( ১১ ) বাড়ির দিকে আসছিল কলতান আর প্রকাশ। একজন বছর তিরিশের যুবককে দেখতে পেল কলতান। ছিপছিপে কিন্তু আঁটোসাঁটো। বেশ খেলোয়াড়সুলভ চেহারা। সে ভিতরে ঢুকতে যাচ্ছিল। কলতানদের দেখে দাঁড়িয়ে গেল। মুখে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। গেটের মুখে পৌঁছে কলতান বলল, ' খুব ভুল যদি না করি নিশ্চয়ই মিস্টার মনোজ শ্রীবাস্তব ... ' মনোজ হেসে বলল, ' হ্যাঁ স্যার ... আমি আপনার ... ...
( ১০ ) রোদের বেশ তাপ। মাঝে মাঝে গরম হাওয়া বইছে। প্রকাশ কলতানকে নিয়ে বাড়ির পিছন দিকটায় গেল। বোঝা যাচ্ছে এ দিকটা নিয়মিত ঘাস নিড়োন হয়। পরিপাটি ছাঁটা ঘাসে ঢাকা। মাঝে মাঝে অবশ্য মাথার টাকের মতো ন্যাড়া মাটি। হাঁটতে হাঁটতে ওরা একটা পাকা ছাদওয়ালা অন্তত কুড়ি ফুট লম্বা, দশ ফুটের মতো চওড়া চুন বালি প্লাস্টার খসা ঘরের সামনে এসে পৌঁছল। ঘরের দরজা ভেজানো আছে। তালা দেওয়া নেই। একপাশে একটা ছোট জানলা আছে। ঘরটার একপাশে একটা ডোবা মতো ... ...
( ৯ ) পরদিন সকাল প্রায় নটার সময় প্রকাশ শ্রীবাস্তবকে ফোনে ধরল কলতান। প্রকাশের গলা শোনা গেল ওদিক থেকে। --- ' হ্যাঁ বলুন মিস্টার গুপ্ত ... কিছু খবর আছে ? খুব রেস্টলেস অবস্থায় আছি এতদিন ধরে ... কাজ টাজও ঠিকমতো করতে পারছি না ... কি বলব ... আসলে সহদেবদের জন্য খুব কষ্ট লাগে ... ' --- ' হ্যাঁ প্রকাশজি ... আমি থেমে নেই ... চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ...' --- ' সে তো আমরা জানি ... আপনার ওপর আমাদের পুরা ভরসা আছে ... ' --- ' আর বেশি সময় নেব না প্রকাশজি। কিন্তু এখন আপনার এ ... ...
( ৮ ) পরদিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে একটা বাংলা খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিল কলতান। চার নম্বর পাতা আর খেলার পাতা বাদ দিয়ে বাকি পাতাগুলোর বাঁদিকের টুকরো খবরগুলোয় খুব মনোযোগ দিয়ে চোখ বোলায় কলতান। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে দশ নম্বর পাতায় এল সে। বাঁদিকের বর্ডারে ওপরদিক থেকে দু নম্বরে একটা স্নিপেটে চোখ আটকে গেল। ডানকুনির জঘন্য ঘটনাটার একটা ছোট্ট রিপোর্ট বেরিয়েছে ... ...
( ৭ ) বিকেল পাঁচটা নাগাদ ডোরবেল বেজে উঠল। কলতান দরজা খুলে অবাক হয়ে গেল। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সুকমল পালধি। কলতানকে দেখে একগাল হেসে বললেন, ' হ্যালো ব্রাদার ... ' --- ' আরে কমলদা ... আসুন আসুন ... হোয়াট আ প্লেজ্যান্ট সারপ্রাইজ ... ' --- ' দু একদিন ধরে আমার একটা হাঞ্চ হচ্ছিল ...' --- ' কি ব্যাপারে ? ' --- ' তোমার এই ডানকুনি অপারেশানের ব্যাপারে ... ' --- ' ও আচ্ছা আচ্ছা ... কোয়াইট ... ...
( ৬ ) রাত দশটা নাগাদ কুলচা চলে গেল। বলল, আবার পরশুদিন আসবে। কুলচা তাকে নর্মান ট্রুম্যান নামে একজন ব্রিটিশ লেখকের লেখা একটা বই দিয়ে গেছে। বইটা সে নাকি চেন্নাইয়ের একটা বুক স্টল থেকে পেয়েছিল। অপরাধ এবং গোয়েন্দা তত্ত্ব নিয়ে লেখা গবেষণাধর্মী বই। এ লেখকের নাম কলতান কখনো শোনেনি। অজানা অচেনা লেখক। ভূমিকা পড়ে জানতে পারল লেখক কর্মজীবনে একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন ব্রিটিশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের। তার কর্মজীবন শুরু পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে এবং মৃত্যু হয়েছে আশির দশকে। কলতান বইটা পড়তে শুরু করল রাত এগারোটা ... ...
( ৫ ) স্টেশনের কাছাকাছি একটা ছোট ভাতের পাইস হোটেল দেখা গেল। বেশ চালু হোটেল মনে হচ্ছে।কলতান দেখল সাত আটজন লোক বসে ভাত খাচ্ছে বেশ মন দিয়ে। হয়ত স্থানীয় লোক। বাইরের লোকও থাকতে পারে। কোন কাজে ডানকুনিতে এসেছে। দুটো লোক গদাইলস্করি চালে পরিবেশন করছে। মালিক কাউন্টারে বসে খবরের কাগজ পড়ছে।কলতান ঢুকে পড়ল। একপাশে টেবিল খালি আছে। কলতান সেখানে বসল না। মাঝখানে একটা টেবিলে তিনজন লোক খাচ্ছে। একটা জায়গা খালি আছে ওই টেবিলে। কলতান গিয়ে ওই জায়গাটায় বসল।একজন পরিবেশক এসে বলল, ' বলুন ... 'কলতান বলল, ' মাছ ভাত দাও ... কত ? '--- ' ষাট টাকা। এক্সট্রা ভাত পাঁচ টাকা। ডাল, ... ...
( ৪ ) বাড়ির লাগোয়া পাশাপাশি দুটো গ্যারাজ রয়েছে। দুটো গ্যারাজেই গাড়ি দেখা যাচ্ছে। তিন ভাইয়ের তো তিনটে গাড়ি থাকার কথা। কলতান ভাবল, বড়ভাই সুরেশ হয়ত গাড়ি টাড়ি ব্যবহার করে না। সে তো খুবই অসুস্থ। গ্যারাজের সামনে দুটো বাইকও রাখা আছে। সে দুটো কার কার কে জানে। সহদেবের বউ মান্ডবী মানে মানু ঘরের সামনে বসে ডাল ... ...
( ৩ ) মিনিট দুই হাঁটার পর সহদেব রাস্তার ওপরে ডানদিকে একটা ছোট দোকান দেখিয়ে বলল, ' এই যে ... এটা নীতিনের দোকান ... ' কলতান একটু দাঁড়িয়ে গেল দোকানটার সামনে। ছোট দোকান। পান বিড়ি সিগারেট, কম দামি বিস্কুট লজেন্স, টফি, হজমিগুলির বয়াম, ডান্ডায় ঝোলানো নানারকম পান মশলার পাউচের ছিগলি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ওদের দেখতে পেয়ে ভিতর থেকে একজন রোগামতো দাঁত উঁচু ফর্সা দেখতে লোক বেরিয়ে এল। হলুদ হাফ শার্ট আর নেভি ব্লু রঙের প্যান্ট পরে আছে। ব্যাক ব্রাশ করা চকচকে কালো চুল। একগাল হেসে কলতানের সামনে এসে বলল, ' কলকাতা থেকে ... ...
( ২ ) তেঁতুলতলা থানার আই সি সব্যসাচী পাত্রকে বেশ শৃঙ্খলাপরায়ণ মনে হল। আন্দাজ চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর বয়স। তিনি বললেন, ' মিস্টার পালধি কাল ফোন করেছিলেন। আপনার কথা বললেন। আমি খুব ইগার ছিলাম আপনার সঙ্গে মিট করার জন্য। আপনার চার পাঁচটা কেস সলিউশান আমার জানা আছে। আমি খুব ইমপ্রেসড হয়েছিলাম ... ' --- ' থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ সব্যসাচীবাবু। আসলে আপনাদের সাহায্য ... ...