( ৩ ) লোকে বলে পৃথিবীটা গোল। চেনা জানা কারও সঙ্গে ঘুরে ফিরে ঠিক দেখা হয়ে যাবে কখনও না কখনও। যেমন অমলের সঙ্গে রাত্রির দেখা হয়ে গেল শ্যামবাজার ট্রামডিপোর সামনে, যেখানে তাদের শেষ সাক্ষাৎকার ঘটেছিল প্রায় দশ বছর আগে। রাত্রি বলল, ' আরে, কি খবর ? কতদিন পরে দেখা হল ... ' --- ' তা ... প্রায় পাঁচ বছর হবে ... ' অমল সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল। রাত্রি লক্ষ করল অমলের চোখে মুখে বেশ বয়সের ছাপ পড়েছে। শরীরে মেদও জমেছে। কথাটা বলে অমল চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। বোধহয় বলবার মতো কিছু কথা খুঁজছে। জীবনের কোন কোন ... ...
( ২ ) রাত্রির বাবা শিবতোষবাবু পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন মাস তিনেক হল। নাতির মুখ দেখার বাসনা অবশ্য পূর্ণ হয়েছিল শিবতোষবাবুর। রাত্রি আর সাগর এখন মাঝে মাঝে গোয়াবাগানে এসে থাকে। ছেলের ছ' বছর বয়স হল। স্কুলে ভর্তি করার দরকার। হিমাদ্রি, সাগরের ছেলে হিমাদ্রি বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অবশ্য ভর্তি হয়েছে গত বছরে। মর্নিং স্কুল। সকাল ছ'টা থেকে সাড়ে ন'টা পর্যন্ত। সাগরই ছেলেকে নিয়ে যাতায়াত করে। রাত্রির স্কুল ... ...
( ১ ) শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে বলা যায়। রোদ অবশ্য এখনও তেমন তেতে ওঠেনি। সকাল সন্ধেয় ঠান্ডার হাল্কা পরশ লেগে থাকে হাওয়ায়। গঙ্গাপ্রসাদ দোকান খুলে বসেছে সকাল সাতটায়। গায়ে একটা পাতলা চাদর জড়ানো। সুরেশ্বর মল্লিক তিনটে থলে হাতে নিয়ে মানিকতলা বাজারের দিকে এগোচ্ছিলেন গুটিগুটি। গঙ্গার দোকানের সামনে আসতে মল্লিকবাবুকে চোখে পড়ল গঙ্গার। --- ' আরে দাদা ... এত সকাল সকাল ? এত সকালে তো আপনাকে কোনদিন বাজারে যেতে ... ...
( ৩ ) সে বিচকের শরীরের দোলা দেখে ভেবে নিল নিশ্চিতভাবে আউটসাইড ডজ করবে এবং প্রতিবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সেই দিকেই হেলে গেল তার শরীর কারণ বিচকের বাঁ পায়ে ছিল বল। তাই স্টপারটার মনে হল নিশ্চয়ই বাইরে দিয়ে বেরোবার চেষ্টা করবে বিচকে। বিচকে কিন্তু ডান পায়ে বল নিল না। বাঁ পা দিয়েই ইনসাইড ডজ মারল। তারপর চার পা ঢুকতেই ছ গজের বক্সের মাথায় ....। গোলকিপারের কোনদিকেই যাবার নেই।সে লাইনের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে শটটা আসার প্রতীক্ষা করছে। শরীর ছোঁড়ার জন্য তৈরি। কিন্তু বিচকের নাচাবার নেশা লেগেছে। সে কোন শট নিল না। সে গোলের দিকে ... ...
( ২ ) পরদিন সকালে বাজারে বেছে বেছে চারাপোনা গামলায় তুলছিলেন তপনজ্যোতি দত্ত।একশো ষাট টাকা কেজি। এর কম দামে খাওয়ার যোগ্য মাছ বাজারে পাওয়া গেল না। বাড়িতে তিনটে লোক। তপন - কনিকা দম্পতি ছাড়া তপনবাবুর এক ভাগ্নে তাদের সঙ্গেই থাকে। হাসনাবাদের ওদিকে বাড়ি। কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ইংরীজিতে অনার্স পড়ে। মামার খুব ভক্ত এবং মামীর খুব প্রিয়পাত্র। কনিকার মতে ‘ খুব করিতকর্মা ছেলে। মামার মতো লগবগে নয়।’ তারা নিজেরা নি:সন্তান। তা নিয়ে তেমন ক্ষোভ বা অসন্তোষ কিছু নেই এদের দুজনের ... ...
( ১ ) ছেলেটা কালোকোলো বেঁটেখাটো। ওর বয়সের অন্য ছেলেদের তুলনায় মাথায় বেশ নীচু। ওর মা সন্ধ্যার মতে ছেলে বারো বছরে পড়েছে। লোকজন বলে, বড় হলে মারাদোনার হাইটেরই হবে। তার বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। সে যাই হোক, রায় পাড়ার মাঠের চারিধারে দাঁড়িয়ে যারা ম্যাচটা দেখছিল তারা ওর ড্রিবলিং দেখে থ হয়ে গেল। তপন দত্তের ষাট বছর বয়েস হল। সারা জীবন মাঠে ময়দানে ঘুরে ঘুরে জীবন কাটল বা বলা যায় হেলায় নষ্ট হল। কত খেলা দেখেছে এবং কত খেলোয়াড়ের খেলা দেখেছে ... ...
( ২৫ ) নীতিন এসে প্রথমেই রান্নার জায়গায় চলে গেল, মনে হয় চায়ের সন্ধানে। কলতান একটু এগিয়ে গিয়ে কাঁচা পাকা চাপদাড়িওয়ালা ভদ্রলোককে বললেন, ' বিদ্যুৎদা, এস এস ... তোমাকে ট্রাবল দিলাম ... ' --- ' আরে দূর ... কিসের ট্রাবল ? এটুকু যদি করতে না পারি, কাগজ চালাবার দরকার কি। আমি যে পয়সার জন্য কাগজ চালাই না সে তো তুমি জান ... ' ভদ্রলোক এসে বসলেন। কলতান শঙ্করীবাবুদের দিকে তাকিয়ে বলল ... ...
( ২৪ )আজ শুক্রবার। মাহিরের বাগানের একধারে, সহদেবের ঘরের সামনে প্রায় একডজন গার্ডেন চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকাশই করেছে নিশ্চয়ই। আগের পিকনিকে যারা ছিল তাদেরই দেখা যাচ্ছে। আরও কেউ কেউ আসবে হয়ত। কলতান এসেছে ঘন্টাখানেক হল। প্রকাশ গেটের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল পিছনে হাত দিয়ে। কলতান তার কাছে ... ...
( ২৩ ) তমাল এসেছে সাড়ে আটটার আগে। এখন রাত দশটা বেজে গেছে। তমাল বলল, ' ডি এন এ ডিটেক্টেড হয়েছে রুমালে লেগে থাকা ঘাম আর চুলের স্যাম্পল থেকে ... ' কলতান বলল, ' এখন কাজ হল চেয়ার থেকে রুমালে লাগিয়ে নেওয়া ঘাম আর চুল, তেঁতুলতলার ঝোপ থেকে পাওয়া মাটি আর দশ টাকার কয়েন আর গুদামঘর থেকে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতামে লেগে থাকা ডি এন এ মেলানো। আর অন্যদিকে প্রকাশের ... ...
( ২২ ) কুলচা বসে আছে অনেকক্ষণ ধরে। তাড়াহুড়ো করে সকাল নটার মধ্যে এসে হাজির হয়েছে। কলতান তাকে একবার ' ও ... তুই এসে গেছিস ... এক মিনিট ... বস বস ...' বলে একটা নোটবুক আর পেন খুলে তাতে তাতে ডুবে গেল। নোটবুকের পাতায় কি সব লিখতে লাগল আর কাটাছেঁড়া করতে লাগল কলতান। লেখার পাশে পাশে সত্যজিত রায়ের চিত্রনাট্য লেখার স্টাইলে ছোট ছোট স্কেচ করে রাখতে লাগল। অনেকেই জানে না কলতানের আঁকার হাত খুব ভাল। সে পেন্টিংয়ের লাইনে ... ...