এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • বাংলা ছোটগল্ল

    Bratin
    অন্যান্য | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১৫৫৯৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • T | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:৩৯723642
  • অভি :))
  • পাঠক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:৫২723643
  • পুরনো শুকতারা হবে কোথাও? এই ৫০এর? :(
  • BCP | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:১৫723644

  • সুকুমার সেন জানাচ্ছেন, বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথই ছোটোগল্পের স্রষ্টা। (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, তৃতীয় খণ্ড)

    - দু পয়সা।
  • T | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:২১723645
  • BCP কে প্রশ্ন, যদিও ছোটোগল্প ইত্যাদি সংক্রান্ত নয়। শুনেছিলাম, নারায়ণ দেবনাথের অনুমতি ছাড়াই, নতুন নতুন হাঁদা ভোঁদা ও বাঁটুল কমিক স্ট্রিপ প্রকাশিত হচ্ছে, অন্য জনতাকে দিয়ে আঁকিয়ে। দেব সাহিত্য আর শৈব্যা মোস্ট প্রবাবলি। এইটা কি সত্যি? কমিক্স ও গ্রাফিক্সের দ্বিতীয় সংখ্যায় দেখছি নারায়ণ দেবনাথের চিঠি প্রকাশিত হয়েছে (তারিখ ১৯.০৩.২০১৬) যেখানে উনি স্পষ্ট বলছেন অন্য কেউ আঁকুক উনি তা চান না। এইটা কি কেস?
    অন্য কেউ উত্তর দিলেও হবে।
    আগাম ধন্যবাদ।
  • BCP | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:০৭723646
  • ফেসবুকে শান্তনু ঘোষ নারায়ণ দেবনাথ-এর ব্যাপরে সবচেয়ে অথেন্টিক বলতে পারবে।

    যাই হোক, এই নিন
    সুকুমার সেন-এর লিস্ট, তা ধরুন ১৩৫৩ মানে হল গিয়ে ১৯৪৬ সালে। গুনে বলুন দেখি কজনকে পড়েছেন? আচ্ছা ঠিকাছে, মনে মনেই বলুন, এখনে বলে আর ঘাঁটতে হবে না।

    অনুরূপা দেবী
    ইন্দিরা দেবী
    উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
    গিরীন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
    গোকুলচন্দ্র নাগ
    চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    জগদানন্দ রায়
    জলধর সেন
    দীনেশ রঞ্জন দাস
    নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নিরুপমা দেবী
    নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
    পাঁচুলাল ঘোষ
    প্রকাশচন্দ্র দত্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রমথ চৌধুরি
    ফকিরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    ফণীন্দ্রনাথ পাল
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ ভট্ট
    ভবাণীচরণ ঘোষ
    মাধুরীলতা দেবী
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্রলাল বসু
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    শান্তা দেবী
    শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
    শৈলবালা ঘোষজায়া
    সীতা দেবী
    সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়
    সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    সুনীতি দেবী
    সুবোধচন্দ্র মজুমদার
    সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
    সুরেশচন্দ্র সমাজপতি
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • Abhyu | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:১৫723647
  • মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের কঙ্কালের টঙ্কার পড়েছি আমি।
  • sm | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:২৩723648
  • পরশুরামের গল্পটার পরে স্থান পাবে। এতো ভালো ভুতের গপ্পো কম লেখা হয়েছে।
  • sm | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:২৬723649
  • আপনারা মনোরঞ্জন বাবুর গপ্পো পড়েন নি?গোয়েন্দা হুকাকাশির স্রষ্টা।ছোটদের জন্য অসাধারণ কিছু ছোট গপ্পো লিখেছেন।
    এর মধ্যে একটা গপ্পো আলোর ফুলকি তে বেরিয়েছিল;"বিশু চরিত"। অসাম, বললে কম বলা হয়।
  • sm | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:৩৭723493
  • একশো টা থ্যাঙ্কুস।
  • h | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৯:০১723494
  • মনোরঞ্জন এর সাইট টা ব্যাপক রে।

    ব্রতীন তুমি আমায় প্রেমেন্দ্র মিত্র পড়াবে। আমি কবিতা আর দু চারটে এদিক ওদিক ছাড়া পড়িনি।
  • BCP | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:৪৭723495
  • দে'জ এর 'প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমস্ত গল্প' শুধু বড়দের জন্যে লেখা সমস্ত গল্প। ওটাই কিনতে বললাম। শ্রেষ্ঠগল্প না পড়ে ওটা পড়।

    ঘনাদা ছোটোবেলায় পোষায় নি, কিন্তু বড়বেলায় জাস্ট গিভ ইট এ ট্রাই। এ জিনিস ছোটোদের বলে চালানোটা ক্রাইম। সূর্য কাঁদলে সোনা (অমৃত-তে সাপ্তাহিক ধারাবাহিক), আগ্রা যখন টলমল (শারদীয়া অমৃত), মঙ্গলগ্রহে ঘনাদা (উল্টোরথ) ইত্যাদি ওয়াজ নেভার মেন্ট ফর এ শিশু, উজ্জ্বল অর অনুজ্জ্বল। (ট্যাগ: অভি)

    অভ্যুর জন্য ইলাস্ট্রেশন সংগ্রহ, করেছেন সৌরভ দত্ত।
    http://ghanada.wixsite.com/ghanada-gallery

    এটায় কোথাও ক্লিক করে কিছু হয় নি বলে মনে করে বিরক্ত হওয়ার আগে স্ক্রোল ডাউন করবেন। আর এটা মোবাইল বা ট্যাব ফ্রেন্ডলি সাইট নয় খুব একটা। কোথাও কোথাও এক একটা ফ্রেমে ৫ থেকে ১৫টা ছবি আছে, ছবির উপর মাউস নিলে তবে সেইগুলো ব্রাউজিং এর অপশন আসে, খেয়াল রাখবেন।
  • BCP | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:৪৭723496
  • h Date:13 Sep 2016 -- 08:18 AM> ভাটিয়া৯

    দ্যাখ ভাই সোমনাথ, নবারুন এর লেখার যেটা একটা বড় দুর্বলতা, তাঁকে মাঝে মাঝেই নিজের ভয়েস শোনানোর জন্য দন্ডবায়স ইত্যাদির একটা সাহায্য নিতে হয়েছে, তো এই বাণীর ফর্ম টা আমার ফিকশনে জাস্ট পোসায় না। আমার সবেধন চলচিত্তচঞ্চরী তেও সে কথাই লিকিচি ;-)
    -----------------------------------
    নবারুণের লেখার বেশিটাই ভয়েস যেজন্য তাঁর কাল্ট হতে সময় লাগেনি। সেভাবে সুকান্তর ও বলা যায় তাই ছিল। মুশকিল হল ঘুরিয়ে দেখলে দেখা যাবে এই ভয়েসগুলো নবারুণের ক্ষেত্রে এমন একটা 'সোসিওইকনোপলিটিক অবস্থান'-এর ভয়েস যেটা নবারুণ নিজে না হলেও কিছু যায় আসে না। ধরুন একজন হতাশ বা আশাবাদী বা সমালোচক বামপন্থীর বা ব্যর্থ নকু বা নীচতলার মানুষের বা সামগ্রিকভাবে প্রাণমণ্ডলের নট-সো-ইম্পর্ট্যান্টদের সিমপ্যাথাইজার। এমনকি কোথাও কোথাও সেই ভয়েসগুলোকে কনট্রাডিক্ট করা, রিডিকিউল করা আর অন্যান্য ভয়েস ইন্ট্রোডিউস করে কনফিউজ করার মাধ্যমে নবারুণ এই এক্সচেঞ্জটা ডায়লগটা ওপেন রেখেছেন। সুকান্ত বা অন্য ভয়েস ডকুমেন্টকারীরা যেটা করেন নি।
    অন্যদিকে নবারুণ বেশ ভালো কবি তো। তাইতে হয়েছে কি ফিকশনে বর্ণণায় এমন কয়েয়েকটা সাটল টুইস্ট বা বলা ভালো ইনসিডেন্ট আছে যেখানে ধরুন বলা উচিত সুতো ছেড়ে যাওয়া হল পাঠকের নিজের মতো কাপড় জামা চাদর সোয়েটার বানিয়ে নেওয়ার স্কোপ রেখে দিয়ে। এটা কবিতার শব্দ-ইকনমি প্র্যাকটিশের দান।
    প্রথম ব্যাপারটা ফ্যাতাড়ু গোছের লেখায় যেমন বহুল ব্যবহৃত দ্বিতীয় ব্যপারটাও কিন্তু খুব উপেক্ষিত নবারুণ-ফর্ম নয়। একটা আখ্যানের সামগ্রিক অ্যাজেণ্ডাধর্মীতার বাইরেও তার বুনোটে কনস্ট্রাকশনে এই টেকনিকটা ববহৃত হয়েছে।
    এর বেশি লিখলে আবার ছোটোগল্পের টইতে একজন ছোটোগল্পকার কে নিয়ে বেশি হ্যাজানো হয়ে যায়।
  • Abhyu | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:০৫723497
  • হানুদা তুমি তেলেনাপোতা আবিষ্কার পড়োনি এটাও আমায় বিশ্বাস করতে হবে?
  • avi | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:০৭723498
  • আরে না না, সূর্য কাঁদলে সোনার মতো লেখা বাংলায় নেই। একশো শতাংশ সহমত। আমি প্রথম পড়ি একটু পরে। ১১-১২ ক্লাসে সম্ভবত। অসাধারণ রচনা, মোটেই শিশুপাঠ্য নয়, শিশুপাচ্যও নয়।
  • শিবাংশু | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:৩০723499
  • টইটার নাম দেখলুম 'বাংলা ছোটগল্প'। কিন্তু এটা বাঙালি ছোটোগল্প লেখকদের নামাবলী হয়ে যাচ্ছে। কোনও লেখকেরই সব লেখা উৎরায়না। অন্যপক্ষে বলা যায় যদি পাঠকদের প্রতিক্রিয়া থেকে বিচার করতে হয়, তবে গুণমানের বিচারে 'শ্রেষ্ঠতম' লেখকেরও 'বেঁচে থাকা' লেখার সংখ্যা ন্যূনতম। প্রশ্নটা সেখানেই। এখানে কী বাংলা ছোটগল্পের কালানুক্রমিক ইতিহাস বিচার করা হচ্ছে? সরলরৈখিক, একমুখী, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া উনিশ শতকীয় য়ুরোপীয় ডিসকোর্স। যার সঙ্গে ভবিষ্যতে 'সমান্তরাল', মূলস্রোত', 'ব্যতিক্রমী' জাতীয় তকমা এঁটে দেওয়া হবে?
    -------------------------
    বাংলাসাহিত্য সমালোচনার আদিপুরুষ বঙ্কিম বলেছিলেন, যে কোনও লেখকের বিচার তাঁর কতিপয় শ্রেষ্ঠ রচনার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।এটা এখনও সর্বতোভাবে প্রযোজ্য। যেমন অনেক লেখক একটি ছোটোগল্প লিখেই রাজা। নাম করা যায় 'অশ্বমেধের ঘোড়া'। অথবা অনেক লেখার পরেও কয়েকজন অগ্রণী গল্পশিল্পী কয়েকটিমাত্র সৃষ্টির সূত্রেই লোকমান্য হয়ে ওঠেন। যেমন প্রেমেন্দ্র মিত্র বা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। ফর্ম ও কনটেন্টের বিচারে তাঁরা নিজের সময়ে রাজা ছিলেন। কিন্তু সময়ের পলিমাটির ঊর্ধে কয়েকটি মাত্র বাতিঘরই মাথা তুলে থাকে। এই মূহুর্তে শুধু সেই গুলো পড়লেই একালের ধৈর্যহীন, অবসরহীন পাঠক এই সব লেখকের পরিচয় পেয়ে যাবেন। যেমন, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখিত একটিমাত্র গল্প। কব্জির জোরে সবাইকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন একজন, এককালে। হ্যাঁ, সমরেশ বসু। আজকের পাঠকদের জন্য লিস্টি করতে বসলে নির্মোহভাবে ( না, গুরু'র 'নির্মোহ' নয়) আমি বড়ো জোর পনেরোটি গল্প বেছে নিতে পারি। আবার কিছু শিল্পীর সব খণ্ডগল্পই যেন একটি লেখার অংশ। যেমন অমিয়ভূষণ বা নরেন্দ্রনাথ। বাঙালির এই খণ্ডগল্পপ্রীতির কয়েকটি নিজস্ব কারণ রয়েছে। প্রমথ বিশী, সুকুমার সেন বা শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রমুখ দিকপালদের এ বিষয়ে নানা মত রয়েছে।রয়েছে পরবর্তীকালের আলোচকদেরও। আবার একালের পাঠকদের পাঠরীতির সঙ্গে পরিচিত এমন সমালোচকরা হয়তো ভিন্নমতও পোষণ করতে পারেন।
    -----------------
    বাংলাদেশের একজন বিদিত সমালোচক বিভূতিভূষণকে 'দরিদ্র ব্রাহ্মণের কথাকার' বলেছিলেন। আবার শীর্ষেন্দু'র অন্ধ গুরুভক্তি বা 'পাল্টিঘর' জাতীয় পশ্চাদমুখী প্রবণতাগুলিকে এনক্যাশ করার মোহ একালের কিছু পাঠকদের মধ্যে বেশ প্রবল। উভয়ক্ষেত্রেই লেখককে টার্গেট করা হচ্ছে, লেখাকে নয়। প্রায় দেড়শো বছর আগে বঙ্কিম যে নির্দেশটি দিয়ে গিয়েছিলেন, আমরা সে ব্যাপারটা এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। অন্য সমস্যা রয়েছে কাল্ট গল্পকারদের জন্য। যাঁরা সচেষ্টভাবে, সজ্ঞানে নিজস্ব কাল্টপাঠকদের বৃত্ত তৈরি করেন। তাঁদের লেখায় চিরাচরিত ফর্ম ও কন্টেন্টের সন্তুলন নিয়ে সমস্যা থাকে। প্রতিবাদী, ব্যতিক্রমী বা ক্রোধী হয়ে ওঠার দুর্মর আকর্ষণ কাজ করে তাঁদের মধ্যে। ক্রমশঃ নিজস্ব ইমেজের ইস্পাতবাঁধনে বাঁধা পড়ে যান। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার উদ্যমটি হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে। এই গোত্রে নাম নেওয়া যায়, কমলকুমার বা নবারুণ। নথিবদ্ধ রাখি, উপরে যতোজন লেখকের নাম নিয়েছি, তাঁদের বেশ কিছু লেখা আমাকে দীর্ঘকাল ধরে পাঠক হিসেবে ক্রমাগত ট্রিগার করে। কেন বহুনন্দিত 'নিম অন্নপূর্ণা'র থেকে 'মতিলাল পাদ্রী' আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে, সেটা পাঠক হিসেবে আমার অগ্রাধিকার। লেখক বিবেচ্য ন'ন। মাত্র সেই 'লেখাটিরই অগ্রাধিকার।
    ---------------------
    লেখক ধরে ধরে বিচারের মধ্যে একটা বীরপূজার মাত্রা চলে আসে। অথবা অন্যপক্ষে মূর্তিভাঙার প্ররোচনা। দুইই 'প্রশ্নহীন' আনুগত্যকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠে। নিমীলিত আঁখি ভজনা বা সরাসরি নস্যাৎ করার স্ট্রিটস্মার্টনেস, দুটো'ই অদীক্ষিত পাঠকের মৌরসিপট্টা। অবশ্য একালে 'অদীক্ষিত' শব্দটা হয়তো রাজনৈতিকভাবে ভুল। কারণ নিজস্ব বোধবুদ্ধির পশরা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সম্ভ্রমবোধকে অনেকে 'দুর্বলতা' মনে করে থাকেন। তাঁদের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। গণতন্ত্রের ওজনে তাঁদের কণ্ঠস্বর বোধের মৃদু, কখনও মৌন, স্বরকে ছাপিয়েও যায়। উপরন্তু কেউ 'মূলস্রোত'কে, কেউ বা 'ব্যতিক্রম'কে অভ্যাসবশে নিরন্তর ভর্ত্সনাও করে যান। লেখকভিত্তিক পাঠচর্চার এটাই প্রধান সমস্যা। কারণ, 'লেখা'র হয়ে ওঠা থাকে, লেখকের নয়।
    ----------------------
    নানা কারণে বাংলা ছোটগল্প বাংলা কথাসাহিত্যের সব থেকে প্রখর ও জীবন্ত শাখা। এভাবে বিচ্ছিন্ন, খণ্ডিত বিচারে তার প্রতি অবশ্যই সুবিচার করা যাবেনা।
  • Bratin | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:৪৯723500
  • শিবাংশু দা লিখলে বলে আমি লিখলাম

    টই টা খোলার সেটাই
    উদ্দেশ্য ছিল শিবাংশু দা।

    আমি কখনো দাবিও করি নি বাংলার সমস্ত ছোটগল্প আমি পড়েছি।

    যেগুলো পড়েছি সেগুলো নিয়ে লেখার ইচ্ছে। বিভিন্ন লেখক কে অন্য দের কেমন লাগে সেটাও শোনার ইচ্ছে ছিল।

    কিন্তু তো গুরু র ট্রেন্ড তুমি তো জানো।

    এই টুকু ই লেখার ছিল
  • BCP | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৩:৫৩723501


  • ভূদেব চৌধুরি ও আরো কেউ কেউ বলছেন বাংলা প্রথম ছোটোগল্প মধুমতী। রচয়িতা শ্রীপুঃ। বঙ্গদর্শন-এ।

    দুপয়সা।
  • শিবাংশু | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৪:০২723502
  • ওহ বোতীন, টাহা আমি জানে....:-)
  • BCP | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৫:০৫723504
  • কিন্তু শিবাংশুদা কি গত কয়েকদিনে শ্রীহানুমেসোর ভাটিয়ালির পারফর্ম্যান্স সম্পর্কে জানে? কনটেক্সটের খানিকটা নইলে মিস করবে।

    আর মেনস্ট্রীম পাঠ্যাভ্যাসের লেখকসূচী এলে অবস্কিওর আর অফবীট তালিকা সংযোজন করে যাওয়া পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করি, আবাপ যাকে দ্রোহাভ্যাস বলে থাকে। আলোচনার গতিও মেনস্ট্রীম নির্ভর হলে অন্তর্ঘাত আসবে।

    এখন কথা হচ্ছে ---------- অন্য সমস্যা রয়েছে কাল্ট গল্পকারদের জন্য। যাঁরা সচেষ্টভাবে, সজ্ঞানে নিজস্ব কাল্টপাঠকদের বৃত্ত তৈরি করেন। তাঁদের লেখায় চিরাচরিত ফর্ম ও কন্টেন্টের সন্তুলন নিয়ে সমস্যা থাকে। ----------- এর মধ্যে শীর্ষেন্দু পড়েন কিনা।

    (শীর্ষেন্দু উল্লেখেরও একটি কনটেক্সট আছে, যদি শিবাংশুদা না জেনে থাকে ... )
  • শিবাংশু | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৬:০২723505
  • BCP,

    না ভাই, আমার ভাটিয়ালি বিষয়ক কোন জ্ঞানগম্যি নাই। আমি এই " মেনস্ট্রীম পাঠ্যাভ্যাসের লেখকসূচী" বিষয়টি নিয়েই স্বচ্ছন্দ নই। ব্যক্তি আমি 'লেখা' পড়ি, 'লেখক' পড়ি না।

    "মেনস্ট্রীম" মানে যদি সরকারবাড়ির পোষ্যদের লেখাজোখা ধরা হয়, তবে সেটাও ঠিক গ্রহণযোগ্য নয়। পাঠকদের গড়ে তোলা এই সমান্তরাল ভার্টিক্যালগুলো, যেমন, " মেনস্ট্রীম, অবস্কিওর আর অফবীট" এটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পাঠকরা বাধ্য করবে একটা ভার্টিক্যালে লেখকদের ফেলে দিতে। একজন অল্পপ্রাণ লেখক প্রথম দিকে তেড়েফুঁড়ে শেষে বাঁধা পড়ে যাবে বাজারের চাপে। তার পর এই পাঠকরাই তাকে হ্যাটা করতে থাকবে। এটাই ক্ষতিকর। তা হলে ক্রিকেটের সঙ্গে সাহিত্যের তফাত কী থাকলো? সেই যুবরাজীয় উক্তি, " জব তক বল্লা চলা..." ইত্যাদি। বীরু কেরিয়ার বাঁচাতে ঠেকিয়ে খেলতে শুরু করলেই ছ্যা ছ্যা'র বন্যা। গ্যালারি যা চাইবে গ্ল্যাডিয়েটরকে তাই করতে হবে। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও যদি এ রকম বেটিংবাজি চলতে থাকে তবে দেশ, নবকল্লোলের বাইরে যাবার দরকার কি? বেশ তো চলে যায় সব কিছু। আরাম সে। খুঁচিয়ে ঘা করার কী দরকার?
    ----------------
    আমার কাছে লেখার ডায়নামিক্সটা বেশি জরুরি, লেখকের নয়। লেখককে দাগিয়ে দেওয়া যায়, লেখাকে নয়। কারণ 'দাগানো' লেখকও মাঝে মাঝেই চমকে দিতে পারেন, যদি পাঠক তাঁকে সেই সুযোগ দেন।
  • BCP | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৭:৩৩723506

  • এটা সন্দীপ দত্ত। (বাংলা গদ্য পদ্য আন্দোলনের তিন দশক)। এই আন্দোলনগুলিকে বা ধরুন তাদের বক্তব্যকে, ডিসকমফোর্টের জায়গাগুলিকে একেবারে না ছুঁয়েই বাংলা ছোটোগল্প বিষয়ক আলোচনা চালানো সম্ভব কি?

    টই যিনি খুলেছেন, তিনি অভ্যাসবশতই একটি অসম্পূর্ণ লেখকলিস্ট দিয়ে শুরু করেছেন, যার মধ্যে আশাপূর্ণা, (হুমায়ুন আহমেদ), কিন্নর রায়, সুনীল ও সমরেশ ভাটিয়া৯তে তার নিজের স্বীকারোক্তি মতেও থাকার কথা। আরো অনেকেরো থাকার কথা যদি নেহাৎ ব্যক্তিমাত্রিক পাঠ-অভিজ্ঞতাকেই আলোচনার সুরনির্ধারক ধরে নেওয়া হয়। আলোচনাকে লেখকের লিস্টনির্ভর ও লেখকলিস্টকে ফলতঃ অনন্যোপায় বাংলা ছোটোগল্পের জীবনকালব্যপী দীর্ঘায়িত করার সেই শুরু।

    পরিকল্পনা ছিল বিভিন্ন দিকপালের রচিত বাংলা ছোটোগল্প বা সাহিত্যের ইতিহাসে এই লেখকলিস্টের যে উল্লেখ পাওয়া যায় তা পর্যায়ক্রমে দেখানো। শিশুসাহিত্য ঘোষিতভাবেই বাদ যাচ্ছিল ভাটিয়া৯র রেফারেন্স মোতাবেক। সে বিষয়েও দ্বিমত রয়েছেই। আরো, বিবিধ বিস্তারিত প্রশ্ংসিত সংকলনে যাদের রচনা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে তাঁদের উল্লেখও পরিকল্পিত ছিল। অতঃপর সেই প্রস্তাবিত বিশাল তালিকার থেকে সুবিধে মতো লোকজনের লেখা নিয়ে আলোচনা। আজকের দিনে সুনীতিবাবু, সুকুমারবাবু, ভূদেববাবু, ক্ষেত্রগুপ্ত বা অন্য এতাবৎ ইতিহাসকাররা হয়তো এভাবেই তাঁদের রচিত ইতিহাসকে আপডেট করার কথা ভাবতেন, যেহেতু প্রাপ্তব্য ছোটোগল্পের ইতিহাসগুলি সবই এই ফর্মে রচিত - কালানুক্রমিক লেখকবৃন্দ ও তাঁদের উল্লেখযোগ্য রচনা।

    আপনি কীভাবে বাংলা ছোটোগল্পের পরিসর নিয়ে আলোচনা এগনোর পথনির্দেশ করেন তা জানার ও উদাহরণ পেলে সম্ভাব্য উপায় হিসেবে তা পরীক্ষা করার উৎসাহ রইল।
  • h | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৮:৩৯723507
  • শিবাংশু কে ক্ল্যারিফাই করার জন্য, খামোখা ব্রতীনের কাছে গুরুর ট্রেন্ড ইত্যাদি বিচিত্র বস্তুর অথর হিসেবে প্যাঁক খাওয়ার পিতিবাদে ঃ

    আমার দিক থেকে, ভাটিয়ালি তে দাগানো টাগানো ট্যাগানো কিছুই করা হয় নি, না পড়তে বলা ইত্যাদি সে ভাবে ইনটারপ্রিটেড যদি হয়ে থাকে, তাহলে ইন্টারপ্রেট যারা করছেন তাদের দায়িত্ত্ব।

    বাংলা ভাষার একটা সোশাল হিস্টরি অ্যাটেম্প্ট করা হয়েছে, যেটা তে শিশু সাহিত্য কে সোর্স হিসেবে দেখা হয়েছে। আর শিশু সাহিত্যে শুধু না বাংলা সাহিত্যে প্রকাশনার বা মিডিয়া ব্যবসায়ের যে প্রভাবশালী রাজনীতি, সেটা পাঠকের ও পাঠকের 'চয়েস' / 'স্মৃতি' ইত্যাদি বিষয়ের উপরে যে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তো এটা করতে গিয়ে প্রেক্ষাপটের সংকোচন সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

    বিচিত্র বিষয় হল, সেটা করতে গিয়েই দেখা গেল, অনেকেই হঠাৎ করে মনে করতে শুরু করেছেন, তাঁরা বড় লেখক বলে পরিচিত লেখক দের বড় লেখা বলে পরিচিত লেখার বাইরেও কি কি লেখা পড়েছেন, তার একটা তথ্যা আদান প্রদান করছেন। তাতে এটাও দেখা গেল, আমি যে কিনা আঁতেল মাল বলে পরিচিত, তার থেকে ঢের বেশি সব রকম বই ই পড়েছেন, যারা আঁতেল বলে পরিচিত নন তারা, তখন স্মৃতির উপরেও আধিপত্য বিস্তারের একটা খেলা ক্ষমতাশালী রা চালিয়ে থাকেন সেটার প্রমাণ আরো বেশি পাওয়া গেল। এবং মেন স্ট্রীম, প্যারালেল ইত্যাদি শব্দ বন্ধ একেবারেই না থাকলেই ভালো ই হত সেটাও বোঝা গেল, কিন্তু খড়ি টানার কাজটা ব্যক্তি না করলেও ক্ষমতার বিন্যাস যে করেই ফেলে সেটাও অবসারভেশন হিসেবে রেকর্ডেড রইলো।

    সাহিত্য কে শুধু ভালো লাগা খারাপ লাগা ইত্যাদি সাবজেকটিভ বিঅষয় তে, এবং সেটাকে ব্যক্তিগত অধিকার ইত্যাদি তে দেখা একটা পদ্ধতি মাত্র, ভবিতব্য কিসু না, ভবিতব্য হত, যদি পৃথিবীতে রাজনীতি/এক্সক্লুশন/ইতিহাস/মতাদর্শ/ধর্ম/সেকুলারিজম ইত্যাদি না থাকত। সাহিত্য কে ইতিহাসে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করাটা এটা দিয়ে আটকানো মুশকিল। কারণ সাহিত্য শুধু না কালচারাল প্রোডাকশন এর রাজনীতি ও নতুন না, সাহিত্য কে সিনেমা কে নাটক কে ক্ষমতাশালীর পক্ষে ও বিপক্ষে রাজনীতির অঙ্গ হিসেবে ব্যবজার বহুদিন ধরেই চলছে। কারণ এটা অতি ব্যবহৃত একটা পদ্ধতি, নতুন কিসু না, আমার বাপের সম্পত্তি ও না, বহুদিন ধরে হয়ে চলেছে।

    নভেল বা গল্প বা কবিতা ফর্ম এর কথা যদি বলা হয় তার প্রত্যেকের ই একটা ইভোলিউশন আছে, সেটাও এই বিশ্লেষণ পদ্ধতির আওতাতেই পড়বে, সৌন্দর্য্য বোধের আলোচনা একটা কিছুটা আলাদা পদ্ধতি বলে ধরা যেতে পারতো, যদি না সৌন্দর্য্যবোধ এর ধরণ ধারণ আঙ্গিক ইতিহাসের সঙ্গে বদলে না যেত। নভেল জিনিসটা এনলাইটেনমেন্ট এর সমসাময়িক কেন সেটাও বোঝা দরকার।
    এখন মহাকাব্য ই বা লেখা হচ্ছে না কেন, ডেসপাইট ভ্যালিআন্ট অ্যাটেম্প্ট্স (বিক্রম সেঠ)

    যে সাহিত্যের সমালোচনা করা হয় বা হচ্ছে সেটা কে না পড়তে বলে করা হচ্ছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রচারিত। কারণ এতে যেটা ডিফেন্ড করা যায়, সেটা হল একটা ধারণা যে সাহিত্য একটা অবসর যাপনের কল মাত্র, সেটি ঠাকুর ঘরে রাখার জিনিস, তার সঙ্গে জীবনের যোগাযোগ নাই।
    চাট্টি টই বা ভাট লিখে কে কেউ মানুষের রুচি পসন্দ বদলাতে পারে না, এটুকু ধারণা বেঞ্চে না থাকার সুযোগ পেলেও আমার আছে মাইরি। শিবাংশু এই রিডিকিউলাস প্রচারে বিভ্রান্ত হতে চাইলে হবেন। একটা উদাহরণ ই যথেষ্ট, ধরুন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বংকিমের হিন্দু জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে একটা কথা বললেন, (একটা রসিকতা আছে যে চারুলতা সিনেমার পাখিটি যে বংকিম বল্লো, সে পাখিট কি পার্থ চট্টোপাধ্যায় ?) তখন নেহাত মুর্খ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হলে কেউ বলবে না পার্থ বাবু বংকিম পড়তে বারণ করেছেন।

    সাহিত্য সমালোচকের লিস্ট চাইলে দেওয়া যেতে পারে, এ ব্যাপারে যদিও আসল লোক শৌভ চট্টো পাধ্যায় (এবং প্রগতি চট্টোপাধ্যায়) এবং আরো দুজন দাদু, যাঁরা এখন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি তে অল্পবয়সেই নিদ্রা গেছেন।
  • Bratin | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৮:৪০723508
  • সোমনাথ, লিস্ট সম্পুর্ণ দেবো না অসম্পুর্ণ। অভ্যাসবসে দেবো না অন্য ভাবে সেটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বলেই আমার স্থির বিশ্বাস। আর জত্দূর মনে আসছে লিস্ট টা কম্প্কিট করো বলে কোন "সনিবন্ধ" অনুরোধ ও আমি তোমার কাছে রাখি নি।

    এর আগে ও তুমি "কলকাতা বুক ফেয়ার " টই তে ব্রতীন কী করেছে আধ পাতা কপি করা ছাড়া। এবং আরো ভুলভাল কিছু লিখেছিলে। এবং তোমার ভাষায় "যথারীতি" বেনামে।

    কাজেই তুমি তোমার মতো থাকো এবং আমি আমার মতো।

    হোপ দ্য মেসেজ ইজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার
  • h | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৮:৫১723509
  • গুরুর ট্রেন্ড ইত্যাদি ব্যাপারটা কি ব্রতীন?
  • h | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২০:০৫723510
  • ভেবে দেখলে দাদুর সংখ্যা আপাতোতো চার এ।
  • শিবাংশু | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২০:৫৩723511
  • ব্রতীন, এবং হয়ের লেখাগুলো পড়ে আমার মনে হলো এই আলোচনাটির কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্র ছিলোনা। জলের মতো গড়িয়ে গেছে, ইচ্ছেমতো বাঁক নিয়েছে। এই পদ্ধতিটিকে সচরাচর শুদ্ধ পাঠকের পাঠাভ্যাস বলে মনে করেন কেউ কেউ। তবে ক্রিটিকের (সমালোচক একটি অসম্পূর্ণ শব্দ) পাঠভঙ্গি তো তার সঙ্গে মেলেনা। তাই 'মেলাবেন তিনি' বলে অবস্থান নেওয়াটা এক্ষেত্রে অযৌক্তিক হবে।
    -------------------
    একটা ঊদ্ধৃতি দিয়েছেন সন্দীপ দত্ত মশায়ের লেখা থেকে। সন্দীপবাবু এই চর্চায় বহুদিন ধরে আছেন এবং অধিকারীও বটে। তবে তিনি কয়েকটি নাম উল্লেখ করেছেন একসঙ্গে। যেমন, অমিয়ভূষণ, কমলকুমার, দীপেন্দ্র, সন্দীপন,উদয়ন, সুবিমল প্রমুখ। তাঁদের নাম একসাথে আসার কারণ হলো "ভাষা উপস্থাপনার নতুন রীতি"। কিন্তু আজকের পাঠক কি এ জাতীয় সমীকরণে আস্থা রাখেন। 'ভাষা উপস্থাপনা' বলতে এখানে কী বোঝানো হচ্ছে? নতুন শৈলি? শব্দ, বাকবন্ধ, বাকপ্রণালীর নবীন মেঘের সুর? সবাই জানেন শৈলি ও বিষয়বস্তু বা অবস্তুর বিচারে এই লেখকদের মধ্যে ব্যবধানটা কতোটা দুরূহ। তাই এক্ষেত্রে যদি লেখকদের একক ধরে এগোতে চাওয়া হয় তবে চলাটাও দুরূহ হয়ে পড়বে।
    --------------
    ম্যানিফেস্টো নিয়ে লিখতে আসা লেখকদের প্রসঙ্গটিও এসেছে। এই সন্দর্ভে হ'য়ের নামও নিই। ম্যানিফেস্টোকে ভিত্তি করে যাঁরা লিখতে এসেছিলেন তাঁরা নিজেদের আগে 'আন্দোলনকারী' পরে লেখক মনে করতে চাইতেন। ব্যাপারটা কিছু নতুন নয়। সরল হাইয়ার্কি (বানানটা এখানে আসছে না) এবং অ্যানার্কির মাঝের টানাপড়েন। এতো গত শতকের বিশের দশকে 'সম্মুখেতে পথ রুধি' বসে থাকা হাইয়ার্কির বিরুদ্ধে তোলা অচিন্ত্য অ্যানার্কির প্রস্তাব থেকে ভিন্ন কিছু নয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তাতে ঝাঁজ বেড়েছে। ইলেক্ট্রিক ছুতারের প্রয়োজন বোধ হয়েছে। তার পর নতুন নক্ষত্র আসে, চলে আসে নতুন সময়। আসলে ম্যানিফেস্টো'র চিন্তাটাই তো এসেছিলো স্ট্যালিনিয় 'সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা' জাতীয় রেজিমেন্টেড ইস্তাহারের প্রতিক্রিয়া থেকে। তাই মাতৃ-ইস্তাহারের দিন ফুরোলে বাকি ইস্তাহারগুলিও বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেলো।
    --------------------
    হয়ের বেশ কিছু মন্তব্যের সঙ্গে একেবারে সহমত। কোনও সন্দেহ নেই। যেমন,

    "।।।।খড়ি টানার কাজটা ব্যক্তি না করলেও ক্ষমতার বিন্যাস যে করেই ফেলে সেটাও অবসারভেশন হিসেবে রেকর্ডেড রইলো।"

    "।।।।সাহিত্য কে ইতিহাসে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করাটা এটা দিয়ে আটকানো মুশকিল। কারণ সাহিত্য শুধু না কালচারাল প্রোডাকশন এর রাজনীতি ও নতুন না, সাহিত্য কে সিনেমা কে নাটক কে ক্ষমতাশালীর পক্ষে ও বিপক্ষে রাজনীতির অঙ্গ হিসেবে ব্যবজার বহুদিন ধরেই চলছে।"

    "।।।।নভেল বা গল্প বা কবিতা ফর্ম এর কথা যদি বলা হয় তার প্রত্যেকের ই একটা ইভোলিউশন আছে, সেটাও এই বিশ্লেষণ পদ্ধতির আওতাতেই পড়বে, সৌন্দর্য্য বোধের আলোচনা একটা কিছুটা আলাদা পদ্ধতি বলে ধরা যেতে পারতো, যদি না সৌন্দর্য্যবোধ এর ধরণ ধারণ আঙ্গিক ইতিহাসের সঙ্গে বদলে না যেত।"

    "।।।।চাট্টি টই বা ভাট লিখে কে কেউ মানুষের রুচি পসন্দ বদলাতে পারে না, এটুকু ধারণা বেঞ্চে না থাকার সুযোগ পেলেও আমার আছে মাইরি।"

    একশোবার। বিশেষ করে আমাদের দেশের স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসও তিনশো বছর আগে পর্যন্ত সাহিত্যবস্তুর অবস্থান ও দৃষ্টিকোণকে ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে বিদেশি কিছু পর্যটক বা আরবী-তুর্কি পণ্ডিতদের লেখা দস্তাবেজ। আর যেটা সব থেকে বড়ো সত্য যে তর্ক করে পাঠকের পাঠাভ্যাস বদলানো যায়না।
    --------------
    এ জন্যই আমি লেখকদের মুখটা না মনে করে লেখার মুখটাকেই মুখ্য ভাবতে চাই। কিন্তু ভিন্নরুচির্হি লোকা। অতএব সবাই নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা ও ধারণা নিয়েই বিষয়টি চর্চা করুন। তাতেই একমুখিনতা থেকে বহুমুখিনতার বিস্তৃতি।
  • Robu | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২১:০২723512
  • আপনাদের আলোচনা, বিশেষতঃ দুজনেরই অননুকরণীয় স্টাইলে (বা অন-হনুকরণীয় স্টাইলে), অতীব মনোগ্রাহী হচ্ছে। এগিয়ে চলুক।
  • h | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২১:২২723513
  • "এ জন্যই আমি লেখকদের মুখটা না মনে করে লেখার মুখটাকেই মুখ্য ভাবতে চাই। কিন্তু ভিন্নরুচির্হি লোকা। অতএব সবাই নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা ও ধারণা নিয়েই বিষয়টি চর্চা করুন। তাতেই একমুখিনতা থেকে বহুমুখিনতার বিস্তৃতি।"

    এতে কোন আপত্তি নেই। কারণ সমস্যাটা ব্যক্তির থেকে বড়, সোশাল হিস্টরি তে সমস্যা টা সময়, তাকে ধরার চেষ্টা। একটা কমন প্রবলেম, বাংলায়, ১৯০৫ এর রাখী বাংলার মাটি ইত্যাদি টা ১৯৪৬ এর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এ কেন এল, তো এই ঘটনা গুলো যদি মহান কোন লেখক কে একেবারেই প্রভাবিত না করে, মানে এর সঙ্গে যদি সাহিত্যের কোন যোগাযোগ না থাকে, তাহলে হয় সাহিত্য নয় লেখক নয় পাঠক কোন একটা গন্ডমুর্খ।

    আপনি হেজেমনি সঞ্জাত একমুখীনতা কে এতে করে এড়িয়ে যাছেন, সেটা কে কি ভাবে অ্যাড্রেস করতে পারছেন বলুন? এবং শুধু তাই না, সেটা যে বদলায় তাকেও অ্যাড্রেস করছেন কি করে সেটা পরিষ্কার না।

    ----

    ম্যানিফেস্টো প্রসঙ্গে ----- "আসলে ম্যানিফেস্টো'র চিন্তাটাই তো এসেছিলো স্ট্যালিনিয় 'সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা' জাতীয় রেজিমেন্টেড ইস্তাহারের প্রতিক্রিয়া থেকে। তাই মাতৃ-ইস্তাহারের দিন ফুরোলে বাকি ইস্তাহারগুলিও বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেলো।"

    এটা একেবারেই হয় নি। তিনটে ভুল হয়তো তাড়া হুড়ো করে লেখায় আপনার চোখে পড়ে নি, স্তালিনীয় সমাজ তান্ত্রিক বাস্তবতা কথাটা ভুল, কারণ সোভিয়েট স্টেট ফর্মেশনের আগে থেকে এই পদ্ধতি তে লেখা হচ্ছিল, মূল বিষয় টা ছিল এজেন্সী ডিবেট এবং রিয়েলিজম ডিবেট। ইশ্টাহার জিনিসটা যাঁরা পরবর্তী কালে একেবারে স্তালিন বিরোধী তাঁরা কম ম্যানিফেস্টো ব্যবহার করেন নি, মুভমেন্ট বা আন্দোলন কথাটাও স্তালিনিস্ট দের বাপের সম্পত্তি না। যেটা ঘটনা, সমস্যার সমসাময়িকতা থেকে আর্ট মুভমেন্ট গুলোর জন্ম হয়, ফর্ম বা ফাইনন্সিং এর সমস্যার সমসাময়িকতাও তার মধ্যেই পড়ে। তৃতীয় ভুল যেটা সেটা হল, ইতিহাস যেমন যেমন ভাবে যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে, রিয়েলিজম এবং ম্যানিফেস্টো সেরকম ভাবেই তৈরী হয়েছে। আধুনিকতা যেরকম ভাবে যে দেশে এসেছে, সে দেশে তার নানা রিয়াকশন তৈরী হয়েছে, কল্পনার বিশ্বের সঙ্গে ফারাকটাই কোথাও সাহিত্য, কোথাও ফারাকের অভাব টাই সাহিত্য। এটাতে বৃষ্টির জলের ভূমিকা কম, তাহলে ইতিহাসের সরলরৈখিক গতি মেনে নিতে হয়, সেটা মার্ক্স নিজে না হলেও অনেক মারকস্বাদী এটা করেছেন, অতএব তার বিরোধিতা করে মজা পেতে গেলে, এই অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

    ইত্যাদি।
  • h | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২১:২৯723515
  • "বিশেষ করে আমাদের দেশের স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসও তিনশো বছর আগে পর্যন্ত সাহিত্যবস্তুর অবস্থান ও দৃষ্টিকোণকে ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে বিদেশি কিছু পর্যটক বা আরবী-তুর্কি পণ্ডিতদের লেখা দস্তাবেজ। "

    এটায় একটা সমস্যা আছে। অন্য কোন বিদেশী পর্যটকের মত করে কোন বিদেশী পর্যটক কিছুই লেখেন নি, বাব্বা যাতায়াতে যা কষ্ট এসবেও মিল নেই, কারণ বিভিন্ন লোক বিভিন্ন রুটে আর বিভিন্ন সময়ে এসেছেন। আর আরবী তুর্কী পন্ডিত দের লেখা প্রথমত দস্তাবেজ শুধু না যদি না দস্তাবেজ এর অর্থ রুলিং কোর্ট এর আয়্ডমিনিস্ট্রেটিভ পেপার্স বোঝায়। ধরেন, সুলতানী আমলের একটা ডিক্রী, আর সে সম্পর্কে লেখা বিরুনীর থিয়োরিটিকাল, ফিলজফিকাল এবং লিগাল বক্তব্য তার সাহিত্য গুণ সহ আলাদা। সুতরাং একট ক্লারিফিকেশন পাওনা রইলো। আপনি হয়তো অন্য কিসু বলছেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন