আজ শীতল ষষ্ঠী – অরন্ধনের দিনবাসন্তী পঞ্চমীর পরের দিন মানে সরস্বতী পুজোর পরের দিন শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে পালন করা হয় শীতল ষষ্ঠীর ব্রত। অনেকে আবার একে শিল ষষ্ঠী বা গোটা ষষ্ঠীও বলে থাকেন। এই বিশেষ দিনটির খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে বিস্তারিত কথা আলাদা করে বলার আগে বাংলায় ষষ্ঠী পুজোর ইতিবৃত্ত নিয়ে দু এক কথা আলোচনা করি।তথাকথিত শাস্ত্রীয় পুজো পার্বণের পাশাপাশি লোকায়ত জীবনের বহমান ধারায় যুক্ত হয় অনেক অনেক দৈশিক আচার অনুষ্ঠান, ক্রিয়াকলাপ। লোক গবেষকদের মতে ষষ্ঠী দেবীর পুজোর আয়োজন এভাবেই হয়তো মান্যতা পেয়েছে লোক সমাজে। দেবী ষষ্ঠী হলেন প্রজননের দেবী, সন্তানের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, প্রতিপালনের দেবী। মার্জার বাহিনী এই দেবীর কৃপায় নিঃসন্তান ... ...
পুণ্যস্নানের পর্ব – একটু অন্য চোখেকুম্ভমেলা। প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে এই মুহূর্তে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো মাপের ধর্মীয় জমায়েত। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো থেকে এমন কি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষজন সমবেত হয়েছেন তিথি নক্ষত্রের শুভ যোগ অনুসারে পুণ্যস্নানের মাধ্যমে পাপ ধুয়ে নিয়ে পরম ঈপ্সিত মোক্ষ লাভ করতে। সমুদ্র মন্থনের সময় পূত পবিত্র কুম্ভ থেকে চলকে পড়া অমৃত এসে পড়েছিল এই তিন নদীর মিলন স্থলে। তাই লোকবিশ্বাস, নির্দিষ্ট তিথিতে গঙ্গা, যমুনা ও অন্ত সলিলা সরস্বতী নদীর সঙ্গমের জলে ডুব দিলেই অমৃতের পরশে জীবন ধন্য যাবে। এই বিশ্বাসকে আগলে রেখেই এই দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দিন যাপন।আমার আজকের এই নিবন্ধের ... ...
একদিন এক চায়ের ঠেকে সোমনাথ মুখোপাধ্যায় রবিবার। আজ সাতসকালেই দোকান খুলেছে মণি। দোকান বলতে তেমন বিরাট কিছু নয়, সামান্য এক চায়ের দোকান। তবে একেবারে সদর রাস্তার ওপরে হওয়ায় বিক্রি বাট্টা নেহাত কম নয়। এখন আর বাপের আমলের মতো কয়লার উনুনের পাট নেই। কমার্শিয়াল সিলিন্ডারে চলা গ্যাসস্টোভে টগবগিয়ে জল গরম হচ্ছে প্রায় সমস্ত দিন।এ তল্লাটের ভোল বিলকুল বদলে গেছে এই কয়েক বছরের মধ্যে। হাতের নাগালে থাকা একতলা,দু তলা বাড়িগুলোর প্রায় সবকটাকেই একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে পরপর মাথা তুলেছে হাই- রাইজ বিল্ডিং। লোকজনের আনাগোনা অনেক বেড়েছে। বেড়েছে মণির চায়ের খদ্দের। এ তল্লাটের হোমরা চোমরা মাতব্বরদের অনেকেরই আনাগোনা তার ছোট্ট দোকানে। খদ্দেরদের আলোচনা থেকেই মণি গোটা ... ...
শুভ জন্মদিন তোমাকে…ষাট বছরের একটা প্রতিষ্ঠান। আমাদের ইস্কুল। আজ তাঁর জন্মদিন। ষাটের ঘরে পা দেওয়া মানে কি সে খুব বুড়িয়ে গেলো? মনে হয় না। আসলে এখনতো আর মনোস্কোপ ঠেকিয়ে প্রতিদিন তাঁর মনের খবর নেওয়া হয়ে ওঠেনা। আর সে সুযোগই বা কোথায় এক রিটায়ার্ড মানুষের পক্ষে? অবশ্য একালের চেনা বুলি - বয়স হলো একটা সংখ্যা, মনের বয়স বাড়তে দিয়োনা। একথা মাথায় রাখলে বলতে হয় ষাট্ ষাট্, কী আর তেমন বয়স হয়েছে তোমার? এটা কোনো বয়স নাকি একটা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে? এখনও যে তাঁকে অনেক অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক গরিমা আর নির্মাণের সাক্ষী হতে হবে। চরৈবেতি – এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো। ... ...
সুইডেন থেকে শিক্ষা …..? পৃথিবীর যে সব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পক্ষে আদর্শ, গ্রহণীয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপের অন্যতম দেশ সুইডেন তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রি স্কুল স্তর থেকেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য এক অন্য ধরনের তালিমের পর্ব শুরু হয়ে যায় একদম খোলামেলা পরিবেশে। খেলতে খেলতে শেখার আনন্দে বিভোর হয়ে যায় নবীন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী স্তরের শিক্ষাও যে এই আনন্দময় ধারারই অনুসারী তা বোধহয় বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা। এহেন সুইডেন থেকে এক উলট পুরাণের কাহিনি নজরে এল খুব সম্প্রতি। একটু পিছিয়ে যাই। ২০০৯ সালে স্কুল পড়ুয়াদের কম্পিউটার নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করে এই দেশ। লক্ষ্য ছিল উন্নত যান্ত্রিক শিক্ষা ... ...
আজি হিসাব মিলাতে …. আরও একটা বছর বিদায় নিতে চলেছে। সময় তোরণের বাইরে অপেক্ষমাণ আরও একটি নতুন বছর। রাত পোহালেই দরজা ঠেলে ঢুকে পড়বে আমাদের জীবনের পরিসরে। তাকে আগলেই পায়ে পায়ে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের একটা দীর্ঘ পথে পাড়ি দিতে হবে আমাদের। ফেলে আসা দিনগুলো কেমন কাটলো আমাদের পৃথিবীর ? ঠাকুর অবশ্য বলেছেন – হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজি …… হিসাব নয়,আমরা বরং একটু ফিরে দেখি আমাদের পৃথিবীর বিগত বছরের আখ্যাননামা। পৃথিবী ভালো নেই। দেখে নিই কেমন গেল ফেলে আসা বছরটা!কেবলমাত্র বিগত বছরটা নয় শেষ কয়েকটা বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে ঘটে চলেছে নানান ঘটনা, বিপর্যয় যা আমাদের পরিচিত অভিজ্ঞতার বাইরে। নানান ... ...
বেঞ্চ বেঞ্চ একটি মনোড্রামা। পার্কের এককোণায় পাতা একটা বেঞ্চ এই একক নাটকের মুখ্য পটভূমি। এই বেঞ্চকে ঘিরে কত না মানুষের আনাগোনা, প্রতিদিনের জীবনের কত সুখ দুঃখের, আনন্দ বেদনার আলোচনা। নানান ধরনের মানুষের কথোপকথনের সূত্র ধরেই পার্কের এককোণায় থাকা এক সামান্য বেঞ্চ যেন হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনন্য এক বেঞ্চমার্ক। বিদায়ী বছরের শেষ প্রহরে এই নতুন নাটক যেন আবাহন জানায় নতুন বছরকে। সামান্য এক বেঞ্চ হয়ে ওঠে বহমান সময়ের প্রতিনিধি। পার্ক। তারই একপাশে একটা বেঞ্চ পাতা। পার্ক জুড়ে হরেক ব্যস্ততা নজরে পড়ে। সব ... ...
আজ জাতীয় গণিত দিবস। ছেলেটির বয়স তখন মাত্র ১৪, শৈশবের চৌকাঠ পেরিয়ে সবে কৈশোরের উঠোনে পা রেখেছে। রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে। তাই পুজো আচ্চায় মতিগতি থাকাটাই স্বাভাবিক বলে ভেবেছিলেন বাড়ির অভিভাবকেরা। টানাটানির সংসারে তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে। ছেলেটিকে সে সব টানে না, তার মন পড়ে থাকে গণিতের নানান ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান খোঁজার কাজে। গণিতের রসে মজে থাকার দরুণ অন্যান্য বিষয়গুলো সেভাবে পড়া হয়ে ওঠেনা। ফলে স্কুলের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়না। ঐ বয়সেই গণিতের প্রতি জন্মেছে প্রবল আগ্রহ। আরও জানতে হবে, আরও শিখতে হবে এই আকুতি থেকেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ছেলেটি। এমন বোহেমিয়ান স্বভাবের জন্য প্রথাগত ... ...
চলে গেলেন অরণ্যের জীবন্ত বিশ্বকোষ তুলসী গৌড়া কিংবদন্তি শ্রীমতী তুলসী গৌড়া - অরণ্যের জীবন্ত বিশ্বকোষ বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারণে প্রয়াত হলেন ৮৬ বছর বয়সে। এইতো মাত্র সেদিনের কথা। ২০২১ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কৃতীদের বার্ষিক রাষ্ট্রীয় পদ্ম পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ঘোষক ঘোষণা করলেন পদ্মশ্রী তুলসী গৌড়ার নাম। দরবার হলে উপস্থিত নামীদামী অতিথি অভ্যাগতদের পোষাকের খসখসানি, ফিসফিসিয়ে কথা বলাকে এক লহমায় থামিয়ে দিয়ে নগ্নপদে দৃঢ় অথচ বিনম্র পদক্ষেপে প্রথাগত হালাক্কি উপজাতীয় রমণীর শালীন পোশাকে রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দের সামনে এসে দাঁড়ালেন এক অসাধারণ মানুষী – তুলসী গৌড়া দেবী। দরবার হল তখন মুখরিত হয়ে ওঠে অতিথি অভ্যাগতদের সম্মিলিত ... ...
অধ্যাপক মাধব গ্যাডগিল : এক নিমগ্ন পরিবেশপ্রেমীআম জনতার কাছে খুব পরিচিত একটি নাম নিশ্চয়ই নয়, তবে এই মুহূর্তে দুনিয়াজুড়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আলোচনা করছেন এই নিরলস প্রকৃতি সাধকের কথা। এ বছর সারা দুনিয়ার যে ছ জন পরিবেশবিদ তথা প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বকে ইউনাইটেড নেশনস এর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছে ভারতের অধ্যাপক মাধব গ্যাডগিল হলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। যেসব মানুষ নীরবে নিভৃতে প্রকৃতি ও পরিবেশের সেবা করছেন দীর্ঘদিন ধরে, যাঁদের নিরলস কর্মপ্রয়াসের ফলে পরিবেশের গুণমান তথা ভারসাম্য বজায় থেকেছে অনেকাংশে তাঁরাই এই স্বীকৃতির যথার্থ ভাগীদার। বৃহত্তর নাগরিক সমাজের ওপর এইসব মানুষদের কাজকর্ম গভীর ছাপ রেখেছে। তাই তাঁদের হাতেই তুলে ... ...