অব্যক্তসৌমর একটা চাকরির খুব দরকার ছিল। বাবা রিটায়ার করে যা পেয়েছিলেন তার প্রায় সবই তাঁর চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে। রিটায়ার করার কিছুদিন পরেই লিভারে ক্যানসার ধরা পড়ে। মা আর ছেলেতে মিলে সাধ্যমত সবরকম চেষ্টাই করেছে। কিন্তু এ রোগ তো সারার নয়। বছর দেড়েকের বেশি বাঁচান যায়নি।এরপর ফ্যামিলি পেনসনের কটা টাকাই ছিল মা ছেলের সম্বল। তাই বি এর রেজাল্টটা হাতে পেতেই যেখানেই সুযোগ পেয়েছে ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৭ ট্রেন শেয়ালদায় ঢুকতে ঢুকতে নটা বেজে গেল। অনেকটা দেরি হয়ে যাওয়ায়, নয়ন আর বাড়ি না গিয়ে সরাসরি অফিসের দিকে রওনা হল। ডিপার্টমেন্টে তখনো কেঊ আসেনি। নয়ন নিজের জায়গায় গিয়ে বসল। বাড়িতে ফোন করে ফিরে আসার খবরটা মাকে জানিয়ে দিল। শিলিগুড়িতেও পৌছন সংবাদ জানাল। রত্নাকর চা আর টোস্ট টেবিলে রেখে গেল। অফিসে ঢোকার সময় ওকে বলে এসেছিল। সকাল থেকে কিছু খাওয়া ... ...
হস্টেল শুকদেব চট্টোপাধ্যায় দামাল শিশুদের বাগে আনতে বাড়ির লোকজন সাধারণত দুটো জিনিসের ভয় দেখান। প্রথমটা হল ভূতের ভয়। জবর দাওয়াই। বাচ্চা তো বটেই, অনেক প্রাপ্তবয়স্ককেও আমি রাতের অন্ধকারে ভূতের ভয়ে গুটিয়ে যেতে দেখেছি। কিন্তু কারো কারো যেমন কিছু ওষুধে কাজ হয় না( ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট), তেমনই এক একটা দস্যি ছেলে মেয়েকে ভূত দিয়েও ঠাণ্ডা করা যায় না। এরকমও দেখেছি, বাবা-মা বেয়াড়া বাচ্চাকে ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৬ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর, সতরঞ্চি, চেয়ার আর অন্যান্য জিনিসপত্র গাড়িতে তোলা হল। সূর্য তখন পূব থেকে মাঝ আকাশের দিকে অনেকটা এগিয়ে এসেছে। গরম পড়েনি, আবার শীতের কামড়ও নেই। মনোরম আবহাওয়া। সকলে এসে গাড়িতে উঠল। মিরিক-শিলিগুড়ি হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল। এক জায়গায় বোর্ডের লেখা দেখে জানা গেল, জাগাটার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯০ মিটার। গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে ... ...
জামাই উপাখ্যান শুকদেব চট্টোপাধ্যায় বেসরকারি একটা নামী হাসপাতালের কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্ট। দুটো স্টেন্ট বসার পর দুদিন আইসিসিইউ এর ঘেরাটোপে কাটিয়ে নিতাই সবে জেনারাল বেডে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্টেন্ট লাগানর পরে অস্বস্তিগুলো কেটে গিয়ে শরীরটা বেশ চাঙ্গা হয়ে গেছে। কথা বলতে ভালবাসে, তাই দুদিন নির্বাক হয়ে থাকার পর বাইরে এসে একটু কথা বলতে পেরে মনটাও বেশ খুশি খুশি। পাশের বেডে অজিত বাবু। ভাল্ব মেরামতির জন্য এসেছিলেন ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৫ নন্দিতা সময় নষ্ট না করে দৌড়ে গিয়ে ফোনে বাবাকে নয়নের ইচ্ছেটা জানাল। অসিতও শুনে খুব খুশি হল।--বাঃ, খুব ভাল প্রস্তাব। অনেকদিন সকলে মিলে কোথাও যাওয়া হয়নি। আমি এখনি খোজ খবর নিয়ে সব ব্যবস্থা করছি।সব ব্যবস্থা পাকা করে অসিত বাড়ি ফিরল। ছজন লোক বাড়ির গাড়িতে ধরবে না, তাই একটা বড় গাড়ি বুক করে এসেছে।নন্দিতা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল—বাবা আমরা কোথায় যাচ্ছি?--আমরা যাব খুব সুন্দর একটা পাহাড়ি গ্রামে। আমরা একবার অফিসের পিকিনিকে ... ...
চরিত্রহীন শুকদেব চট্টোপাধ্যায় ওই নব ডাক্তার যেন আর আমাকে দেখতে না আসে। অন্য কোন ডাক্তার পাওয়া যায় ভাল, না হলে আমার আর চিকিস্যের দরকার নেই। -- বেশ জোরের সঙ্গে ছেলেপিলেদের সামনে নিভাননি নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন।কি এমন হল যে ডাক্তারবাবুর ওপর হঠাৎ মা এত চটে গেল। ছেলে বৌদের কাছে ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।বড়ছেলে বিনয় জিজ্ঞেস করে—কেন মা কি হল? নবারুন সান্যাল তো ভাল ডাক্তার, এলাকায় ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৪ অসিত বাড়ি ফেরার পর সন্ধেবেলা নয়নের ঘর সংলগ্ন বারান্দায় শতরঞ্চি পেতে আড্ডা বসল। মা আর মেয়েতে মিলে নয়নের আনা খাবারগুলো গরম করে নিয়ে এল। খাবার রেখেই ওরা আবার চলে যাচ্ছে দেখে নয়ন জিজ্ঞেস করল—আবার কোথায় যাচ্ছেন? বসুন, সকলে মিলে খেতে খেতে গল্প করি।নীলিমা হেসে বলল—চা ছাড়া কখনো আড্ডা হয়। একটু পরে চা করে এনে আমরাও তোমাদের সাথে আড্ডায় যোগ ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৩ সেদিন খাওয়া দাওয়ার পরে বসেছিল গল্পের দ্বিতীয় সেশন। ফলে শুতে যেতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। ঘুম ভাঙতেও দেরি হল। অঘোরে ঘুমোচ্ছিল, গায়ে হাল্কা ঠেলা খেতে নয়ন চোখ মেলে তাকাল। মিষ্টি মেয়ে, মুখে মিষ্টি হাসি মেখে, চা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এমনিতে নয়ন সকালে ঘুম ভাঙার পরে, কিছুক্ষণ বিছানায় এপাশ ওপাশ লাট খায়। সেদিন তিড়িং করে লাফ দিয়ে উঠে বসে পড়ল ... ...
পরিত্রাণশুকদেব চট্টোপাধ্যায়এমনটা হবার কথা নয়। মানুষের চরিত্র অনেকটাই জেনেটিক ব্যাপার। বাবা-মার তো কথাই নেই, দাদু-ঠাকুমা, পিসি, সকলেই খুব শান্ত প্রকৃতির। ভাল ব্যবহারের জন্য পাড়ার সবাই তাদের পছন্দ করে। সেই বাড়ীতেই এখন গেল গেল রব। আত্মীয় স্বজনরা আসা কমিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেশীরা কোন দরকারে এলেও চট করে বাড়ীতে ঢোকে না। বাইরে থেকেই কাজ সেরে চলে যাবার চেষ্টা করে। “কুকুর হইতে সাবধান” লেখা ... ...