( ২৩ ) দেখতে দেখতে শীতকাল চলে এল। পুজোর পরে প্রতিবিম্ব মাসখানেকের জন্য আমেরিকা থেকে ঘুরে এসেছে। আমেরিকা থেকে ফিরে ওরা দার্জিলিং গিয়েছিল। ওখানে অবশ্য তেমন ভাল কাটেনি। বাবাই জ্বরে পড়ে গেল। কোনরকমে ট্যুরটা সেরে কলকাতায় ফিরে এসেছে। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে এবারে। ওয়েলিংটন স্কোয়্যারের মতো হেদুয়ার বাইরে রেলিংয়ের গায়ে ভুটানিরা শীতের জামাকাপড়ের দোকান দিয়েছে সারি দিয়ে। প্রতিবছর ওরা আসে এই সময়ে মাস দুয়েকের জন্য। জায়গাটা আলো করে রাখে ওরা। দেখতে বেশ লাগে পাহাড়ি মানুষগুলোর এই ক'দিনের রঙীন দোকানপাট। এখানেই একদিন কাবেরীর সঙ্গে দেখা হয়ে ... ...
( ২২ ) প্রতিবিম্ব বলল, ' পুজোর সময় দার্জিলিং ট্যুরে গেলে হয় না ? ' সুমনা সঙ্গে সঙ্গে বলল, ' না না ... পুজোর সময় আমি কলকাতা ছেড়ে কোথাও যাব না ... যা হবার পুজোর পরে ... ' --- ' তখন কি আর ছুটি পাব ? ঠিক আছে দেখা যাক ... বাবাইয়ের অ্যানুয়াল পরীক্ষা হয়ে গেলে একটা গ্যাপ পাওয়া যাবে অবশ্য। এর মধ্যে মাসখানেকের জন্য আর একবার আমেরিকা যেতে হবে মনে হচ্ছে। অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করেছিলাম নানাভাবে। কিন্তু আলটিমেটলি যেতেই হবে মনে হচ্ছে। কি আর করা যাবে ... ' --- ' সেটা কবে ? ' --- ' পুজোর ঠিক ... ...
( ২১ ) সন্ধে সাড়ে সাতটা। জমজমাট হাতিবাগান। রাধায় ইভনিং শো-এর ইন্টারভ্যাল হয়েছে। লোকজন বেরিয়ে এসে ঝালমুড়ি, পট্যাটো চিপস কিনছে। মোনা মজুমদার মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। সিগারেটটা শেষ করে সাগরের দোকানে গিয়ে একটু বসবে। সিগারেট খেতে খেতে নানা কথা ভাবছিলেন মনোরঞ্জনবাবু। সেদিন অমল বলে ভদ্রলোক এসেছিল বেশ লাগল তাকে। শিক্ষিত সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ, কিন্তু ভিতরে আগুন আছে। সমাজে একটা বদল চায়। অন্য একটা কিছু চায় তো নিশ্চয়ই নাহলে সাগরের সঙ্গে ভিড়বে কেন ? মনোরঞ্জন অবশ্য ভালভাবেই জানে কোন কিছুই হবে না। সাগরের বা তার জীবন এভাবেই কেটে যাবে। হবেই বা কি করে, ক'টা লোকই বা এসব নিয়ে ভাবে। সাগরের মতো আরো দু চারটে ছেলে যদি ... ...
( ২০ ) সকাল সকাল দুটো নাকে মুখে গুঁজে কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে লালবিহারিবাবু এস এন ব্যানার্জী রোডের লাল বাড়িতে এসে হাজির হলেন। সাড়ে দশটা বাজতে এখনও দশ মিনিট দেরি আছে। ওপরে উঠে দেখলেন সমস্ত চেয়ার ফাঁকা। প্রায় আটটা সিলিং ফ্যান বনবন করে ঘুরছে। হাওয়ায় ফরফর করছে গার্ডারে বাঁধা কাগজপত্র। লালুবাবু পাশের ঘরে গেলেন। ওখানেও একই অবস্থা। জনহীন ঘরে ফুল স্পীডে হাওয়ার ঝড় ... ...
( ১৯ ) এস এন ব্যানার্জী রোডের লাল বাড়ির গেট দিয়ে ঢুকে খানিকটা এগিয়ে বাঁদিকের বারান্দায় ঢুকে পড়লেন লালবিহারিবাবু। সামনের একটা ঘরের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ' আচ্ছা ... বাড়ির একটা এক্সটেনশান স্যাংশানের ব্যাপার ছিল। কার সঙ্গে দেখা করতে হবে ? ' লোকটা দ্রুত উত্তর দিল, ' বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট ... তিনতলায় ... ...
( ১৮ ) অমল রবিবারের সকালে সাগরের দোকানে এসে হাজির হল। ---- ' আরে, অমল কি খবর ? ' ---- ' এই ... আজ ছুটির দিন ... ভাবলাম দেখি তুমি দোকানে আছ কিনা ... ' ---- ' দোকান এবেলা খোলা থাকে। ওবেলা বন্ধ ...চা খাবে নাকি ? ' ---- ' তা ... হলে হয় একটু ... ' অমল একটা খবরের কাগজ তুলে নিয়ে পড়তে লাগল। ---- ' পরশুদিন একটা ধর্মঘট আছে বামপন্থীদের। অফিসে যাওয়া যাবে বলে মনে হয় না ... ' ---- ' কি ব্যাপারে স্ট্রাইক ডেকেছে বোঝা যাচ্ছে ? ' সাগর জিজ্ঞাসা করল। ---- ' ওই... কিছু একটা হবে। অ্যাজেন্ডা একটা ... ...
( ১৭ ) ঝুলন দেখতে কিন্তু যাওয়া হল না। সেদিন বিকেলবেলায় তুমুল বৃষ্টিতে ভাসিয়ে দিল অনেকের অনেক কিছু। ইন্দ্রাণীর ইচ্ছা এবং জেদটাও জলের তোড়ে ভেসে গেল। সাগর ভাবল, বাঁচা গেল। সাগর সেদিন আর বাড়ি থেকে বেরোয়নি। তার পরের দিন সকালে বাজারে বেরোচ্ছিল সাগর। মায়ের জ্বরটা ছেড়েছে মনে হচ্ছে। আর জ্বর না এলে কাল ভাত খাবে মনে হয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাঁদিকে ঘুরতেই দেখতে পেল ইন্দ্রাণী একটা চাকতি লাটিম সূতোয় ওপর ... ...
( ১৬ ) ইন্দ্রাণীর সঙ্গে সেই বহুবছর আগে সাগরের পরিচয় হওয়ার মধ্যে বিশেষ কোন নাটক নেই। সাগররা তখন সুকিয়া স্ট্রিটে একটা ভাড়া বাড়িতে থাকত। ওই বাড়িতেই সাগরের জন্ম। পরে তারা উল্টোডাঙায় চলে যায়। সুকিয়া স্ট্রিটে ডাক্তার সুবোধ ব্যানার্জীর বাড়ি ছিল তাদের বাড়ির পাশেই। ডাক্তার হিসেবে সুবোধবাবুর ... ...
( ১৫ ) প্রদীপ একদিন ইন্দ্রানীকে নিয়ে সৌদামিনীর কাছে এসে হাজির। ইন্দ্রাণী প্রদীপের এক মামাতো বোন। তেমন রূপসী না হলেও একটা আলগা শ্রী আছে। দেখলে বেশ ভাল লাগে। চোখে মুখে সবসময় একটা কৌতুক খেলা করছে।। আসলে সে যে সবসময় হেসে চলেছে তা না। তার মুখটাই এরকম ধাঁচের। তবে ইন্দ্রানীর আসল বৈশিষ্ট্য হল সে খুব ডাকাবুকো। সে একবার মেয়েদের জ্বালাতন করা দুটো বদমাশ ... ...
( ১৪ ) আজ রবিবার সন্ধে সাড়ে পাঁচটা থেকে টি ভি তে 'শেষ পর্যন্ত ' দেখানো হবে। রমাদেবী পরিপাটি করে শতরঞ্চি পেতে রাখলেন উৎসাহী দর্শকদের জন্য। তাদের পুত্রবধু অবশ্য ঠারে ঠোরে বিরক্তি প্রকাশ করতে লাগল --- রোজ রোজ এরকম হুজ্জুতি চললেই হয়েছে ... বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। রমাদেবী বললেন, ' ওমা ... রোজ রোজ কোথায় ! সপ্তাহে তো দুদিন মোটে ... সবাই মিলে আনন্দ করে দেখব ... এটাই তো ... ...