(২৫) দেবপ্রভর ফোন এল রাত এগারোটা নাগাদ। --- ' ভেরি সরি মিস্টার গুপ্ত। আমার ফিরতে অনেক লেট হয়ে গেছে। একটু আগে বাড়ি ফিরেছি। বলুন বলুন স্যার... কোন আর্জেন্ট দরকার ছিল ? ' --- ' আর্জেন্ট কিনা বলতে পারব না, তবে দরকার একটু ছিল... ফোনে তো সব কথা বলা যায় না... ' --- ' হ্যাঁ সে তো নিশ্চয়ই। কিভাবে তাহলে... ' --- ' কাল সকাল দশটার মধ্যে আপনার বাড়ি যাব। অবশ্যই বাড়ি থাকবেন... ' কলতানের বলার ভঙ্গী দেখে দেবপ্রভ বেশ থতমত খেয়ে গেল। সে বলল, ' আচ্ছা ঠিক আছে। বলছেন যখন.... ' তারপর একটু থেমে বললেন, ' অমৃতাংশুর বাড়ির ... ...
(২৪) সকাল নটা নাগাদ কলতানের বাইক রওয়ানা দিল নিউ গড়িয়ার উদ্দেশ্যে। প্রায় সোয়া এক ঘন্টা পর ম্যাগনোলিয়া রেসিডেন্সির গেটের সামনে এসে থামল। সিকিউরিটি গার্ড এগিয়ে এল তার দিকে। এ সেই আগের দিনের মানুষটি নয়। তার বোধহয় এখন ডিউটির সময় নয়। হাসি হাসি মুখে বলল, ' কোথায় যাবেন ? ' --- ' এল টেন বাই ফাইভ, এল ব্লক... ' কলতান সরাসরি বলল যেটা আগের দিনের সিকিউরিটির কাছে শুনে গিয়েছিল। --- ' মানে, টেনথ ফ্লোর ? ' --- ' হ্যাঁ হ্যাঁ.... ' --- ' কি নাম আছে স্যার? ' --- ' বিক্রমজিৎ নিয়োগী, অশ্বিনী তেওয়ারি ... ' --- ' একটু দাঁড়ান স্যার... লগবুক দেখছি... ' সে কিয়স্কে ঢুকে জাবদা খাতা খুলে চোখ বোলাতে ... ...
(২৩) একদিন কেন, তিনদিন হয়ে গেল, তমাল কিছু জানাল না এখনও। এর মধ্যে কলতান কোন তাগাদা দেয়নি। সে জানে তমালের মধ্যে নিষ্ঠার অভাব নেই। কাজ শেষ হলে নিশ্চয়ই জানাতে দেরি করবে না। কলতান অপেক্ষা করে রইল। সূক্ষ্ম কাজে একটু সময় লাগতেই পারে। ইলিনার পোস্ট মর্টেমের সরকারি রিপোর্ট কতদিনে আসবে কে জানে। কলতান ভাবল, যদিও এটা সরাসরি জানার কোন উপায় নেই কারণ সরকারিভাবে এটা গোপনীয় তথ্য, তবে তদন্তের স্বার্থে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। সেটা নিশ্চয়ই অবৈধ এবং অসংগত হবে না। ইনকোয়েস্টের সময় দুজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ছিলেন কুশল চ্যাটার্জী এবং অরবিন্দ সেনগুপ্ত। এর মধ্যে কুশলবাবুকেই বেশি নির্ভরযোগ্য সহযোগিতাপূর্ণ মনে হয়েছে কলতানের। কলতান একটা ফোন ... ...
( ২২) রাত প্রায় এগারোটা বাজে। কলতান তমালের দেওয়া রিপোর্টগুলো খুলে বসল। ওয়াশরুম থেকে পাওয়া রক্ত, চুলের ডি এন এ মেলেনি। এটা অভিনব কোন ব্যাপার না, প্রত্যাশিতই ছিল কলতানের কাছে। চুলটা, ধরা যেতে পারে আততায়ীর। ইঞ্জেকশান সিরিঞ্জের নিডল থেকে টুসির পার্টিকল পাওয়া গেছে বলছে রিপোর্টে। ভাববার মতো বিষয়। আর যেটা এই মুহুর্তে কলতানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল গলায় আঙুলের ছাপের রিপোর্ট এবং একটা তোয়ালে রুমালে লেগে থাকা ঘাম থেকে পাওয়া ডি এন এ মিলিয়ে দেখা। রক্তটা হয় ইলিনার কিংবা আততায়ীর। এটা জানতে পারলে কাজ প্রায় শেষ। রক্তটা ওখানে কী করে পড়ল সেটা পরে ভাবলেও চলবে। রক্তের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে বমির সঙ্গে বেরিয়েছে, তমাল ঘোষের রিপোর্ট ... ...
( ২১)সাড়ে আটটা বাজে। আজ আকাশ সকাল থেকেই ময়লা। আলো চাপা পড়ে আছে নীচে। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে থেকে থেকে। রাস্তায় অনেক গাড়ির হেডলাইট জ্বালা। কলতান জানলা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে সারাদিনের কর্মসূচী ঠিক করে নিচ্ছে।ঠিক করল, প্রথমে মনোজ সাহাকে একটা ফোন করা যাক।ওসি মনোজ সাহা ফোন তুলে বলল, ' হ্যাঁ বলুন মিস্টার গুপ্ত ... কী খবর ? অনেকদিন পর... ' --- ' হ্যাঁ একটু ব্যস্ত ছিলাম... '--- ' কেসটা নিয়ে ? '--- ' হ্যাঁ সে তো বটেই ... এখন এটাই তো আসল ইস্যু '--- ' কাজ এগোচ্ছে ? '--- ' এগোতে তো হবেই। থেমে থাকা আমার ডিক্সনারিতে নেই ... ...
( ২০) অশ্বিনী একটু থতমত খেয়ে কলতানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ----- ' আঁ... কী বললেন স্যার ? '----- ' বলছি যে ছাব্বিশে আগস্ট সন্ধেবেলায়, এই ধর... মোটামুটি ছটা থেকে আটটার মধ্যে তুমি কোথায় ছিলে ? একটু ভালো করে মনে করে দেখ তো... ' ----- ' ও বাবা, এ তো বহুৎ কঠিন সওয়াল করলেন স্যার। আমার ইয়াদ্দাজ যদি এত জোরদার হত তাহলে কি আমি এখানে কাজ করতাম ? আমি আর কোথায় থাকব... ওই লইয়ারের চেম্বারে ডিউটি করছিলাম নিশ্চয়ই... আর কোথায় যাব? ----- ' তাই ? ... ...
( ১৯ ) অশ্বিনীর কথার নড়চড় হয়নি। কলতান সোয়া পাঁচটা নাগাদ দক্ষিণ দিকের গেট দিয়ে ঢুকে হাটখোলা সুইমিং ক্লাবের ওদিক থেকে একটু এগিয়ে দেখতে পেল দেশবন্ধুর মূর্তির সামনে অশ্বিনী তেওয়ারি দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় পাঁচটার মধ্যেই হাজির হয়ে গেছে। কাজের লোক কিনা, সময়ের দাম আছে। তাছাড়া ওর বাড়ি তো এখানে কাছাকাছি। বলেছিল তো সি ই এস সি অফিসের কাছে। অশ্বিনীকে দেখতে সত্যি আকর্ষণীয়। একটা কমলা রঙের ফুলশার্ট আর সাদা প্যান্ট পরেে আছে। পিঙ্গল আভাযুক্ত দুটো শান্ত চোখ। গাওয়া ঘিয়ের মতো গায়ের রঙ। গালে পাতলা রুখু শুখু দাড়ি। উচ্চতা অন্তত পাঁচ নয় ... ...
(১৮) গোপেশ্বর হাজরা আর অশ্বিনী তেওয়ারি দুজনই বেশ মাই ডিয়ার গোছের লোক। ভর দুপুরে ওদের কথা মনে পড়ে গেল কলতানের। ভাবল, দুজনই বেশ আকর্ষণীয় এবং কৌতূহলপ্রদ, যাকে বলে ইন্টারেস্টিং অ্যান্ড ইনট্রিগিং। অফবিট ধাঁচের। দুজনের সঙ্গে একটু কথাবার্তা বলতে পারলে ভাল হত। কলতান জানে, কথাই কথা টেনে আনে। গোপেশ্বরের নম্বরে ফোন গেল। খুব তাড়াতাড়িই ফোন ধরল গোপেশ্বর। নীচু গলায় ছোট্ট করে ... ...
( ১৭ ) আবার একবার তমালের শরণাপন্ন হতে হবে, কলতান ঠিক করল। শ্যামলকান্তি চৌধুরীর থেকে সংগৃহীত স্যাম্পেলগুলো তাকে দিতে হবে। এগুলো নিয়ে এখনই সে নাড়াচাড়া করতে চাইল না। আগে তমালের রিপোর্ট আসুক, তারপর দেখা যাবে। তমালের ফোন নম্বর ডায়াল করল কলতান। কিন্তু চট করে যোগাযোগ করা গেল না। কিছুক্ষণ রিং হবার পর লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত অবশ্য তমালকে ধরা ... ...
( ১৬ ) শ্যামলকান্তি চৌধুরী আর শুদ্ধসত্ত্ব হালদার দুজনই নীলাদ্রি অ্যাপার্টমেন্টটের বাসিন্দা। আজ শনিবার। চৌধুরীবাবুর ছুটির দিন। কলতান ঠিক করল আগে ওনার সঙ্গে কাজটা সেরে নেওয়া যাক। কতক্ষন আর লাগবে, বড়জোর আধঘন্টা। বেল টেপার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দরজা খুলে গেল। শ্যামলকান্তিবাবু বললেন, ' আসুন স্যার, আসুন... আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ... ' কলতান ভিতরে ঢুকল। শ্যামলকান্তি বললেন, ' বসুন বসুন... এখানে বসুন। আসলে আমরা কোনদিন কোন গোয়েন্দাকে স্বচক্ষে দেখিনি, শুধু গল্পে পড়েছি ... তাই, বুঝতেই পারছেন... খুব থ্রিলড ফিল করছি। আমরা আপনার এই ইনভেস্টিগেশনের অ্যাট লিস্ট একটা মাইনর পার্ট হতে পারলেও ... ...