
ঐ জোকসটা পড়েছেন? ঐ যে, ম্যাডাম তাঁর ছাত্র কে জিজ্ঞেস করছেন "বল ২ আর ২ যোগ করলে কত হয়?" অমনি ছাত্র নিঃসংকোচে উত্তর দিচ্ছে ৯.৫। উত্তর শুনে ম্যাডাম যখন ছাত্রের জ্ঞানের দীপ্ত বিচ্ছুরণে বিরক্ত হয়ে বেত্রাঘাতে উদ্যত, তখন সেই ছাত্র কাঁচুমাচু হয়ে হিসেব কষছে "২+২=৪ +VAT+সার্ভিস ট্যাক্স+হাইয়ার এডুকেশন সেস+স্বচ্ছ ভারত সেস+কৃষি কল্যাণ সেস+এক্সাইস ডিউটি করলে ওটা রাউন্ড ফিগারে ৯.৫'ই হবে।" ছাত্রের উত্তর শুনে সেই ম্যাডাম, সেই যে অজ্ঞান হয়েছিলেন, গত পরশুই তাঁর জ্ঞান ফিরেছে; মোট চারজন অর্থমন্ত্রী আর দুই সংসদের এক ... ...

বছর দশেক আগে জ্যামাইকা সেন্টার দিয়ে একটু সন্ধ্যারাত করে বাসায় ফিরতাম। সাবওয়ে থেকে বেরিয়ে পারসনস বুলেভার্ডে পা রাখলেই খুব পুরনো কবরখানা। আর গীর্জার উঁচু শীর্ষদেশে এই সময় চাঁদ ঝুকে পড়ত। একটা হাওয়া এসে পাক খেয়ে নিচে নামত, আবার একটু উপরে উঠে বাক খেয়ে ডানে চলে যেত। বেশ একটা আলো-আধার রেশমি চাদরের মতো চোখের নামনে বিছিয়ে যেত। বোঝা যেত কেউ কোথাও নেই। দূরে একটা এম্বুলেন্স যাচ্ছে।একটু ঘোর কেটে গেলেই দেখা যেত, একজন বয়স্ক মোটাসোটা লোক ভোজবাজির মতো সাইড ওয়াকে দাঁড়িয়ে আছেন। দুহাত ঠেলাগাড়ির উপরে রাখা। ... ...

প্রচারক। শাস্ত্র বলে গরু আমাদের মাতা।বিবেকানন্দ। হ্যাঁ, গরু যে আমাদের মা, তা আমি বিলক্ষণ বুঝেছি—তা না হলে এমন সব কৃতি সন্তান আর কে প্রসব করবেন? [“স্বামী-শিষ্য-সংবাদ”; স্বামীজীর বাণী ও রচনা, ৯ম খণ্ড]ভারতেও “নাসা”! ... ...

এক দেশে এক প্রকাশক ছিলেন। সে তো কত দেশেই থাকেন। এতে আর আশ্চর্য কী? বিস্ময়ের এইই যে, তিনি আমার বন্ধু ছিলেন। সেও তো কতই থাকেন। কত শত। বন্ধুও আবার হরেক কিসিমের হন। যেমন ধরুণ, একদল সেক্স অ্যান্ড সেক্সচুয়ালিটির চর্চা করেন, অন্যদল সেক্স বলতে বোঝেন পানু। আবার, একপক্ষ আর্ট ফর আর্ট'স সেক-এর জন্য গলা ফাটান, অপরপক্ষ বিশ্বাস করেন শিল্পের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব, এবং এই দ্বিতীয় পক্ষকে আবার প্রথম পক্ষেরা সোশাল-ফোশাল বলে গালি দ্যান। আমাদের এমন নানান মানুষের সাথে শান্তি ও অশান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ঘটে। দুর্দি ... ...

“আপনাকে বলছি স্যার” – ফিরে দেখা (৩)হালিসহর সভাসেই সভায় আলোচনার বিবরণ। প্রায় সম্পাদনা না করে। এটা তৃতীয় ও শেষ অংশ। ওখানে বলা হয়নি এরকম কয়েকটা কথা এখানে যোগ করেছি।এই ভোকেশানাল ট্রেনিং ব্যাপারটা, যেটা ভোকেশানাল শিক্ষা, এটা তো নিশ্চিত ভাবে শিক্ষাকে সংকুচিত করে। এবিষয়ে হেনরি জিরু-র কিছু মন্তব্য অবশ্যই প্রনিধাণযোগ্য। (Henry A. Giroux : On Critical Pegagogy (Critical Pedagogy Today Series). Bloomsbury, London; New Delhi.) এছাড়া আরও বিভিন্ন জায়গাতে এনিয়ে আলোচনা আছে। তা ... ...

সেই পলাশের তিন পাতসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পপ্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির এক রাতে পোয়াতি পেঁপেগাছটার বড় মায়া হল। ওর পায়ের কাছেই সদ্য অঙ্কুরিত এক অচেনা গাছের চারা তার প্রথম তিনটে কচি পাতা নিয়ে ঝড়ের দাপটে প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। সর্বশক্তি দিয়ে সেদিন পেঁপেগাছটা হাত বাড়িয়ে ঝুঁকে পড়েছিল, বলেছিল, ভয় পাস নে রে খোকন, আমি আছি তো! আর সারা রাত তার আঁচলের আড়ালে ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল পলাশের কচি পাতাগুলো।লাল মাটি, গুড় জাল দেওয়া গন্ধ, দামাল গন্ধেশ্বরী। বুধু সারেঙ হারমোনিয়াম বাজাতো। সেদিন ছোপ ... ...

মেয়েছেলেরা বেশি রাত করে বাইরে থাকবে না। ওটা পুরুষের একচেটিয়া। লক্ষ্মীর স্বামী রোজ দেড় রাতে টলোমলো হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। ওকে চুল ধরে টেনে ওঠায়। সোয়ামির জন্য যত রাতই হোক জেগে বসে থাকতে হয় ওর বারোভাতারি মা শেখায়নি ?ধুপধাপ মারের চোটে বস্তি জেগে যায়। কিন্তু কেউ এগোয় না। বাবুরাও তো কারো ঘরেলু মামলায় দখল নেয় না।লক্ষ্মী তাই পা টেনে টেনে আমার ঘর মোছে, বাসন মাজা সাবান কাটা আঙুলে ঢুকে গেলে আঃ উঃ করে। আমারও কষ্ট হয়, কিন্তু ওর চোয়াড়ে বর এই সৌখিন ফ্ল্যাটে চড়াও হলে সম্মান যাবে এই ভয়ে চুপ থাকি। ... ...

প্রথম ধাক্কাতেই বয়েসটা টের পেলো সে! যদিও হুব্বা সেও কম ছিল না এককালে। মাঠের হাতাহতি গুলো ছাড়া কলেজের অলিন্দে আর তার জের টেনে রাস্তায় দিনে রাতে কম ঘুঁসোঘুসি করেনি সে। মেরেছে মারও খেয়েছে। মার না খেলে মার দেওয়া যায় না। সুযোগ সবারই আসে আর দম ধরে রাখতে পারলে জিতে আসাও যায়। বাইকওয়ালা ছেলেদুটোর সাথে রাস্তার ঝামেলাটা অন্যদিকে টার্ন নিতে পারে এটা তার সিক্সথ সেন্স বলছিল! ছেলেদুটো মদ খেয়ে ছিল আর এক্ষেত্রে চল্লিশ প্লাস একজনের চেপে যাওয়াই ভাল কিন্তু ওই যে হুব্বা!!বাইক থেকে নেমে আসা ছেলেটার প্রথম ধাক্কাত ... ...

সেদিন ছুটির দিনে সকালে আমার ৭৪ বছর বয়সী মা’র ঘরটা গুছিয়ে দিচ্ছিলাম। বাসার সকলে যে যার কাজে ব্যস্ত। বিছানার চাদর-বালিশের কাভার বদলে দেয়া, ঘরের মেঝে পরিস্কার ইত্যাদি।মা তখন বাথরুমে। দরজা ভেড়ানো। আটকা পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় তার দরজায় ছিটকিনি তোলা নিষেধ। সেখান থেকেই কথা হলো দু-একটি। জানালেন স্নান করবেন না। আজ নাকি শরীরটা তেমন ভালো নেই। ইত্যাদি। এরপর ঘন্টা দুয়েক পর আমি চা করে নিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখি তখনো তিনি বাথরুমে। স্নান করারও কোনো শব্দ নেই।আমি যতোবারই ডাকি ওনাকে, উনি সাড়া দেন, ... ...

লাল১)শীতের ব্লেডে ফালাফালা হচ্ছিল শহর ় মাঝে মাঝে এক একটা অপসৃয়মান গাড়ীর হেডলাইট চুমু খেয়ে যাচ্ছিল হিম ল্যাম্পপোস্ট গোড়া ়তখন শুখা করোটির মত মেঘেরা চষে খাচ্ছিল এদিক ওদিক ় ফাঁকা রাস্তায় ঝুল খাচ্ছিল একলা আলোর সারি ় ভয়ে পালাতে গিয়ে অসভ্য তারের নাবালক আঙ্গুলের ফাঁকে আটকে যাচ্ছিল চাঁদের পোশাক ় এমন সময় সবাই ওম জড়িয়ে ঘুম যায় ় দু একজন ছাড়া ়এমন অপ্রত্যাশিত সময়ে কিছুটা ঠান্ডা হত্যাকান্ড ঘটছিল বড় রাস্তার ঠিক পাশের সমান্তরাল জমিটাতে ় ডি কে অন্ধকার ... ...

একটা পরিবারে ধরা যাক বাবা, মা এবং বাচ্চা তিনজনেরই জ্বর হয়েছে। পরিবারটি মোটামুটি স্বচ্ছল, কাজের মাসি পিসি সবই আছে। আজকাল এমনিতেও আর আলাদা করে বাজার করার দরকার পড়ে না, মোবাইলে দু চারটে বোতাম টিপে দিলেই স্যাট করে বাড়ির দরজায় তরিতরকারি মায় মাছের ঝোল বা রেশমি কাবাব সবই পৌঁছে যায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই। অসুখ করলে ডাক্তার দেখানো হয়, ওষুধও পড়ে নিয়মিত। তা, এ হেন একটা পরিস্থিতিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই কি দেখা যাবে? দেখা যাবে যে, তিনজনেই শুয়ে বসে কাতরাচ্ছে, জ্বরে যেমন হয় আর কি। আর তারপর বাবাটিকে অনতিবিলম্বেই দে ... ...

।। ৭। ।মৃত্যুতেও ডিরোজিও তাঁর এই উচ্চগ্রাম মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে গেছেন। ১৯ ডিসেম্বর ১৮৩১ তিনি ধর্মতলা অ্যাকাডেমি স্কুলে গেলেন বার্ষিক পরীক্ষা নিতে। সেখানেই তিনি দিলেন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের শেষ ভাষণ। আশা প্রকাশ করে গেলেন শেষবারের মতো, ড্রামন্ডের এই বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মতোই এক দিন আসবে—When man to man the world o’erShall brothers be, and a’ that. সেখান থেকে ফিরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুরারোগ্য কলেরায় আক্রান্ত হন। আসলে সেই সময় সারা কলকাতা জুড়েই কলেরা এক মহামারীর রূপ নিয়ে ... ...

কে আর এদের পিতা হতে চায়! স্বর্গ থেকে গান্ধীজী এসেছেন নতুন দিল্লীতে। ভারতের সমাজ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে তাকে। তাই এই সরজমিন পরিদর্শন। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও নেহেরু এসেছেন। যেমন জোর করে জিন্নাহকে পাঠানো হয়েছে পাকিস্তান পরিদর্শনে। নেহেরু-জিন্নাহ দুজনেই দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে রাজী ছিলেন না। কারণ হেভেনে দক্ষিণ এশীয়দের আচার আচরণ দেখেই উনারা বুঝতে পেরেছেন প্রতিবেদনের ফলাফল কী হবে। তবুও বাপুজী যেহেতু অ-উপশমযোগ্য আশাবাদের রোগী; তার নির্দেশেই দুজনকে দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে হয়েছে। গান্ধীজ ... ...

মমতা ফেডারেল স্ট্রাকচার নিয়ে উচ্চকিত কিছু কথা বলেছেন। চারটি বাদে অন্যান্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থাকার দরকার নেই বলেছেন। অনেকেই শুধু ফেডারালইজম এর এই নয়া ধাঁচাটা সমর্থন করছেন তাই নয়, বঙ্গে মাতরম বলে মমতাকে অগ্নিশ্রাবী বিপ্লবী হিসেবে দেখাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে কয়েকতা কথা বলা আবশ্যক। মার্কিন ধাঁচের ফেডারাল স্ট্রাকচার অনেকটাই এরকম। অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ কেন্দ্রের, বাকীগুলো মূলত রাজ্যের। দেশজোড়া এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক আবশ্যকতা অবশ্যই আছে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে এটাও মাথায় রাখার মমতা ৮৪ থেকে ২০১১ একব ... ...

।। ৬। ।ডিরোজিওর এই সমস্ত মতাদর্শগত সাফল্যের পেছনে মৌল উৎসগুলি কী কী? তিনি কি প্রচলিত বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো রকম ঈশ্বরের ধারণায় বিশ্বাস করতেন? অথবা, তিনি কি পুরোপুরি নাস্তিক ছিলেন? তাঁর কি সুনির্দিষ্ট কোনো দার্শনিক বোধ তৈরি হয়েছিল? নাকি, তিনি যখন যা মনে হত সেই মতো বলতেন বা আচরণ করতেন? তাঁর ছাত্রদের কাছেই বা তাঁর মতাদর্শগত বার্তা ঠিক কী ধরনের ছিল? খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি তাঁর মনোভাব ঠিক কী ধরনের ছিল? ভারতের খ্রিস্টান মিশনারিরাই বা তাঁর সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করত? এবার সেই সব প্রশ্নে ... ...

দৃশ্য ১. একটি আট বছরের বালক প্রথম সিনেমা দেখতে গেছে। বাবার সাইকেলের সামনে বসে ফেরার সময় অসংখ্য প্রশ্ন করে যায় তারাপদকে নিয়ে। কেন সে ফিরে যায়। সে যায়ই বা কোথায়, ফেরেই বা কোথায়? বালক তখনও পথের পাঁচালি দেখেনি।দৃশ্য ২. বাবা মা আলোচনা করছেন। সত্যজিৎ না তপন, কে দর্শককে বেশি কাছে টেনে নিতে পারেন। বালক বোঝেনা, কেন মা ক্ষুধিত পাষাণ আর ঝিন্দের বন্দীর জাদুর কাছে এতো নিবেদিত। তাঁরা কিছু আগে মহানগর দেখে এসে নীরবে মুগ্ধ হয়ে বসে আছেন। না, মহানগরকে নিয়ে কোনও প্রশ্ন নয়। কিন্তু মা বলেন, সত্যজিৎ দর্ ... ...

পূর্ব কলকাতার জলাভূমি নিয়ে কেউ কেউ নড়ে চড়ে বসেছেন বা বসবেন ভাবছেন l বস্তুটি খায় না মাথায় দেয়, সে জানার আগ্রহ বাঙ্গালী তথা কলকাতাবাসীকে কখনো ব্যতিব্যস্ত করেছে এমন নয় l এই এলাকার মূলবাসী যাঁরা তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে কেমন একটি অদ্বিতীয় ঐতিহ্যের তাঁরা ধারক-বাহক l/এরই মধ্যে আবার নানান আজগুবি লেখা দেখি, ভূল লেখা দেখি, সামান্য কিছু তথ্যের উপর নিত্য নতুন তত্ত্ব অনর্গল বেরোচ্ছে l যাঁরা লিখছেন তাঁরা ভালো জানেন না, যাঁরা রিভিউ করছেন তাঁরাও জানেন না l অথচ বিষয়বস্ত্ত রমনীয়, অতএব দে ছেপে l ১৯৮৬ স ... ...

।। ৪। । একটা বেশ বড় সাফল্য এল। হিন্দু রক্ষণশীল মাতব্বররা দারুণ উল্লসিত হয়ে এবার আর একটা আক্রমণ হানল। অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন-এর সভা তো আগেই কলেজের বাইরে চলে গেছে। কলেজে তখন শুধু রাধাকান্ত দেবের ধর্মসভার অধিবেশন বসে। এবার ফতোয়া এল, কলেজের ছেলেরা যেন কলেজের বাইরেও সেই সভার আলোচনায় যোগদান না করে। করলে তারা কলেজের কর্তাব্যক্তিদের “বিরাগ ভাজন” হবে। সেই মর্মে নোটিশও পড়ে গেল। কিন্তু ছেলেদের তাতেও নিরস্ত করা গেল না। ডিরোজিওর আকর্ষণ তখন শক্তিশালী চুম্বকের মতো কলকাতার নতুন আলোকপ্রাপ্ত ছাত্রদের টানছে। ... ...

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু হেভেনে দক্ষিণ এশীয় নাগরিকেরা নরক রচনা করায় সিদ্ধান্ত হয় ভারতীয় উপমহাদেশের নেতারা পুরো দক্ষিণ এশিয়া ঘুরে এই জনপদের মানুষের নৈতিক বিচ্যুতির কারণ অনুসন্ধান করবেন। দেবদাসের গান্ধীজীর সঙ্গে ভারতে যাবার কথা থাকলেও তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশে যাবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গান্ধীজী মুচকি হেসে দেবুদাকে বলেন, মুখ ফুটে বললেই হয় আমার সঙ্গে সময় কাটাতে বোরিং লাগে। শুধু নীতিকথা বলি বলে। দেবুদা লাজুক হেসে বলেন, কী যে বলেন বাপু! আমি ঢাকাটা ঘুরেই দিল্লীতে আপনার সঙ্গে যোগ দেবো। ... ...

রোজিকে পালাতেই হত। চোদ্দ বছরের বিবাহিত জীবনে নর্মান তাকে শুধুই শারিরীক অত্যাচার করেনি। ধর্ষণ করা, কয়েকটা দাঁত ফেলে দেওয়া (যার একটা আবার রোজি গিলেও ফেলেছিল) অথবা কিডনি নষ্ট করে দেওয়া বা একবার লাথি মেরে গর্ভপাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না নর্মানের অত্যাচার। নর্মান ধীরে ধীরে তাকে এটা বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে এটাই রোজির নিয়তি। কারণ সে একটা মেয়ে। তার শক্তি নেই এই অত্যাচার কেটে বেরোবার। এই মানসিক নিষ্ক্রিয়তা পুরোপুরি চেপে বসবার আগেই রোজ ড্যানিয়েলসকে পালাতে হত। নাহলে সে একদিন শরীরে এবং মনে বিকলাংগ হয়ে যেত। ... ...