এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা।পড়তে থাকুন রোজরোজ। প্রবেশ করে দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।

হরিদাস পালেরা

পরীবালার দিনকাল


--
এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা বাকী৷ তারপর বাড়ি গিয়ে কাপড় ছেড়ে এসে মুনিদের বাড়ির পুজোর বাসন মাজতে হবে৷ মুনির দিদা পাঁচবাড়ির বাসনমাজা কাপড়ে পুজোর বাসন মাজতে দেয় না৷ আর বুড়ীর চোখও বলিহারি, ঠিক বুঝে যায় কাচা কাপড় না ছেড়ে রাখা কাপড় পরে এসেছে৷ তবে বুড়ী বকাবকি ...
     ... পড়ুন এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Ashoke Mukhopadhyay

বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1

আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। কিন্তু আজ থেকে মাত্র দু চার হাজার বছর আগেকার কথা স্মরণ করুন। সেই ইতিহাসের গুহায় ঢুকলে দেখতে পাবেন, তখন অবধি মানুষ জানতই না, বস্তু যে চলে তা কিসের জোরে। তার নিয়ম কী, তার ভিত্তি কী। বল ও শক্তি--এই দুটো ধারণাই যে আদিম মানুষের ম্যাজিক সংস্কৃতির আঁতুরঘর ...
     ... পড়ুন Ashoke Mukhopadhyayএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

বিপ্লব রহমান

আমার বাবা আজিজ মেহের

আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ভাবছিলাম।

আজ তাকে কাছেই সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। দুদিন আগে তিনি পর পর তিনবার বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন। ৮৬ বছর বয়সে এই প্রথম তার পা ফস্কে গেল। নইলে এতো বছর ধরে সব কাজ তিনি একাই করেছেন। অস্বাভাবিক প ...
     ... পড়ুন বিপ্লব রহমান এর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

ঋক আর কিছুনা

উপনিষদ মহারাজ

একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)
*****************************
"আরে দেখে চলতে পারেন না নাকি, অদ্ভুত লোকজন সব, না মেয়ে দেখলেই ধাক্কা মারতে ইচ্ছে করে"।
ঝাঁ ঝাঁ করে বাক্যবান উড়ে এলো। তাকিয়ে দেখলাম, অল্পবয়সী না, তবে তরুণী, সুন্দরী না তবে মিষ্টি, তন্বী না বরং ঈষৎ পৃথুলা। আমার বয়স এখন ত্রিশ, কিছু না হোক খান দুই জোরালো আর খান পাঁচেক খুচরো প্রেম করেছি। এ বয়েসে এসে খামো ...
     ... পড়ুন ঋক আর কিছুনাএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Sushovan Patra

চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল

চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর টোম্যাটো ১০০ টাকা, যেদিন আপনি দাম শুনেই আঁতকে ওঠেন; সেদিনটা ‘আরও খারাপ দিন’। দাম বেড়ে যাবে আন্দাজ করে কেজি খানেক শসা যদি আপনি আগের দিনই বেশী কিনে রাখতেন, তাহলে সেটা হতে পারতো আপনার ‘মাস্টার স্ট্রোক।’ বিজনেসের ভাষায় ‘রিস্কলেস ইনভেস্টমেন্ট’। ঐ যে রিজা ...
     ... পড়ুন Sushovan Patraএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Shakti kar bhowmik

আগরতলা নাকি বানভাসি

আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো লালমাটিগোলা জলের প্রাচুর্যে। মাইকিং হোত, আতঙ্ক হোত, ফাজিল কোন লোক বা লোকেরা চেঁচিয়ে ভয় দেখাতো আইয়ে রে, আইয়ে। শেষ পর্য্যন্ত আমাদের ভয়ে মাখামাখি প্রতীক্ষা উপেক্ষা করে বন্যা আসতো না। ড্রেন উপচে জল ঢোকেনি কখনো। হরিগঙ্গা বসাক রোডে আমার মাতামহের পৈতৃক বাড় ...
     ... পড়ুন Shakti kar bhowmikএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Abhijit Majumder

ভূতের_গল্প

পর্ব এক

"মদন, বাবা আমার ঘরে আয়। আর গাছে গাছে খেলে না বাবা। এক্ষুনি ভোর হয়ে যাবে। সুয্যি ঠাকুর উঠল বলে।"

মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে মদনভূত একটু থমকাল। তারপর নারকেলগাছটার মাথা থেকে সুড়ুৎ করে নেমে এল নীচে। মায়ের দিকে তাকিয়ে মুলোর মত বিরাট বিরাট দাঁত বার করে একটা ফিচকে হাসি হেসেই আবার উড়ান দিল পরের গাছটার উদ্দেশ্যে। মায়ের কথা শুনতে আজ ওর ভারি বয়েই গেছে। কতদিন বাদে এসেছে এমন শান্তির রাত। সব্বাই যে যার ঘরে খিল দিয়ে ঘুমোচ্ছে। নয়তো আজকাল রাত হলেও ছেলে-ছোকরারা ঘুমায় না। হাতে কি ...
     ... পড়ুন Abhijit Majumderএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

একক

এমাজনের পেঁপে


একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা আধুনিকতা এখনো প্রবেশ করে নাই যে নূতন ভাড়াটে আসিলেও পড়শীদের কৌতূহল যৎপর্নাস্তি সংবৃত থাকিবে । এই ক্ষেত্রে, মালবাহী টেম্পোর সঙ্গে একটি মধ্যবয়স্ক পুরুষ ও প্রায় চলচ্ছক্তিহীন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা ও সেই তেপায়া কেদারা, জীর্ণ চৌপাই ইত্যাদির বা সবকিছ ...
     ... পড়ুন এককএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Tripti Santra

মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্ল্যাং-2

আমাদের এক্কাদোক্কা বেলায় সে অর্থে কোনো স্ল্যাং নেই। জাতীয় পতাকা উড়লে যেমন কোন সমস্যা নেই, দারিদ্র নেই। ডগডগে সিঁদুরের ক্যামোফ্লেজে যেমন সম্পর্কের শীতলতা নেই। বিজ্ঞাপনের ঢেউয়ে যেমন ভেসে নেই নিয়োগের লাশ।
পাঁচমিশেলি কলোনির খোলা কন্ঠ থাকে। ভাষা থাকে। আর বাবু কলোনির তক্তপোশের খাবলা-খাবলা তোষক ঢাকা রঙিন তাঁতের চাদরে, আর ওপরে ফুলতোলা জয়পুরী বেডশীট। কালেক্ট্রেট-ট্রেজারি-সাড়েদশ পাঁচ, ঝোলভাত-খড়কে কাঠি বিড়ি হুঁকো, ধুতি-পাঞ্জাবী, পাটপাট সফেদ পিতৃতান্ত্রিকতায় আদর্শ মানুষের পাঠক্রম। সেখানে যৌনতা দূরবস্থান ...
     ... পড়ুন Tripti Santraএর সমস্ত লেখা

হরিদাস পালেরা

Muradul islam

পানির ফোঁটাযুক্ত সমস্যা


প্রতিদিন বিকেলে আমার বাসায় ফেরার পথে একটা বাড়ি পড়ত। এই রাস্তায় বিকেল ছাড়া অন্য কোন সময়ে আমি যেতাম না কখনোই। তাই আমার জানা ছিল না বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে এই বাড়িটা এখানে থাকে কি না। তাই সে ব্যাপারে আমার স্পষ্ট কোন ধারনা নেই।

এই বাড়ির সামনে ছিলো সুন্দর করে সাজানো বাগান। প্রতিদিনই আমি দেখতাম একজন বয়স্ক মহিলা বাগানে চেয়ার পেতে বসে আছেন। তার হাতে কাচি। কাচি দিয়ে তিনি গাছের ডাল, পাতা ইত্যাদি কাটছেন।

যখন আমি বাড়িটার কাছাকাছি আসি তখন ভদ্রমহিলা তার চেয়ার ছেড়ে দ্রুত গেট খোলে আমার কাছে ...
     ... পড়ুন Muradul islamএর সমস্ত লেখা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আমার কথা

অনন্যা

 বাড়িতে অনেকে কানাঘুষো করলেও আমার খুব ভাল লেগেছিল যখন জানতে পারলাম বিয়ের পর দিদি-জামাইবাবু এই বাড়িতেই থাকবে। আমার কাছে তো এটা মেঘ না চাইতেই জল ছিল। এক তো দিদি বাড়িতেই থাকবে আর উপরি হিসেবে ডাক্তার জামাইবাবু। বিজ্ঞানে লবডঙ্কা এই শালিকে কি দয়া করে একটু পড়া দেখিয়ে দেবে না? যখনই সময় পেতাম ঘুরঘুর করতাম নতুন দম্পতির আশেপাশে। জামাইবাবুও আমাকে খুব পছন্দ করে। দোকানে নিয়ে যায়, পড়া দেখিয়ে দেয়, কত গল্প বলে। আর কত কত গল্পের বই আছে জামাইবাবুর কাছে। এর মধ্যে এসে যায় অন্যরকম একটা দিন। দুপুরবেলা দিদি-মা-জ্যেঠিমারা বাইরে যেতে ডাক পড়ে আমার নতুন জামাইবাবুর ঘরে। আমি লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যাই। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

আমার ধর্ষণ

দীপমাল্য

 আমার বয়স যখন ১০ বছর ,তখন আমি আমার দিদির বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম।আমার জামাইবাবু থেকে আমি প্রায় ২০ বছরের ছোট,মানে আমি তার সন্তানসম।আমিও তাঁকে সেইভাবেই দেখতাম ও শ্রদ্ধা করতাম।কিন্তু তাঁর নজর ও ভালবাসা কী রকম সেটি বুঝতে আমার দেরি হয়েছিল। তার ফল স্বরূপঃ একদিন আমার দিদি বেরিয়ে যাবার পর, উনি আমাকে একা পেয়ে বলেন,আমার সঙ্গে খেলবেন,এই ছুতোতে আমাকে জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।একদিনে চারবার আমার পায়ুমৈথুন করা হয়।এই অত্যাচার আমার উপর চলে টানা ১০দিন ধরে। আমি সেদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি।আমাকে ভয় দেখানহয়,মেরে ফেলার।কিন্তু কোন কারণে দিদি কিছু একটা আন্দাজ করেন ও আমাকে বাড়ি দিয়ে যান।বাড়িতে মা কে বললে, মা পুরো ব্যাপারটা বিশ্বাসই করেননি।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

বাবা, ভাই এবং অন্যান্য ...

নেহা দীক্ষিত

 প্রিয়ার কথায়, “প্রথম যেবার এটা ঘটে, মা তখন রান্নাঘরে। বাবা একটু আগে কাজ থেকে ফিরেছে।আমি বাবার ঘরে গিয়েছিলাম, চা দিতে। বাবা দরজাটা বন্ধ করে দেয় আর আমার সালওয়ার ধরে টান মারে। আমি চেঁচিয়ে উঠেছিলাম যখন আরো এগোতে শুরু করল, কিন্তু বাবা চুপ করিয়ে দিল, বললো আমি চেঁচালে জিন কুপিত হবে –বলতে বলতে প্রিয়া নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, শূন্যদৃষ্টিতে। পরে ওর বাবা ওকে বুঝিয়েছিল, প্রিয়ার উপর যে জিনটা ভর করেছে, সেই মাঝে মাঝে বাবার উপরেও চড়াও হয় আর ধর্ষণ করিয়ে নেয়।

প্রিয়া যখন মাকে জানালো, মা বললো চুপ করে থাকতে। মা পড়াশুনো শেখেনি কখনো, বাড়ির বাইরেও পা দিয়েছে ক্বচিৎ কদাচিৎ। অমিত, প্রিয়ার এক বছরের ছোট ভাই। অমিতকে যখন প্রিয়া বাবার কথা জানালো, সেই রাতেই অমিত ওকে ধর্ষণ করে।“ও খুব গোদাভাবে আমাকে বললো যে এটা ও করছে নিজের তৃপ্তির জন্য”, প্রিয়া জানালো।
 
...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

সিজনস অব বিট্রেয়াল – দ্বিতীয় পর্ব

দময়ন্তী

তিনতলার ঘরে মস্ত বড় পালঙ্কের এক কোনায় বসে যুঁই আপনমনে সরু সরু দুটো কাঁটা আর খুব শক্ত আর সরু একলাছি সুতো দিয়ে নক্সা বুনছিল; একে বলে কুরুশের কাজ, নতুন শিখেছে  ও নমিতা, ছোটমাসীমার দেওরের মেয়ের কাছে, বেশ দিব্বি ছোট ছোট কয়েকটা কাপডিশ বসাবার নকশাদার ঢাকনি বানিয়েও ফেলেছে। পুর্ববঙ্গে থাকতে ওরা জানত শুধু উলবোনা,  চটের আসন বোনা আর টুকটাক রুমালে সুতো দিয়ে নকশা করা। ছোটমাসীমার নিজের চারটিই ছেলে কিন্তু তাঁর দেওর ভাসুরদের বেশ ক’টি মেয়ে, সকলের সাথেই যুঁইয়ের বেশ ভাব হয়ে গেছে এই কয়দিনে। মাঝে একবার খবর পেয়ে সাঁতরাগাছি থেকে সেজমাসীমা তাঁর বড়ছেলেকে নিয়ে এসে দেখে গেছেন যুঁইকে। কিন্তু তাঁকে কেমন অচেনা  লাগে ওর, কিরকম অদ্ভুত  ভাষায় কথা বলেন উনি। ছোটমাসীমাদের ভাষাও যুঁইদের থেকে খানিকটা আলাদা, কিন্তু তাও অনেকটাই মিল আছে, কিন্তু সেজমাসীমার ভাষা, উচ্চারণ সব কেমন আলাদা হয়ে গেছে। সেজমাসীমা আসবেন  তাই দিদিমণিও এসেছিলেন খড়দা থেকে। দিদিমণি বলেন ‘তুই অ্যাক্করে এদেশী হইয়া গেছস শেফালী, তর কথাবার্তা আর আমরার দ্যাশের নাই’ সেজমাসীমা দিব্বি হেসে কেমন করে বলেন ‘যা বোলোচো মা। অ্যাগদম তোমার  জামাইয়ের ভাষায় কতা কইচি।’

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

মহাভারতের কৃষ্ণায়ণ এবং রামের বৈষ্ণবায়ন

মাহবুব লীলেন

জনপ্রিয় ধারণায় রাম-রামায়ণ-বাল্মিকীরে কৃষ্ণ-মহাভারত-দ্বৈপায়ন থাইকা প্রাচীন ভাবা হইলেও ঘটনা কিন্তু ঠিক উল্টা। এর পক্ষে পয়লা জোরালো যুক্তিটা হইল দক্ষিণ দিকে আর্যগো ভারত-বিস্তারের কালক্রমের লগে দখলি-মানচিত্রের হিসাব। মহাভারতের ঘটনাস্থল থাইকা রামায়ণ ঘটনাস্থল আরো বহুত পূর্ব দিকে। আর্যগো দক্ষিণ দিকে পা বাড়াইবার ঐতিহাসিক সময়কাল মাথায় রাইখা রমিলা থাপারও মন্তব্য করেন যে রামায়ণ তৈরি হইছে ৮০০খিপূর অন্তত পঞ্চাশ থাইকা একশো বছর পরে। মানে সাড়ে সাত থাইকা সাতশো খিপূর দিকে...

রমিলা থাপারের এই যুক্তিটা অতুল সুরও সমর্থন করেন। আর্য-যাত্রার সময়কালের লগে আর্যগো ভূগোল-পরিক্রমা নিয়া যারা কাজ করেন তাগো প্রায় সকলেরই হিসাব নিকাশ প্রায় এক। সকলেই মোটামুটি একমত যে কুরু-পাঞ্চাল এলাকাই হইল পয়লাবারের মতো আর্যগো সাম্রাজ্য স্থাপনের নিদর্শন; যেইখান থাইকা অযোধ্যা কিংবা কোশলের মতো দক্ষিণের ভূমি পর্যন্ত পৌছাইতে আর্যগো সময় লাগছে আরো কয়েক শো থাইকা হাজার বছর...

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

অসন্তোষের কারণ

কৌশিক দত্ত

 নিদারুণ অবিশ্বাসের পরিবেশে  ভালো কাজ হয় না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি, জটিল রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ষষ্ঠেন্দ্রিয়ের ভূমিকা বিরাট। রোগী দেখার সময় পূর্ণ মনোযোগ রোগীর দিকে দিতে পারলে তবেই মনের সবটা, ষষ্ঠেন্দ্রিয় সমেত, কাজ করে। যদি অর্ধেকটা মন পড়ে থাকে নিজের পিঠ বাঁচানোর দিকে, রোগী দেখার সময় যদি ভাবতে হয় “এই রোগী নিয়ে কী ধরণের কেস খেতে পারি” বা “এর বাড়ির লোক ঝামেলা করতে পারে কিনা”, তাহলে মনের সেই আশ্চর্য রত্নভাণ্ডারে তালা পড়ে যায়, বদলে সামনে আসে কৈকেয়ীর গোঁসাঘর আর মন্থরার ফিসফাস। রোগীকে ভালোবেসে দেখা, তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে “কিচ্ছু হবে না, আমি তো আছি” বলা, বা হাল ছেড়ে দেবার আগে নিজের জ্ঞানবুদ্ধি অনুসারে নিয়মের বেড়া ডিঙিয়ে শেষ চেষ্টা করার বদলে এখন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি শব্দ খাতায় লিখে রাখা, আত্মীয়দের কটার সময় কী জানানো হয়েছে তা নথিবদ্ধ করে সই করিয়ে নেওয়া, বইতে যেটুকু লেখা আছে তার বাইরে যাবার চেষ্টা না করা, দায়িত্ব নিজের কাঁধে না রেখে অন্যান্য স্পেশালিস্টদের রেফার করে দেওয়া, ইত্যাদি। যেন রোগীকে নয়, নিজেকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা করছি। এভাবে আর যাই হোক, সুচিকিৎসা হয় না। যাঁদের প্রতি সমানুভূতি লাভ করার কথা, তাঁদেরকেই সম্ভাব্য আক্রমণকারী বা আদালতের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবতে হবে বলে যদি জানতাম, তাহলে আমরা অনেকেই হয়ত অন্য পেশা বেছে নিতাম, যেখানে এর চেয়ে কম পরিশ্রমে এর চেয়ে বেশি উপার্জন করতে পারতাম। চিকিৎসা পেশার একটা নেশা আছে, যেটা চলে গেলে আমাদের অনেকের জন্যেই কাজটি অর্থহীন হয়ে যায়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

জুনেদ-এর চিঠিঃ ঈদের নতুন পোশাকে

অনুবাদঃ শেখর সেনগুপ্ত

 [গত সপ্তাহে ট্রেনে করে দিল্লী থেকে হরিয়ানায় নিজের বাড়ি ফেরার পথে, চলন্ত ট্রেনের মধ্যে একদল দুষ্কৃতির মারধোর ও ছুরির আঘাতে ১৬ বছরের ছেলে জুনেদ খান মারা যায়। দুষ্কৃতিদের সন্দেহ ছিল যে জুনেদদের কাছে গো-মাংস রয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে ২০১৭-র ২৮শে জুন, দিল্লীর জন্তর মন্তরে “#NotInMyName” শীর্ষ নামে এক বিশাল সমাবেশ হয়। সেই সমাবেশে জুনেদের বন্ধু মহম্মদ আজহারউদ্দীন একটি চিঠি পাঠ করেন। সেই পাঠ শুনে সমাবেশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠেন। স্বর্গ থেকে জুনেইদ তার মা-কে চিঠি লিখলে কী লিখতে সেটাই এই চিঠির মূল বিষয়। উর্দুতে লেখা এই চিঠির ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন আলিয়া খান, যা ২৯শে জুন, ২০১৭র অনলাইন “দি মিলি গেজেট” প্রকাশিত হয়েছে।

ইংরেজি থেকে অনুমতিক্রমে বঙ্গানুবাদ করেছেন শেখর সেনগুপ্ত]

 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রথের রশিতে টান

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

 কিন্তু এর আগে কখনো এমন হয়নি। গুর্জরদেশের সৌরাষ্ট্রের উপর দিয়ে যখন সমগ্র জম্বুদ্বীপে আর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কামনায় শ্রীকৃষ্ণ তাঁর রথযাত্রা সূচিত করেছিলেন, তখন থেকেই সে যাত্রার নিয়তি ছিল অপ্রতিরোধ্য বিজয়। অবশ্য রথযাত্রা করতেই হত। কিছুকাল পূর্বেই হস্তিনাপুর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে রাজকার্য, অমাত্য, সান্ত্রী, শাসন ইত্যাদি কর্মে সাতাশ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে শূদ্র, দ্রাবিড় এবং নিষাদদের হাতে। এ রায়দান অসহ্য, এবং সমগ্র জম্বুদ্বীপের আর্য স্বাভিমানের উপর মস্ত বড় আঘাত। দূষিত রক্তের অধিকারী এই সব পশুর মত লোকজন, যারা গণ্ডায় গণ্ডায় সন্তান উৎপাদন, সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপ এবং অরণ্য আশ্রমের সমাহিত শান্ত পরিবেশকে দূষিত করা ছাড়া আর কিছুই করেনি এতকাল ধরে, সেই তাদেরকে এখন তোষণ করে চলতে হবে! এবং সেটাও হস্তিনাপুর রাজচক্রবর্তীর পেছনে জনসমর্থন সংহত করবার খাতিরে! এতখানি অন্যায় স্বাভিমানী আর্যের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রথম গর্জন এসেছিল পশ্চিম প্রান্তের মহারট্ট প্রদেশের তিলক কুলপতির থেকে। তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করে বলেছিলেন এই রায় কার্যকর হলে সমগ্র জম্বুদ্বীপ দ্রাবিড় রক্তে সিঞ্চন করে পরিশুদ্ধ করবেন তিনি। আর্যহৃদয়সম্রাট চতুর শ্রীকৃষ্ণ বুঝেছিলেন এটাই উপযুক্ত ক্ষণ। এখনই যদি আর্য সংখ্যাগুরুকে রক্তের স্বাদ না দেওয়া যায়, তাহলে সাম্রাজ্য গঠনের স্বপ্ন অধরাই থাকবে। এই সাম্রাজ্য গঠনের মূল বাধা যে প্রাচীন প্রথা, অর্থাৎ মহাজনপদগুলির গণতান্ত্রিক উপায়ের মাধ্যমে সম্রাট নির্বাচন, সেই গণতন্ত্রকে পিষে ফেলে আর্য একনায়কতন্ত্রের বিজয়রথ চালাবার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। ঠিক সেই কারণেই মন্দির স্থাপনার আহ্বান। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ঈদের রঙ

রুখসানা কাজল

 দলবেঁধে আসত দিভাই আপুলি দাদুর বন্ধুরা । কে হিন্দু কে মুসলিম এরকম অনেককেই আমি সত্যি জানতাম না। ওদিকে রান্নাঘরে তখন মা ক্ষেপে গেছে। অসম্ভব। আমি কারো জাত নষ্ট করতে দিতে পারব না। টিকিয়া কিছুতেই মা দেবে না। আর এরা খাবেই। শেষ পর্যন্ত মিথ্যে বলে তবে টিকিয়া বের করা হত। আমি আর ভাইয়া ঘুরঘুর করতাম সেলামি নেওয়ার জন্যে। ব্যাগ ভরে টাকা পয়সা নিয়ে আমরা ছুটে যেতাম আইসক্রিমের দোকানে। তখন নতুন নতুন আইসক্রিম আসছে মার্কেটে। বিরতিহীন খেয়ে যেতাম আমরা ছোটরা। জিভ ভারি হয়ে কথা আটকে যেত। অইদিন গরিবদের ছেলেমেয়েরাও আইসক্রিম কিনতে আসত। তারাও সস্তা কাপড়ের  নতুন জামাকাপড় পরে আনন্দ করত। কিন্তু এত আনন্দের ভেতরেও খারাপ লাগত যখন দেখতাম এই ঈদের দিনেও কেউ ভিক্ষে করছে বা ছেঁড়াফাটা পুরান জামা পরে মুখ কালো করে এক কোণে   দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের শহরে হামবড়ামি করত যারা তাদের কেউ কেউ এদের তাড়িয়ে দিত। কেউ কেউ আবার দুষ্টুমি করে আমাদের বাড়ি দেখিয়ে দিত। মা যতটা পারত দিত। বাপি মাকে শিখিয়েছিল, দিও কিঞ্চিত না করে বঞ্চিত। আমরা তো অই হামবড়ামি টাইপের ধনীলোক ছিলাম না। ওদের গেট বন্ধ থাকত, শবে বরাত, ঈদ, কুরবানির দিনগুলোতে। গরীবরা কিছু না পেয়ে কত কি যে অভিশাপ দিত। শেষবারের মত বলত, আল্লাহ বিচার করবিনে, একদিন আমাগের মত ভিক্ষে করতি হবিনে ওগের। এই ধনসম্পদ কিছুই থাকপি নানে তহন। আল্লাহ কিন্তু ওদের  ছাপ্পড় ফুঁড়ে দিয়েছে,  দিয়েই গেছে। গরীব আরো গরীব হয়েছে। আমি আর ভাইয়া এগুলো ভালো করে দেখে টেখে ঠিক করেছিলাম, কাউকে মুখে কিছু বলব না। সুযোগ পেলে মেরে দেবো।  

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

রথের কোলাজ

শক্তি করভৌমিক দত্তরায়, সৃজিতা সান্যাল শূর, সেখ সাহেবুল হক, নাভিদ আঞ্জুম, সোমা মুখোপাধ্যায়

আজ ঈদ ছিল।কাল ছিল রথযাত্রা।আহা কি আনন্দ।ছোটো থেকেই রথের মেলায় যাওয়া আমার মাস্ট।রথের মেলাতেই আমার প্রথম সার্কাস দেখা। নাগরদোলা চড়াও।লালগোলায় প্রতিবার রথের মেলা বসে অনেকদিন থাকে।এবারো যাবো।আমার সাড়ে চার বছরের ছেলের এবার তৃতীয়বার রথের মেলা দেখা হবে।ও বেচারি হিন্দু-মুসলিম না বুঝলেও,লালগোলাবাসিরা জানে লালগোলার রথের মেলার মোট টার্ন আউটের অন্ত 50%মুসলিম।সকালে ঈদের ময়দানের বাইরে পাঁপড়, চপ,ঘুগনি বা খেলনার যে দোকানগুলো ছিলো তার অনেকগুলিই হিন্দুদের। এতে আমার তিন বছরের ভাইপোর কিছু এসে যায়নি। সে পাঁপড় পুরোটাই খেয়েছে।আর হ্যাঁ,অনেক অনেক হিন্দু ভাইবোনেরা 'ঈদ মুবারক' লিখেছে। আমি অবশ্য 'শুভ রথযাত্রা' লিখিনি।অনেক মুসলিমই লেখেনি। আমিতো কোনদিনই না।তাহলে এবার কি হোলো???

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

উৎসবের খাদ্যসম্প্রীতি ও পাড়ার খানাপিনা

সেখ সাহেবুল হক

 ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই বাঙালী মুসলমান প্রথমে ঈদের চাঁদকে চুমু খায় ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে। খুশির মাত্রাটা ঠিক এমনই থাকে যে আকৃতিগত ভাবে তো নয়ই পরিস্থিতির বিচারেও চাঁদ তখন ঝলসানো রুটি নেই। চাঁদরাত উপলক্ষে কিছু জায়গায় খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গোটা পাড়ায় হাঁড়ি বন্ধ। নিজেদের মধ্যেই চাঁদা তুলে বিরিয়ানি, পোলাও খাওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করি। এটা দিয়েই একসাথে ঈদের আগাম সেলিব্রেশন শুরু।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মসজিদে ঈদের নামাজের জন্য তৈরী হওয়া। ঈদের নামাজের জামাত সাধারণত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নটার মধ্যেই হয়ে থাকে। বিভিন্ন এলাকার মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময় নির্ধারণ হয়।

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা

ঈদ সমাচার

মুহাম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ

২৯ রোজার দিন ইফতারের সময় হলেই আমরা শরবতের গ্লাস হাতে নিয়ে দৌড় দিতাম বাহিরে, খোলা মাঠের দিকে, উদ্দেশ্য ঈদের চাঁদ দেখা। নিজেরা খুঁজে পেলে তো পেলামই আর না পেলে বাসায় এসে বসে থাকতাম টিভির সামনে। যদি সরকারি কোন ঘোষণা আসে, সেই আশায়। একবার তো সরকারি ঘোষণা এলো তারাবি নামাজে পর!! মানুষ মোটামুটি ৩০ রোজার জন্য মানসিক ভাবে তৈরি হয়ে গেছিল সেদিন। ২৯ রোজার পরে আর একটা রোজা রাখা যে কি কষ্টের ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। ঈদের ফুরতি মনে হয় কমে যেত রোজা ৩০টা হলে, সব মজা ২৯ রোজায়।  এখন সব কিছুই কেমন ঘোর লাগা সময়ের গল্প মনে হয়। 

...
     ... পড়ুন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা