( ৬ ) দুপুরবেলায় বাড়ির উঠোন শুনশান। বাইরের দিকের ঘরের জানলা বন্ধ। ভিতরে নিশ্চয়ই মা ঘুমোচ্ছে। ভিতরের দিকের ঘরে কী হচ্ছে সেটাই হল চিন্তা। নিরূপমের বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। সে ভাবল, দূর ... অফিসে হাফ সি এল না নিলেই হত। এখান থেকে ফিরে যাই... বউ কিছু করলে কি এইভাবে দেখিয়ে দেখিয়ে করবে নাকি। পলিটিক্স সবাই জানে। উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল কী করা যায়। ... ...
( ৫ ) ঠাঠা রোদের হাত থেকে শরীর বাঁচিয়ে ঘামে ভিজতে ভিজতে লোকনাথ ফার্মেসির শেডের নীচে দাঁড়িয়ে আছে দেবাশিস সেই কখন থেকে। এক ঘন্টার ওপর হয়ে গেল। প্রশান্তবাবু, মানে প্রশান্ত দাশ বলেছিল বারোটা নাগাদ পৌঁছে যাবে এই লোকনাথ ফার্মেসির সামনে। বলেছিল কোন কোম্পানির গোডাউনের ম্যানেজারের কাছে নিয়ে যাবে। সিকিউরিটির কাজ করার জন্য নাকি একটা লোক খুঁজছে ওরা। দাশবাবু বলেছিল, ' তোর তো শরীর স্বাস্থ্য দিব্যি। হয়ে যাবে... হয়ে যাবে... লোকনাথের সামনে ... ...
( ৪ ) এরপর পরিস্থিতিটা ঠিক কি ভাবে সামলানো যেতে পারে ঠিক করে উঠতে পারল না দীপঙ্কর। সে ভাবল আপাতত: একটু বিরতি নেওয়াই ভাল। মানে, সরে পড়ে যাক। নারায়ণ পুরিয়াকে রিপোর্ট দিয়ে দিতে হবে। তারপর তারা যা সিদ্ধান্ত নেন। — ‘ সুভাষদা ..... এরপর আমি আর কি বলব বলুন ..... আমি শুধু অফারের অ্যামাউন্টটা আর একবার বিবেচনা করে দেখবার অনুরোধ করতে পারি। অপরাধ নেবেন না ...... আচ্ছা এখন আসি তালে ..... নমস্কার .... ’। জোরালো অ্যান্টিবায়োটিকের জোরে সুখির ঘা অনেকটা ... ...
( ৩ )সুভাষবাবু বিকেল বেলায় মুড়ি আর নারকেল খাচ্ছিলেন। সারাদিন রোদ্দুরে অনেক ঘুরেছেন। সেই সকালে বেরিয়েছিলেন পান্তাভাত খেয়ে। গ্রামের ছেলে। গ্রামেই কেটেছে সারাজীবন। পান্তাভাতেই এই শরীর এবং মাথা ঠান্ডা থাকে তার। হৈ হৈ করে ভোটের মেলা এসে পড়েছে। পার্টি এবারেও তাকে টিকিট দেবে কিনা এখনও জানা নেই। সকলেই জানে সুভাষ গিরির প্রায় অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক জীবন একেবারে দাগছাড়া। রাস্তায় বেরোলে এলাকার লোক পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। আবার তারা এও জানে সুভাষ গিরি ভোটে জিতবেন না। পার্টির সংগঠন বসে গেছে। সংগঠন মজবুত না হলে ভোটে জেতা যায় না। শুধু ভাল লোক হওয়া কোন কাজে আসবে না। এ দেশে ভোট করিয়ে ... ...
( ২ ) অনিন্দ্যবাবু খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থেকে নিজের ভিতরে ওঠা ঝড়কে শান্ত হতে দিলেন। তার সামনে বসে ভাঙাচোরা বিড়ম্বিত রবীন্দ্রনাথবাবু শঙ্কিত চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন শুনানির শেষে জজসাহেবের মুখ থেকে রায় বেরোবার উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষায়। ভাবলেন, কথাগুলো বলে তিনি হয়ত ঠিক করলেন না। নিজের ছেলের বদনাম শুনতে কোন বাবারই বা ভাল লাগে। কিন্তু এ ছাড়া আর কী উপায়ই বা ছিল তার কাছে। মেয়েটাকে রক্ষা তো করতে হবে। আর কেই বা বাঁচাবে ... ...
( ১ ) অনিন্দ্য বসু একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিন বছর আগে অবসর নিয়েছেন। সকাল ন'টা নাগাদ তার রাসবিহারী এভিনিউয়ের তিনতলার ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুমে বসে খবরের কাগজের পাতা উল্টোচ্ছিলেন। টেবিলের ওপর বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে মোট পাঁচটা কাগজ। ছোট ছেলে অনুমিত সকাল ছ'টায় বেরিয়েছিল। জিম করে বাড়ি ফিরছে। অনুমিতের এখন পঁচিশ বছর। তার বড়দা থাকে নিউ ইয়র্কে আর মেজদা চেন্নাইয়ে। প্যাসেজ দিয়ে ঢোকার সময় ডান দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বাবা ঘরে বসে ... ...
একজন ছিপছিপে ঢ্যাঙা ডগ ট্রেনার ক্যাম্পাসে পাক মারছে ট্রাকশ্যুট আর স্নিকার শ্যু পরে। পেছনে দৌড়চ্ছে ছ ছটা নানান কিসিমের কুকুর। ল্যাব্রাডর আছে, রিট্রিভার আছে, টেরিয়ার আছে .... আছে আরও অনেক পেডিগ্রী সারমেয়। ট্রেনারের পিছন পিছন ছুটে চলেছে একঝাঁক খেলোয়াড়ের মতো। সি ব্লকের রাকেশ মিত্তলের পোষ্য সবকটা। ট্রেনার কাম ফিজিওর মাসিক পারিশ্রমিক ত্রিশ হাজার টাকা। রাকেশ মিত্তলের আয়রন অ্যান্ড স্টীলের ... ...
রাত দেড়টা বাজল। নপরাজিত আর মনসিজের সঙ্গে শিমিকা আর আলিয়া এখনও সিজলার বার থেকে বেরোয়নি। শিমিকা মনসিজের পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, ' চল ইয়ার .... থাইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসি .... ' সঙ্গে সঙ্গে আলিয়া নেচে উঠল, ' ইয়েস ... ইয়েস ... ফ্যান্টাস্টিক ... নো পয়েন্ট অফ ওয়েস্টিং টাইম .... ওখানে আমাদের একটা রিসর্ট আছে .... সো লেটস ফিক্স ...নেক্সট স্যাটারডে ... ' সকলেরই কয়েক রাউন্ড করে চড়ানো হয়ে ... ...
‘ এই... এই যে আসুন ... এই মাঠটা পেরোলেই ওদের বাড়ি '। অগ্নিভ স্টেশন থেকে যে রিক্শাটা ধরেছিল তার চালকই মাঠের ধারে রিক্শাটা দাঁড় করিয়ে তাকে ছোট মাঠটা পেরিয়ে সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল। ছোট একতলা বাড়ি। ভেতর থেকে প্রায় চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছরের একজন মানুষ খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন। রিক্শাওয়ালা বিদায় নিল। অগ্নিভ হাতজোড় করে বলল, ‘নমস্কার, আমি প্রতিলিপি থেকে আসছি। বিপ্লবী সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের জন্মের একশো পঁচিশ বছর পূর্তি ... ...
বজবজে বোনের শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল বিভাস ঘোষদস্তিদার। সে নিজে অবিবাহিত। বাড়ি শ্যামবাজারে রামকান্ত বোস স্ট্রীটে। বর্ষাকাল। আজ সারাদিন মেঘলা। বিভাস যখন নামল শিয়ালদা সাউথের প্ল্যাটফর্মে বাইরে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে। গাদা গাদা লোক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেছে।ব্যস্তবাগীশ লোকেরা ছাতা খুলে বা ছাতা ছাড়াই ঝটপট বেরিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায়।বিভাসের কাছে ছাতা ছিল। সে ছাতা খুলে লোকজন ঠেলেঠুলে স্টেশনের বাইরে এল, শিয়ালদা ফ্লাইওভারের দিকে।সারাদিন ধরেই থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। চারদিকে জলকাদায় লেবড়ি চেবড়ি অবস্থা। সন্ধে নেমে গেছে। বাতি জ্বলে উঠেছে দোকানবাজারে। মেন গেটের দিক দিয়ে বেরিয়ে ... ...