( ২১ ) যদুনাথকে এখন গেটে দেখা যাচ্ছে না। হয়ত শৌচাগারে গেছে কিংবা টিফিন করতে গেছে কাছেপিঠে। কলতান তিন্নির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল খানিকক্ষণ সন্ধানী দৃষ্টিতে। এগিয়ে গিয়ে তিন্নির কাঁধে স্নেহের হাত রাখল। মাথা ঝুঁকিয়ে নরম গলায় বলল, ' তিন্নি ... কিছু বলবে ? ' তিন্নির একটা বিচিত্র স্বভাব আছে। তার বিশেষ কথা বলার অভ্যাস ... ...
( ২০ ) সহদেব ঘরের সামনে একটা প্লাস্টিকের পুরনো চেয়ার পেতে দিয়ে সহদেব বলল, ' বসুন বাবু ... ' কলতান বসল। মানু ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল। কলতানকে দেখে হাসিভরা মুখে বলল, ' আপনি কখন এলেন স্যার ? ' --- ' এই খানিকক্ষণ আগে এসেছি। দেখতে এলাম তোমরা কেমন আছ ... প্রকাশজি তো বাড়ি নেই। তোমাদের বড়বাবু সুরেশজির সঙ্গে একটু আলাপ করে এলাম। এতদিন তো ওনার সঙ্গে পরিচয় হয়নি ... ' মানু মুখে হাসি ধরে রেখে বলল, ' তা বাবু ... কেমন লাগল ... ...
(১৯) কলতানকে দেখতে পেয়ে সহদেব এগিয়ে এল। --- ' বাবু আপনি কখন এলেন ? ' ---' এই কিছুক্ষণ আগে। আমাকে একটু সুরেশজির কাছে নিয়ে চল ...' ---' আচ্ছা চলুন বাবু ... দেখুন উনি কথা বলতে পারেন কিনা। শরীর ভাল না ... ' --- ' দেখা যাক ... না পারলে কথা হবে না ... আর কি ... ' সহজেই সুরেশজির সঙ্গেও দেখা হওয়ার ব্যবস্থা ... ...
( ১৮ ) সেদিনটা কেটে গেল। কুলচা সন্ধেবেলা কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় বলে গেল, ' তানমামা আসলাম ... পরে আসব আবার। খবর দিও ... '---- ' হ্যাঁ রে ... কেস পাকলেই খবর দেব। হতাশ হোস না ... '----- ' ওকে ... বায় ... ' কুলচা বেরিয়ে যাবার পর সুকমল পালধিকে ফোনে ধরল কলতান। ----- ' কমলদা ডিসটার্ব করলাম না তো ? '----- ' নো ওয়ে... নো ওয়ে ... বল বল, কি খবর ? '---- ' খবর বলতে ... মালা গাঁথছি ... ...
( ১৭ ) কুলচা ভিতরে চলে গেল। হয়ত ক্ষিধে পেয়েছে। ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা দেখতে গেল। সহদেবের কাছে একটা পুরোণ রঙ চটা বোতাম টেপা মোবাইল আছে। প্রথম দিন যেদিন কলতানের কাছে এসেছিল প্রকাশের সঙ্গে, নম্বরটা দিয়েছিল। কলতান সেই নম্বরে ডায়াল করল। অনেকক্ষণ ধরে ফোনটা বাজার পর ফোনটা তোলা হল। সহদেব হয়ত ... ...
( ১৬ ) সকাল আটটার মধ্যে তৈরি হয়ে এসে কুলচা দেখল কলতান তখনও বিছানা ছাড়েনি। কুলচা অবাক হয়ে বলল, ' কি হল ... এখনও শুয়ে আছ ! যাবে না ? ' কলতান আড়ামোড়া ভেঙে পাশ ফিরে শুল। বলল, ' নাঃ ... ক্যানসেল করলাম। আজ ভাবছি ওয়ার্ক ফ্রম হোম করব ... ' কুলচা খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল কলতানের দিকে। বলল, ' হাউ ডিসঅ্যাপয়েন্টিং ... ', বলে টাইমস অফ ইন্ডিয়া ... ...
( ১৫ ) বাড়ি ফিরে সবার আগে তমালকে ফোন লাগাল কলতান। --- ' হ্যাঁ বলুন... কলতানদা ... আপনার কথাই ভাবছিলাম। আপনার কেসটা এগিয়েছে কিছু ? ' --- ' এগিয়েছে খানিকটা। কিন্তু ফাইনাল ট্যাকল করার আগে কোন লুজ এন্ড রাখতে চাইছি না। সে যাই হোক, তুমি আজ একবার আসতে পারবে ? আরজেন্সি আছে ... আজই এলে ভাল হয় ... ' --- ' হ্যাঁ হ্যাঁ ... আজই যাব আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ ... ' --- ' ঠিক আছে ... চলে এস। ওয়েট ... ...
( ১৪ ) নীতিন এল বেশ দেরিতে। এসেই কলতানের কাছে গিয়ে বলল, ' ভাল আছেন স্যার ? ' --- ' আরে নীতিন যে ... তুমি ভাল আছ তো ? এত দেরি করলে ? ' --- ' কি করব বলুন ... দোকানে বসতে হয় ... এই দোকান বন্ধ করে এলাম ... ' --- ' আচ্ছা ঠিক আছে ... বস বস ... ' নীতিন একটা চেয়ারে বসে পড়ল। একবার হাঁক দিল, ' সহদেবদা ... একটু চা হবে নাকি ? ' সহদেব উত্তর দিল, ' বস একটু ... গরম করছি ... ' কলতান বলল, ' আমাকেও দিও ... ...
( ১৩ ) বেলা সাড়ে বারোটা। সহদেবের ঘরের একপাশে রান্নাবান্না হচ্ছে। মুগের ডাল চড়েছে। আলু ভাজা বেগুন ভাজা, ফুলের তরকারি হবে। ভাজার তরকারি কাটাকুটি করছে মানু। সকাল সকাল বেরিয়ে মুরগির মাংস কিনে এনেছে সহদেব। একটা গামলায় মশলা টশলা মাখিয়ে একটা গামলায় ঢেকে রেখেছে মান্ডবী। কয়েকটা গার্ডেন চেয়ার পাতা হয়েছে ওখানে। প্রকাশ একটা ফোল্ডিং টেবিলও আনিয়েছে তার ঘর থেকে। কলতান এদিকে ওদিকে ঘুরে ফিরে একটা চেয়ারে এসে বসল। আর কেউ আসেনি এখনও। প্রকাশও আসেনি এখনও। সকালে অবশ্য বেশ গরম পড়ে গেছে। জায়গাটায় গাছের ছায়া আছে ... ...
( ১২ ) কলতানের তন্দ্রা আসছিল। কিন্তু তার মনে হল আজ রাতটা ঘুমোনো উচিত হবে না। মোবাইলে ইউ টিউবে নানারকম রিল দেখতে লাগল। প্রকাশ আছে পাশের ঘরে। কোন আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘুমিয়ে পড়েছে হয়ত। তিনতলাও নিঃশব্দ। সুরেশজি অসুস্থ মানুষ। তিনিও নিশ্চয়ই এতক্ষণ জেগে নেই। দোতলায় আর কেউ নেই। এ ঘরটার দক্ষিণদিকে জানলা। খানিকক্ষণ পরে খোলা জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াল কলতান। এখান থেকে বাঁদিকে প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূরে সহদেবের ঘর দেখা যাচ্ছে। বাগানের মাঝামাঝি জায়গায় একটা পোস্টে আলো জ্বলে। সহদেবের ঘর পর্যন্ত আবছা আলো পৌঁছয়। এখান থেকে ভাল দেখা যাচ্ছে না অন্ধকারে, তবে বোঝা যাচ্ছে খাটিয়াটা বাইরেই রয়েছে। ওখানে একজন বসে আছে ... সহদেবই তো মনে হচ্ছে। রাত প্রায় বারোটা বাজে। মানু আর তার ছোট মেয়ে ... ...