
ধর্ষণ বলতে যেহেতু আমরা পুরুষ কর্তৃক অনিচ্ছুক নারীদেহের দখল নেওয়া বোঝাচ্ছি, পুরুষের মনোভাব এবং চিন্তাধারার পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তবে সে কতো যুগের কতো সাধনার ফল তা জানা নেই। তথাকথিত শিক্ষার দৌড় দেখা হয়ে গেছে মি টুর দৌলতে। অন্তর্জালে যে পরিমাণ রেপ থ্রেট দেখা যায় তাতে মনে হয় মেয়েদের শায়েস্তা করার ঐ একটি পদ্ধতিই আমাদের শেখা। খুবই লজ্জা হয় যখন দেখি রেপিস্টের ধর্ম তুলে সেই ধর্মের নিরপরাধ মেয়েদের ধর্ষণ করবার ডাক দেওয়া হয়। চিত্তশুদ্ধির প্রচেষ্ট জারি থাকুক, আপাতত আর কিছু করতে না পারি রাষ্ট্র প্রশাসন এবং সমাজের ঘাড় নোয়ানোর জন্য আমরা সমস্বরে চিৎকার তো করতে পারব। সমস্ত ট্যাবু ভেঙে ফেলে প্রত্যেকটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রবল আলোচনা,উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, চেঁচামেচি। ধর্ষণকে ঘিরে থাকা বোবা নৈশব্দকে ভেঙে ফেলে একেবারে অনর্থ করা যাকে বলে। আমরা এখন পরিষ্কার জানি ধর্ষণ শুধু লালসার কারণে হয়না। মেয়েদের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবার একটি হাতিয়ার এটি। ... ...

উপরের স্তরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অনেকেই আবার এইসব দুষ্টচক্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, একথা বললে বোধহয় ভুল হবে না। এদের অনেকেই রোগী দেখার ন্যায্য প্রাপ্য অর্থের ওপর মোটা লভ্যাংশ বা কমিশন পেয়ে থাকেন রোগীকে ভর্তি করা, (এড়ানো সম্ভব এরকম) অস্ত্রোপচার, এবং কতদিন রোগী ভর্তি রইলেন, তার ওপর। হাসপাতালের স্বার্থ এবং বরিষ্ঠ চিকিৎসকদের স্বার্থ এক্ষেত্রে এক হয়ে যায়। বৈদ্যুতিন চ্যানেলে ঘনঘন মুখ দেখানো বেশ কিছু চিকিৎসক হাসপাতালগুলির আংশিক মালিকানা ভোগ করে থাকেন মেডিকেল ডিরেক্টর হিসেবে। কিছুদিন আগে ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯১ জন রোগী এবং ২ জন সেবিকার মৃত্যু ঘটেছিল। সে স্মৃতি আজও মলিন হয়ে যায়নি। প্রাথমিক গ্রেপ্তারি এবং মামলা-মোকদ্দমার পর হাসপাতালটির মালিকানার হস্তান্তর ঘটেছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কারও শাস্তি হয়নি। ঐ সময় জানা গিয়েছিল, অতি-প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক ডা. মণি ছেত্রীর নামেই ঐ হাসপাতালের লাইসেন্স, এবং তিনি ঐ হাসপাতালের একজন অংশীদার। ফলে তাঁকে কিছু দিনের জন্য কারাবরণ করতে হয়। এইরকম বহু মেগা-বিশেষজ্ঞ কার্যত কর্পোরেট হাসপাতালগুলির আংশিক মালিকানা ভোগ করেন, যদিও বিষয়টি প্রায়শ গোপনে থাকে। ফলে হাসপাতালের লভ্যাংশ নেব অথচ দুর্নীতির দায়ভাগ নেব না— এ প্রায় দস্যু রত্নাকরের পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ... ...

আমরা এক পা এগোলে হিন্দুত্ববাদীরা পাঁচ পা এগিয়ে যায়। ফলে আমরা যারা এতদিন সিএবি এর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে তার বিরোধিতা করেছি, শীতকালীন অধিবেশনে যে ভার্সনটি বিজেপির নিয়ে আসবার কথা তাতে সেই বিরোধিতার প্রসঙ্গগুলি হিসেব করেই আনা হবে বলে আমার ধারণা। ২০১৬ সালের বিলটি অবিকৃতভাবে আবারও রাজ্যসভায় এবং লোকসভায় পেশ করা হবে, এই অনুমান ভুল প্রমাণিত হতেই পারে। গতবারের বিলটিতে লেখা ছিল যে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত এবং পাকিস্তান বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান এর নাগরিক মানুষদের এদেশ থেকে পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে না এটুকু মাত্র। এই বিলে খুব সম্ভাবনা যে কোনও ভাবে নাগরিকত্ব প্রদানের সম্ভাবনার বিষয়টি যুক্ত করা হবে, আইনের ফাঁকফোঁকর রেখে। তাহলে বিরোধীদের মুখ অনেকটা বন্ধ করে দেওয়া যাবে। আমরা প্রথম থেকে প্রশ্ন তুলে আসছি যে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার সময় একজন মানুষ এবং তার পরিবার কি প্রমানপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে পারে যাতে সে প্রমাণ করতে পারে যে তারা এই তিনটি দেশের নাগরিক ছিলেন, ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়েছিলেন এবং তারা এই অমুসলিম? হতেই পারে যে এতদিন যা গ্রাহ্য করা হয়নি সেই সেল্ফ ডিক্লারেশন বা এফিডেভিট কে গ্রাহ্য নথি হিসেবে মেনে নিয়ে এদেরকে আপাততঃ এ দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হলো। তাহলেই তো অনেকগুলি বিরোধিতার জায়গা দূর হয়ে যাবে। ... ...

লোকায়ত প্রভাবের জন্য অথর্ব বেদে অসুর, প্রেত ইত্যাদির প্রাধান্য ছিল। এজন্য এসময় অব্দি প্রধানত ছিল আয়ুর্বেদ ছিল “দৈব ব্যাপাশ্রয় ভেষজ”। পরবর্তীতে বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে এবং আরো অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে আয়ুর্বেদে ধীরেধীরে ত্রি-দোষ তত্ত্ব এলো – বায়ু, পিত্ত ও শ্লেষ্মা। এ তত্ত্বে রোগের উদ্ভব দেহের অভ্যন্তরে বলে বিবেচিত হল, কোন ভূত-প্রেত বা অজানা শক্তির বাহ্যিক প্রভাবে নয়। উত্তরণ ঘটলো “যুক্তি ব্যাপাশ্রয় ভেষজ”-এ। এখানে বায়ু, পিত্ত ও শ্লেষ্মার প্রকোপ হ্রাস ও বৃদ্ধির সাথে খাদ্য ও অনুপানের নিবিড় সম্পর্ক চিকিৎসকেরা গভীরভাবে অনুধাবন করলেন। উদ্ভিদ জগতের প্রায় সমস্ত ভক্ষ্য বস্তুর মধ্যে এই শাকগুলোও ছিলো। (প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হবে, প্রাণীজ ঔষধির মধ্যে মোষ, গরু, বরাহ, ময়ূর, খরগোশ, বেজি ইত্যাদি সমস্ত প্রাণীর মাংস খাবার নির্দেশ রয়েছে চরক সংহিতায়, বিভিন্ন রোগ সারিয়ে তোলার জন্য।) লৌকিক বিশ্বাসে কিছু উদ্ভিজ খাদ্য দেহের উপকারের জন্য গৃহীত হল। পিতৃপুরুষের মঙ্গলকামনায় এবং খারাপ ভূতদের তাড়ানোর জন্য এরা প্রচলিত হল ১৪ শাক হিসেবে। ... ...

দুখানা বাঁদর। শেকল দিয়ে বাঁধা। শেকলের এক প্রান্ত আটকানো মেঝের সাথে। বাঁদরগুলো বসে আছে একখানা ছোট জানালার ওপরে। সম্ভবত জেলখানার কুঠুরি - অন্তত জানালার ধাঁচ তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাঁদরগুলো যেখানে বসে, সেই জানালায় ইতস্তত ছড়িয়ে আছে বেশ কিছু বাদামের খোলা - বাঁদরগুলো বাদাম খাচ্ছিল। আমি ছবিটা দেখছি এই জেলখানার কুঠুরির মধ্যে দাঁড়িয়ে। একখানা বাঁদর তাকিয়ে আছে আমার দিকে। বিষণ্ণ, সম্ভবত - অবশ্য সে আমার ভুলও হতে পারে। আরেকটি অন্যমনস্ক - মাথা ঝুঁকিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে - আমার সাথে চোখাচোখি হতে পারছে না তেমন একটা। ... ...

রামজনমভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে শীর্ষ আদালতের ৫ সদস্যের বেঞ্চের রায়ে যা বলা হয়েছে, এই কথাটাই তো ৩০ বছর আগে বলেছিলেন এল কে আদবানি। তখনও মসজিদ ভাঙা হয়নি, ১৯৮৯ সালে তাঁর সমাধানসূত্র ছিল মসজিদকে তুলে নিয়ে গিয়ে (রিলোকেট) নতুন জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হোক, আর সেই জায়গায় মন্দির তৈরি হোক। মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পর, আদবানি একদিকে বলেছিলেন, সেদিনটা (৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২) নাকি ছিল (মাই কান্ট্রি মাই লাইফ) তাঁর জীবনের সব থেকে দুঃখের দিন। আর বলেছিলেন, ভারতে এমন কোনও রাজনৈতিক দল নেই যে দল প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে পারে যে তারা ক্ষমতায় এলে নতুন করে ওই খানেই বাবরি মসজিদ তৈরি করে দেবে। শনিবার, ৯ নভেম্বর, শীর্ষ আদালতের রায় শোনার পর এই কথাগুলোই মনে পড়ে গেল। ... ...

পুরুলিয়ার তেলকুপি এক ঘুমন্ত গ্রাম। পুজো নেই, ঢাকের বাদ্যি নেই, তবে মেলা কাশফুল। এখানে গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে গ্রামবাসী নিজে থেকেই বলতে থাকেন, এই হলো গে প্রাচীন তৈলকম্প গ্রাম, হাজার বছর আগে শিখর রাজবংশের রাজধানী। ঐ যে দেখছেন নদীগর্ভে অর্ধপ্রোথিত দেবালয় ওই হ'লো মা মহামায়ার মন্দির। ওই যে বেনাঘাসের বনে মাথা উঁচু ক'রে আরেকটি, ওটি ভৈরবের থান। আমি জিতেন মাঝিকে বলি, কতো নেবে দাদা নৌকো ক'রে মহামায়ার মন্দিরে যেতে ? একথা জেনেই বলি যে আসলে এইগুলি সবই জৈন দেউল। কালের প্রকোপে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের বলশালী দেবতার চাপে কখন হিন্দুমন্দিরে পরিণত হয়েছে কেউ জানে না। নৌকা যখন চড়ায় ঠেকে, মন্দিরের ভেতর ঢুকে দেখি কোন দেবতা নেই, কিন্তু স্থানীয় অর্চনার ছাপ আছে তেল সিঁদূরে। জিতেন বলে এইরকম অনেক মন্দিরে পশুবলিও দেওয়া হয়। ... ...

এটার নাম সোনা-অষ্টমী। মানে সোনাগাছির অষ্টমী। এমনিতেই সারা বছর দ্যাখনদারি রোশনাইতে ভরে থাকে হিজবিজবিজ গলিগুলো। অষ্টমীর দিন তার যৌবন যেন ফেটে পড়ে, কী উদ্দাম, আর কী নিষিদ্ধের প্রতি আকর্ষণ ! এতো সুন্দর মুখ, ঝলমলে সাজ আর পালিশ করা কথা ! স্বপ্নাকে আধো অন্ধকারে মনে হচ্ছে যেন কোনো রাণী। এই গলি যেখানে বড় রাস্তায় মিশেছে সেখান থেকেই শুরু ছোট ছোট টুনি বালবের চাঁদোয়া। তার আভা এসে ওর গালে পড়েছে। তালাবন্ধ আপনে আপের সেন্টারের দেওয়ালে হেলান দেওয়া মেয়ে অষ্টমী পুজো উদযাপন করবে ব'লে খদ্দেরের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ... ...

এই পুজোতে একজনের কষ্টের কথা শুনে যেন চোখের কাজলের মতো আরো ঘোরা কৃষ্ণবর্ণা হয়ে গেলেন দেবী। তার সঙ্গে আমার আলাপ তো বেশি দিনের নয়। তার গায়ের রঙ কুমারী গাছের ছায়ার মতো, বসন্তের শুরুতে যার ঝাঁকড়া মাথা জুড়ে নতুন পাতার রঙ হয় টকটকে লাল। সে মেয়ের চোখেমুখে কষ্টের কালি। স্বামী সন্তান ঘর, সব সে খেইয়ে লিয়েছে গ্য। সে এক আস্ত ডাইন। পিনাকী মিত্র বললো অন্য মানুষের পুজোর গল্প চাই, তাইতে আমার মনে পড়ল ফুলকুমারি মেঝেনের কথা। পুরুলিয়ার ফুলকুমারি। তার হাত ধরে গল্প করার সময় একবারও তো মনে হয়নি সে নাকি এক সব-খাওয়া ডাইন, যার নামে তার গ্রাম তো গ্রাম, আশেপাশের গ্রামগুলিও ভয়ে কাঁপে। ... ...

না, শিল্পী কখনই সাংবাদিক নন - নিত্যকার ঘটনার জার্নাল মেইনটেইন করা তাঁর অবশ্যপালনীয় দায় নয়। তাঁর মনের মধ্যে আসা দৃশ্যকল্পকে তিনি রঙতুলি দিয়ে ধরেন কাগজে, ক্যানভাসে। কিন্তু, সেই মনের মধ্যে আসা দৃশ্যকল্পে সমকাল, পারিপার্শ্বিক হানাহানি, মানুষের অসহায়তা, সমাজের গরিষ্ঠ অংশের অনিশ্চয়তা ঠাঁই পাবে না এতটুকু? ছবিতে শুধুই ফুটে উঠতে থাকবে শিল্পীর সমকালবিমুক্ত অন্তর্দর্শন (শিল্পীর অন্তর্জগত যদি সমকালীন সঙ্কটে আলোড়িত না হয়, তাহলে সেই অন্তর্দর্শন তো নিছক আত্মকেন্দ্রিকতা), কিম্বা স্বপ্নের নারী, অথবা দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতিদৃশ্য? এ কী তাঁদের অন্তর্জগতের যথার্থ প্রতিফলন? নাকি, তাঁরা সর্বার্থেই এমন অন্তঃসারশূন্য হয়েছেন, যে ক্লিশে বিষয় বাদ দিয়ে কিছুই আনতে পারেন না ক্যানভাসে? ... ...

কী ঘটেছিলো সেই রাতে কুপওয়ারা জেলার এই জনবিরল গ্রামদুটিতে ? অভিযোগ করা হয়েছে, কাছাকাছি কোথাও সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে রাতের বেলা রাজপুতানা রেজিমেন্টের সামরিক উর্দিধারীরা তল্লাসির নামে ঘিরে ফেলে গোটা গ্রাম। সাধারণ আবালবৃদ্ধবনিতাকে ঘেরাও করে রেখে চালানো হয় নির্বিচার ধর্ষণ। বৃদ্ধা থেকে বালিকা প্রায় একশ কাশ্মিরী নারী এই লালসার শিকার হয়। পরবর্তীতে মেয়েরা স্বাভাবিক ট্যাবু ঝেড়ে বার বার অভিযোগ করা সত্ত্বেও সৈন্যবাহিনীর অস্বীকার করাকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়া হয় এবং এই অভিযোগকে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ... ...

মিছিল শেষে বাড়ি এলাম এই। পা দুটো ব্যথা করছে, গলা চিরে গেছে, হাততালি দিয়ে দিয়ে হাত দুটো লাল। মা দরজা খুলে দিয়ে একটু কটমট করে তাকাল, কিন্তু আমি হাত পা ধুয়েই রান্নাঘরে ঢুকে চায়ের জল চাপিয়ে দেওয়ায় আর বেশি রাগ দেখাল না। টেবিলের একপাশে বসে মা খাতা দেখছে, আমি মাকে চা দিয়ে নিজের কাপটা নিয়ে অন্যদিকে বসলাম। সারাদিন ফোনটার দিকে তাকাই নি আজ, দুটো একটা ছবি তোলা ছাড়া। ছবিগুলো দেখলাম ভালোই হয়েছে, যদিও তোলার সময় থরথর করে কাঁপছিলাম রাগে। শেয়ার টেয়ার সেরে গ্রেটা থানবার্গের নতুন স্পিচটা দেখব বলে হেডফোন গুঁজছি কানে, মা একবার মুখ তুলে তাকাল। এটার মানে সবই তো হল, পড়তে কখন বসবে? আমিও চোখ নামিয়ে প্লে করলাম, মাত্র কয়েক মিনিটের স্পিচ, মা মুখ খোলার আগেই হয়ে যাবে। রাগে মুখ চোখ লাল হয়ে গেছে গ্রেটার, এতটাও আগে দেখিনি কখনো। ... ...

উর্মিমালা বসুকে 'কামপন্থীদের নতুন যৌনদাসী' অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে। এত শুদ্ধ একটা বাংলা বানান-টানান ঠিক রেখে লেখার জন্য লেখককে অভিনন্দন। তবে কিনা লোকের কালো মনে সাদা নেই – লেখককে বা লেখকের অভাবে তাঁর পোষিত রাজনৈতিক দলকে ফুলের তোড়া পাঠানোর বদলে আমরা রেগে উঠলাম। এত অপমান! মেয়ে বলেই এসব শুনতে হবে! ... ...

সুজিত মিনজকে মারলো কে সে এক বিশাল ধাঁধাঁ। যে ঘরে তার আধপোড়া শরীর পাওয়া গেল সেটা বেদান্তের ক্যাম্পাসের একেবারে ভেতরে সিসিটিভি রুম হিসেবে ব্যবহার হয়। মৃতদেহের হাত পা লোহার তার দিয়ে বাঁধা ছিল। দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হলে এরকমটি হবার কথা নয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আন্দোলনকারীরাই তাকে মেরেছে। কিন্তু সুজিত মিনজ ডোঙারিয়াদের ঘরের লোক। স্বজাত। পেটের দায়ে বেদান্তে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতো। তাকে মেরে আন্দোলনকারীদের কী লাভ। ... ...

ছবিটি প্রথম দর্শনে যতটা সরলরৈখিক দেখায় ততটা একতলবিশিষ্ট আদপে নয়, এবং ঠিক সে কারণেই পরিসর বা বিনির্মিত বিষয় বৈচিত্রে গাঢ় মনোযোগ ও বিশ্লেষণ দাবী করে। ছবি দেখে ফেলার পর যে চিন্তা ভাবনার অবশ্যম্ভাবী বুদবুদ ধীরে ধীরে আচ্ছন্ন করে দর্শকের মন এবং মগজকে। তার এক সুদূরপ্রসারী আমেজ আর কথাজাল তৈরি হয়। অনেকটা সময় ধরে সে আমেজের বিস্তার, অনেকগুলি কথামুখের ধাপে তার অবধারিত আলোকপাত। মানসমুকুলের গপ্প তৈরি করার উপাদান অথবা গপ্পের বুননের ধরন, তার বাধাহীন এগিয়ে চলা, বাঁক নেওয়া বা ন্যারেটিভের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে উপনীত হওয়া, সমস্তটাই মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় গল্পের মেজাজ, অনুভূতির ভিত্তি এবং বিষয়ের সংগে। বলার ধরন এবং কি বলা হচ্ছে সেই বিষয়ের সনির্বন্ধ সমণ্বয়ে যে অভূতপূর্ব নির্মাণ প্রকল্পের ছায়াপ্রতিমা ক্রমপ্রতীয়মান হতে থাকে এই আপাত সহজ অথচ গভীর চলচ্ছবি-আখ্যানের সরল দ্রুতির চালে ছন্দে, বিষাদে, হরষে – সেই একান্ত শিল্পরূপটিই সহজ পাঠের গপ্প-কে চলচ্চিত্র হিসেবে একুশ শতকের বাংলা সংস্কৃতির চালচিত্রে অসাধারন করে তুলেছে। ... ...

চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন (যার অনেকগুলোই গড়ে উঠেছে লাগাতার চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিক্রিয়ায়) পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন যে বিগত দেড় বছরে নানা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নার্সিংহোম বা ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুর লাঞ্ছনা এবং নিগ্রহের ঘটনা একশো ছাড়িয়েছে। মহিলা চিকিৎসকরাও বাদ যাননি এর হাত থেকে। মেদিনীপুরের ডেবরায় এক চিকিৎসকের মুখে মানুষের বিষ্ঠা মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন প্রবীণ চিকিৎসক অপমানের ভয়ে ও পেশার চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। বহু সরকারি চিকিৎসক চাকরি ছাড়তে উন্মুখ, এবং অনেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করে কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে চিকিৎসকদের সংগঠনের বিবৃতিতে জানা গেছে। কিন্তু সরকার তাদের পদত্যাগ করার বা স্বেচ্ছাবসরের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করেছেন। চিকিৎসকদের আরও অভিযোগ যে সরকারি ডাক্তারদের নিরাপত্তা দেয়া দূরে থাক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাসক দলের স্থানীয় নেতানেত্রীরা এই গণপিটুনির প্রধান পরামর্শদাতা ও চালিকা শক্তি। ... ...

ডেভিড ওয়ার্নার যখন ১৯৬০-৭০-এর পশ্চিম মেক্সিকোতে হতদরিদ্র জনজাতির মাঝে একেবারেই স্থানীয় সম্পদ ও জনতাকে ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের বোধ ও এর জন্য আন্দোলন গড়ে তুলছেন তখন তাঁকে সম্মিলিত ল্যান্ড ব্যাংক-ও গড়ে তুলতে হচ্ছে দারিদ্র্যের মাত্রা হ্রাস করার জন্য। সেসময়ে তাঁর স্বাস্থ্য আন্দোলনের বৃহৎ প্রতিবন্ধক হয়ে উঠছে নাফটা বা North American Free Trade Agreement। নাফটা মেক্সিকো সরকারকে চাপ দিচ্ছে যাতে এদের বীজ ও প্রযুক্তি অবাধে ব্যবহার করা যায়। এবং এ ঘটনা ঘটাতে পারলে জমি ব্যাংক উঠে যাবে, কৃষক আবার ঋণের জালে জড়াবে, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অস্তিত্বও থাকবে না। এরকম সহজবোধ্য কারণে জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনুষঙ্গের মাঝে বিভাজন রেখা টানা নয়া অর্থনীতির প্রবক্তাদের জন্য খুব জরুরী হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি প্রবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে যে আমেরিকা ইরাকে যুদ্ধের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে প্রস্তুত, কিন্তু এইডস, যক্ষা এবং ম্যালেরিয়ার মোকাবিলার জন্য তৈরী Global Fund-এ মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার দেয়। ... ...

সাবেক এমসিআই নিয়ে হাজার অভিযোগের মধ্যেও একটা স্বস্তি ছিল - সেফটি ভালভ-ও বলতে পারেন - যে, তার প্রতিনিধিরা নির্বাচিত, চিকিৎসকদের ভোটে নির্বাচিত। ঠিক যেমন, দেশের হাল নিয়ে যত আক্ষেপই করি না কেন, গণতন্ত্রের শক্তির উপর আমাদের আস্থা সদা অটুট। আমরা আশা রাখি, বেশী বাড়াবাড়ি করলে সেই নেতাকে আমরা ভোটে হারিয়ে ক্ষমতাহীন করে ফেলতে পারব - না, শেষমেশ পেরে উঠি না হয়ত - কিন্তু, এই আশাটা একটা বড় জোরের জায়গা, এবং নেতারাও কোনো এক জায়গায় সচেতন থাকেন, যে, পরের দফায় তো ভোটে জিতে আসতে হবে। এনএমসি বিল সেই আস্থার জায়গাটাই ভেঙে দিয়েছে। প্রস্তাবিত কমিশনের বেশীর ভাগ সদস্যই হবেন কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও সেই কমিশনে নিয়মিত ভিত্তিতে অধিকাংশ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকার অবকাশ নেই। রাজ্যের প্রতিনিধিরা যেখানে থাকবেন, তাঁদের ভূমিকা মূলত পরামর্শদাতা বা উপদেষ্টার - সেই পরামর্শ অনুসারে চলতেই হবে, কমিশনের এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ... ...

নতুন একটি অগণতান্ত্রিক, অবৈজ্ঞ নিক, দমনমূলক, জনবিরোধী বিল আনতে চলেছেন দেশের সরকার বাহাদুর। অনেক দোষ-ত্রুটি সত্বেও মেডিক্যাল কাউন্সিল কিন্তু একটি নির্বাচিত স্বশাসিত সংস্থা। নতুন ব্যবস্থায় নির্বাচিত কাউন্সিলের বদলে আসবেন সরকার মনোনীত আমলারা। দেশের স্বাস্থ্যনীতির নির্ধারক হবেন প্রধানত সরকারি আমলারা এমনকি এই কমিশনের সর্বোচ্চ পদেও থাকবেন একজন অচিকিৎসক। মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ইউনানী, ম্যাগনেটোথেরাপি মিশিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে এক হাঁসজারু ভয়ংকর চিকিৎসাব্যবস্থা। তিনসপ্তাহের ব্রিজ কোর্সের মাধ্যমে একজন আয়ুষ চিকিৎসক পেয়ে যাবেন মডার্ন মেডিসিনের ওষুধের প্রয়োগাধিকার ! এটা তাঁর নিজের অধীত শাস্ত্রের প্রতি চরম অনাস্থা ও অপমান তো বটেই, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দ্বার প্রশস্ত করা। মেধাভিত্তিক ভর্তির প্রথাকে পেছনে ঠেলে খুলে দেয়া হবে বেসরকারি, ক্যাপিটেশন ফি ভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের দরজা। ... ...

সরকারী মতে জনজীবন “স্বাভাবিক”। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও জীবনদায়ী ওষুধ পর্যাপ্ত। বেবিফুডেরও স্টক যথেষ্ট। সরকারী সুত্রে এও জানানো হয় যে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ওষুধ আগস্ট ৫- ২৫ তারিখের মধ্যে দোকানগুলোতে পৌঁছেছে। বেসরকারী খবর অতটা আশাপ্রদ নয়। ওষুধের দোকান, স্টকিস্ট আর ডিপোর মধ্যে যোগাযোগ নেই কোন। ওষুধের অর্ডার দিতে পারছেন না দোকান-মালিকেরা। অর্ডার যেখানে দিতে পারছেন, সেখানেও মিলছে চাহিদার থেকে অনেক কম। যেসব জীবন-দায়ী ওষুধকে তাপমান-নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হয়, সেগুলো ঠিকমত কোঅর্ডিনেশনের অভাবে ওয়্যারহাউসে বিনা-রেফ্রিজারেসনে পড়ে থেকে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে – মানুষের কাজে লাগে নি। শ্রীনগরের অবস্থা যদিবা মন্দের ভালো হয়, বাইরের দিকে যে কি অবস্থা তা কল্পনাতীত। আগস্টের ৫ তারিখের পর থেকে সেখানে কোন ওষুধ যেতে পারে নি। ইনহেলার, ইনসুলিনের মত ওষুধও সেখানে অমিল – পাওয়া যাচ্ছে শুধুই অ্যান্টিবায়োটিক। সঠিক তথ্য পাওয়া এখন অসম্ভব। ... ...