
ফ্রাঙ্কফুর্টের বাণিজ্যমেলার ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, মোটামুটি ১৪৭৮ সাল থেকে নিজস্ব বইয়ের সম্ভার নিয়ে শরতের সময় ১সপ্তাহের জন্য এই মেলায় আসতে শুরু করেন বই ব্যবসায়ীরা। ছাপানো বইয়ের সেই আদ্যিকালে অবশ্য বই ছাপানো থেকে বিক্রি পর্যন্ত সমস্ত ধাপগুলোর কোন আলাদা কেন্দ্র বা ভাগ বিভাজন হয়নি। তাই নিজস্ব কর্মচারী আর শ্রমিকদের সাহায্যে গোটা প্রক্রিয়াটিকে সামলাতেন ১জন বই মুদ্রকই। অর্থাৎ সেকালে বইয়ের মুদ্রকই হতেন বইয়ের প্রকাশক আর বই বিক্রেতাও। ... ...

গুরুতে ১৮.১.২৪ সহস্রলোচন শর্মার - “এক কাল্পনিক পুস্তক বিক্রেতার গল্প” - লেখায় জাক ফঁসের চরিত্রে নৈতিকতার পরিচয় পেয়ে মনে পড়লো শংকরের একটি লেখায় আচার্য্য্য জগদীশ চন্দ্র বসুর চরিত্রে ঠিক তার বিপরীত দিশার পরিচয় পেয়েছি। সেই প্রেক্ষিতেই এই লেখা। ... ...

ভূতের বেগারের দ্বিতীয় অধ্যায় বা দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে গিগ ইকনমিকে নিয়ে লেখা। ... ...

পর্বতারোহণ ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো দর্শক পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামে আয়োজিত খেলা নয়। এতে নেই দর্শকের উত্তাল করতালি বা চিলতে পোশাকের চিয়ার লিডারদের মনোরঞ্জনী উল্লাসবিভঙ্গ। এতে নেই কর্পোরেট স্পনসরদের ব্যানারের ঝলকানি। পর্বতারোহণে গেলে প্রকৃতির আপাত সৌন্দর্যের আড়ালে অনুভব করা যায় তার নির্মম, করাল রূপ। সুদূর, দুর্গম, নির্জন সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক পরিবেশে কখনো স্রেফ বেঁচে থাকাটাই হতে পারে কঠিন সংগ্ৰাম, নিদারুণ সংকটময়। তাই পর্বতারোহণে গিয়ে একটি শৃঙ্গ জয় করতে পারলে সেই সাফল্য অবশ্যই আনন্দদায়ক, তবে নিজের সামর্থ্য, সাহস, দক্ষতা ও সহ্যের সীমা অতিক্রম করতে পারার উপলব্ধির মধ্যেই প্রকৃত পর্বাতোরোহী খুঁজে পান আসল চ্যালেঞ্জ। সেটাই অভিযাত্রীক সত্তার আসল প্রাপ্তি। ... ...

মানুষ কিন্তু নির্বাচন পছন্দ করে। কেন জানি মানুষের ধারণা যে ভোট দিতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই যে একদলের নির্বাচন হচ্ছে, মানুষের এইটা নিয়ে কোন আগ্রহই থাকবে না, এমন হওয়ার কথা না? কিন্তু তা হচ্ছে না! আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রজ্ঞাই বলেন আর যাই বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়ে এই নির্বাচন জমিয়ে দিয়েছে। শহরের মানুষ কিছু নাক উঁচু ভাব দেখাচ্ছে, ম্যালা তত্ত্ব কপাচাচ্ছে ( যেমন আমি নিজেই!) কিন্তু গ্রামের মানুষ, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভোটার, তারা সবাই ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে। যারা ভাবছেন যে ভোটার শূন্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে তারা সম্ভবত ধোঁকা খেতে যাচ্ছেন। কালকে বিপুল পরিমাণ মানুষ ভোট দিবে এইটা আমি এখনই বলে দিতে পারছি। কারণ আমি সাধারণ মানুষের এই নির্বাচন নিয়ে যে উচ্ছ্বাস তা দেখেছি। মিথ্যা বলব না, এইটা আমাকে বিরক্ত করেছে। সব ফেলে এই নির্বাচনের জন্য এত আগ্রহ? ... ...

উনিশশো একাত্তর সনের ৬ই মে, সেই মানিককিশোর সত্তর বছর বয়সে জীবন্ত বলি হলেন বলিহার বাজারের সেই চালাঘরটিতে, যেখানে টিনের চাল বেয়ে নামত সুরের বৃষ্টি, ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজিয়ে দিত চালার তলায় আশ্রয় নেয়া ভাগ্যবান শ্রোতাদের! হয়ত বড় ভালবাসতেন চালাঘরটিকে, সে কারণেই সেই চালাঘরের যূপকাষ্ঠেই অগ্নিস্নান করে সেদিন অমরলোকে পৌঁছে গিয়েছিলেন শহীদ মানিককিশোর, সপ্তাকাশ জুড়ে তখন বেজেই চলছিল কোন ধ্রুপদী রাগ! ... ...


অন্য দিকে মুসলিমদের অবস্থা চিন্তা করে দেখেন। মুসলিম ব্রাদারহুড মুসলিম উম্মাহ এগুলা আমার কাছে ভুয়া কথা মনে হয়। কোন কার্যকর ব্যবস্থা এদের দ্বারা আজ পর্যন্ত নেওয়া হয় নাই। মুসলিমরা বর্তমান সময়ে ভাগ্য বিতাড়িত জাতি বলে মনে হয়। কেন? ইয়েমেনে মানুষ মেরে ফিনিশ করে দিচ্ছে অথচ কোথাও কোন টু শব্দ হয়নি। না মুসলিম বিশ্বে না মানবতার, মানবধিকারের আঁতুড়ঘর ইউরোপের কোথাও কেউ কোন প্রতিবাদ করছে, কেউ বলতে পারবে না এই মানুষ মারার জন্য কোন একটা উন্নত দেশে রোড মার্চ হইছে, মানুষ জমায়েত হয়েছে, বিক্ষোভ হয়েছে। এর থেকে সামান্য ঘটনায় সিডনি থেকে বার্লিন নিউ ইয়র্ক থেকে প্যারিসে মিছিল শুরু হয় যেতে দেখছি আমরা। শুধু ইয়েমেন না, সিরিয়ায় যা হয়েছে তার প্রতিবাদই কয় জায়গায় কে করেছে? কেউ না। মুসলিমরাও যখন দেখে ঘাতক এখানে মুসলিম তখন তারাও চুপ! পশ্চিমা বিশ্ব তো বটেই, ডাবল স্টান্ডার্ড দেখাইতে মুসলিমরাও পিছিয়ে নেই। মুসলিমরা যখন এক সাথে একমাত্র ইহুদিদের আকামের সময় চিৎকার করে তখন কেউ কেউ এর ভিতরে অন্য কিছু খুঁজে পায়। কেউ কেউ বলে মুসলিমদের রক্তের ভিতরে জিনের ভিতরে ইহুদি বিদ্বেষ ঢুকে আছে, তখন আসলে কিছু বলার থাকে না। এই বলার অধিকার সম্ভবত মুসলিমরাই দিচ্ছে। ... ...

আজকাল জেন্ডার ইকুয়ালিটি সব আলোচনার শীর্ষে কিন্তু সেদিন, সেই ইউরোপে এটা কোন বিবেচ্য বিষয় ছিলো না। তবে এটা মানতেই হয় সেই নয়ের দশকেই অ্যাংলো সাক্সন জগতে বিশেষ করে আমেরিকায় মহিলারা সম্মানের স্থান পেয়েছেন সবার আগে, তার পরেই যুক্তরাজ্যর স্থান। ট্যাক্সি ধরার জন্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। দরাদরিতে পরাস্ত হয়ে আমরা দুজনেই কিঞ্চিৎ বিমর্ষ। হঠাৎ মার্ক বললে, একটা জিনিস মানতে হবে তোমাদের দেশে মহিলারা কর্পোরেট জগতে যেখানে পৌঁছেছেন, জুরিখ জেনিভাতে হয়তো কোনদিন তা সম্ভব হবে না! বন্ডের দর কমে যাওয়ার মর্মবেদনা ভুলে গিয়ে ভারতীয় হিসেবে সেদিন খুব গর্ব হয়েছিল ... ...

"সাদাকো মাত্র বারো বছর বয়সে মারা গেছিল। নিশ্চয়ই ও আরেকটু খেলতে চেয়েছিল, আরেকটু পড়তে, আরেকটু খেতে, ওর বন্ধুদের সঙ্গে আরেকটু গল্প করতে চেয়েছিল...আরও কত্তো কিছু করতে চেয়েছিল ও! কিন্তু সে সব কিছুর স্বাদ নেওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেছিল ওর জীবন। ইচ্ছেগুলো, স্বপ্নগুলো সত্যি করার সুযোগ পাবে না বলে কত যে কষ্ট হতো সাদাকোর...!" সাদাকো সাসাকির দাদা মাশাহিরো যখন লেখেন এমন কথা লেখেন, তখন তাঁর শব্দের ভাঁজে ভাঁজে দেশকালসময়সীমানা সব পেরিয়ে আবারও কেমন যেন একাকার হয়ে যায় বড়োদের বাঁধিয়ে দেওয়া প্রতিটা অনর্থক যুদ্ধ আর অনন্ত হিংসায় বলি হতে থাকা অগুনতি অগুনতি শৈশব-কৈশোর! আজ ক'ঘন্টা পর আমাদের অনেকেই যখন উৎসবের রাজপথে হাঁটব, সেসময় আগুনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিছু দূর এক দেশে বেবাক থেঁতলে যাবে আরও কিছু অমলিন প্রাণ! আজকের এই লেখা অসময়ে ঝরে যাওয়া বা যেতে থাকা পৃথিবীর এমন প্রতিটি প্রাণের জন্য... ... ...

চেক জরা আর ফরাসি সন্ধ মিলিয়ে জরাসন্ধ ... ...

ছবিটি শুরু হয়েছিল কিন্তু বেশ সুন্দর করে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই সময়, ইতিহাসের সেই সন্ধিক্ষণের সেই উত্তাপ ভালমতই ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এরপর ছোট্র রেনুকে যখন গ্রামের পথ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাও খুব হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল, বিশ্বাসযোগ্যতার কোন ঘাটতি ছিল না চিত্রগ্রহণ ও অভিনয় শৈলিতে। কিন্তু এরপর যতই এগুতে থাকে ছবিটা, পাঠকের মনে আক্ষেপের কণা সঞ্চিত হতে হতে এমন স্ফীত আকার ধারণ করে যে, মুক্তিযুদ্ধের সিনে এসে দর্শক মুভিটা থেকে চোখ সরিয়ে নিজের স্মৃতিতে জমা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ভাবতে থাকে। ... ...

এটা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান তো নয়। এ তো সবাই করতে পারে। যে কোন ধর্মের লোক তার নিজের মতো করে তার পূর্বপুরুষদের কথা মনে করতেই পারে। আমাদের পূর্বপুরুষরা তৃপ্তি পাবেন কিনা জানি না, আমি তো নিশ্চিত পাব। ... ...

তাই তো ক্লডিয়ার নোবেল জিতে নেওয়া আমাদের মতো মহিলাদের কাছে বড় খবর। আমরা যারা একসাথে রাঁধতে আর চুল বাঁধতে গিয়ে হিমশিম খাই, যাদের খোঁপাও খুলে যায়, ফোড়নটুকুও পুড়ে যায়, ক্লডিয়ার গবেষণা তাদের কাছে নতুন উদ্যম এনে দিল। ... ...

যুদ্ধ হচ্ছে, যুদ্ধ হবেও। আজকাল দু'তরফের সমর্থনে অজস্র যুক্তি-কুযুক্তি-প্রতিযুক্তি শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে সব গুলিয়ে যায়! এলোমেলো মনের ভেতর আজকের নিহত-আহত-ক্ষতিগ্রস্ত প্যালিস্টিনীয় আর ইসরায়েলি শিশুদের আতঙ্ক আর অসহায়তার সঙ্গে কেমন করে যেন একাকার হয়ে যায় কোন ১৯৪৭ এর দেশভাগজনিত দাঙ্গায় সব হারানো শিশুদের কান্না আর অনপনেয় ক্ষতবোধ। ইতিহাস বা রাজনীতির ঠিক-ভুল, ন্যায়-অন্যায়ের সমস্ত হিসেব নিকেশের বাইরে, যুদ্ধ-দাঙ্গা-সন্ত্রাসের ভাগাভাগি ভেঙে, দেশ কাল সময়ের সমস্ত গন্ডি পেরিয়ে অগুনতি-অগুনতি অপাপবিদ্ধ, অনপরাধ শিশুর দেহমনের অন্তহীন যাতনার অন্ধকারই জীবনের বুকে মৃত্যুর মতো একমাত্রতম সত্যি হয়ে জেগে থাকে। আর কিচ্ছু নয়।। ... ...

সেই কোন মহাকাব্যের যুগের যশোমতী হয়ে রানি সুগন্ধা, দিদ্দা কিংবা কোটার প্রশ্নাতীত ঔজ্জ্বল্যের সামনে কিছুটা আবছা হয়ে থাকা সেই সকল সফল নারীদের কাহিনীও সংক্ষেপে ধরা রইল এই লেখাটির মধ্যে….।মহাকাব্যের যুগের রানি যশোবতী থেকে সুগন্ধা, দিদ্দা, কোটা রানির প্রশ্নাতীত ঔজ্জ্বল্যের সমুখে বিস্মৃতা মধ্যযুগের গুল খাতুন আর বিবি হাউরাদের মতো একের পর এক দাপুটে মেয়ে কখনও নিজেরাই সিংহাসনে বসে, কখনও বা কোন রাজার সহযোগিনী হিসেবে এক সুদীর্ঘ সময়কাল জুড়ে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন ভূস্বর্গ কাশ্মীরের রাজনীতিকে। পড়তে গিয়ে দেখেছি, এঁরা প্রত্যেকে একেক জন মূর্তিমতী আনকোরা আবিষ্কার। সব দিক থেকেই বড্ড আকর্ষণীয় এই মেয়েদের কথা সবার জন্য লেখার ইচ্ছেও ছিল অনেকদিন। যতটুকু খোঁজ পেয়েছি, তার বাবদে বলতে পারি মহারানি দিদ্দা সম্পর্কে খবরের কাগজে লিখিত ফিচার আর ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভয়ানক বাংলা অনুবাদ ব্যতিরেকে আমাদের মাতৃভাষায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাশ্মীরি রাজনীতির অবিস্মরণীয় মেয়েদের বিষয়ে সম্ভবত এই প্রথম লেখা হল। ... ...

২৬ বছর বয়সকালে নিজের কাশ্মীর রাজ্যের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য "চরণহীনা" দিদ্দাকে বিবাহ করলেন কাশ্মীররাজ ক্ষেমগুপ্ত। কাশ্মীরে এসে দিদ্দা যে দিকে তাকান, দেখেন তিনি কেবলই শত্রু দ্বারা পরিবেষ্টিত। দেখেন অত্যাচারী, দুশ্চরিত্র ক্ষেমগুপ্তের বকলমে রাজপাট চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তথা ক্ষেমগুপ্তের অন্যতমা রানি চিত্রলেখার পিতা ফাল্গুন। কিন্তু প্রবল বুদ্ধিমত্তার জোরে দ্রুত বাকি সকলকে সরিয়ে ক্ষেমগুপ্তের ওপর নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করলেন দিদ্দা। কাশ্মীরি রাজনীতিতে শুরু হল "দিদ্দার যুগ''...। ... ...

যশোবতীর পরে কাশ্মীরের সিংহাসনে বসেছিলেন রানি সুগন্ধা, রানি দিদ্দা, রানি কোটা। এর পাশাপাশি নাবালক রাজাদের অভিভাবিকা হিসেবে স্বাধীনভাবে রাজ্যচালনা করেছিলেন আরও অনেক হিন্দু এবং মুসলমান নারীও। তবে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের স্বীকৃতি সত্ত্বেও বিতস্তা তীরের জটিল রাজনীতিতে নারীদের এগোনোর পথ সুগম হয়নি কোনদিন। তবু তাঁরা দৃপ্তপদে এগিয়েছেন আর সকল প্রতিস্পর্ধার মুখোমুখি নির্ভীক দাঁড়িয়ে বুঝে নিয়েছেন তাঁদের ন্যায্য অধিকার। যশোবতীর বহু শতাব্দী পরেকার হলেও উৎপল বংশের রানি সুগন্ধার কাহিনীও বলে যায় সেই একই কথা…। ... ...

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "কাশ্মীরের ভূমি স্বয়ং পার্বতী। কাশ্মীর রাজ হলেন শিবের অংশ। রাজকর্তৃত্ব মন্দ হলেও মঙ্গলকামী জ্ঞানী মানুষের তাঁকে অবজ্ঞা করা অনুচিত। পুরুষের যে চোখগুলি নারীকে সুখভোগ্য পণ্য মনে করে তাঁর দিকে অসম্মানসূচক দৃষ্টিপাত করত, তারাই তাঁকে প্রজাদের দেবীস্বরূপা মাতা হিসেবে গ্রহণ করল।" এই উক্তির সূত্র ধরে আসুন এই লেখায় আমরা ভূস্বর্গ কাশ্মীরের মহাপরাক্রমশালিনী শাসিকাদের কাহিনী পাঠ করে দেখি। ... ...

কিন্তু গপ্পো না হলেও, মোটা দাগের ঘটনাবলীও কম রোমাঞ্চকর নয়। এর পরের বছর, অর্থাৎ ৫৪ সালেই ঘটে আরও এক কান্ড। সিনেমা নিয়ে নেহরুর ধারণা এবং তাতে সোভিয়েত মদতের কথা আগেই বলা হয়েছে। এর আগে থেকেই সেই ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। অর্থাৎ জনপ্রিয় সিনেমা হবে, কিন্তু তাতে শ্রমিক-কৃষক সংক্রান্ত 'বাম' ধারণা গুঁজে দেওয়া হবে। ১৯৫১ সালে এই ঘরানার প্রথম দিকের একটা ছবি রিলিজ করেছিল, যার নাম আওয়ারা। এর চিত্রনাট্যকার ছিলেন, খাজা আহমেদ আব্বাস, যিনি একাধারে আইপিটিএর লোক, নেহরুর খুবই ঘনিষ্ঠ, ক্রুশ্চেভের সঙ্গে ভুল রাশিয়ানে আড্ডা দেন, গ্যাগ্যারিনে মহাকাশ থেকে ফিরলে যেকজন প্রথম দেখা করেন তাঁদের মধ্যে একজন, এবং সর্বোপরি ৪৮ সালের পার্টি-লাইনে বিরক্ত - এই প্রকল্পের পক্ষে আদর্শ। তিনি এবং রাজকাপুর দুজনেই "আওয়ারা" সিনেমাটাকে "প্রগতিশীল" বা "ভবঘুরে জন্মায়না, তৈরি করা হয়" জাতীয় আখ্যা দিয়েছিলেন সে সময়। এবং বস্তুত চিনে এক ঝটিকা-সফর সেরে এসে আব্বাস এই সিনেমায় হাত দেন। এর পরের বছরই তিনি বানান রাহি। আওয়ারা ছিল হিট এবং রাহি ফ্লপ। ... ...