোতলায় বোধহয় বাড়িওয়ালা থাকে। দরজাটা খোলাই ছিল। ভিতরে দেখা গেল একজন রোগা চেহারার বয়স্কা মহিলা স্টোভে কি রান্না করছেন। দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে দুহাত জড়ো করে সুরেশ জানা সবিনয়ে বলল, 'মাসীমা এটা কি ইরাবানের বাড়ি? ' ইরাবানের মা গৌরীদেবী স্টোভের শিখা ... ...
( ১৪ ) সন্ময় এবার শিকার সন্ধানী শার্দুলের মতো রক্তের গন্ধ পেয়ে গেল। অনুভব তিওয়ারির স্ট্রাইক। নতুন ব্যাটসম্যান এসেছে অলরাউন্ডার মুনাব্বার রহমান। বড় শট খেলার প্লেয়ার। খেলার মধ্যে থাকতে গেলে নিয়মিত স্ট্রাইক ঘুরিয়ে যেতে হবে। আরও অন্তত সাত আট ওভার যদি এই জুটি খেলে দিতে পারে খেলাটা আবার বর্ডারের নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। তা আট নয়, দশ ওভার অনুভব আর মুনাব্বর খেলে দিল। খেলে দিল মানে উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকল। রান বিশেষ হল না। শুধু টিকে থাকলে আর কাজের কাজ ... ...
( ১৩ ) বারো ওভারের পর একটা ড্রিঙ্কস ব্রেক হল। রান দু উইকেটে একষট্টি। সঞ্জীব ভাটিয়া আর মদন শুক্লা এখনও ব্যাট করে যাচ্ছে। খুব স্বচ্ছন্দে খেলছে তা না। তবে টিকে আছে এখনও। দুজনেই এই সমস্যাসঙ্কুল উইকেটে বারংবার উৎপীড়িত হতে হতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে মিসটাইমড শটে দুজন ব্যাটসম্যান একটা করে বাউন্ডারি পেয়েছে। এদিকে সন্ময় ভাবছে এরা আরও সাত আট ওভার টেনে দিলে ম্যাচটা বেরিয়ে যাবে মনে হচ্ছে। দুটো উইকেট এক্ষুণি দরকার। না হলে যা প্রয়োজনীয় রান রেট, শুধু উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেই টার্গেটে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। সুতরাং ... ...
( ১২ ) জিততে গেলে বর্ডারকে করতে হবে একশ চুয়ান্ন রান যা এই উইকেটে খুব সহজ নয়। যদিও আস্কিং রেট চারেরও কম। অমিত দত্ত আর বিতান কাঞ্জিলাল বোলিং ওপেন করল। দু ওভার অনায়াসে খেলল ওপেনার দুজন। উইকেটে জুজুর কোন লক্ষ্মণ দেখা গেল না। স্পিনার এলে বোঝা যাবে ওসব। রান বিনা উইকেটে এগারো। বিতানকে আর এক ওভারের জন্য ডাকল সন্ময়। প্রথম বল অফস্টাম্পে হাফভলি। এক্স্ট্রাকভার দিয়ে চার। নিখুঁত টাইমিং। পরের বল একই জায়গায়। একটু কম লেংথে। হালকা আউটসুইং। ব্যাটসম্যান পল্লব বোস আবার চালাল। ব্যাটের বাইরের কানা নিল। বল। বল কাঁধের উচ্চতায় প্রথম এবং দ্বিতীয় স্লিপের মধ্যে দিয়ে উড়ে ... ...
এখন আর আগুন জ্বেল না তুমিরক্তিম আভা দাবানল লেলিহান, সবুজ বরণ আম্র শাখার বাতাসেঘন ঘোর কোন নিদ্রার মাদুর একখানা, পার তো দিও বিছিয়ে।পেরিয়ে এসেছি হল্কা তাপিতহাপর টানার বেলা, ছিল অবারিত খোলা .....বেহিসেবি বুকের আগলমারন কাঁকড়া অশোকের মতো রাঙা .....উত্তাপ রসে উথলে ওঠা কানা।রৌদ্র ভরা ফুটিফাটা পথকাঁকর পাথর রাশি রাশি মরু বালি, রক্ত কনায় কনায়ক্ষেপা অদম্য ষাঁড়, নাসারন্ধ্র ঝরায়ঘোর উৎকট শীৎকার খালি খালি।কামনার গাছে উঁচু উঁচু সব ডালমরীয়া আঁকশি উঁচিয়ে পেঁচিয়েঅধরা ফল বৃন্তেঅবুঝ আছড়া আছড়ি, বারবার হয় ভুল,ছিটকে পড়ে অবাঞ্ছিতগুচ্চের বুনো ফুল।এখন ওসব বিগত ক্যানভাস ... ...
( ১১ ) চিকিৎসা কর্মীরা ইরাবানের চোখের পাতা ফাঁক করে টর্চের আলো ফেলে চোখের মণির অবস্থা দেখল। রক্তচাপ, পালস বিট, অক্সিজেন স্যাচুরেশানের মাত্রা, জুতো খুলে বাঁ পায়ের তলার সাড় এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করল। তেমন হতাশ হতে দেখা গেল না তাদের। ইরাবানকে একটা ইঞ্জেকশানও দিল। দীপেন বাবু এসে প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ইরাবানের শরীরের ওপর। একজন চিকিৎসা কর্মী তাকে সরিয়ে দিল। দীপেনবাবু বাধ্য হয়ে খানিক তফাতে গেলেন। একজন ছুটতে ছুটতে মাঠের বাইরে গেল। তাকে একটু পরে একটা স্ট্রেচার নিয়ে আসতে দেখা গেল। ইরাবানের শরীরের পাশে স্ট্রেচার ... ...
( ১০ ) ক্রিকেট খেলায় ব্যাটসম্যানের আনমনা হবার কোন জায়গা নেই। ক্রিকেট হল ব্যাটসম্যানের কাছে স্রেফ এক বলের খেলা। সামান্য একটা ভুলে ইনিংস খতম। সারা ইনিংসে অখন্ড মনোসংযোগ নিয়ে প্রতিটি বলের মোকাবিলা করতে হয় একজন ব্যাটসম্যানকে। ভাটিয়া পরের ওভারে একজন পার্ট টাইম সিমারকে নিয়ে এল। উইকেট টু উইকেট বল রাখে মাপা লেংথে, যেটা রানের গতিতে লাগাম পরাবার জন্য দরকার। সন্ময়ের স্ট্রাইক। তার মাথায় চিন্তার জট চেপে বসেছে। ইরাবান কেন মাঠে শুয়ে পড়ল ...ওর শরীর ঠিক কি অবস্থায় আছে ... কে ... ...
( ৯ ) হোয়াইট বর্ডারের মাঠেই ম্যাচ। বেশ খটখটে আবহাওয়া। পরিষ্কার আকাশ। সন্ময় টসে জিতে ব্যাটিং নিল। স্বপ্নেন্দু আর আকাশ ইনিংস ওপেন করল। বর্ডারের ক্যাপ্টেন সঞ্জীব ভাটিয়া ধুরন্ধর ক্যাপ্টেন। সে জানে কিরকম উইকেট পাতা হয়েছে। সিমার দিয়ে মাত্র দু ওভার টানাল। দু ওভারে চোদ্দ রান হল। দুজন ওপেনার একটা করে বাউন্ডারি পেল। আকাশ গালির পাশ দিয়ে স্টিয়ার করে আর স্বপ্নেন্দু মিড অন দিয়ে ছবির মতো একটা অন ড্রাইভে। ভাটিয়া এই দু ওভার শেষ হতেই স্পিনার লাগিয়ে দিল ... ...