এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কুমারী পূজা ও নোবেল বিজয়িনীরা

    Prativa Sarker লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ২২৬৭৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (১৪ জন)
  • এখন তো সবই বেদে আছে বললেই সমস্যা মিটে যায়। তবে কুমারী পূজার সমস্যা বোধহয় মেটে না। কারণ বেদে এই প্রথার উল্লেখ আছে বলে জানা নেই। তন্ত্রপুরাণে আছে। তবে বেদ পরবর্তী কালে এর উদ্ভব এতে সন্দেহ নেই। আমাদের পীঠস্থান বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনে এর প্রচলন অতি অধুনা।  স্বামী বিবেকানন্দ কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে এক মুসলমান কন্যাসন্তানের মধ্যে দেবীভাব দেখেছিলেন ও তাকে পূজা করেছিলেন। তারপর থেকেই মিশনে এই কুমারী পূজা চালু হয়। এখন তো অনেকখানেই হচ্ছে।তবে কখনোসখনো দু একটি ছুটকো খবর উড়ে এলেও আর কারো হিম্মত হয়নি 'বেজাতের' কুমারী এনে পুজোবেদীতে বসাবার। শাস্ত্র বলে কুমারীর জাতধর্মবর্ণ না দেখলেও চলে, কিন্তু পুজোর সময় মিশনসহ সব উদ্যোক্তারা খোঁজে অল্পবয়সী ব্রাহ্মণকন্যা। 

     
    কুমারী হবার প্রথম শর্ত, প্রথম রজোদর্শন হয়নি এমন মেয়েকেই পুজো করতে হবে। কেন? একটা নিছক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনকে দৈহিক ও মানসিক অশুচিতার ছাপ মেরে দেওয়া, ধর্মীয় ভাবে বৈধতা দেবার কারণ কী ? রজোদর্শন হলেই সে মেয়ে আর দেবীত্ব আরোপের যোগ্য রইল না?  হয়ত এইভাবেই শুচিতা এবং কৌমার্যের ধারণা আমাদের সমাজে এত বলশালী হয়ে উঠেছে যে কৌমার্য খোয়ানো মৃত্যুর অধিক বলে অনেক মেয়েই এখনো মনে করে। কৌমার্য হরণ হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যে হরণ করে তার আইনি শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও সামাজিক শাস্তি কোথায়!  
     
    যারা বলে কুমারী পূজা নারী শক্তির উদবোধন তারা নিজের মনকেই চোখ ঠারে। যারা বিশ্বাসী তাদের কাছেও কি কুমারী পুজার পরবর্তী দিনগুলিতে নারী প্রতিভাত হন দৈবী শক্তির অধিকারিণীরূপে? সর্বত্র যাদের সেকেন্ড সিটিজেন বা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হয় যাদের, যাদের বঞ্চিত করে রাখাই পিতৃতন্ত্রের দীর্ঘ অভ্যাস তাদের মুক্তি কোনো দুর্গামন্ডপে অনুষ্ঠিত কুমারী  পুজার হাত ধরে আসতে পারে না। তাদের প্রতি সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের কাজটি কোনো কুমারী পূজা সম্পন্ন করতে পারে না। কোনো প্রতীকী পুজোআচ্চা যদি এতই কাজে লাগত, তাহলে এতোদিন নারীলাঞ্ছনা বন্ধ হয়ে যেত পশ্চিম বঙ্গে এবং নবরাত্রিতে "কন্যা পূজন" অনুষ্ঠান করা উত্তর ভারতে। বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা নারী ধর্ষণ ও লাগাতার লাঞ্ছনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে গোটা দেশে। লোকের মানসিকতা, চরম দারিদ্র, কুসংস্কারাচ্ছন্নতার প্রতিকার না করলে তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে। 
     
    আমাদের যখন দরকার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীর চর্চা, তখন দেশে বেড়ে চলেছে মধ্যযুগীয় কুসংস্কারকে আলোকপ্রাপ্তি বলে চালিয়ে দেবার বিচিত্র হুজুগ। শিশুকন্যাকে দেবদেবী ভুতপ্রেতের গল্প না বলে আমাদের বলা উচিত সাবিত্রীবাঈ ফুলে, বেগম রোকেয়া, সিস্টার নিবেদিতার কথা। তারা জানুক যুগ যুগ ধরে আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পূর্বজাদের কিভাবে দাসী বানিয়ে রাখা হয়েছিল। কত শোষণ ও বঞ্চনার অগ্নিপরীক্ষার পথ পেরিয়ে নারীর সংগ্রাম চলছে। শক্তিমতীর উদাহরণ দিতে হলে বাল্যকালে পিতৃতন্ত্রের খেয়ালে পূজিত শিশুকন্যার কথা বলব না আমরা, বলতে হলে বলব নোবেল প্রাইজ বিজয়ী মাদাম কুরী বা লুইজ গ্লিকের কথা। বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে সে নিজেই সচেতন হয়ে যাবে যখন দেখবে ১৯০১ সাল থেকে মোট নোবেল প্রাপকের মধ্যে পুরুষ ৪৫২ জন, নারী মাত্র ৪২। গ্রহীতার ভূমিকায় না থেকে নারী এবার সম্মান সুযোগ ছিনিয়ে নিতে শিখুক। দেবীত্বে তার দরকার নেই। মানুষ জন্মেই সে সম্পূর্ণা ! 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ০৩ জুলাই ২০২৪ ১১:৪৩534106
  • তাই? বিবেকানন্দের পরেও অনেকে বেজাতের মেয়েকে পূজা করেছেন জেনে সুখি হলাম। 
     
    কিন্তু এপারে এমন নজির আছে বলে জানা নেই। 
     
    ধন্যবাদ 
  • বিপ্লব রহমান | ০৩ জুলাই ২০২৪ ১১:৪৮534107
  • আর কুমারী পূজার প্রশ্নে উজ্জ্বলের পয়েন্টগুলো খুবই যুক্তিগ্রাহ্য yes
  • দীপ | ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩৮534110
  • বিপ্লব রহমান, 
    ব্যক্তিগত আক্রমণে রুচি নেই।
    তবে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। যে দেশ থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ নিরাপত্তার জন্য চলে আসে, যে দেশে প্রকাশ্য জনসভায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেশ ছেড়ে চলে আসতে বলা হয়, সেই দেশ থেকে বড়ো বড়ো কথা না বলাই ভালো। কাঁচের ঘরে বসে অন্যের দিকে ঢিল ছুঁড়তে নেই।
    বছর কয়েক আগে আপনি হুদুড়বাদুড়ের গল্প নিয়ে খুব লাফালাফি করছিলেন। এখন আবার কুমারীপূজা নিয়ে মাতব্বরি করতে এসেছেন। 
    আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিন, তারপর বড়ো বড়ো কথা বলবেন।
  • দীপ | ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৪534115
  • "পুজো জিনিসটাই মেনে নেওয়া কঠিন। তার উপর আবার কুমারী পুজো। রজোদর্শন যাদের হয়নি সেই মেয়েরা পবিত্র? যাদের রজোদর্শন হয়েছে তারা অপবিত্র? "
    উজ্জ্বল, আপনাকেই সোজাসুজি বলছি। কোনোকিছু নিয়ে আলোচনা করতে হলে একটু পড়াশোনা করা প্রয়োজন! নাহলে নিজের নির্বুদ্ধিতা প্রতিপন্ন হয়! আগে একটু পড়াশোনা করে আসুন!
    আর একটা কথা। ভারতবর্ষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে প্রত্যেক গোষ্ঠীর স্বীয় ধর্মপালনের অধিকার আছে! আমি কোনো ধর্মীয় রীতিতে বিশ্বাসী নাই হতে পারি, কিন্তু কারো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করতে পারিনা!
    কথাটা মনে রাখবেন। অনর্থক অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সমস্যা সৃষ্টি করতে গেলে তারা আপনাকে ঘাড়ে ধরে থানায় নিয়ে যেতে পারে, জেলে ঢোকাতে পারে। আইন তাদের পক্ষে।
    অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন।
  • উজ্জ্বল | ০৫ জুলাই ২০২৪ ০৮:৪১534188
  • দীপ
    পুজো জিনিসটা সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। কুমারীপুজো পুতুলখেলা ছাড়া আর কিছু মনে করিনা।
    এ দুটো কথা মোটামুটি ভাবনাচিন্তা করেই বলছি। একটু পড়াশোনাও করেছি।
     
    যা বলেছি ভেবেচিন্তেই বলেছি। এখন কি পড়লে এই ধারনাগুলো ভুল প্রমাণ হবে ?
  • বিপ্লব রহমান | ০৭ জুলাই ২০২৪ ০৮:২৪534296
  • ব্যক্তিগত আক্রমণে রুচি নেই cheeky​​​
  • Prabhas Sen | ০৭ জুলাই ২০২৪ ০৯:৫৬534303
  • মেনে নেওয়া কঠিন হলে মানবেন না। আপনাকে কেউ জোর করেন নি।
  • দীপ | ০১ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১৭734574
  • ছোট্ট থেকে অনেকবার কুমারী হয়েছি, প্রায় ৬-৭ বার। কোনদিন কোনও অসহনীয় কষ্ট হয়নি। বরং তখন বুঝতাম না বেশি খুব মজা লাগতো। সাজুগুজু করে বসতাম, সবাই প্রণাম করতেন সামনে এসে, আদর খেতাম, ফুল ছড়াতাম, প্রসাদ খেতাম, খাইয়েও দিতেন, কোনও অসুবিধে হচ্ছে কিনা সবাই নজর রাখতেন, একটু কিছু প্রবলেম বললেই সেটা সাথে সাথে সরে যেত, উপহার পেতাম। দারুণ উপভোগ করতাম।

    ফেসবুকে জনৈক মহিলার স্মৃতিচারণা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন