
মা হজ্জ্বে যাবেন। মায়ের সাথে আমার দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিলো নভেম্বরের শেষে। কিন্তু বাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাবা বারণ করলেন তখন যেতে, বললেন, এখন এলে আটকে পড়বে। প্রায় প্রতিদিনই হরতাল আর অবরোধ। এই সময়ে এসো না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আসার দরকার নেই। আসার দরকার নেই, শব্দটা বেশ পীড়াদয়ক। বাপের কাছেও যেমন তেমন মেয়ের কাছেও। ডিসেম্বরের ১৫তারিখে মায়ের ফ্লাইট ছিল। সেটি ক্যানসেল হয়ে যাওয়ায় যাত্রাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবশেষে তারিখ পড়ে ২৯শে ডিসেম্বর। আগে থেকে ঠিক করা হজ্জ্ব প্রোগ্রামের সব কিছু ওলট পালট হয়ে যায়, বেশ ভোগান্তি হয় মায়ের। মায়ের ফেরার সময়ে আমি যেতে পারিনি নিজের কিছু অসুবিধে থাকায়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভিসার জন্যে পাসপোর্ট জমা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসে গিয়ে দেখি তিন সারির লম্বা লাইন। ... ...

আমি পুরুষ বলিয়া আমার একটি লিঙ্গ আছে। এবং একটি লিঙ্গ আছে বলিয়া আমি পুরুষ। এই দুইটি বাক্যের আপেক্ষিক সত্যাসত্য সম্পর্কে কূটতর্কে না গিয়া বলা যাইতে পারে মূলত: লিঙ্গের ব্যবহার দ্বিবিধ- প্রস্রাবত্যাগ এবং বীর্যক্ষরণ। এই প্রকৃতিদত্ত একনলা বন্দুকটিকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের জন্মগত অভ্যাস। সর্বপ্রকার আচ্ছাদন খুলিলেও লিঙ্গের ক্ষেত্রে আমরা এ মোহ আবরণ খুলিতে কুন্ঠিতবোধ করি। নান্দনিকতার প্রশ্রয় বিনাও ইহা স্বাভাবিক কারণ ইহা আমার আত্মপরিচয়। নারীগণের যোনি আবরণ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তবুও আক্রান্তের সুরক্ষা এবং অস্ত্রের সুরক্ষার মধ্যে যৎকিঞ্চিৎ পার্থক্য করিলে ক্ষতি নাই। ... ...

বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে ভারতের অংশগ্রহণের প্রধান যোগসূত্র হিসেবে যখন স্বীকৃত হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির মত মেধাভিত্তিক শিল্প, তখন কৃষি বনাম শিল্প : রাজ্য স্তরে এই বিতর্ককে কেন্দ করে রক্তাপ্লুত চাপান উতোর বড়ই বেমানান। বুঝতে অসুবিধা হয়, কৃষি অর্থনীতিকে কেন উন্নয়নের বিপুল কর্মযজ্ঞে নিজের জায়গা করে নিতে এত বেগ পেতে হচ্ছে। কৃষিজমিকে নিয়ে কাজিয়ার গল্পটা এতাবৎ আমরা কৃষি সমাজের শ্রেণীবিন্যাসের মধ্যেই আবদ্ধ দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। জোতদার-বর্গাদার বা মধ্যচাষি-ভূমিহীন চাষির চিরন্তন দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে মুছে দিয়ে কৃষি ও শিল্পের দ্বান্দিকতায় দেশের ইসিহাস যে আবার অবগাহন করবে তা আমাদের হিসেবের মধ্যে ছিল না। ... ...

দুটো দিনে সবাই মালগাড়ির চেন ঝোলানোর শব্দ একটু না একটু শুনতে পেলো। যে যেখানেই থাক, খানিকটা টংলিং টংলিং সব্বার কানে..... দুটো দিনে। ঠিক এক মাস দশ দিনের দূরত্বে। পায়েস রাঁধার দিন,ধূপ জ্বালানোর দিন। কাছাকাছি। মোটে এক মাস দশ দিনের দূরত্বে। লীলা মজুমদার; বন্ধ চোখের পাতার তলায় ঝাঁপতাল ফিসফিসিয়ে থেমে যায়;কোথায় একটা মালগাড়ি টংলিং থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে; হয়তো একটা বর্মীবাক্স আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। জলমানুষ ফিরে যায় তার মায়ের কাছে। এক্ষুনি, অনেকগুলো ছোটবেলার মনে পড়ছে গাঢ় হাসির মধু রঙা লীলা মজুমদারীয় রসকে,যার মধ্যে দিয়ে টলটলে আশাবাদীত্ব মনের মধ্যে চুঁইয়ে যেতো। অনেক গুলো লাল নীল ছোটবেলা... ... ...

এখন চারিদিকে বসন্তের বাতাস বিশ্বাস ভাঙ্গার গন্ধে ভারী হয়ে আছে, ক্রমাগত পাড় ধ্বংস হবার আওয়াজের মাঝে নদীর চড়ায় জেগে উঠছে না কোনো বিকল্প আশ্রয়ের জায়গা, নন্দীগ্রামের তাজা ঘা এখনো শুকোয়নি। বাদ-প্রতিবাদের রাজনীতিতে লাশের সংখ্যাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কতগুলো মানুষকে মারলে পরে তবে গণহত্যা বলা যায় তাও প্রশ্ন উঠছে আনাচে কানাচে। তা চলুক, আমরা বরং চোখ রাখব খুব একটা সাম্প্রতিক ঘটনায়, নন্দীগ্রাম কান্ড উত্তর সময়ে মনে রাখেনি হয়ত বেশি কেউ, এই অস্থির বেদনাময় সময়ে ছোটখাটো অন্য অনেক ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখলেও নিউরন ফেল মেরে যায়, কিন্তু তাতে বিষয়টি পাল্টায় না, পাল্টে যায় শুধু বলার ভঙ্গী। ... ...

বলার বেশি কিসু নাই। কল্পনা লাজমী একটি নাটক বানায়েছেন - স্টেজ ভাড়া করা আর মহড়া প্রদর্শণী ইত্যাকার স্বল্পস্থায়ী নশ্বর ঝামেলায় না গিয়ে ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে বলে দিলেন - লে:, নাচ। চিত্রনাট্য লিখিয়ে ভদ্রলোক নেহাৎ কবি, অন্তত তাঁর মনে এই বুজকুড়ি অবিরাম উদ্বেল - আমি কবি যত বেশ্যার আর পিওনের আর পুরোহিত গোদা-লেঠেলের। ক্বচিৎ আগেও সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন, নাটক বা কবিতা ছাড়া, জানতে পারলে মাক্কালীর কিরা ফ্যাতাড়ুর বোম্বাচাক লেগে যাবে। সিকি ল-অ-অ-অ-অ-ম্বা ডায়লগ রে কাকু! বলেই যাচ্ছে বলেই যাচ্ছে, রেগে যাচ্ছে, কেঁদে যাচ্ছে, ফুলে-ঝুলে-তুলতুলে তবু দাঁড়ি নাই, সব আছে, শুধু থামা নাই - নদী আপনবেগে পাগলপারা। আর গাঁত? পাগোল !! ... ...

"আমাদের ছেলে রাজনকে এটা দিয়ো। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।" এরপর ও (রাজনের মা) আর একটিও কথা বলেনি। শীতল মৃত্যু তাকে ততক্ষণে ছুঁয়ে ফেলেছিল। ওর মৃত্যুর পরের দিন আমি চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমাকে বিশ্বাস করে দিয়ে গিয়েছিল যে কয়েনগুলো, সেগুলো তখনও হাতের প্যাকেটে ধরে আছি। ... ...

এটা সেই রাতের ঘটনা। ১৪ই মার্চ রাত। দিনের বেলার "অপারেশন নন্দীগ্রাম' শেষ হবার পর রাতে সিপিএম স্থানীয়ভাবে একটি বারো ঘন্টার বন্ধ ডাকে। এই রকম একটি প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে লোকজন এমনিতেই সন্ধ্যা হলেই ঘরে ঢুকে পড়ে, সেখানে এরকম একটি বন্ধ ডাকার অর্থ কি? দিনের আলোয় প্রথম পর্বের পুলিশি আক্রমণের পর, যখন খবর আসছিল, ৬০ জনের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মানুষের মৃত্যুতে আমরা শিহরিত, আতঙ্কিত হচ্ছিলাম, তখনও জানা ছিলনা, এই গণহত্যার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পর্বটি এখনও বাকি থেকে গেছে। ঠিক তখনই, মহাকরণে আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিব এই দ্বিতীয় এবং ভয়ঙ্করতম পর্বটির পরিকল্পনা করছিলেন। সেই পরিকল্পনাকে কাজে পরিণত করতে বন্ধ এবং রাতের অন্ধকারের প্রয়োজন ছিল তো বটেই। ... ...

ফিল্মটি অতি সিম্পল। কোনো বিপজ্জনক খাঁজ টাজ নেই, যা দেখে টলে যেতে পারে মানবশরীর। এবং সরলতাই ইহার বিউটি। একগুচ্ছ পুরুষ ও মহিলা চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠছে আখ্যান, যাদের কারোরই কোনো গন্তব্য জানা নেই। আছেন প্রেসিডেন্সি কলেজের এক বিদগ্ধা অধ্যাপিকা, যিনি সারাদিন ইংরিজিতে কথা বলেন। এছাড়াও তিনি ডিভোর্সি এবং বয়ফ্রেন্ড বিদ্যমান, কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে তিনি আমেরিকা যাবেননা বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অতএব প্রেম আছে ও পরিণতি নেই। আছেন এক ডাক্তারবাবু যিনি প্রচন্ড ব্যস্ত হলেও রোগির দিদির সঙ্গে ডিনারে প্রচুর সময় কাটান, হুট করে ব্রেক নিয়ে চলে আসেন শৈলশহরে, রণ ও বন থেকে রোগিনীর দিদিকে উদ্ধার করবেন বলে। পরিষ্কার বোঝা যায় ছিপ ফেললেও মাছ তিনি ধরবেননা, কারণ বাড়িতে আছে না ছুঁই পানি বৌ। এখানেও প্রেম আছে কিন্তু হাফসোল নাই। আর আছে এক লালুভুলু প্রেমিক, মানসিক রোগগ্রস্তা প্রেমিকাকে দশ (নাকি বিশ?) বছর পরে দেখে তিনি বৌ-বাচ্চা ফেলে তার সঙ্গে সময় কাটান। এবার যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা প্রেম নয়, অতএব তারও কোনো গন্তব্য নেই। ... ...

এই লেখার সিংহভাগ তথ্যসূত্র ইন্টারনেট ঘেঁটেঘুঁটে যোগাড় করা। আমার ব্যক্তিগত মত হল কেবল ইন্টারনেটের মালমশলা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ লেখা অসম্ভব। কাজেই এই লেখাটিকেই পাঠক/ পাঠিকা যেন খসড়া লেখা হিসেবেই গ্রহণ করেন। ইদানীং এই সংগঠনটির নাম এবং তাদের বঙ্গীয় নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় সংবাদপত্রে দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রামে গন্ডগোল শুরু হওয়ার আগে এই সংগঠনটির নাম মুসলিম রাজনীতিতে বিশেষ ওয়াকিবহাল ব্যক্তি ছাড়া কেউ জানতেন বলে মনে হয় না। ... ...

তেত্রিশ কোটি দেবতার দেশ ভারতবর্ষ। মোট জনসংখ্যার ওয়ান থার্ড। কিন্তু আফটার অল তাঁরা ভারতীয় দেবতা। তাই বহু-প্রাচীন এই দেবশুমারির সংখ্যা যে আজ কতটা রিলায়েবল, তা দেবা ন জানন্তি, কুতো আমজনতা:। তবে এঁয়ারা কিনা আমাদের মতন করে বংশবৃদ্ধি করেন না, তাই এঁদের ঝাড় বংশের উতার চড়াও সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আমাদের ভক্তির বহর এবং প্রস্থের ওপর। ... ...

ইউথ্যানেজিয়া অস্ট্রেলিয়ায় বেআইনী। সুইসাইড তা' নয়। আবার, অ্যাসিস্টেড সুইসাইড নিষিদ্ধ এখানে। যদি আপনি অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা হ'ন আর রোগযন্ত্রণা আপনার বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছে শেষ করে দেয়, ইউথ্যানেজিয়ার জন্য আপনাকে যেতে হবে সুইজারল্যান্ড।নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, আর ইউ এস-এর ওরেগনে ইউথ্যানেজিয়া আইনী তবে শুধু সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য।সুইজারল্যান্ডের গল্পটা অন্য।ইউথ্যানেজিয়া নিষিদ্ধ সুইজারল্যান্ডেও। কিন্তু আত্মহননে নি:স্বার্থ সহায়তা নিষিদ্ধ নয়। ... ...

রাস্তা বাঁধে পাহাড় আর সমুদ্রকে, জঙ্গল আর জনপদকে। রাস্তায় রাস্তায় কাটাকুটি খেলা হয় দেশে দেশে। বাড়ীর সামনের রাস্তাকে জিজ্ঞাসা করি তুমি কোত্থেকে আসছ গো? সে বলে তাও জান না, ঐ তো ন্যাশনাল হাইওয়ে আট থেকে। আট আবার এসেছে হয়ত বা সাত থেকে কিম্বা অন্য কোন হাইওয়ে থেকে। সব মানুষের মতই সব রাস্তারও গুরুত্ব সমান নয়। হাইওয়েরা জাতে কুলীন। তাদের দেখভালের জন্য সদাসতর্ক একদল লোক। ন্যাশনাল হাইওয়ে, ইয়ানে কি "জাতীয় সড়ক"। তা বলে জাতীয় সড়করাও যে সব্বাই সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা কিন্তু নয়। হাঁটতে চলতে রাস্তা লাগে, রিক্শা, সাইকেল চলতে রাস্তা লাগে, গাড়ী চলতেও রাস্তা লাগে। যে রাস্তায় রিকশা চলে আর যে রাস্তায় অক্টোভিয়া চলে, এরা কখনও একরকম নয়। ... ...

আসল কথাটা হল - মার্কেটিং। কি ভাবে বেচবে? সহজ উপায় - সমস্ত বিজ্ঞাপণওলারাই কোনো না কোনো সময় ব্যবহার করে করেই সহজ করেছেন যদিও - একটা কিনলে আর একটা ফ্রী। মানে কলেজপ্রেম দেখতে এলে সাইকেল রেস ফ্রী, ইংরেজের সাথে চাষীদের মাথাফাটাফাটি দেখতে এলে ক্রিকেট ম্যাচ ফ্রী। এমনকি জ্যাকি চ্যন ও এই মাত্র "দি মিথ" ছবিতে মল্লিকা শেরাওয়াতকে টেনে হিঁচড়ে শেষতক আর্কিওলজিস্টের খোঁজাখুঁজির সঙ্গে রাজা রানী সেনাপতি আর ঘোড়া তীর তলোয়ার যুদ্ধ ফ্রীতে দিয়েছেন। রং দে বাসন্তি দেখতে গিয়েও - ২৬শে জানুয়ারি - ভগৎ সিং পেলাম মিনি মাগনা। পয়সা উসুল। মার সিটি। অ্যায়স্শালা। ... ...

পৃথিবীর দুই মেরু : উত্তর এবং দক্ষিণ নয়, পৃথিবীর দুই মেরু আজ অন্য দুটি জায়গায়... - সুইস আল্পসের মধ্যে দৃষ্টিসুখজাগানো শৈলনিবাস দাভোস, আর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি... - দাভোসে অসংখ্য ফ্ল্যাশবাল্বের আলোয় উজ্জ্বল বিশ্ববাণিজ্যের রথী-মহারথীরা, হলিউডের মহাতারকারা, ফাইভ স্টার হোটেলের কনফারেন্স স্যুটে ঘন ঘন বৈঠকে ব্যস্ত, ব্যস্ততার ফাঁকে ছয় কোর্সের লাঞ্চ-ডিনার...অন্যদিকে নাইরোবিতে আশি হাজার লোকের মুঠো করা হাত, রাস্তার ধারে ধারে জমায়েত, মিছিল, আর যে দেশে মানুষের গড় দৈনিক আয় দুই ডলারের কম, সেই দেশে সাত ডলারে খাবার বিক্রি করতে চাওয়া ফাইভ স্টার হোটেলের খাবার তাঁবুতে ক্ষুধার্ত শিশুদের হানা... ... ...

'দ্য মোস্ট ভায়োলেন্ট প্লেস অন আর্থ আউটসাইড আ কমব্যাট জোন'-অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের পাম আইল্যান্ড। ১৯৯৯-এর গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী। এখানে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম আদিবাসী গোষ্ঠীর বাস।জনসংখ্যা সাড়ে তিনহাজার চারহাজারের মত।শতকরা পঁচানব্বই শতাংশ কর্মহীন। গড়ে পনেরজন মানুষ পিছু বসত একখানি-মাথার ওপর ছাদটুকুও এতটাই অপ্রতুল।মারাত্মক সব অপরাধ ঘটে চলে প্রতিনিয়ত। বেশিরভাগই মদ্যপানজনিত অপরাধ। পাম আইল্যান্ডের ইতিহাস বিশ্লেষণ ক'রে অপরাধবিদরা এর রুগম্ভীর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন; এক কথায়, 'ডেসট্রাকশান অ্যান্ড ডিজর্গানাইজেশন অফ ট্র্যাডিশনাল সোসাইটি দ্যাট অ্যাকম্পানিড হোয়াইট সেটলমেন্ট অ্যান্ড কনকোয়েস্ট।' ... ...

উল্টোদিকের বোর্ডে মোট তিনটে ভাগ। ফার্স্ট কোর্ট, সেকেন্ড কোর্ট, থার্ড কোর্ট। হয় নেটের একেবারে কাছে ফার্স্ট কোর্টের কোনা দিয়ে বলটাকে বের করে একটা পয়েন্ট নিতে হবে, বা থার্ড কোর্টের কোনা দিয়ে একটা ঝটকায় টপস্পিনটা বের করে দিতে হবে। এইসমস্ত কথা আমরা ভাবি, কারন একটা পয়েন্ট মানে একটা পয়েন্ট নয়। একটা পয়েন্ট মানে দুটো পয়েন্ট। আমি ৩-৪ ডাইন অবস্থায় জিতলে ৪-৪, হারলে ৩-৫। বোর্ডের ওপর একটা চকখড়ি দিয়ে একটা ছোটো গোল বানিয়ে পর পর ঠিক ঐ জায়গালোতে আমরা বল রেখে যেতে থাকি। ইন্দিবর কুড়িটা রাখতে পারে, ও নির্ঘাত বেঙ্গল খেলবে। নার্ভ রাখতে হবে ইস্পাতের মতো। ... ...

শ্রীচরণেষু মা, এ বছরও পৌষ সংক্রান্তিতে বাড়ি যেতে পারলাম না। ভেবেছিলাম পুরুলিয়া যাব, দুয়ার্সিনির বাংলোয় সকাল থেকে দলে দলে মেয়েরা আসবে গান শোনাতে তারপর চলে যাব কাঁসাই নদীর ধারে, এলোমেলো পাহাড় চুঁইয়ে আসা আলোয় ঝলমলে ঘোড়ানাচ, একে একে রঙিনে রঙটানা টুসু বুড়বুড়ি কাটতে কাটতে ডুবে যাবে জলের তলায়, কন্যার বিদায় কখনই সহ্য করা যায় না। চোখ ফেটে জল আসে, আত্মীয় স্বজনদের বিয়েতেও তুমি লক্ষ্য করেছ আমি সেই সময়টা এড়িয়ে যাই। মেঘে ঢাকা তারার গানটা এত টুসুর ভেতরেও ভেসে আসে, কিন্তু বিজয়ার দিন তো কই আমার কান্না পায় না! মা গো, এত রহস্যের কিছু নেই, প্রতিবার বাড়ি থেকে আসার সময় আমি তোমার মুখের দিকে তাকাতে পারিনা তা কেন আমিও জানি তুমিও জান। ... ...

উনিশশো নব্বইয়ের গোড়ায় সুমন চট্টোপাধ্যায় যখন তাঁর ব্যারিটোন কন্ঠস্বর সমেত একা একটি আস্ত মঞ্চ জুড়ে আছেন, বোঝা ক্রমশ: কঠিন হয়ে যাচ্ছে, স্টেজে কলকাতার সফলতম একক অভিনয় হচ্ছে, না শুধু একখানি গান, ফসিল্স তখন কোথায়? গলা নয়, সুমনের গোটা শরীর দিয়ে যখন চুঁইয়ে পড়ছে ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের জীবন কাহানিয়া, জীবন ও যৌবন, যৌনতা ও ফ্রাস্টেশন, যখন উচ্চারিত হচ্ছে "ভিডিয়ো ক্যাসেটে আর নিল সোফাসেটে বসে মিঠে খুনসুটি' ফসিল্স তখন হরিদাসের ডানার সুপ্তিতে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চুলোয় যাক এই ভদ্রজনোচিত রবীন্দ্রগান, এই বাস্তবধর্মী সুচারু অভিনয়শিল্প, এই সোচ্চার স্লোগান তখনও আস্তিনের আড়ালে। "এসব কি গান না জগঝম্প?' এই অভিযোগে এর পর একদিন কলামন্দিরের স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে হরিদাসের ডানাকে, এবং আলোকিত মঞ্চে আসবেন অঞ্জন দত্ত -- সেসব তখনও ফিউচার টেন্স। ... ...

কুট্টনীমতম। লিখেছিলেন কাশ্মীরের মন্ত্রী ও কবি দামোদর গুপ্ত। সুখের বিষয় যে তার ব্যক্তিজীবন সম্বন্ধে বিশেষ কিছু না জানা গেলেও তাঁর রচনাকাল ও ঐতিহাসিকত্ব নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। অষ্টম শতাব্দীর শেষ ভাগে এই আগাগোড়া শৃংগাররসাত্মক কাব্যটি লেখা হয়। কিতাবটি নিশ্চিত ভাবে খুব জনপ্রিয় ছিলো কেনো না পরবর্তী যুগের অনেক বইতেও এর রেফারেন্স দেওয়া আছে। ... ...