( ৩৫ ) কলতান বলল, ' প্রস্তাবটা খারাপ না। কিন্তু ক'জনকে গাড়ি দেবেন আপনি ? আপনাকে তো গাড়ির কারখানা খুলতে হবে তা'লে। আর তাছাড়া আপনার সঙ্গের এই দুজনেরই বা কী হবে ? ' --- ' আর দূর... ওরা আমার কে ? ওদের ব্যাপার ওরা বুঝবে। আর একটা কথা, অন্যদের কথা আপনি ভাববেন না। আপনি নিজের লাভ লোকসান হিসেব করুন... ' --- ' তাই ? ' ঘটকবাবু বললেন, ' উঁ .... ক'টা ফোন করার দরকার ছিল... মোবাইলটা তো নিয়ে রেখে দিয়েছেন আপনারা ... ' --- ' মোবাইল নিয়ে চিন্তা করবেন না। হেডকোয়ার্টারে চলুন, তারপর ওনারা নিশ্চয়ই কনসিডার করে দেখবেন। আপনার পার্টি জানে এসব ? তারা তো নিশ্চয়ই প্রোটেকশান দেবে... ' --- ' দেখতেই পাবেন। আমি তো কোন অন্যায় করিনি। চিরকাল সৎ ... ...
( ৩৪ ) অশ্বিনী এবং উকিলবাবুর জুতোর নীচে কিন্তু কোন গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া গেল না। কলতান আক্ষেপের সুরে বলল, ' হমম্... এটাই ভাবছিলাম... ' গৌতমবাবু বললেন, ' অসুবিধা হবে না। অফেন্সের অ্যাকমপ্লিস হিসেবে কোর্টে প্রোডিউস করা যাবে ও দুজনকে। আর অমৃতাংশু এবং ইলিনা সেনের মার্ডারের যেসব ভ্যালিড এভিডেন্স আপনার ডিসপোজালে আছে সেগুলো দেবেন... ' --- ' হ্যাঁ ঠিক... কিন্তু... ' --- ' কিন্তু কী ? ' --- ' জুতোর তলার গুপ্তধনটা তো ভেরিফিকেশানের দরকার... ' --- ' হ্যাঁ সেটা তো নর্মাল প্রসিডিয়োর। কিন্তু আপনার কি কোন ডাউট হচ্ছে ? ' --- ' হ্যাঁ সে তো আছেই। এরা এত সহজ বান্দা নয়। এমনকি, আমার মনে হয় জটা ঝালানি যে ছুটে পালাতে চাইছিল ওটা একটা চালাকি। ফোকাস ডিসট্র্যাক্ট করার চেষ্টা। সে খুব ভালভাবেই জানে ওভাবে পালান যায় না। নীচে পুলিশ ... ...
( ৩৩ ) সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না গৌতমবাবুরা। রাত সোয়া একটা নাগাদ বিল্বদলদের তিনজনকে পুলিশ ভ্যানে তুললেন ওরা। কিছুটা আশ্চর্য হলেন দেখে দলের কেউই আপত্তি করল না। ভাবলেন, কী মতলব আছে কে জানে। কলতান গৌতম রায়কে জিজ্ঞেস করল, ' কোথায় নিয়ে যাবেন ? ' --- ' আপাতত গড়িয়া থানায়। ওখানেই রিম্যান্ডে নেব... চলুন... আপনি আপনার বাইকে আমাদের ফলো করুন... ' কলতান একটু দোনামোনা করে বলল, ' আমার ওখানে যাওয়াটা কি ঠিক হবে ? ' --- ' আপনি না থাকলে কী করে হবে? আফটার অল আপনার ক্লু ধরেই ... ...
(৩২) গৌতম রায় বললেন, ' তাহলে ব্যাপারটা মোটামুটি জানা হয়ে গেল। আমি ডিসিশান নিয়েছি আর দশ মিনিট ওয়েট করব। তারপর ফোর্স অ্যাপ্লাই করতে হবে। আননেসেসারিলি আর কোন কোক্সিং-এর মধ্যে যাব না। এবার চার্জ করার দরকার। কাস্টডিতে নিয়ে প্রপারলি ইন্টারোগেট করলে ফ্রুটফুল আউটকাম অবশ্যই আসবে। কলতানবাবু নিশ্চয়ই প্যালপ্যাবল এভিডেন্স কালেক্ট করেছেন। হোপফুলি সেগুলো প্রোডিউসড হলে পজিটিভ রেজাল্ট আসতে পারে.... ' বলে কলতানের মুখের দিকে তাকালেন। কলতান একবার ঘড়িতে সময় দেখল। তারপর বলল, ' পজিটিভ রেজাল্ট ... ...
( ৩১) গৌতমবাবু হাত বাড়িয়ে বললেন, ' হ্যাল্লো মিস্টার গুপ্ত... ইটস এ বিগ সারপ্রাইজ। আপনাকে একেবারেই এক্সপেক্ট করিনি এখানে এই সময়ে.... 'কলতান হাত মেলাল। বলল, ' কী করব বলুন... কর্তব্যের টান... কাটাতে পারি না যে। ভাবলাম, আপনাদের পাশে যদি থাকতে পারি এই ক্রুশিয়াল সময়ে। যা করার তো আপনারাই করবেন। আমার শুধু একটাই কৌতূহল, বিল্বদল ঘটক এ ফ্ল্যাটে আছে কিনা। বাকিটা মনে হয় আমার জানা আছে... প্রপার টাইম অ্যান্ড প্লেসে ডিসক্লোজ ... ...
( ৩০ ) ' চার্জটা কী স্ল্যাপ করা হবে? আমি তো শুধু হোমিসাইডাল কেস ডিল করছি... ', কুশলবাবু ফোন ছাড়ার আগে জিজ্ঞাসা করলেন। --- ' একটাই। নারকোটিক ট্রেডিং অ্যান্ড ট্র্যাফিকিং। মার্ডারটা আলাদা ইসু বলে আমার ধারণা। তবে এসব নিয়ে আমার ডিডাকশান আপনাদের ওপর আরবিট্রেট করাটা আমার পক্ষে ধৃষ্টতা হয়ে যাবে। সেটা করার এক্তিয়ার আমার নেই। আমি শুধু একটা ক্লু দিলাম... বলতে পারেন টিপ দিলাম। নাও ইটস ইয়োর প্রিরোগেটিভ টু অ্যাক্ট আপন। কিন্তু ডিসিশানটা তাড়াতাড়ি নিতে হবে। আদারওয়াইজ দা মিশন উইল ফিজল ... ...
( ২৯ ) তমোনাশ ব্যানার্জীর সঙ্গে কলতানের প্রায় দশ বছরের পরিচয়। তমোনাশ এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একজন লিয়াজোঁ অফিসার। তাকে ফোনে ধরল। কলতান তাকে ফোন লাগাল। চট করে লাইনটা পাওয়া গেল না। বেশ কয়েকবার ' তিনি এখন অন্য কলে ব্যস্ত আছেন...' শোনার পর অবশেষে যোগাযোগ করা গেল তমোনাশের সঙ্গে। তমোনাশের জবাব আসল, ' গুড ইভনিং মিস্টার গুপ্ত... আফটার ... ...
(২৮) কলতান উঠে গিয়ে দরজা দরজা খুলে দিল। দেবপ্রভ বলল, ' দরজা খুললেন কেন ? আপনি কিন্তু প্রাইভেট ডোমেস্টিক লাইফে এনক্রোচ করছেন। এটা কিন্তু কমপ্লিটলি ইল্লিগ্যাল। আপনাকে এর কনসিকোয়েন্স ফেস করতে হবে... ' --- ' ওক্কে, নো প্রবলেম। আই অ্যাম রেডি টু ফেস ইট। আপনারা রেডি আছেন তো ? ' কলতান বলল। ঋতাভরী ব্যালকনিতে গিয়ে ফোনে কার সঙ্গে নীচু গলায় কথা বলতে লাগল। ফোনে মিনিট পাঁচেক কথাবার্তা বলে ঘরে ফিরে এল। এসে কলতানের দিকে তাকিয়ে বলল, ' এখন আপনারা আসতে ... ...
(২৭) দেবপ্রভ, ঋতাভরী আর কলতান তিনজনই চুপচাপ বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। আসলে, এই মুহুর্তে কোন নতুন কথা উঠে আসছে না। কথা হয়ত তৈরি হচ্ছে ভিতরে ভিতরে। বেশ গুমোট পরিবেশ। কলতান তার মোবাইল খুলে কী একটা দেখতে লাগল মন দিয়ে। ঋতাভরী গালে হাত দিয়ে বসে কী ভাবছে। দেবপ্রভ একবার ভিতরে গেল। বোধহয় টয়লেটে। আবার ফিরেও এল। প্রায় মিনিট সাতেক কাটল। এবার যেটার জন্য কলতান অপেক্ষা করছিল সেটা ... ...
(২৬) কলতান দেবপ্রভর দিকে তাকিয়ে বলল, ' মিস্টার রাহা, আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন আমি এত কথা জানলাম কি করে... ' দেবপ্রভ সোফায় হেলান দিয়ে ধূমায়িত সিগারেট হাতে নিয়ে নিষ্পলকে দুর্বোধ্য দৃষ্টিতে কলতানের দিকে তাকিয়ে রইল। সিগারেটের ছাই ক্রমশ লম্বা হতে হতে টুপ করে খসে পড়ল তার কোলের পাশে। তার কোন খেয়াল আছে বলে মনে হচ্ছে না। কলতান ভাবল, হয় কোন অবসেসিভ ডিসঅর্ডার সেট ইন করেছে আর নয়ত এ ব্যাটা মহা ধুরন্ধর খেলোয়াড়। সে বলল, ' আপনাদের স্বচ্ছলতা কিছু কম নয়। রাজারহাটে আট কাঠা জমি ... ...