( ৪২ ) বিভূতিবাবু অনেকদিন পর গঙ্গার দোকানে এসে বসেছেন। আজ আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি হতে পারে মনে হচ্ছে। বিভূতিবাবু বললেন, ' কি রে গঙ্গা কেমন বুঝছিস ?অন্য কিছু দেখা যাচ্ছে ? '---- ' আমাদের আর অন্যরকম কি হবে ? যেমন ছিলাম তেমনই আছি ... শুনছি এরা নাকি গরীব মানুষের পার্টি ... দেখা যাক ... '---- ' যা বলেছিস ... আমরা হলাম ছাপোষা গেরস্থ। না হোমের না যজ্ঞের। কে এল কে গেল কি আসে যায় আমাদের ... নে একটা চা বল ... '----- ' হ্যাঁ, এই প্রশান্ত ... দুটো চা বলে আয় তো ... '---- ' জন্মেজয়বাবুর ... ...
( ৪১ )আজ সরস্বতী পুজো। কিশোরী বালিকারা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে উজ্জ্বল গাঁদা ফুলের গুচ্ছের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।হেদুয়ার ওপর দিয়ে সারা দিনমান বসন্তের বাতাস বয়ে যাচ্ছে থেকে থেকে। অলস নিষ্কর্মা গুচ্চের লোক হেদোর বেঞ্চে বসে বসে হাওয়া খাচ্ছে আর ঠ্যাং দোলাচ্ছে। দুর্বারদের ঘর বন্ধ। ওরা কেউ নেই। মাঝখানে একটা সি এল নিলে শনি রবি নিয়ে চার দিন ছুটি হয়ে যাচ্ছে একটানা।রাত্রি সকাল আটটায় বেরিয়ে গেল। স্কুলে পুজো আছে। সাগর বাড়িতে রইল। ছেলে স্কুলে গেল সকাল নটা নাগাদ। স্কুলে পুজো হচ্ছে। সাগর ওকে এখন একাই যেতে দেয়। তাকে একটু পরে গিয়ে দোকান খুলতে হবে।সরস্বতী পুজোর দিনে উন্মন হাওয়া দোলে ... ...
( ৪০ ) সময়ের চাকা ঘুরে চলেছে বনবন করে। কখন যে দুর্গা পুজো পেরিয়ে শীতকাল এল এবং স্কুলগুলোর অ্যানুয়াল পরীক্ষা টরীক্ষা চুকিয়ে দিয়ে ছিয়াত্তর বিদায় নিল। সাতাত্তর এসে গ্যাঁট হয়ে বসল আমীর থেকে ভিক্ষুক সবার জীবনে। ইন্দ্রাণীর ঐকান্তিক চেষ্টা ফলপ্রসূ হতে চলেছে মনে হচ্ছে। বছরের মাঝামাঝি খবর হবে মনে হচ্ছে। ইন্দ্রানীর মনে খুশির হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে। বেশ হাসি খুশি মেজাজ। চাপা স্বভাবের মাণিকলালবাবুর মনের কথা ঠিক ধরা যাচ্ছে না বটে, তবে তার হাবভাবে একটা স্বস্তির চিহ্ন স্পষ্ট। ভাবখানা হল, আমিও পারি তালে। কাবেরী পাল্টে গেছে অনেকটাই। ডাক্তার সন্দীপ চ্যাটার্জির দেওয়া প্রেসক্রিপশান যে ... ...
( ৩৯ ) বিভূতিবাবুর জ্বর আজ নিয়ে চারদিনে পড়ল। নীতিন বিশ্বাস পুরণো দিনের ডাক্তার। পঁচাশি বছরে পদার্পণ করেছেন গত মাসে। এখনও আগেকার দিনের মতো লাল রঙের মিক্সচার দেন। সঙ্গে পেন্টিডস ফোর হানড্রেড জাতীয় কোন বড়ি। স্টেথোস্কোপ কানে লাগিয়ে শরীরের ভিতরের যাবতীয় নাড়িনক্ষত্রের খোঁজখবর পেয়ে যান। কোন এক্সরে টেক্সরের ধার ধারেন না। চতুর্থ দিন দুপুরের পর থেকে শরীরের তাপ খানিক কম মনে হচ্ছে। বিভূতিবাবু কিছুক্ষণ উঠে বসেও থাকলেন। একটু পরে অবশ্য অবসন্নতা বোধ করায় আবার শুয়ে পড়লেন। তবে পরের দিন ... ...
( ৩৮ )অশোক পালের ঘরে খাটটা শেষ পর্যন্ত পেতে দিয়ে গেল দোকানের দুজন লোক এসে। তার ওপর তোশক, চাদর, বালিশ ফেলল পালগিন্নী। বেশ খুশি খুশি লাগছে তাকে। আজ আর মেঝেতে শুতে হবে না।একটু পরে বাইরে থেকে আওয়াজ এল, ' এটা অশোক পালের বাড়ি ? 'পালবাবু বললেন, ' হ দাঁড়ান, যাইত্যাসি ... 'বাইরে বেরিয়ে দেখলেন একজন রোগা চেহারার বছর পঁয়ত্রিশের শার্ট প্যান্ট পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে একটা এগারো বারো বছরের ছেলে। দোহারা চেহারা। নিরীহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দুজনেরই পায়ে ছেঁড়া চটি।অশোক পাল বললেন, ' হ বলেন ... কি সমস্যা ... বসেন বসেন ... এহানে বসেন ... 'দুটো বেতের মোড়া রয়েছে ... ...
ভোটের আমি ভোটের তুমিভোট দিয়ে যায় চেনাপ্লাস্টিকে মোড়া তামান্না পড়ে আছেউঠোনের মাটিতে,ঝড়ে ভাঙা একটা মুমূর্ষু কদম গাছেরমতো ডালপালা ছেতরানোথেঁতলানো বুকে মা সাবিনা। টাকার তাড়া হাতে নিয়ে সামনে নাচায়চাতুরীর ঘোমটা টানাঅরাজনৈতিক রাজনীতিবিদ, তামান্নার রক্তের দাম। ঘরের ভাঙা দেয়ালে ভাসে ডাক্তার, পুলিশ আরো কত বুকে আঁচড় কাটা অ্যাঁকাব্যাঁকা ছবি। কেউ কাটে মাটি দেশের বুক ফালাফালাখালি করে,কেউ বোমা বানানোর পাঠশালা চালায়গুরুতর গম্ভীর কেতায়,ওরা কাজ করে কাজ করে ...গ্রামে গ্রামে ভোট করায় নিষ্ঠাভরে,ভোটের আমি ভোটের তুমি ...ভোটের জন্যই তো জন্ম তোমার আমার।তবেই না দুনিয়ার বাইরে ছিঁড়ে ফেলে দেয় তামান্নার মতো ফুল,সবক শেখায় সবক ... হ্যাঃ ... তোরা আর ভুল করবি... ভুল?সমুদ্রপাড়ে জগন্নাথের মন্দিরে রথের দড়িপড়ে আছে অতি দীর্ঘ ... ...
( ৩৭ ) পুজো এগিয়ে আসছে। শেষ রাতের দিকে গাছের পাতায়, মাঠের ঘাসে, বাড়ির ছাদে হিম পড়ছে। কুমোরটুলির কারিগরদের এখন নিশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই। বৃষ্টি অবশ্য এখনও পুরোপুরি ধরেনি। মাঝে মাঝে এক পশলা ঝরবার পরে আকাশ ঝলমলে হয়ে উঠছে। আলো জড়ানো চমরী গাইয়ের মতো মেঘের টুকরো অলস ভ্রমণে বেরিয়েছে আকাশের নীলাভ চত্বরে। বাতাসে কেমন সদ্য দোয়ানো দুধের গন্ধ। ইন্দ্রাণী তিনতলার ছাদে উঠল সকাল নটার সময় জামা কাপড় মেলার জন্য। আলসের ওপর দুহাত রেখে বেথুন কলেজের ওপর দিয়ে দূরের বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। এখান থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। তাদের সুকিয়া ... ...
( ৩৬ ) শিয়ালদা স্টেশনের সামনে চায়ের দোকানে অশোক পালের ঠিকানা নেওয়া লোকজন তিন চারদিন পর থেকেই আসতে শুরু করল। স্পন্ডিলাইটিস থেকে ফিটের ব্যামো, বাচ্চা কাচ্চা না হওয়া থেকে চোখের বিভ্রম মানে হ্যালুসিনেশান সব ধরণের বিপত্তিতে পড়া মানুষ একজন দুজন করে হাজির হতে লাগল অশোক পালের ঠিকানা খুঁজে খুঁজে। রেইকি শুশ্রূষা ছাড়াও তার জানা আরও নানাবিধ টোটকার বিদ্যা প্রয়োগ করতে লাগলেন অশোক পাল। আটাত্তর নম্বর বাসের ঘোলানিবাসী ... ...
( ৩৫ ) রাত্রে সাবিত্রীর ব্যাপারটা তুলল রাত্রি। সব শুনে সাগর বলল, ' ভদ্রমহিলা মেন্টাল অ্যাংজাইটিসের মধ্যে আছেন। অপারেশানটা কালকেই সেরে ফেলতে পারলে ভাল হত। কিন্তু বেপাড়ার ব্যাপার। তিনটে ছেলে লাগবে চেম্বার নিয়ে। মোনাবাবুকে বলা যেত একটু দেখে নেবার জন্য। ওদিকেই তো ওদের আসল ঠেক। কিন্তু এখন সময়টা একটু গোলমেলে। ওদের মধ্যে গ্রুপবাজি চলছে। কাউকেই ঠিক ভরসা করা যায় না। আমাকেই ব্যাপারটা ... ...
( ৩৪ ) সুমনা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ভদ্রলোকের দিকে। পরিচিত মানুষ ছাড়া একজন মহিলার দিকে কেউ এভাবে তাকিয়ে থাকে না। ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একটা অস্পষ্ট স্মৃতি, আবছা মুখের রেখা আঁকা হতে হতে আবার মুছে যেতে লাগল। মনে হচ্ছে একে কোথাও দেখেছে, কিন্তু তেমনভাবে দেখেনি। কেমন যেন চেনা মানুষ মনে হচ্ছে, কিন্তু ঠিক ধরা যাচ্ছে না স্পষ্ট। প্রায় আধ মিনিটের বিভ্রান্তির ... ...