এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই

  • তাজা বুলবুলভাজা...
    উষ্ণতর ভবিষ্যৎ - স্বাতী রায় | অলংকরণ: রমিত আমাদের ছোটবেলায় নিয়ম ছিল পুজোর ছুটির পরে স্কুল খুললে আর নো ফ্যান। মার্চের পনেরো তারিখ অবধি ফ্যানের অ্যানুয়াল লিভ। আর এখন ? গত বছর তো ডিসেম্বর মাসের শেষেও আমার পশ্চিম-মুখী ঘরে ফ্যান চলেছে। আর মার্চ মাস অবধি অপেক্ষা সম্ভবই না, জানুয়ারির শেষেই ফ্যান চলবে কি চলবে না সেই নিয়ে এখন ঘোর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়ে যায়। বিশ্ব জুড়ে উষ্ণায়নের জোয়ার এসেছে। কাজেই আমার রাজ্যই বা আর বাদ পড়ে কেন? জুন মাসের এক রাতে এই লেখাটা যখন লিখতে বসেছি, দেখছি কলকাতার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি। কিন্তু সে শুধুই থার্মোমিটারের পারদ কতটা উঠেছে তার মাপ। তাই দিয়ে কিন্তু পুরো গল্পটা বোঝা যায় না। বাতাসের তাপমাত্রার সঙ্গে স্থানীয় আর্দ্রতা, বাতাসের গতিবেগ, আকাশে কতটা মেঘ করে আছে বা সূর্যের তাপ সরাসরি শরীরে কতটা পড়ছে – সব কিছু মিলিয়ে নির্ধারিত হয় যে এই পরিবেশে শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে গেলে শরীরকে কতটা পরিশ্রম করতে হবে। একটি আদর্শ পরিবেশের তাপমাত্রা কত হলে মানবশরীরে সেই একই পরিমাণ তাপীয় চাপ অনুভূত হবে সেটাই মূল হিসেব। আর একেই বলে ফিজিওলজিক্যালি ইক্যুইভ্যালেন্ট টেম্পারেচার বা PET। এই মাপের উপর নির্ভর করে মানুষ কোথাও কেমন থাকবে। এই যেমন এই মুহূর্তে বাতাসের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি বলে আনন্দ পাওয়ার কিছুই নেই। কারণ এখন “ফিলস লাইক ৩৯ ডিগ্রি” – বেশ “ত্রাহি ত্রাহি” আবহাওয়া। নিজে গরমে খুব কষ্ট পাই বলেই জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, ভবিষ্যতের বাংলায় আমাদের সন্ততিরা কেমন থাকবে? কিছুটা আভাস মিলল সৌরভ বল ও ইংগো কির্খনারের ২০২৩ সালের পেপার থেকে। সৌরভরা কলকাতার জন্য ধরেছেন যে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫.৭ ডিগ্রি অবধি স্লাইটলি ওয়ার্ম (সামান্য গরম বলি?), ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৩.৮৩ ডিগ্রি অবধি ওয়ার্ম (গরম) আর PET ৪৩.৮৩ ডিগ্রি ছাড়ালে সেটা হট (অসহ্য গরম বলি একে?)। ওঁরা বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ বাড়া মানে PET এর তার প্রভার পড়বে দ্বিগুণ। বিভিন্ন ক্লাইমেট মডেল ধরে ওঁরা হিসেব করেছেন যে বর্তমানের উচ্চমাত্রার গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে, এই শতাব্দীর শেষভাগে ২০৮০-২০৯৯ সালে শ্রীনিকেতন, আসানসোল, বীরভূম, মালদার মানুষদের বছরে ১০–১২.৫% (অর্থাৎ ৩৬ থেকে ৪৬ দিন) কাটবে অসহ্য গরমে। কলকাতা, দমদম, খড়গপুর, শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে এই প্রখর দগ্ধকাল চলবে বছরে ২৩-৩২ দিন। তাঁরা আরও বলেছেন, যে শতাব্দীর শেষে শীতের শেষে ও বসন্তে (জানুয়ারি–এপ্রিল) গড় PET ৫–৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। এমনকি বিপজ্জনক গ্যাসের নিঃসরণ যদি সবাই মিলে চেষ্টা করে নামিয়েও আনা যায়, তাহলেও জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের PET বাড়বে ২.৪ ডিগ্রি থেকে ৪.৮ ডিগ্রি। মধুর বসন্ত রইবে শুধু কবির কাব্যে। বাস্তব শুধুই দীর্ঘ দগ্ধ দিনের। আর আমাদের শরীরকে ক্রমাগত সহনমাত্রার উপরে টিকে থাকার পরীক্ষা দিতে হবে।ভবিষ্যৎ নাহয় বাদই দিলাম, বর্তমানের চেহারা কেমন? প্রখর তপন তাপে, আকাশ তৃষায় কাঁপে – শব্দগুচ্ছ এর থেকে ভালভাবে অনুধাবন করার এর থেকে ভাল সময় আর হয় না। গোটা বঙ্গের অবস্থাই ভীতিপ্রদ, কলকাতার অবস্থা যেন আরও বিপজ্জনক। Landsat-8 স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে কলকাতার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মেপেছেন মোহিত কুমার ও স্বাধীনা কোলে। তাঁরা দেখেছেন যে কলকাতার উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিম অংশ সবচেয়ে বেশি গরম। কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চল তুলনামূলক ভাবে ঠান্ডা — কারণ সেখানে গাছপালা ও জলাশয় বেশি। তাঁরা জানিয়েছেন যে ২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতার ৭-২৯ ও ৩৭-৪৭ নং ওয়ার্ডের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। নারকেলডাঙ্গা, ট্যাংরা, তিলজলা, মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর, চিতপুর, কাশিপুরের মতন ঘন জন বসতি পূর্ণ এলাকাগুলোতে তাঁরা হটস্পট চিহ্নিত করেছেন। অয়ন চক্রবর্তী, শুভম লিমায়ে এবং আত্রেয় পাল ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের কলকাতা মেট্রোপলিটান এলাকার ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে ২০১৬ থেকে ২০২৪ এর মধ্যে এই এলাকার সর্বোচ্চ ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪০.৮১ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ৪১.৪৯ ডিগ্রি হয়েছে। মাত্র আট বছরেই এই পার্থক্য হলে, আগামীর ছবিটা ঠিক কেমন? তাঁদের হিসেবে যেখানে NDBI (Normalized Difference Built-up Index) এর মাত্রা বেশি, আর NDVI (Normalized Difference Vegetation Index) ও NDWI (Normalized Difference Water Index) এর মাপ কম, সেখানেই উষ্ণতা বেশি। তৈরি হচ্ছে আরবান হিট আইল্যান্ড। প্রসঙ্গত এটাও অবশ্য বলে রাখা ভাল যে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা আর বাতাসের তাপমাত্রা কিন্ত এক জিনিস না। সাধারণভাবে সিমেন্ট, কংক্রিট বা পীচ বাতাসের তুলনায় তাপ শোষণ করে বেশি, ফলে বেশি গরম হয়ে ওঠে। এলাকায় বায়ু চলাচল ভাল হলে, বা অনেক গাছ পালা বা জলাশয় থাকলে, বাতাস তুলনায় কম গরম হয়। তবে সেসব কিছুই না থাকলে, তখন বাতাসের তাপ মাটির তাপের খুব কাছেই পৌঁছায়। এ অবশ্য কলকাতার বাসিন্দাদের রোজের অভিজ্ঞতা। ইঁট কাঠ বালির কাঠামোর মাঝে একটু সবুজের ও জলের ছায়া থাকলে জীবন যে অনেকটাই সহনীয় হয়, সেটা তাঁরা ভাল ভাবেই জানেন। খালি কথা হল, সকল অর্থনৈতিক স্তরের বাসিন্দাদের কী এই সবুজ বিলাসিতা আছে? আমার বড় হওয়া উত্তর শহরতলীর যে পাড়াতে, সেই পাতি মধ্যবিত্ত এলাকায় আমার যাতায়াতের পথে চোখে কটা বৃক্ষ পড়ত, সে বোধহয় এক হাতের আঙুলেই গোনা যায়। অবশ্য এই তাপমাত্রা বাড়ার সমস্যা আমরা যারা এসি বাড়িতে বাস করি, এসি গাড়িতে যাতায়াত করি, এসি অফিসে কাজ করি, তাদের ততটা নয়। অন্তত যতক্ষণ বিদ্যুতের বিলের যোগান দিতে পারা যাবে। যে কোন জলবায়ু বিপর্যয়ের মতোই এই চাপ প্রবল ভাবে গিয়ে পড়বে শহরাঞ্চলে মূলতঃ দুই শ্রেণীর মানুষের ঘাড়ে – এক, যারা শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব সময়েই গণপরিষেবা দিতে নিয়োজিত, যেমন পুলিশ বাহিনী আর দুই নিম্নবিত্ত যারা পেটের টানে খোলা আকাশের নীচে কাজ করেন। অবশ্য মোকাবিলা করবেন আরেক দল মানুষ, নিম্নবিত্ত মেয়েরা, যারা বস্তিতে সামান্য জায়গায় জলের অভাব, স্যানিটেশনের অভাব নিয়ে সংসার করেন। ছোট্ট ঘরে, আগুন-তাতে তাদের রোজের কাজ করতে হয়, আবার স্রেফ মেয়ে হওয়ার দরুণ যাঁদের মধ্যে কারোর কারোর ঘরের বাইরে গিয়ে শরীর জুড়ানোর অধিকার থাকে না। বয়স্ক ও শিশুদের যেহেতু শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে, তাই তাদের উপর প্রভাব পড়বে আরও বেশি। এছাড়া শহরাঞ্চলের বাইরেও যে দাবদাহ চলছে, আগামী দিনেও চলবে, ওই যে শ্রীনিকেতন, আসানসোল, বীরভূম, মালদার কথা সৌরভেরা তাদের পেপারে বলেছেন, তার প্রভাব পড়বে কৃষিজীবি থেকে শুরু করে সকলের উপরেই। এঁদের সকলকেই শারীরিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে - প্রচণ্ড গরমে পেশিতে টান ধরা থেকে হিট স্ট্রোক অবধি সব কিছুর মোকাবিলা করতে হবে। প্রচণ্ড তাপীয় চাপে কিডনির উপর চাপ পড়বে, হৃদপিন্ডের কার্যক্ষমতা কমবে, ঘুমের মান কমবে। সব মিলিয়ে জীবন যাপন বিঘ্নিত হবে। গোদের উপর বিষফোঁড়া যে নিম্নবিত্তের বা নিম্ন-মধ্যবিত্তের চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা থাকবে কতদিন? দেশের অর্থনীতিতেও কি কোন প্রভাব পড়বে না? Kjellstrom ২০০৯ সালে দেখিয়েছিলেন দিল্লির মে মাসের আবহাওয়ার দুপুরের তীব্র রোদে একজন ভারী কাজ করা শ্রমিকের কর্মক্ষমতা (Work Capacity) কমে মাত্র ২০%-এ দাঁড়ায়। অবশ্যই রাতের বেলা কাজ করা একটা সমাধান, কিন্তু হায় সব কাজকেই যদি রাতের কাজে বদলে দেওয়া যেত!সব কিছু মিলিয়ে ভবিষ্যৎটা কতটা মধুর হতে যাচ্ছে, সেটাই আসল প্রশ্ন। তবে এই জিনিসটা মোটামুটি নিশ্চিত যে প্রজন্মের জন্ম হবে ২০৬০ সালের পরের পশ্চিমবঙ্গে, তারা হয়ত মিউজিয়ামে গিয়ে খালি লেপ কম্বল দেখবে, আর দাদু-দিদার কাছে গল্প শুনবে যে তারা তাদের ছোটবেলায় ওই সব গায়ে দিয়ে ঘুমাতো। তারা অবাক হয়ে যাবে! পুনশ্চ – এই অবধি লিখেই ক্ষান্ত দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু তারপর মনে হল, শুধুই একটা অন্ধকার ছবি দিয়ে শেষ করব? নাহ যে দেশে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারক মন্তব্য করেন যে “Show us even a single project in this country where these alleged environmental activists have said that we welcome this project. Country is progressing well, we welcome this project. Everything you drag to the court,” সে দেশে উন্নয়নের নামে জঙ্গল ধ্বংস, জলাভূমি বোজানো ইত্যাদির বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ নেই। আর বিশ্বজুড়ে ক্ষতিকর গ্যাসের সার্বিক নিঃসরণ কমানো পুরোটা আমাদের হাতেও না। তাই সমস্যার সমাধান আমাদের আয়ত্বের বাইরে। সত্যি কথা বলতে কি, ব্যক্তিমানুষ হিসেবেও করার তালিকা খুবই সীমিত। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া জিনিস কেনা বন্ধ করাটা একটা দীর্ঘমেয়াদী যাপন বদলের উপায়। যদিও সে নিয়ে একটা বহুব্যাপী আন্দোলন হয়ে ওঠার পথটাও সহজ না। আমাদের চারপাশের ভোগবাদী সমাজ সেটা সহজে মেনে নেবে কেন? তাছাড়া যেগুলো হাতে থাকে, সেগুলো সংকট নিরসনের না, সংকটে শুশ্রূষার ব্যবস্থা। নিজের বাড়িটিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে তৈরি করা, বাড়িতে-পাড়ায় গাছ লাগানো, বাড়ির ছাদে প্রতিফলক রং (যা রোদ বা তাপ শোষণ না করে ফিরিয়ে দেয়) লাগানো, জলাশয় রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়া – এই সব ছোট ছোট কাজ করা যায়। তবে ব্যক্তির দৌড় আর কতটা! আজকের দিনে শহরের চৌহদ্দিতে বাড়ি করার জমিই দুর্লভ, তার উপর বিকল্প পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব বাড়ি বানাতে চাইলেও সেটা আম-জনতা পেরে উঠবে না। তার জন্য উপযুক্ত জ্ঞান ভান্ডার, তৈরির মালমসলা, রক্ষণাবেক্ষণের স্কিল সকলের আয়ত্বে নয়। ছোট ছোট বদ্ধকূপের মত দশ ফুট বাই দশ ফুটের দুটি ঘর আর এক চিলতে বারান্দা এই তো এমনকি মধ্যবিত্তেরও বরাদ্দ। সে বারান্দায় লাগানো দেড় খানা পাতাবাহার আর এক খানা বেলি ফুলের গাছ দিয়ে তো আর প্রখর তপনতাপের মোকাবিলা করা যায় না। আর মধ্যবিত্তের এই হাল হলে, নিম্নবিত্তের পক্ষে কি আর তা আদৌ সম্ভব? আর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিপ্রতীপতার দরুণ পাড়ায় বৃক্ষরোপন বা জলাশয় রক্ষা সত্যিই কতটা বাস্তবে সম্ভব, সে নিয়েও সন্দেহ থাকে। সত্যিকারের শুশ্রূষা দিতে পারে একমাত্র সরকারই। কলকাতায় কিছু কিছু এলাকায় বনসৃজনের কাজ হচ্ছে বটে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি অল্প। আর হটস্পট এলাকাগুলোর তাতে কি আদৌ কোন উপকার হচ্ছে? দরকার তো সমস্যা সমাধানের জন্য মানবিক ও দরদী নগর পরিকল্পনা। এলাকায় এলাকায় বনসৃজন, পুকুর খোঁড়া। তবে জীবিকার চাপে যে দেশে ফুটপাথ অবধি ঢাকা পরে যায়, আর সরকার কাজের মধ্যে কাজ করে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, সে দেশে এইসব ভাবনার কোন মানে আছে কি? জায়গায় জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলছে, এখন আশু প্রয়োজন হিট একশন প্ল্যানের। আহমেদাবাদ কিন্তু ২০১৩ সালে হিট একশন প্ল্যান চালু করেছে। লোকের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে লোকদের সতর্ক করা, যারা বাইরে কাজ করেন বা বস্তিবাসী বা অন্যান্য অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য সাময়িক ছায়াশীতল জায়গার বন্দোবস্ত করা – এসব এই দেশেই করা গেছে। আমরা পারি না? রেফারেন্সঃBal, S.; Kirchner, I. Future Changes in Thermal Bioclimate Conditions over West Bengal, India, Based on a Climate Model. Atmosphere 2023, 14, 505. https://doi.org/10.3390/atmos14030505Kumar, M. and Koley, S.: Identifying temperature ‘hotspots’ for increasing urban resilience to heat stress in Kolkata, West Bengal, India, ISPRS Ann. Photogramm. Remote Sens. Spatial Inf. Sci., X-5/W2-2025, 333–339, https://doi.org/10.5194/isprs-annals-X-5-W2-2025-333-2025, 2025.Chakraborty, Ayan, Shubham Limaye, and Atreya Paul. 2025. “Spatio-Temporal Dynamics of LULC in the Kolkata Metropolitan Area (2016–2024): Insights from Landsat and MODIS Geospatial Data”. International Journal of Environment and Climate Change 15 (6):475-93. https://doi.org/10.9734/ijecc/2025/v15i64904.Kjellstrom T, Holmer I, Lemke B. Workplace heat stress, health and productivity - an increasing challenge for low and middle-income countries during climate change. Glob Health Action. 2009 Nov 11;2. doi: 10.3402/gha.v2i0.2047. PMID: 20052422; PMCID: PMC2799237.https://indianexpress.com/article/legal-news/single-project-welcomed-environmental-activists-supreme-court-10684921/https://www.nrdc.org/sites/default/files/ahmedabad-heat-action-plan-2018.pdf
    বিষণ্ণ আলপনা - মোনালিসা চন্দ্র | মূল ছবি: লেখিকা আট বছর আগের কথা। জীবনে প্রথমবার উত্তর আমেরিকায় পা দিতে চলেছি। ভিতরে উত্তেজনার গুরুগুরু রব। মহাদেশটি আমেরিকা হলেও গন্তব্য আমাদের কানাডা।দিল্লি থেকে চড়ে বসেছি বিমানে। সে পক্ষীরাজ ননস্টপ ষোল ঘন্টা উড়ান শেষে আমাদের নিয়ে গিয়ে ফেলবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে। সেখান থেকে দ্বিতীয় এক পক্ষীরাজ পৌঁছে দেবে আমাদের ফাইন্যাল গন্তব্যে। ভোর ছটায় দুগ্‌গা দুগ্‌গা করে দিল্লি থেকে শুরু হলো উড়ান। প্লেনে উঠে জানলার ধারে বসতে না পেলে আকাশে ওড়াই মাটি হয় আমার। ফলে টিকিট কাটার সময় আলাদা পয়সা গুণে জানলার ধারের সিট বাগিয়েছি। সেখানে গুছিয়ে বসে চোখ সেঁটে দিই জানলায়। প্লেন ছাড়লে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিল্লি দূর অস্ত হয়ে গেল। প্লেন ঢুকে গেল মেঘের রাজ্যে। এইখানে পৌঁছে গেলে বেশিরভাগ মানুষ জানলা থেকে মুখ ফিরিয়ে সামনে রাখা টিভি স্ক্রিনে মন দেয়। আমার উলটোটা হয়। জানলায় মনযোগ তখন আরও বাড়ে আমার। জানলার বাইরের সাদা মেঘের রাজ্যটাকে দেখে মনে হয় রূপকথার দুধসাগর। আর নিজেকে লিটল মারমেইড। হ্যাঁ, পঞ্চাশ পেরিয়েও এই ফ্যান্টাসিটুকু ধরে রাখতে পেরেছি বলে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়াই। পক্ষীরাজ স্বদেশের সীমা পার হলেন উত্তর-পশ্চিম দিকে মুখ করে। তারপর পাকিস্তানকে বাঁদিকে রেখে, আফগানিস্তানের সীমানা ছুঁয়ে, তাজিকস্তান আর কিরিঘিজস্তান নামের ছোট ছোট দুটো দেশকে টপকে পড়লেন তিনি কাজাখস্তানের আকাশে। বলছি বটে, এটা পার হলেন, ওটা টপকালেন, তবে সেসব চোখে দেখে বুঝিনি। টিভির মনিটরে যাত্রাপথের ম্যাপ খুলে রেখেছি বলে জানতে পারছি। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে দুধসমুদ্র একসময় হাপিস হয়ে যায়। চারদিকে তখন শুধুই নির্মেঘ আকাশ আর মহাশূণ্যের গাঢ় নীলিমা। নিচে তাকালে পঁয়ত্রিশ চল্লিশ হাজার ফুট নিচে পৃথিবীর বহুবর্ণ পৃষ্ঠপট। আমাদের যাত্রার দিনে দেখার ভাগ্য বড় ভালো ছিল। নিচে তাকিয়ে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলাম ‘পৃথিবীর ছাদ’ পামিরকে। আকাশ থেকে পামির গ্রন্থিকে এমন স্পষ্ট দেখতে পাওয়া এক লাইফটাইম অভিজ্ঞতা। তবে সে দৃশ্যের বর্ণনা করে এখন ফোকাস-চ্যুত হতে চাই না। আজ অন্য এক জিনিসের কথা বলতে এসেছি। কাজাখস্তান বড় দেশ, আয়তনে ভারতেরই মতো। তাকেও দু-আড়াই ঘন্টায় পার হয়ে পক্ষীরাজ এবার চললেন সাইবেরিয়ার ওপর দিয়ে। কখনো না গিয়েও সাইবেরিয়া বড় চেনা জায়গা আমার। আমাদের ছেলেবেলায় সোভিয়েত দেশের (আজকের রাশিয়া) নানান বই আর পত্রিকার অনুবাদ কী করে যেন অঢেল হাতে আসত আমাদের। দামে সস্তা, অথচ ছবিতে-লেখাতে অসাধারণ সেই সব বইয়ের কল্যাণে সাইবেরিয়া বড্ড পরিচিত হয়ে গেছিল আমার। সেই সাইবেরিয়ার ওপর দিয়ে উড়ে চলেছি ভেবে ওই বয়সেও গায়ে কাঁটা দিয়েছিল।একসময় সাইবেরিয়াকেও পার হয়ে পক্ষীরাজ, পা দিলেন আর্কটিক সার্কল বা উত্তর মেরুবৃত্তে। নিচে তখন আর্কটিক ওশান বা সুমেরু সাগর। যাত্রা শুরুর পর আট-দশ ঘন্টা কেটে গেছে তখন। এই সময়েই দেখা পেয়েছিলাম সেই আল্পনার, যার কথা আজ বলতে বসেছি। সুমেরু সাগর যখন পার হচ্ছি তখন চারিদিকে ‘চোখ যায় যদ্দূর, সোনা সোনা রোদ্দুর...’। নাহ, একটু ভুল হল, আসলে রুপো রুপো রোদ্দুর। ঝকঝকে নীলাকাশ থেকে ঠিকরে আসা রজতবর্ণ আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে চরাচর। বিমানের ডবল কাচের জানলা চুইয়ে সে আলোর বন্যা ঢুকে যাচ্ছে বিমানের অন্তঃস্থলেও, যেখানে তখন সুষুপ্তির রাজ্য। সেই রাজ্যে আলো এক উপদ্রব। লম্বা ফ্লাইটের যাত্রীরা সাধারণত বিমানযাত্রার সময়টুকুর সদব্যবহার করে নেন নিদ্রা দিয়ে। যাদের নিতান্ত ঘুম আসে না তারা চোখের ওপর ‘আই মাস্ক’টি বেঁধে কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পর ‘ধুত্তোরি’ বলে উঠে পড়ে নিজস্ব টিভি মনিটরটি খুলে বসে। সেখানে বেড়ে রাখা থাকে পঞ্চাশ ব্যঞ্জনের সম্ভার। তার কোনও একটাকে ধরে ‘খেতে’ থাকলেই কেটে যায় সময়। বাইরের তীব্র আলোর বন্যা যাত্রীদের সুষুপ্তির ব্যাঘাত ঘটায় বলে জানলার শাটার ফেলে রাখে সকলে। কিছু কিছু ‘হাইফান্ডা’র প্লেনে শাটারের বদলে জানলার নীচে থাকে একটা বোতাম, যেটাকে টিপে কাচটাকে প্রয়োজন মত হালকা থেকে গাঢ় নীল করে নেওয়া যায়। এতে করে বাইরেটা খানিকটা দেখাও যায় আবার বিমানে বেশি আলো ঢুকে পড়াটাও আটকানো যায়।কিন্তু আমার মত একজন ‘অকেশনাল ফ্লায়ার’, দুচোখে যার সর্বগ্রাসী খিদে, তার অমন ‘কম্প্রোমাইজড দেখা’য় চলবে কেন? যেটার যে রঙ তাকে সেই রঙেই তো দেখতে হবে আমাকে। অতএব জানলার কাচ নীল করি না আমি। বিমানবালারা বার তিনেক এসে ‘অনুরোধ’ করে নীল করে দিয়ে যায় জানলা। কিন্তু নীল কাচের মধ্যে দিয়ে বাইরেটা দেখে সুখ হচ্ছে না বলে প্রতিবারই আমি কাচের রঙ ফের সাদা করে দিই। মনে মনে ঘুমন্ত লোকগুলোকে বলি, আর কত ঘুমুবি বাপু? ওঠ না এবার। মাটিতে থাকলে এখন তো কাজের জায়গায় নাকে দড়ি দিয়ে দৌড়তিস। বারকয়েক বিমানবালাদের সঙ্গে জানলা নীল সাদা করার লুকোচুরি খেলার পর দেখি আমার জানলা আর সাদা হচ্ছে না। বুঝলাম মুখের কথায় কাজ হচ্ছে না দেখে এবার তাঁরা অন্যভাবে টাইট দিলেন আমায়। এ জিনিস কন্ট্রোল করার একটা মাস্টার সুইচ নিশ্চয় আছে তাদের কাছে, সেখানেই কলকাঠিটি নেড়েছেন তাঁরা। অতএব উপায়ান্তর না দেখে নীল জানলা নিয়েই অগত্যা খুশি থাকতে হয় আমার দুখী মনুয়াকে। বিমানবালাদের দোষ দিই না আমি। সবাই চায় নিজের কাজ কমাতে। লোকে পড়ে পড়ে ঘুমুলে ‘চা খাব, জল খাব’ বলে জ্বালায় কম। অতএব আমার মত একটি দুষ্টু মধ্যবয়সিনীকে ঢিট করার জন্য ওটুকু ভদ্র চেষ্টা তারা করবেই। নীলকাচ সাদাকাচ নিয়ে এত ব্যাখ্যান কেন দিতে গেলাম, এবার সেই কথায় আসি। বিমানবালাদের প্যাঁচে পড়ে নীল কাচের মধ্যে দিয়েই বাইরেটা দেখতে দেখতে হঠাৎ দেখি নিচে পৃথিবীর বুকে বিরাট এক আলপনা! নিচে তো সমুদ্র, সেখানে আলপনা দেবে কে! চশমার কাচ মুছে টুছে আবার দেখি। নাঃ, আলপনাই তো বটে! কাকে শুধোই? সঙ্গীটিকেই ঠেলে তুলি। তারপর দুজনে মিলে অনেকক্ষণ ধরে দেখি, তারপর বুঝি ওগুলো আলপনা নয়, ওগুলো বরফ। সমুদ্রে ভাসমান বরফ। গাঢ় নীল সাগরজলে ভাসছে সাদা সাদা বরফের ডেলা। হয়ত স্রোতের কারণে কিংবা বাতাসের প্রভাবে অথবা ওদের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া জাহাজের কারণে সমুদ্রে তৈরি হয়েছে ওইসব ‘আলপনা’। ওই আলপনার শোভা দেখতে গিয়ে, আর জিনিসটা কী বুঝতে গিয়ে এমন একাগ্র ছিলাম যে ছবি তোলার কথাটাই মাথায় খেলল না। অবশেষে যখন খেলল, তখন নীল কাচের জানলার ওপর হুমড়ি খেয়ে যতটুকু পারলাম ছবি তুললাম ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে বহু ভাল ভাল আলপনা পেছনে ফেলে চলে এসেছি। এইবার ওই ভাসমান বরফ, যাকে অভিহিত করা হয় ‘সী আইস’ নামে, তার বিষয়ে কয়েকটি কথা। অবস্থানগত বিশিষ্টতার জন্য সুমেরু সাগর বছরের অনেকটা সময় বরফের ‘সরে’ ঢাকা থাকে। বরফের সেই সরই হল - সী আইস। এ সরের বেধ সাধারণত দু থেকে চার মিটার হয়ে থাকে। সুমেরুতে যখন ‘সামার’, অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর, তখন সী আইস একটু একটু করে গলে গিয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সেই ভাঙা টুকরোগুলো ভেলার মত ভাসতে থাকে সমুদ্রে। ভাসমান এই সী আইস কিন্তু আইসবার্গ নয়। আইসবার্গ বা হিমশৈল সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। মেরুপ্রদেশে জমে থাকা বরফের পাহাড় থেকে একটা চাঙড় কোনও কারণে ভেঙে সাগরের জলে ভাসতে থাকলে সেটা আইসবার্গ। আইসবার্গের খুব কম অংশ সমুদ্রের ওপর জেগে থাকে, বেশিরভাগটাই ডুবে থাকে সমুদ্রের নিচে। এই কারণেই বহু প্রচলিত প্রবাদবাক্যটির জন্ম, ‘এ আর কী দেখছ? এ তো জাস্ট ‘টিপ অব দা আইসবার্গ’’। অর্থাৎ বিপদের খুব অল্পই দেখতে পাচ্ছ, আসল বিপদ আরও অনেক বেশি ইত্যাদি। টাইটানিক ফিল্মের দৌলতে আইসবার্গ আজ আমাদের খুব চেনা নাম, কিন্তু সী আইস ততটা নয়। সী আইস সুমেরু সাগর বাস্তুতন্ত্রের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই বরফ আস্তরণ আসলে একটা আয়নার মত। সে আয়না খুব বড় একটা কাজ করে। সূর্যের তাপকে সে প্রতিফলিত করে ফেরত পাঠিয়ে দেয় মহাশূণ্যে। ফলে সুমেরুসাগরের জল ততটা তেতে উঠতে পারে না, যতটা সে তেতে উঠত এই তাপ সেজাসুজি সাগরের জলে পড়লে। তাছাড়া গরমকালে এগুলো যখন ভেঙে ভেঙে ভাসতে থাকে কিংবা গলে সমুদ্রে মিশতে থাকে তখন সমুদ্র স্রোতের নিয়ন্ত্রণেও এর ব্যাপক হাত থাকে। ভূমিকা থাকে মেরু ভল্লুক, সীল মাছ, ওয়ালরাসদের মতো প্রাণীদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারেও। এই ভাসমান বরফের তলায় একধরণের শ্যাওলা জন্মায়, যা এই বাস্তুতন্ত্রের আর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই সী আইসে এখন ঘুণ ধরেছে। তার কারণ, বহুশ্রুত আর ‘ক্লিশে’ হয়ে যাওয়া এক শব্দবন্ধ - ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’। এই শব্দবন্ধ কারও কাছে আজ আর অচেনা নয়, বরং অতি ব্যবহারে জীর্ণ। যত ধারালোই হোক, হাজার ব্যবহারে যে কোনও জিনিসের ধার কমে। এই শব্দেরও হয়েছে সেই দশা। শুনে শুনে কানে এমন ঘ্যাঁটা পড়ে গেছে যে বুকে আর ধাক্কা মারে না। কিন্তু বুকে ধাক্কা মারুক বা না মারুক, বিপর্যয় যা ঘটার তা ঘটেই চলেছে নীরবে নিভৃতে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে সুমেরু মহাসাগরের সী আইসের পরিমান শুধু যে কমে চলেছে তা নয়, তৈরিও তা কম হচ্ছে। শীতকালে যেটুকু তৈরি হচ্ছে গরমে তা সম্পূর্ণ গলে যাচ্ছে। ফলে ‘মাল্টিলেয়ার’ বরফ সর তৈরি হওয়ার অবকাশ পাচ্ছে না। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে যখন থেকে সুমেরু সাগর ও মেরু অঞ্চলগুলোর বরফের ওপর নজর রাখা শুরু হয়েছে, (গত শতাব্দীর সাতের দশক থেকে) তার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০১৬-২০২৬ এর দশকটিতে সী আইস তৈরি হয়েছে সবথেকে কম। সী আইসের ঢাল সরে যাওয়ায় ক্রমাগত উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে উঠছে মেরু সাগরগুলো। ফলে মেরুপ্রকৃতির হাল আজ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বরফ ক্ষয়জনিত এই বিপর্যয় শুধুমাত্র মেরু অঞ্চলে আটকে থাকবে, একথা ভাবলে খুব ভুল করা হবে। এর ফল ভোগ করবে সমস্ত বিশ্ব। তাই এ বড় সুখের সময় নয়। ভয়ঙ্কর এ ভবিতব্য আটকানোও সহজ কাজ নয়। যাঁরা চেষ্টা করলে এ বিপর্যয় তবু খানিকটা কমাতে পারতেন, অর্থাৎ যাঁদের হাতে এই মুহূর্তে পৃথিবীর রাশ, তাঁরা কেউ এখনও নড়েচড়ে বসছেন না। কেন বসছেন না সে উত্তর খুঁজতে বসলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোবার সম্ভাবনা। অতএব ও প্রসঙ্গ থাক। রাজনীতিকদের মাথা ঘামানোর বিষয়ের তালিকায় ‘পরিবেশ’ সবসময়েই যে একেবারে শেষের সারিতে থাকে এটা বুঝতে বুদ্ধিমান হতে হয় না। গ্রেটা থুনবার্গেরাই কেবল গলা ফাটিয়ে মরে।জানি না আজ আবার যদি পক্ষীরাজের পিঠে চেপে জুন মাসে সুমেরুসাগর পেরোতে যাই, সমুদ্রের বুকের সেই চোখজুড়োনো আলপনা আবার চোখে পড়বে কিনা, কিংবা পড়লে কতটা পড়বে। সঙ্গে রইল নীল কাচের বাধা ডিঙিয়ে বিমান থেকে তোলা বিষণ্ণ সুন্দর সেই ছবিগুলোর কয়েকটি...
    হারিয়ে যাওয়া টিলার গল্প - অদিতি দাশগুপ্ত | ছবি: রমিত আমি এখন যতটা বেঁটে, ছোটবেলায় তো তার চেয়েও বেঁটে ছিলাম, তাই নদীর সাদাটে হলুদ বালি পেরিয়ে যে লাল কাকরের টিলাগুলো ঢেউ এর মত ওঠানামা করতে করতে নীল আকাশের দিকে রওনা হত, সেগুলির উপর উঠতে পারতামনা। চড়ুইভাতির দাদারা কেউ না কেউ পিঠে নিত। ওগুলি মাথায় দাঁড়ালে দূরে নীল আকাশের গায়ে সাদা হলুদ ছোট ছোট বাড়ী, ইলেকট্রিকের পোস্ট,টানা চলে যাওয়া তার, তারের উপর বিন্দু বিন্দু কালো পাখি দেখা যেতো। খুব ঘন করে আসা মেঘের দিনে তো চড়ুই ভাতি হতোনা, তখন যদি বেড়াতে যাওয়া হত তারের উপরে গাছের উপরে সাদা সাদা বিন্দু দেখা যেত। হঠাৎ তারা একসাথে ঝপ করে ঘন নীল মেঘের গায়ে ভেসে উঠত। আকাশে উড়িছে বক পাতি। শ্যামলী দি ইস্কুলে ‘নীল অঞ্জন ঘন পুঞ্জ ছায়ায়’ শিখিয়েছিলেন। টিলার উপর দাঁড়িয়ে দু-হাত ছড়িয়ে নাচ করতে ইচ্ছে হত। এখন আর সেই টিলাগুলো তেমন উঁচু দেখায় না। আমি মাথায় একটু, আর চওড়ায় বেশ অনেকটা ছড়িয়েছি বলে নয়, সেগুলি কাটা পড়েছে বলে। রাস্তা আর বাড়ী-ঘর তৈরিতে ওরা ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে গেছে। ওদিকে রিং রোড হয়েছে। শান্তিনিকেতনের মত এখানেও এখন হাট বসছে। কিছু মাটির গয়না,গামছার সাথে চীনদেশের প্লাস্টিকের সস্তা পুতুল,গাড়ি, মাথার ক্লিপ ও পাওয়া যায়। জিলিপির পাশেই মস্ত বড় চিপসের প্যাকেটে র মালা ঝোলে। মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে চড়ে অনবরত মানুষ ছুটে আসে ফি শনিবার। পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর তাই তেমন পাওয়া যায়না। লাল ধুলোয় থার্মোকলের গুঁড়ি, ছেঁড়া প্লাস্টিকের টুকরো মিশে থাকে। ওদিকে নদীর ধারটি আলিশান সাদা পাথরে বাঁধিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গঙ্গা আরতি শুরু হবে কদিন পরেই--- যদিও নদীটি গঙ্গা নয়। তার মাসতুতো বোনও নয়। শহরের মোড়ে, রাস্তায় আলোচনা চলে এ নিয়ে। এই উন্নতি নিয়ে। তাহলে জাতে উঠল এ শহর --- উন্নয়নের পথে। নদীর ধারে ঝুপড়ি ঘরের মানুষগুলি আর মাছ ধরেনা তেমন, গান টান ও তেমন ভেসে আসেনা ওদিক থেকে সন্ধ্যার পর। পাকা বাড়ি উঠেছে নদীর বাঁধানো পাড়ের একটা দিক জুড়ে গায়ে গায়েই। ওদিকের ছেলেমেয়েরা এখন ডেলিভারি বয় এর কাজ করে অনেকেই। রাত দিনের ফারাক ঘুচেছে। রিল বানায় পাশাপাশি। টাকা আসে ভালো। নদী শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকে ধুধু করা কালচে লাল পাথুরে জমি আর দেখায় যায়না। দেখা যায় না তাকে ভেদ করে যাওয়া কু- ঝিকঝিক রেলগাড়ির আলো। ফ্ল্যাটবাড়ি উঠেছে অনেক, রিসর্ট হয়েছে একটা – রিভার ভিউ। সুইমিংপুল আছে। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে তির তির করে যে জলের ধারাগুলিতে আমরা মেঘলা দুপুরে বসে বসে আঙুল ছোঁয়াতাম, সেই ভূমিজল হারিয়ে গেছে কবেই। নদীতে নামতে ভয় হয়। বালি চোরেরা না জানি কোথায় মরণ কুয়ো খুঁড়ে রেখেছে! এইতো সেদিন, ষোলো বছরের নওল কিশোর মামাবাড়ি এসে নদীতে নামলে, তারপর গিয়ে পড়লে সেই মরণকূপে! হায়!আমরা আর আমাদের অনেক পরে জন্ম নেওয়া ওই ‘ওরা’ একই শহরের ঠিকানা লিখি। ঠিকানায় রাস্তা, বাড়ী, শহর, জেলা, পিন কোড লিখতে হয়। কিন্তু, তাতেও কি পুরো ঠিকানা বোঝা যায়? সময়? সে যদি বাদ পড়ে তাহলে কি সত্যি সত্যি পুরো ঠিকানা হলো? যে রাস্তায় আমরা ইস্কুলের,পাড়ার বন্ধুরা খেলা করেছি সেই রাস্তার নামটি লিখে দিলেই সে কি একই থাকে বছরের পর বছর? না। থাকেনা। এই না থাকার কতকটা ভালো দিক আছে। কাঁচা নর্দমা, কাঁচা রাস্তা, রাতে অন্ধকার মোটেও ভালনা। চওড়া সুন্দর রাস্তাগুলি, উন্নত পয়ঃপ্রণালী দেখেই তো আমরা সিন্ধু দেশের সেই কবেকার জীবনকে উন্নত সভ্যতা বলে এখনো মানছি। কিন্তু পাড়ার মাঠটি যদি হারিয়ে যায়? যদি মস্ত বড় সেই বটেশ্বর লুটিয়ে পড়ে কোনো আসমান ছোঁয়া হোটেলকে জায়গা করে দিতে? যদি পাশের বাড়ির আম কাঁঠাল ছাওয়া বাড়িটি ভেঙে এমন এক ফ্ল্যাটবাড়ী ওঠে যে আমার জানলার উপর হামলে পড়ে এসে এক বিন্দু সবুজকেও জায়গা না দিয়ে? যদি বাড়ির দাম ঠিক হয় কেবল বর্গফুটের হিসেবে? তাহলে কোনো পাড়ার, তার রাস্তাঘাটের প্রকৃতি, পরিবেশ কি একই থাকে? হারিয়ে যাওয়া মাঠ, বটেশ্বরের সাথে সাথে যদি ছোটদের বিকেলের খেলা, নিজেদের ঝগড়া ঝাঁটি ভাব ভালোবাসার জগতটাও হারিয়ে যায় শ্রেষ্ঠ হবার অসম্ভব নেশায়? থাকে কি তখনও তাদের একই ঠিকানা? ঠিকানা আর মন দুটোরই প্রকৃতির পরিবর্তন হয়না কি? সে রাস্তায় তো আর শিশু রইলোনা – বোকা, চালাক, হিংসুটে, হাসকুটে, শান্ত, মারকুটে – যারা হাসে, কাঁদে, চেঁচায়, মন মরা হয়, ঝগড়া করে নিজেদের মর্জিমত? কই তারা? সেই তারা, যারা ইস্কুলে ক্লাসঘরের জানালা দিয়ে হাঁ করে বাইরে তাকিয়ে থাকত কোনও এক আশ্চর্য পাখি দেখে, যারা পথের পাশের পুকুরটিতে সোনা ব্যাংদের খেলা দেখতো অবাক হয়ে, মাঠে চরে বেড়ানো নাদুস নুদুস কালো ছাগলের কুচি কুচি ছানা জন্মানোর দৃশ্য দেখে বিস্ময়, ভয় আর আনন্দের এক জগাখিচুড়ি অনুভূতিতে কেঁপে কেঁপে উঠত? চনমনে গাছপালা, তড়বড়ে জীবজন্তু, কিলবিলে পোকা মাকড়ের সাথে চলতে ফিরতে গল্প করতে করতে জীবনের খেলাকে গ্রহণ করত সহজ ঔদাসীন্য আর ভালোবাসায়? একটি ঠিকানা কি কেবল একটা রাস্তা, একটা বাড়ি, একটা শহর একটা দেশ মাত্র? তার প্রকৃতির রং নয়? শিশুর রং নয়? বাড়ির রং নয়? হয়তো নয়। কিম্বা আবার হয়তো। কিছু কিছু ঠিকানা, শিশুর রং, বাড়ির রং পাড়ার রং এর কথা বলে তো! তবে সে রং স্বাভাবিক, সাবলীল জীবন যাপন থেকেই যে সবসময় উঠে আসবে- এমন ভাবলে ঠকতে হবে! সে রঙ বিষাদের। কত কত দেশ, শহর, রাস্তার ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে তুমি গিয়ে দাঁড়াবে ধ্বংস স্তূপের সামনে। সেখানে শিশুরা রাস্তায় বাগানে ছুটে বেড়ায় না, রক্তাক্ত ব্যান্ডেজে ঘা ঢেকে চোখে জল, হাতে বাটি আর এক পেট খিদে নিয়ে এসে দাঁড়ায় ত্রাণের গাড়ির সামনে। যারা খুব বড় বড় হোমরা চোমরা মানুষ, যারা প্রকৃতি নিয়ে সম্মেলনে উঁচু চেয়ারটিতে গিয়ে বসে, তারা জানে ওই চেয়ারটা ধরে রাখতে গেলেও বাহুবল সবচেয়ে দরকারী --- প্রাকৃতিক সম্পদ, মানব সম্পদকে নিজের কব্জায় আনতে। আর তাই নিজের স্বাভাবিক ঠিকানাতে কোনো কোনো জায়গা আর তার মানুষ জনকে আর ধরা যায়না! ইউটিউবে তাদের ‘একদা’ হিসেবে মন খারাপ করে খুঁজতে হয়। আফগানিস্তান, সিরিয়া, প্যালেস্তাইন…কত কত ঠিকানা আর কতই না সব ভূ-রাজনীতি!হয়তো আমরা কোনোদিন খুঁজতে যাবো এভাবেই গ্রেট নিকোবরের ঠিকানা! কত কী না হবে সেখানে! আচ্ছা, কাদের জন্য হবে ? সেখানের মানুষদের জন্য? কি সুন্দর ছিল গাড়ওয়ালের সেই শহরটা- তেহরি। ভাগীরথী আর ভিলাঙ্গনা ঘিরে রেখেছিল তাকে। ইস্কুল, কলেজ, ঘড়িঘর -তার বাজার,দোকান! সব গিলে খেলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। চোখে জল নিয়ে বাড়িঘর আর জীবনকে ডুবে যেতে দেখলে মানুষ, একটু দূরের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে। তাদের পুনর্বাসন হল নিউ তেহরিতে। সে ঠিকানা আর পুরোনো তেহরির ঠিকানা কি এক হয়? হয়েছে এমন কোনোদিন? তেহরি লেকে জেগে ওঠে ঘড়িঘরের চূড়া। কাপ্তাই লেকের তল থেকে মাঝে মাঝে উঁকি মারে পুরোনো চাকমা রাজার বাড়ির মাথা খানি। তেহরি বা কাপ্তাই লেকে বোটিং করতে করতে কারুর কারুর হয়তো মন খারাপ হয়।তবে সব মানুষ নিজেদের ছেড়ে দেয়না খড়গধারী উন্নয়নের হাতে। তারা কখনো ‘চিপকে’ ধরে তাদের গাছপালাকে, প্রাণ ও দেয় কত জনা – সেই যে সতেরশো তিরিশ সালে বিষ্ণোইদের মত। তারা জানে সাধারণ মানুষের জীবন- জীবিকা, আচার- বিচার, ভাষা, জ্ঞানভান্ডার আর সর্বোপরি তাদের খুশি কেড়ে নিয়ে সত্যি কোনো উন্নয়ন হয়না। যেটা হয় সেটা অন্য কারো আরাম আর খুশির স্বার্থে বলিদান। যেমন দিল্লিতে আরও বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে ঘর ছাড়া হল তেহরির মানুষ। কর্ণফুলীর উপর বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ বানাতে ঘর ছাড়া হোল চাকমারা। এ ট্র্যাডিশন তো সেই কবে থেকেই চলছে! সেই যে গ্রাম আর অরণ্যের মধ্যে একটা বিভাজন করে দেওয়া হলো! ‘গ্রাম’ মানে উন্নত, শিষ্ট লোকের আবাদ। আর ‘অরণ্য’ মানে যাকে রণে জয় করা যায়না, ‘সভ্যতার’ হাতের বাইরে, অন্ধকার অশিষ্ট লোকের আড্ডা। তাই খান্ডব দহনে অরণ্যের পশুপাখি, সাথে সাথে বনের মানুষ গুলো পুড়ে মরলেও সেটা নিতান্তই স্বাভাবিক ঘটনা। জতুগৃহে পঞ্চ পাণ্ডব পুড়ে মরেনি শুনে আমরা খুশি, ‘অন্য’ কারা পুড়ে মরলো - তাই নিয়ে কে আর চোখের জল ফেলে? আসলে প্রকৃতির প্রতি প্রভুর মনোভাব, প্রকৃতি আঁকড়ে থাকা মানুষের প্রতি মনোভাবেও নিজেকে বুঝি বিস্তার করে। অরণ্যের অধিকার তাদের নয়, অরণ্যের সম্পদ তাদের নয়! নদী- সমুদ্র আমরা যেমন খুশি ব্যবহার করব, তাতে নদীর ধারের, সাগর পাড়ের মানুষের কী ক্ষতি হল, বা, এ নিয়ে তারা কী ভাবে – তা জানতে আমাদের ক্ষমতাধারীদের বয়েই গেছে! সাহেবরা তো রেলপথ আর নানান লাভজনক কাজে আমাদের বনগুলি উজাড় করে ফেললে। আবার বন সংরক্ষনের নামে আইনও চালু করলে- বনের মানুষের অভিজ্ঞতা বা মতামতের ধার না ধরে! উল্টে আবার কেবল বনের ফলমূল,পশুপাখির উপর নির্ভর করে থাকা শবরদের মত বনবাসী কিছু গোষ্ঠীকে ‘জন্ম অপরাধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়াও হোল। কাজ তাতে আরও ভালো এগোলো! যে গাছ যে উপায়ে লাগিয়ে বন সাজালে তারা, তার সাথে এতদিন ধরে চলে আসা প্রকৃতি- মানুষের জীবনচক্রের যোগ তেমন কই? দেশ স্বাধীন হলেও সেই মনোভাবই কাজ করতে থাকলো। বনের মানুষ উচ্ছেদ হল সংরক্ষণের নামে, এদিকে চোরা শিকারির লুণ্ঠন ও চলতে থাকলো। উন্নয়নের স্বার্থে গাছ লাগানো থেকে নদীর জল ব্যবহার -কোনোটাই তেমন স্থানীয় প্রকৃতি-মানুষ নির্ভর জীবন আর জীবিকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালোনা। সেই মানুষদের ‘পবিত্র অরণ্য’ বা ‘পবিত্র জলাভূমি’ আগের জমানার মত স্বাধীন জমানার হর্তা কর্তাদের কাছেও অশিক্ষিতের প্রাচীন সংস্কার হয়েই রয়ে গেল। ধান গমের নানান দেশীয় রকম কেমন ভাবে হারিয়ে গেলো, সাথে সাথে হারিয়ে গেলো সেই লম্বা লম্বা খড়, যা দিয়ে ছাওয়া মাটির বাড়ি শীতে গরম আর গরমে ঠান্ডা থাকে – তার গল্প ও তো মুখে মুখে ফেরে। এদিকে বাজার ভরানো সস্তা কাপড় চোপড় তৈরির নেশায় দূষিত হল জল, হারালো মাছ আর জেলেদের জীবন! ওদিকে যারা জীবনে লাঙল ছোঁয়নি সেই শবরদের ইটের খুপরিতে তুলে এনে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো চাষবাসের সরঞ্জাম! গল্প কি একটা? ধুনো, ধূপ আর রূপটানের ভেষজ উৎপাদনের কারখানাগুলিতে সরবরাহ করতে গিয়ে যথেচ্ছ ভাবে লুন্ঠন চলল অরণ্য সম্পদের। আমরা ভেবে বসলাম আমরা খুব- খুব- প্রকৃতিকে মর্যাদা দিচ্ছি হার্বাল মেখে, আর মাটির উপর হিউমাসের চাদর এলো পাতলা হয়ে। এর উপরে জন্ম নেওয়া ছত্রাক আর ব্যাং এর ছাতা --- যা বনের মানুষকে সহজ পুষ্টির জোগান দিত তারা আর ফুটবে কোথায়? ছোট, ছোট প্রাণীগুলো মরতে থাকলো চোরা শিকারীর হাতে। মুশকিল হল গরিব মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো। কখন কোন গাছ থেকে কী সংগ্রহ করলে তাদের ক্ষতি হয়না, বা খাদ্যের জন্য কোন পশু কখন মারা যায় আর কোনটা যায়না -সে নিযে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানুষদের জ্ঞান ভাণ্ডার কাজে লাগলো কই? প্রকৃতির সাথে জড়িয়ে মড়িয়ে বাঁচা মানুষ প্রকৃতিকে কাজে লাগায় ঠিক তেমনি ভাবে, যেমন করে আমাদের কাজে লাগে নিকট আত্মীয়রা। এ সম্পর্ক দমনের নয়। অধিকার স্থাপনের নয়। কে না জানে অধিকার করে সব কিছু পাওয়া যায়না? প্রকৃতি, নারী কাউকেই না। বরং ভয় থাকে সেখানে- কোনোদিন সে হয়তো প্রতিশোধ নেবে! তাই বুঝি বারে বারেই উঠে আসে আমাদের সৃজনশীল সত্তাটির প্রসঙ্গ। সে নিজের প্রয়োজন মেটাতে নতজানু হয়ে বসে প্রকৃতির সামনে, বলগায় বাঁধে সেই প্রয়োজনকেও। প্রকৃতির অনুমতি নিয়ে, তার সাথে পরামর্শ করেই সে এগোয় নিজের বিকাশে। অরণ্য, পাহাড়, নদী, সাগর, পশু, পাখি এবং ‘অপর’ মানুষ- এদের কেবল বিচ্ছিন্ন গবেষণার স্পিসিস হিসাবে দেখার পথটি যে ভুল পথ, বরং আমার ‘আমি’- টার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আর অর্থ যে অনেকটা তাদের সাপেক্ষেই উঠে আসে- সেই আদিম কৌম ভাবনাটিকেও ফিরে দেখার সময় এসেছে। পশ্চিমী বিজ্ঞান চর্চার নিস্পৃহতা-বিলাসী কাঠামো প্রান্তবাসী মানুষকে তার নিজস্ব অবস্থান ও নিজস্ব উদ্দেশ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে নিজের কাঠামোয় রেখে দেখতে চেয়েছে। সেই প্রকৃতির সাথে জড়িয়ে বাঁচা মানুষদের যে একটা নিজস্ব অবস্থান আর সেই অবস্থান থেকে নিজস্ব উদ্দেশ্য আছে, সেই জায়গা থেকে তাদের যে নিজস্ব বিশেষ জ্ঞান-প্রণালী বা দেখার, ভাবার চোখ তৈরি হয়েছে -তাকে মন থেকে সে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। প্রকৃতি ও জীবনকে এই ‘অপর’ মানুষেরা দেখে তাদের মত করে – একের সাথে অপরকে জড়িয়ে। তাদের গাছপালা, পশুপাখির শ্রেণী বিন্যাস তাই পশ্চিমী ঢঙে পরস্পর বিচ্ছিন্ন আকার বা অঙ্গসংস্থানগত নয়। কে কী ভাবে কার প্রয়োজনে লাগতে পারে – অনেকটা সেই হিসেবেই তার শ্রেণী-সাজ। নিজেদের তৈরি করা মাপকাঠি দিয়ে তাদের যুক্ত করতে গিয়ে তাই আধুনিক বিজ্ঞান মাঝ মাঝেই পিছিয়ে পড়েছে! আর তাদের সেই পুরনো পথেই তাই ‘অপর’ কে দেগে দিয়েছে ‘অবোধ্য’ বলে। ঠিক যেমন নারীর জীবন থেকে উঠে আসা তার নিজস্ব জ্ঞান-প্রণালীকে পাত্তা দেয়নি তথাকথিত মূল ধারার পিতৃতান্ত্রিক ভাবনা। আধুনিক পাশ্চাত্য বিজ্ঞান চর্চা মেয়েদের যুক্ত করতে চেয়েছে, কিন্তু খোঁজ নেয়নি তাদের বিশেষ দৃষ্টিকোণ ও তার থেকে উঠে আসা উপাত্ত ও উপলব্ধিকে! কোনটা প্রয়োজনীয়, কোনটা অপ্রয়োজনীয় আর কোনটা বিপজ্জনক তাই গুলিয়ে গিয়েছে বারে বারেই -জীবন থেকে আলাদা করে প্রকৃতি চর্চায়। উন্নয়ন ও উন্নতির প্রসঙ্গ তাই বুঝি আজ সুস্থিতিহীন এক নিরানন্দ দৌড় হয়ে উঠেছে! এই দৌড়ে নীতি নির্ধারক হয়ে উঠেছে পুঁজি! আমরা প্রতি নিয়ত হারিয়ে ফেলছি আমাদের ঠিকানা!কেমন করে বাঁচবো আমরা ঠিকানাহীন হয়ে? শুধু বন থেকে, পাহাড় থেকে, নদী আর সমুদ্রের ধার থেকে উচ্ছেদ হয়েই বুঝি মানুষ ঠিকানা হারাচ্ছে? আমরা, যারা নিজেদের মূল ধারার বলে মনে করে নিশ্চিন্ত -তারাও তো হারিয়ে ফেলছি নিজেদের। শুধু খামখেয়ালি প্রকৃতির দাপটে হারিয়ে যাওয়া নয়, শরীরে বেঁচে থেকেও তরুহীন, পাখপাখালিহীন, বন্ধুহীন, আবেগহীন আত্মউন্নতির যে অসুস্থ পরিকল্পনা –তার প্রতিস্পর্ধী কোনো পরিকল্পনা তেমন দাপটের সাথে দাঁড় করাতে পারছি কই? হয়তো এতদিন যাদের ‘অপর’ বলে ভাবতে শেখানো হয়েছিল -সেই সভ্যতার পুঁজিহীন মানুষরাই আমাদের মসীহা হয়ে উঠবে। উৎকট উন্নয়নের দাপটের আঁচ তাদের সরাসরি আঘাত করে কোণঠাসা করছে, আর তাই দেওয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া মানুষেরা বাধ্য হয়েছে সরাসরি লড়াইয়ে নামতে! লড়াই দেওয়া ছাড়া আর যে অন্য কিছু করার নেই তাদের! ওড়িশার নিয়মগিরি পাহাড়ে নিয়মরাজার অধিষ্ঠান ভাঙতে গিয়ে তাই বেদান্তের মত কর্পোরেট সংস্থাকে হার মানতে হয়। ভাইজাক হাইপার স্কেল ডেটা সেন্টার প্রকল্প, রাজস্থানের অবৈধ খনি মাফিয়া, নদীর বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এ ভাবেই হয়তো দানা বাঁধতে থাকবে আন্দোলন। অন্য স্বর সরব হবে গ্রেট নিকবরেও! আমরা পাড়ার বটগাছটি, থর্মোকল আর অন্য আবর্জনার দাপটে হারিয়ে যেতে থাকা পুকুরগুলি, খেলার মাঠ ফিরিয়ে আনতে কি চেষ্টা করবোনা? আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানাগুলি নতুন করে ফিরিয়ে দিতে পারিনা সন্তানদের? যাতে আমরাও না হারিয়ে যাই?
  • হরিদাস পালেরা...
    বড় হওয়ার বিপদ - Amit Chatterjee | বাতাস তখন অন্যরকম একটু কড়া একটু মিঠে।সুয্যি মামা দিচ্ছে হামাছড়িয়ে আগুন মেঘের পিঠে।গাছেরা রয়েছে চুপটি করেওদের মনে দুঃখ ভারি।একে একে বন্ধুরা সবদূরের দেশে দিচ্ছে পাড়ি!দিস না ছায়া মানুষকে আর,হিজল বলে, বট কে ডেকে,কত কিছুই দিচ্ছি তবুপাচ্ছি দুঃখ ওদের থেকে।আমরা সবাই মানুষকে দিইফল ফুল আর মাথায় ছায়া।গাছ কেটে তাও বসত গড়েওদের মনে নেই তো মায়া।পাতার ফাঁকে পাখ-পাখালি।গাছকে ডেকে মন্ত্রণা দেয়।দিস না ছায়া মানুষকে আরওরা শুধুই যন্ত্রণা দেয়!চেয়ে থাকে অবাক চোখেছাগ-শিশু আর গাছের চারা,জানেনা তো বাড়লে বয়েসমাথার ওপর ঝুলবে খাঁড়া! 
    আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস - আজ সংকল্প গ্রহণের দিন  - Somnath mukhopadhyay | সাতসকালে হৈ চৈ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসতেই মালুম হলো হট্টগোলের কারণটা। আমার প্রতিবেশী এক মায়ে–পোয়ে আলাপন চলছে, তবে কিনা একটু উচ্চগ্রামে। আর সে জন্যই কথাগুলো ঘরের চৌহদ্দি উপচে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে ঢেউয়ের মতো। অন্যের কথা শোনা গর্হিত জেনেও বলছি, আসুন চুপচাপ ওদের কথায় কান পাতি। – “সব কিছুই একটা নিয়ম মেনে চলে। সেই নিয়ম ভাঙার খেলায় যদি তুই এখন থেকেই মেতে উঠিস, তাহলে তো আমাদের বাড়ির কোনো শৃঙ্খলাই আর অবশিষ্ট থাকবে না। প‌ইপ‌ই করে তোকে কতবার বারণ করেছি, অথচ তুই রোজ নিয়ম করে এই শৃঙ্খলা ভেঙে চলেছিস। আমার‌ও তো সহ্য করার একটা সীমা আছে! কত কষ্ট করে একটা ছোট্ট বাগান করেছিলাম, তোর খেলার জায়গা ছোট হয়ে যাচ্ছে বলে সেখানকার গাছগুলোকে সব ছারখার করে ফেললি। বাগানের একপাশে কায়দা করে রাজমিস্ত্রিকে দিয়ে ছোট্ট সুন্দর একটা বাঁধানো পুকুর মতো করেছিলাম যাতে কয়েকটা রঙিন মাছ ছাড়বো ভেবে। সেটাকেও নষ্ট করে ফেলেছিস। রাজ্যের আবর্জনা ফেলে তার হাল এখন রীতিমতো বেহাল, অমন নোংরা পচা জলে মাছেরা বাঁচে কখনো? বাড়িতে দু দুটো নীল আর সবুজ রঙের বালতি রাখা রয়েছে ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলার জন্য। সেসবে কোনো হুঁশ নেই। সামান্য ময়লা তুলে ফেলতে গিয়ে তুই এই বালতির ময়লা ওই বালতিতে আর ওই বালতির ময়লা এই বালতির ভেতর ফেলছিস। এগুলো কি তুই ইচ্ছে করে করিস? কেন বুঝতে চাস না যে নিয়ম অনুযায়ী চললে আমরা সবাই ভালো থাকি, সুস্থ থাকি, স্বস্তিতে থাকি। যতদিন সত্যিকারের ছোট ছিলি, কাঁথায় মোড়া অবস্থায় শুয়ে থাকার বয়সে, ততদিন বেশ শান্তিতে ছিলাম সবাই। সকাল সকাল ভরপেট দুধ খাইয়ে, দুটো আলতো চাপড় দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতাম। কোনো চাপ ছিলনা। বাড়তি কাজের জন্য কত সময় থাকতো হাতে। আর এখন? তোর্ এই দস্যিপনার দাপটে সবকিছু তোলপাড়! আজ এটা ভাঙছিস্ তো কাল ওটা! তোর এই দস্যিপনার জ্বালায় বাড়িসুদ্ধ সব লোকজনের একেবারে পাগলপারা অবস্থা। আশপাশের বাড়িতেও যে তোর্ মতো দাদাগিরি করার ছেলেপুলেদের ভিড়! সবার মুখেই এক কথা – আর তিষ্টোতে পারছিনা। সব নিয়মকানুন নেড়ে ঘেঁটে একসা করে দিচ্ছে ! কেন তোরা বুঝিসনা যে এতোদিনের নিয়ম শৃঙ্খলার বাঁধন টুকু থাকার জন্য‌ই তো আমরা বেঁচে বর্তে আছি।” উচ্চগ্রামের কথোপকথন একতরফা হলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, আজ মায়ের মেজাজ একেবারে তুঙ্গে চড়ে আছে। আমরা কানাকানি করি – “সত্যিই ছেলেটা বড্ড বাড় বেড়েছে। বসুধার মতো রীতিমতো শান্ত শিষ্ট, সর্বংসহা মহিলার এমন রূপান্তর তো ভাবাই যায়না।”   ২.প্রভাতী আখ্যানের আপাতত এখানেই পরিসমাপ্তি। এবার যে যার কাজে লেগে পড়ি ঝটপট। তবে মাথার মধ্যে পাক খেতে থাকে মা বসুধা আর ছেলে মানবের কথোপকথনের খণ্ড খণ্ড পর্বগুলো। এই মুহূর্তে আমাদের পৃথিবীর সামনে সবথেকে বড়ো সমস্যা হলো বদলে যাওয়া বাতাবরণের সমস্যা। বসুধার কথা মতো মানব যতদিন কাঁথায় মোড়ানো জীবনে অভ্যস্ত ছিল, ততদিন বাড়ির শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনো সমস্যার অস্তিত্ব ছিলোনা। গোল বাঁধলো সেদিন থেকে যেদিন ছোট্ট অসহায় মানব নিজের ইচ্ছে অনুসারে সবকিছুর ওপর নিজের দখলদারি কায়েম করতে উদ্যোগী হলো। এই এগিয়ে যাবার প্রবণতাটা একদমই সহজাত। প্রতিবেশী মানবকটি যে কারণে তার মায়ের কায়েম করা শৃঙ্খলার বেড়ার ভেতরে থাকতে চায়না, মায়ের দেওয়া বিধি নিয়মের বাইরে বেরিয়ে আসাতেই বুঝি তার আনন্দ, ঠিক একই ভাবে মানুষের অগ্রযাত্রার ইতিহাস তৈরি হয়েছে ওই নিয়ম ভাঙার খেলার মধ্য দিয়েই। এটাই যদি স্বাভাবিক হয়ে থাকে তাহলে হৈচৈ করছে কেন সবাই?    ৩.এখানেই নিহিত আছে আরও এক আখ্যান। বাড়ির মানবকটিকে নিজের নিয়মের বশে রাখতে মা প্রয়োজনমতো শাসনের শস্ত্র ধরেন, তাতে করে মানব কিছুদিনের জন্য সমঝোতার পথ বেছে নেয় বটে, কিন্তু তার মন পড়ে থাকে নিয়ম ভাঙার খেলার অলিগলিতে। কিন্তু প্রকৃতি মা তো তেমনটি করেন না। আমাদের কাজের ঔচিত্য আর অনৌচিত্য নিয়ে মুখর হননা। তাহলে? তিনি নিরন্তর সংকেত পাঠান আমাদের উদ্দেশ্যে। তার তন্ত্রগুলোর বিচলন তাঁকেও বিচলিত করে।আর তাই আমাদের সতর্ক করেন নানান উপায়ে, নানান আঙ্গিকে। বাড়ির মায়ের মনোগতির হদিস যেমন পাই তাঁর মুখ ভঙ্গিমায়, ভ্রু যুগলের বিচিত্র বিভঙ্গে, চোখের গহীন চাউনিতে ঠিক তেমন‌ই প্রকৃতির মনের অবস্থার ইঙ্গিত মেলে গ্রীষ্মের অসহনীয় দাবদাহে, বর্ষার বিলম্বিত আগমনে, অতি বর্ষণের কারণে নদীর কুলপ্লাবি বন্যায়, বৃষ্টিহীনতার কারণে সংঘটিত প্রলম্বিত খরায়, বিধ্বংসী অরণ্যগ্নির উদ্দাম বহ্ন্যুৎসবে, যুগ যুগ ধরে মেরু অঞ্চলের সঞ্চিত সুবিশাল হিম স্তূপের আকস্মিক গলনে,আপন স্ফূর্তিতে বেড়ে ওঠা সমুদ্র সলিলের উন্মত্ত তরঙ্গে। আমরা এই সব সংকেতকে বুঝেও না বোঝার ভাণ করে এড়িয়ে যেতে চাই নিজেদের অবিমৃষ্যকারিতার কারণে। আর তাই দিকে দিকে ভাঙনের মাতন। প্রাকৃতিক তন্ত্রের বিনাশী বিশৃঙ্খলা।  ৪.বহু সহস্র বছর ধরেই আমাদের ধরিত্রী মা প্রত্যক্ষ করছে বাতাবরণের পরিবর্তন। একটা জ্বলন্ত অগ্নি পিণ্ড ধীরে ধীরে শীতল হলো। বাইরের আবরণীটি কঠিন হলেও তার ভেতরের অংশ আজ‌ও অগ্নিগর্ভা। এই শীতলীকরণের ফলে বেরিয়ে আসা গ্যাসীয় উপাদানগুলো নানান পরিবর্তনের পথ বেয়ে একসময় প্রাণবিকাশের উপযোগী হয়ে উঠলো। এই বিবর্তনের প্রতিটি পর্বেই পৃথিবীর গ্যাসীয় আবরণীর বিচিত্র লীলাখেলা প্রত্যক্ষ করেছে পৃথিবী। তাকে সমঝে চলার জন্য সতর্কবার্তা, কার্যক্রমের লক্ষ্য আর লক্ষ্য পূরণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বারংবার। আমরা সে সব কথায় কান দিইনি। অনর্থক হৈচৈ করেছি, গড়িমসি করেছি, কোন্ পথে সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়ে অযথা বাগারম্বর করেছি, অবহেলা করেছি বাতাবরণের ভারসাম্য রক্ষার কাজকে। আর এসবের কারণেই আজ বিপদের প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে আমাদের বাসভূমি, আমাদের সবার পৃথিবী।  ৫.আজ কিন্তু আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে, সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে আমরা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেঁধে রাখবো শিল্প বিপ্লবের সময়ের তাপমাত্রার সাপেক্ষে। সেই সীমারেখা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে চলেছি নতুন এক লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করতে। এই পরিস্থিতি আমাদের বিপদের ঝুঁকিকে যে আরও বাড়িয়ে তুলবে তা বলা বাহুল্য। জলবায়ুর শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হ‌ওয়ার অর্থ‌ই হলো আমাদের বাসভূমির এতো কালের প্রাণময় জীবনধারা স্তব্ধ হয়ে যাওয়া – এমন পরিণতি কখনোই আমাদের কাছে কাম্য নয়।  ৬.পৃথিবীর বর্ধমান উষ্ণতার আশু বিপদের কথা মাথায় রেখে প্রকৃতি পরিবেশের হাহাকার ধ্বনির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে, আরও নিমগ্ন হয়ে শুনতে হবে, বুঝতে হবে প্রকৃতির অনুচ্চারিত সংকেতবার্তা। পরিবেশকে পরিশোধনের আয়োজন শুরু হয়েছে গোটা দুনিয়া জুড়েই। নতুন বিধিনিয়মের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটু করে এক সমান্তরাল বিকল্প যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে বিশ্ববাসী। এদেশেও তার আভাস মিলছে ধীরে ধীরে। প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানি উৎসের পরিবর্তে টেকস‌ই সবুজ শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে – বাড়ির ছাদে ছাদে বসছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল, দিগন্ত রেখায় মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে আধুনিক বায়ুকল। নতুন নতুন পরিবেশ বান্ধব চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক বসতি, যার ভিত্তি হলো বাস্তুতান্ত্রিক সহাবস্থানের মৌলিক আদর্শ। এই ব্যবস্থা হয়তো আগামীদিনে শহুরে তাপ দ্বীপের পরিসরকে অনেকটাই সংকুচিত করবে। বিকাশ আর উন্নয়নের নামে উজাড় হয়ে যাওয়া ধূসর প্রান্তরগুলো আবারও ফিরে পাচ্ছে তাদের হারিয়ে যাওয়া হরিয়ালি। এক্ষেত্রে ব্যষ্টিক প্রয়াস কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাপিয়ে যাচ্ছে সামুহিক উদ্যোগকেও। এ বড়ো আশার কথা, এ বড়ো সুখের কথা। দেরীতে হলেও দুনিয়া জুড়েই এক ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সবটাই শেষ হয়ে যাবার মতো নয়। ৭.আজ ৫ জুন, ২০২৬। সারা পৃথিবী জুড়েই আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই বছর ( ২০২৬ ) বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ হলো রিপাবলিক অফ আজারবাইজান। রাজধানী বাকুতে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে। পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের সন্ধিস্থলে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার এই দেশটি তার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্যের কারণে এক সম্পন্ন জীববৈচিত্রের অধিকারী। ২০১৫ সালের প্যারিস পরিবেশ চুক্তির শর্তগুলো যথাযথ রূপায়ণের ব্যাপারে এই দেশটি অত্যন্ত সদর্থক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক দ্বন্দ্বের নীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে এক সুস্থিত, টেকস‌ই জীবন যাপনের অবসর তৈরি করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে এই দেশটি। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক হিসেবে আজারবাইজানকে বেছে নেওয়ার পেছনে পরিবেশ রক্ষায় দেশটির অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকার খুব বড়ো ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ৮.হালফিল সময়ে আজারবাইজানের সরকার দেশটিকে এক নতুন সাজে সাজানোর কাজ করে চলেছে নিরলসভাবে। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্র্যময়তাকে অক্ষুন্ন রেখেই চলছে আগামীদিনের সুস্থিত রাষ্ট্র গড়ার কাজ।দেশটিতে খণিজ তেলের বিপুল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দেশে সবুজ অর্থনীতি এবং অচিরাচরিত শক্তি উৎসকে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। পরিবহন পরিষেবায় আনা হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। পেট্রোল বা ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের বদলে আনা হয়েছে ইলেকট্রিক ভেহিকল। কৃষি, শিল্প, নগরায়ন – সব ক্ষেত্রেই আধুনিক টেকস‌ই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এইসব কার্যক্রম দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবেশ বান্ধব যাপনের অঙ্গীকারকে সত্যি সত্যিই অর্থবহ করে তুলছে। দুনিয়াজোড়া পরিবেশ আন্দোলনের ক্ষেত্রে আজারবাইজান আজ এক সম্ভ্রান্ত রাষ্ট্রের নাম। যোগ্য দেশের হাতেই ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। ৯.পরিবেশ নিয়ে সারা বিশ্বে আজ যে নতুন করে ভাবনার মন্থন তার পেছনে ভারতের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৪ জুন তারিখে সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে সুইডেনের স্টকহোম শহরে আয়োজিত পৃথিবীর প্রথম পরিবেশ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এক মর্মস্পর্শী ভাষণ দিয়েছিলেন। তার সূত্র ধরেই পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়কদের পরিবেশ ভাবনা নতুন খাতে ব‌ইতে শুরু করে। পরিবেশের অবনমন নিয়ে টনক নড়ে গোটা দুনিয়ার।এই বছর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ দপ্তর মিশন লাইফ শীর্ষক যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার অন্যতম অঙ্গ হলো এক পেড় মাকে নাম অর্থাৎ মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ। নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হয়েছে ওই দিনটিতে মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগানোর। আশা করছি এই কর্মসূচি সফল হবে। রেকর্ড সংখ্যক গাছ লাগানো হয়েছে – এমন ঘোষণা করেই যদি কর্মসূচির সফল রূপায়ণের দাবি তোলা হয় তাহলে কিন্তু এই মহতী উদযাপনের মূল উদ্দেশ্যটাই বিফলে যাবে। মাথায় রাখতে হবে এই দেশের মায়েরাই একদা ঘাতকদের কুঠারের সামনে দাঁড়িয়ে গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে ধরে রেখে চিপকো আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। আজ পৃথিবী বিপন্নতার প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে। পৃথিবীর বাতাবরণ আজ কলুষিত। আমাদের কৃত কর্মের ফলেই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাকে আবার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হলে প্রকৃতির শাশ্বত অনুশাসনের নিবিড় অনুশীলন করতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই। ১০.শেষ করবো মহাভারতের অনুশাসন পর্বের কথা দিয়ে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। লোকক্ষয়,প্রিয়জন হানি, বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় – এসবের মধ্য দিয়ে। শাসনের অধিকার অর্জন করেও একফোঁটা শান্তি নেই যুধিষ্ঠিরের মনে। ব্যাসদেবের পরামর্শে যুধিষ্ঠির শরশয্যায় শায়িত পিতামহ ভীষ্মের কাছে গেলেন সদুপদেশ লাভের জন্য। তিনি তখন‌ও দক্ষিণায়ণের শেষে উত্তরায়ণ পর্বের সূচনার অপেক্ষায় ছিলেন। ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে কতগুলো অনুশাসনের কথা বললেন। আমাদের বেহিসেবী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আজ নতুন অনুশাসনের শৃঙ্খলায় বাঁধতে হবে। প্রিয় ধরিত্রী আজ সংকটের শরশয্যায় শায়িত। এমন পরিণতির জন্য দায়ী আমরাই।তাই তাকে আবার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হলে যথার্থ পরিবেশানুগ যাপনে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। আজ কান পেতে ধরিত্রীর মর্মবাণী শোনার সময় এসেছে। আমরা যেন সজাগ হ‌ই। সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন, ২০২৬
    আরবিআই কি সোনা বিক্রি করেছে? তথ্য, ফাঁক, এবং প্রশ্ন - উদ্দালক | কী ঘটেছে?২ জুন ২০২৬ - ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের সিনিয়র ইন্ডিয়া ইকোনমিস্ট অভিষেক গুপ্ত একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। তাঁর অনুমান মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা বিক্রি করেছে, একই সাথে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ কিনেছে। কারণ হিসেবে বলেছেন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত চাপে টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকানো। [1]৩ জুন, আরবিআই পাল্টা বিবৃতি দেয় যে এই প্রতিবেদন সঠিক নয়। সোনার "physical stock" ৮৮০.৫২ টনে অপরিবর্তিত। সরকারের তরফেও পিআইবি ফ্যাক্ট চেক এই খবর "মিথ্যা" বলে চিহ্নিত করে। আরবিআই-এর দাবি বৈদেশিক মুদ্রা মজুতে সোনার অনুপাত বরং বেড়েছে: সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ১৩.৯২%, মার্চ ২০২৬-এ ১৬.৭০%, মে ২০২৬-এ ১৬.৮৫%। [2]যেখানে প্রশ্ন থেকে যায়আরবিআই-এর মাসিক বুলেটিনে বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের তথ্য আছে ২৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ ৮ থেকে ২২ মে পর্যন্ত। মাঝখানে প্রায় একমাসের তথ্যগত ফাঁক।[3]আরবিআই অবশ্য বলেছে ৮৮০.৫২ টন "as on date" — অর্থাৎ আজকের তারিখেও অপরিবর্তিত। কিন্তু এটি একটি বিবৃতি, প্রকাশিত ডেটা নয়। পাশাপাশি, আরবিআই-এর ২৯ মে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২২ মে সপ্তাহে মোট বৈদেশিক মুদ্রা মজুত ৭.৫১ বিলিয়ন ডলার কমে ৬৮১.৩৮ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।[3]আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় - আরবিআই সুনির্দিষ্টভাবে "physical stock" শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা "physically" না বিক্রি করেও গোল্ড সোয়াপ, গোল্ড লেন্ডিং বা ডেরিভেটিভের মাধ্যমে ডলার লিকুইডিটি জোগাড় করতে পারে। ফিজিক্যাল টন অপরিবর্তিত থাকা আর সোনা দিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন না হওয়া এই দুটি এক কথা নয়।যদি সত্যি হয়, তাহলে এর তাৎপর্য কী?সোনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শেষ আশ্রয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুদ্রা রক্ষায় আগে বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ বিক্রি হয়। সোনায় হাত পড়া মানে ডলারের বাফার আর যথেষ্ট নয়।গত কয়েক বছরে ভারত ডলার-নির্ভরতা কমাতে ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে মজুত বাড়িয়েছে। সেই প্রবণতা উলটে গেলে বার্তাটি গুরুতর। অর্থনীতি যতটা স্বাভাবিক দেখানো হচ্ছে, বাস্তব ততটা স্বাভাবিক নয়।লক্ষণীয়, আরবিআই এবং অর্থ মন্ত্রণালয় উভয়েই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।আরবিআই এর মে মাসের বুলেটিন প্রকাশিত হলে ছবি স্পষ্ট হবে।সূত্রনির্দেশ[1] Bloomberg — "RBI May Have Sold Gold to Save FX Reserves" (২ জুন ২০২৬) — https://www.bloomberg.com/news/articles/2026-06-02/rbi-may-have-sold-gold-to-save-foreign-reserves-be-report-shows[2]Business Standard — "RBI dismisses gold sale rumours" (৩ জুন ২০২৬) — https://www.business-standard.com/economy/news/rbi-dismisses-gold-sale-rumours-physical-reserves-steady-at-880-52-tonnes-126060300452_1.html[3] Upstox News — "RBI rejects reports of gold reserve sale" (৩ জুন ২০২৬) — https://upstox.com/news/business-news/financial-regulations/rbi-rejects-reports-of-gold-reserve-sale-says-physical-stock-unchanged-at-880-52-tonnes/article-194723/
  • জনতার খেরোর খাতা...
    জীবন বিশেষত - Srimallar Speaks | জবাব দাও লিখতে না জানলেও, লেখার চেষ্টা করতে থাকে যারা— তাদেরই মধ্যে আজ দেখতে পাচ্ছি, শ্রীমল্লারকিশোর। যারা প্রাক্তনবান্ধবীর প্রশংসাকে পৌরসভার ময়লা নিতে আসার গাড়িতে তুলে দেয় আর গণ্ডির বাইরে না বেরোতে পেরে, বাবা-মা’র দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করে— ‘কেন জন্ম দিয়েছিলে আমাকে? জবাব দাও!’   প্রশংসা আর ক্ষতি‘না রে আমার জীবনানন্দ পড়া হয়নি। দিব্যেন্দু পালিত অল্প অল্প জানি। এসবের বাইরে সিলভিয়া আর এলিয়ট আমার কাছেরপ্রিয়। আর তোর কবিতা পড়ছি। নতুন রকমের ভাবনা আর ছন্দ নিয়ে বেশ একটা ব্যাপার স্যাপার, বেশ লাগছে। তুই লেখ। লিখে চল...’  প্রাক্তনবান্ধবীর বর্তমানবার্তা এমন। কল্পনা করা যেতে পারে, কতটা গভীরভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রীমল্লারকিশোরেরা!
    মাননীয় স্বপন দাশগুপ্ত মহাশয়(Member of the West Bengal Legislative Assembly) - albert banerjee | মাননীয় আপনি শুধু B.J.P নয় ট্রটস্কিবাদী হিসাবেও নাকি পরিচিত।[প্রাথমিকভাবে ট্রটস্কিবাদে আকৃষ্ট পরে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন থ্যাচারপন্থী হয়ে ওঠেন।*]আমি নিজে ট্রটস্কিবাদী এবং ভারতে যে মূল সমস্যা গুলো দেখা যায় এর সাথে আপনি ও আশা করছি একমত হবেন ১. ব্যাংক, বীমা, এবং বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ।২. ভূমি সংস্কার ও কৃষি সমবায় গঠন।৩. নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি ও কাজের সমান সুযোগ।৪. বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মের গ্যারান্টি।৫. বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ও নূন্যতম খাবারে যোগান। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনিকি চেষ্টা করবেন? যদি করেন তাহলে SOP টা কি হবে তা কি পাবলিকলি প্রকাশ করবেন? যদি না করেন তাহলে বলবেন কি কারণে এই মৌলিক সমস্যা গুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন ?না কি সাবাল্টার্ন স্টাডিজ এর উপর একজন লেখক নিজেই ................“Adivasi Politics in Midnapur, c. 1760-1924” (সাবাল্টার্ন স্টাডিজ IV, রণজিত গুহ সম্পাদিত, ১৯৮৫), এখানে আপনার ​​​​​​​লেখা ​​​​​​​টা ​​​​​​​আছে। জিস্ট[এখানে আপনি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর (বিশেষ করে জঙ্গল মহল অঞ্চল — গড়বেতা, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম ইত্যাদি) এর আদিবাসী (প্রধানত সাঁওতাল, মাহাতো, ভূমিজ প্রভৃতি) রাজনীতির স্বায়ত্তশাসিত ঐতিহ্য ও প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরেন। এবং দেখান যে, এই অঞ্চলের আদিবাসী রাজনীতি শুধু গান্ধীবাদী/জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অংশ নয়, বরং তার থেকে আলাদা, স্বতন্ত্র একটি ধারা — যা উপনিবেশিক শাসন, জমিদারি শোষণ, দিকু (বহিরাগত) শোষক ও বাণিজ্যিক বেনিয়া গিরির বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে। এবং অভিজাত জাতীয়তাবাদী ও ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চার সমালোচনা করেন, কারণ এই ইতিহাসচর্চা আদিবাসী বিদ্রোহগুলোকে “আদিম,” “স্বতঃস্ফূর্ত,” বা “অপরাধমূলক” বলে খারিজ করে দেয়। এর পরিবর্তে, আপনি প্রান্তিক আদিবাসীদের সচেতন রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সংগঠন এবং স্বায়ত্তশাসিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।] এবং উপরোক্ত ৫ টি সমস্যা কে মৌলিক সমস্যা ধরে নিয়েই আপনার কাজ আরম্ভ হয়েছে। কিছু মনে পড়ে ?* https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A6%A8_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4
    এক নবীন সাহিত্য প্রতিভার আত্মপ্রকাশ  - Sandipan Majumder | THE SNOW OF THE DYING century still lay on the edge of the dark forest when Lajos von Lázár, the translucent child with water-blue eyes, first glimpsed the man he would believe to be his father for his whole life and beyond.ভাতের হাঁড়ি থেকে একটা ভাত টিপেই যেমন হাঁড়ির খবর পাওয়া যায়, তেমনই ভালো উপন্যাসের মণিমুক্তোর মত ছড়িয়ে থাকা এক আধটা লাইন কিংবা অনুচ্ছেদ থেকেই বোঝা যায় তার গুণমান। অনেক সময় উপন্যাসের প্রথম লাইনেই তার ঈঙ্গিত থাকে।যেমন ওপরের লাইনটি।নেলিও বিডেরম্যান। বয়স মাত্র বাইশ। সুইজারল্যান্ডের বাসিন্দা। জন্মসূত্রে হাঙ্গেরিয়ান। উপন্যাসটি লিখেছেন জার্মান ভাষায়। না,প্রথম নয়। জানা যাচ্ছে এর আগেও তিনি একটি উপন্যাস লিখেছেন যেটি এখন ইংরেজিতে অনুবাদ হচ্ছে। উপরের উদ্ধৃতিটি যে বইয়ের প্রথম লাইন, সেই ‘লাজার' উপন্যাসটি প্রকাশের পর ৩১টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। শতিনেক পাতার উপন্যাসে আছে হাঙ্গেরির এক ধনাঢ্য অভিজাত পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনী। দু দুটি বিশ্বযুদ্ধ, হলোকাস্ট ও অভিজাতদের দায়,কম্যুনিস্ট শাসন,অভিজাতদের সম্পত্তিহানি,সোভিয়েত হস্তক্ষেপ, লাজার পরিবারের দেশত্যাগ —- বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়াই শুধু তাদের ঘনীভূত উপস্থাপনে আমরা যেন সহযাত্রী হয়ে পড়ি এই পরিভ্রমণের। না, শুধু বড় ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতের জন্য নয়, জীবনবোধের গভীরতায় সমৃদ্ধ এত পরিণত লেখা এই বয়সে কী করে লিখেছেন নেলিও,ভাবলে অবাক হতে হয়। ভাবনার গভীরতায়,যাদু বাস্তবতার মায়াঞ্জন মাখানো ভাষার নিপুণ কারিগরিতে নেলিও আবিষ্ট করে রাখেন। এইরকম ধ্রুপদী ও গথিক ধাঁচার উপন্যাস লিখছেন জেন জি প্রজন্মের এক লেখক– এটাই অনেককে বিস্মিত করেছে। বইটির একমাস আগেও কোনো পেপারব্যাক সংস্করণ ভারতে প্রাপ্তব্য ছিল না। সুখের কথা,সেটি এখন এসেছে।পড়লে ঠকবেন না,আমার বোধবুদ্ধি অনুসারে এটুকু সুনিশ্চিত করেই বলতে পারি।
  • ভাট...
    commentaatmaa | আপনারা কি জানেন আত্মা কীরকম? আমি আজ জানলাম >>https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=pfbid0QTt9WuX8PL529pAgNPHAaL2GbJPuLWCiyEhPxZhM3rkftXhcTAafHiRRy24oXoXsl&id=61583052471885
    commentalbert banerjee | নিন একটা খেউড় শুনুন এখানে হলে শব্দ ​​​​​​​, তারদুটো ​​​​​​​অর্থ ​​​​​​​আছে ​​​​​​​
    commentalbert banerjee | //আপনি গোরুর গাড়িতে বাংলা বিহার উড়িষ্যা ঘুরবেন .......// ওটা এনার্কি প্রতিবাদ নয়। তবে টাকা ফোটানো তে হেবি মজা আছে। "দাদা টাকাটা ভিক্ষা দিলেন ও তো ডেন নেবে। " এই অযাচিত উপদেশের মধ্যে যে সবজান্তা নার্গিস আছে। তাকে প্রমান করে ভারী আনন্দ। আগে EMI নি তারপর না হয় অন্য ভাষা দেখবো।
    তবে একটা সিরিয়াস প্রশ্ন আমার স্ত্রীকে না জানিয়ে আমার পুরো প্রপার্টি তার নামে করতে হলে কি করতে হবে? সহজ ভাবে ববেন কেউ? উকিল গুলো শুধু বোঝাতে আস্চে করবেনা না করবেনা না করবেনা না
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত