
সুখ বলতে সুপর্ণার চোখে একটা ছবি ভাসত -সে ছবির কতখানি সত্য কতখানি মনগড়া না কি পুরোটাই স্বপ্ন -সুপর্ণা জানে না। সুখ ভাবলে কোথাও যেন কিরকির শব্দ করে প্রজেক্টর চালু হয়ে যেত আর সুপর্ণা একটা সাদা কালো ভিডিও ক্লিপ দেখতে পেত- চোখের একদম সামনে। সুপর্ণা দেখত একটা চওড়া রাস্তা-নতুন সব ঘরদোর তৈরি হচ্ছে একদিকে-পাঁজা পাঁজা ইঁট, সিমেন্ট, বালি, স্টোনচিপসের ঢিপি, ভারা বেঁধে কাজ, অন্যদিকে অজস্র কাশফুল আর মহালয়ার আগের দিন বেলা দশটা নাগাদ মা বাবা আর সুপর্ণা রিকশা করে যাচ্ছে। সে ছবিতে রোদ চড়া নয়-নীল আকাশ ; আর সেই আ ... ...

[১] উপেক্ষিত নায়ক মানবেন্দ্রনাথ রায় (১৮৮৭-১৯৫৪) বিংশ শতাব্দের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও দার্শনিক। প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো, মৃত্যুর ষাট বছর পরে শুধু নয়, অনেক আগে থেকেই তাঁর সম্পর্কে আমরা, একালের প্রগতি শিবিরের লোকেরা, খুব ভালো করে জানি না। নামটা হয়ত অনেকেরই জানা রয়েছে। কিন্তু তাঁর চিন্তা ও কর্মের সাথে আমাদের পরিচয় প্রায় নেই বললেই চলে। কিংবা বলা ভালো, পরিচয় রাখার চেষ্টাও কোথাও নেই। ... ...

এস-আই রাবণসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্পসাব-ইনস্পেকটর রাবণ। কড়েয়া থানার এই সদা হাস্যময় বেঁটেখাটো টাকমাথা ভুঁড়িওলা লোকটার নাম যে বেটাই রাবণ রেখে থাকুক তার রসবোধের বাহবা দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। পোশাকি নাম ঘনশ্যাম মোদক, যদিও আইজি সাহেব থেকে কনস্টেবল সুমন্ত্র আর ওঁর শালাবাবু থেকে বটগাছের নিচে ভোলেবাবার পেসাদ বেচে যে নিধিকান্ত, সবার কাছেই তিনি ওই রাবণ নামেই যারপরনাই উৎসাহের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন। তবে, একটা মিল ছিল। ত্রেতাযুগের রাক্ষসরাজের হাসি যদিও স্বকর্ণে আজকের কেউ শোনে নি ... ...

মিতাকে আমি ভাল করে চিনতাম না। আমিও, ওরই মত, যাদবপুরে বাংলা পড়তাম। ক্লাস করে ফেরার সময় সিঁড়িতে দেখা হত কখনো-সখনো। একই ব্যাচ, একই বিভাগ, বিষয়ও এক, কিন্তু এরকম হয়েই থাকে, আমার বন্ধুমহল আর ওর বন্ধুমহল আলাদা ছিল। আলাপ হয়েছিল রি-ইউনিয়নে। আমার ওপর দায়িত্ব পড়েছিল ডিপার্টমেন্ট সাজানোর, আর আমাকে সাহায্য করার জন্য ছিল আরো দশ-বারোজন, তাদের মধ্যে মিতাও ছিল। টানা চার-পাঁচদিন শোলা কেটে রঙ করে আঠা দিয়ে ঘর সাজাতে সাজাতে রি-ইউনিয়নের আগের দিন খুব ক্লান্ত হয়ে ও বলেছিল, ‘এত খাটলাম, কিছু খাওয়াবি না?’ অগত্যা সবাই মিলে ... ...

।।।নবমীর চিঠি।।।বিয়াস,তখন পুজোর সকাল হতো ঢাকের শব্দে নিয়মিত। ঢাকিরা ঘুরতো পাড়ায়। ওই ঢাকের শব্দেই আমি বা আমার মতো আরও অনেকের ঘুম ভাঙতো। আর ঘুম ভাঙলেই আমার প্রথম কাজ হতো ফোন করে তোমায় ঘুম থেকে তোলা। তোমার ঘুম জড়ানো গলা না শুনলে যে আমার সকাল হতো না। যদিও তার ঘণ্টা তিনেক আগেই হয়তো আমাদের ফোনালাপ বন্ধ হয়েছে। হ্যাঁ। তখন আমরা সবে মোবাইল ফোন পেয়েছি। তাই রাতভর ফোনে গল্প করতাম। কত কথা যে জমে থাকতো, সে সব হয়তো কোনওদিন বলাই হতো না, যদি না মোবাইল ফোন থাকতো। তখন পাড়ার ফোনবুথটা উঠে গিয়েছে। আর ল্যা ... ...

।।।অষ্টমীর চিঠি।।।বিয়াস, সে অষ্টমী ছিল চরম নাটকীয়। না। অষ্টমীতে নাটক ছিল না। তবে নাটকের ফাইনাল রিহার্সাল ছিল। আর যত কান্ড সেই ফাইনাল রিহার্সালে। শেষ মুহূর্তে নাটক ভেস্তে যায় আর কী! ঠিক হয়েছিল সেবার পাড়ায় বড়দের নাটকটা সত্যিই বড়দের হবে। বেছে নেওয়া হল মনোজ মিত্র-র 'দম্পতি'। কিন্তু শুরুতেই গোল বাধল। এক বয়স্ক দম্পতি আর এক সদ্য বিবাহিত দম্পতির গল্প। বৃদ্ধ দম্পতি পাওয়া গেল। কিন্তু তরুণ দম্পতির কী হবে! বর না হয় আমি হলাম। কিন্তু বউ সাজবে কে? ওই সব সংলাপ..পাড়ার মধ্যে ওই রকম রোল করতে কেউ ... ...

।।।সপ্তমীর চিঠি।।।বিয়াস, মেঘের আড়ালে মেঘ, তার আড়ালে আর একটা মেঘ.. দেখেছো কখনও? বলতে পারো তাদের মধ্যে দূরত্ব ঠিক কতোটা? বছর ঘুরে আসে শারদীয়া সপ্তমী তিথি। আর আমি হিসেব করতে বসি, ঠিক কতগুলো জীবনের ওপারে রয়ে গিয়েছে তোমার আমার রঙমিলান্তি সপ্তমীগুলো। সাংবাদিকদের পুজোর ছুটি হয় না। এক বা দুদিন তাও যদি হয়, ষোলশ কিলোমিটার দূরে বাড়ি ফেরার জন্য হপ্তাখানেকের ছুটি.. অসম্ভব। সে বার আমি জানুয়ারি থেকে উইকলি অফ ছাড়া আর কোনও ছুটি নেইনি। আর বসকে জানিয়েছিলাম, পুজোয় দিন দশেকের ছুটি চাইই চাই। তবু শে ... ...

।।।ষষ্ঠীর চিঠি।।।বিয়াস,সেলফি স্টিক দিয়ে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা আমার নেই, তুমি জানো। আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে যাওয়া পেজার আর ফ্লপির সময়ের পুজোর মধ্যে দিয়েই আমি তোমাকে আমাকে খুঁজে পাই। গত বছর সেই মন খুঁড়ে পাওয়া কিছু মুহূর্ত পুজোর দিনগুলোয় তোমায় দিতে চেয়েছিলাম। যে পুজো আজ আর আমরা যাপন করি না। সে পুজোর হদিশ নিতে গেলে নিজেকে জাতিস্মর মনে হয়। তখন চতুর্থী থেকে ঠাকুর দেখা শুরু হত না। বরং উল্টোটা হত। ষষ্ঠী সকালেও পুজো আসছে পুজো আসছে .. রেশ রয়ে যেত। পুজোর জমানো নতুন জামার বদলে আগের বার ... ...

১)কিছুতেই কলকাতা যেতে চাইছিল না টুকি ওরফে শ্যামলী রাহা | স্কুলের স্যারের বলা চোখ বড় বড় করে দেওয়া ইতিহাসের গল্প, বিশ্বাস দাদুদের বাড়ির পিছনের জঙ্গলে টিয়াবাচ্ছার তদারকি, পুকুরে ডুব সাঁতার দিয়ে হাঁসেদের সাথে ছোটাছুটি, দামোদরের পারে মাঝে মাঝেই চড়ুইভাতি এহেন জরুরী কাজ ছেড়ে ট্রেনে করে শহরে যাবে কোন মুখ্যু ? তাও আবার এক আধ বেলার জন্য ঘুরতে যাওয়া নয় ওখানেই থাকা | ওর দু ক্লাস উঁচুতে পড়া পুতুল দু বার গেছে কলকাতায়, কালিঘাটে পুজো দেবার জন্য | ওর কলকাতা যাবার কথা শুনে চোখ কপালে তুলে বলেছি ... ...

(পর্ব ১ এর পর ) কালচারাল আর্যঃ দ্বিতীয় সম্ভাব্য উত্তরটা হতে পারে আর্যদের ডিফাইন করা একটা কালচার ( মানে কিছু স্পেসিফিক কালচারাল বৈশিষ্ট্য) দিয়ে। কিন্তু এইটা কি আমরা প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান কালচার দিয়ে করতে পারি? মানে সেই থেকে ডিরাইভড কোন একটা কালচারকে আর্য কালচার বলব, এটা কি পারি? এতে দুটো মুশকিল, এক হল প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান কালচার সম্পর্কে আমরা আদৌ জানব কিকরে? ভাষাটার অস্তিত্ব লজিকালি ডিরাইভ করেছি ( এখনো করিনি, আপাতত ধরে নিতে বলেছিলাম, আরও কিছুক্ষণ ধরে থাকুন ), কিন্তু আদ ... ...

শুরুর কথাঃ অনেকদিন থেকেই নানা আলোচনায়, কথাবার্তায় তথাকথিত Aryan debate নিয়ে কিছু লেখার কথা উঠে আসছিল... বিষয়টা এমনিতেই বিশাল এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি... তার ওপর হনুমানদের চিৎকারে আমাদের মত সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কনফিউশন-ধোঁয়াশা তৈরি করছে খানিক... সেই জায়গা থেকেই বিষয়টাকে ধরার চেষ্টা... মূল লক্ষ শুধু এখনকার অ্যাকাডেমিক কন্সেন্সাস বলাই নয়, বরং সেগুলোর যুক্তিগুলোও বোঝা... এবং এর জন্যে স্বাভাবিকভাবেই হিস্টোরিয়ানদের অ্যাকাউন্ট এর ওপর নির্ভর না করে প্রাইমারি ফিল্ডগুলোর এক্সপার্টদের, যেমন ফি ... ...

দুর্গাপুজোর মাঝে কিছু অদ্ভুত পোস্ট চোখে পড়ল ফেসবুকে... এক ধরণের কাউন্টার-প্রোপাগ্যান্ডা... মহিষাসুর 'অসুর' নামের কোন আদিবাসী উপজাতির লোককথার এক রাজা... যাকে সাদাচামড়ার ( implying, depending on the context, উচ্চবর্ণের বা ইন্দো-ইউরোপীয় ) দুর্গা কৌশলে হত্যা করে... আর তাই দুর্গাপুজো তাদের কাছে শোকের দিন...এমন পোস্ট অবশ্য এবছরই প্রথম নয়, এর আগেও 'হুদুর-দুর্গা' ইত্যাদি নিয়ে লেখালিখি চোখে পড়েছে...যাই হোক, ইতিহাস বিকৃতি এই হনুমানদের ভারতবর্ষে একরকম গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে বা গেছে বলা চলে. ... ...

১)এখনসকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে। "গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।"আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ডাক্তার বলেছে প্রায় একলাখ টাকা লাগবে, কিছুতেই জোগাড় করতে পারছিলামনা। আজ বাথরুমে বারটা পড়ে থাকতে দেখো ঈমান নড়ে গেছিল""ঈমান? তুই কি মুসলমান নাকিরে? তোর নাম তো জয়া, ও, বুঝতে পেরেছি, সেজন্যই তো নেমকহারামী করলি""আম ... ...

এক যে ছিল দেশ, যদিও দেশের শাসক বিদেশী, তবুও দেশের বাসিন্দারা বেশ মিলেমিশে থাকত। হঠাৎ কি হল, বিদেশীর যখন সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করে দিল, তখনই কিছু বাসিন্দার মনে হল তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছেনা। ব্যস আর কি চাই, তারা নতুন দেশ দাবি করে ফেলল। নতুন দলের সবাই মিলে দেশের একটা অংশকে আলাদা দেশ হিসেবে পরিচালনা করতে লাগল। কিন্তু মুশকিল হল সীমান্ত নিয়ে, তুমুল ঝগড়া লাগল সীমান্তের লাইনটা ঠিক কোথায় হবে তা নিয়ে, ব্যস যুদ্ধ শুরু। প্রথমেই নতুন দেশের সৈন্যরা পুরনো দেশের একজন নিরীহ বাসিন্দাকে মেরে ফেলল, পুর ... ...

অ্যান এপিকিউরিয়ান ট্র্যাজেডিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প - আপনি যা ঠিক করার তা তো করেই ফেলেছেন; তবু বলতে বলেছেন যখন তখন দু'কথা বলেই ফেলি, কী বলেন স্যর? কিন্তু নিখাদ সত্য সহ্য করার মতো বুকের পাটা আপনার আছে তো, ধর্মাবতার? মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। মৃত্যু মানেই তো - সব কিছুর ইতি, শেষ। আর সত্যি বলতে কী, জীবনকে আমি খুবই ভালোবাসি। ভালো লাগার কত কী আছে এই পৃথিবীতে, তাকিয়ে দেখুন একবার। যেমন ধরুন, ফুল। কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার সময় ... ...

ইস্টবেঙ্গল, ব্রাজিল আর যখন ক্রিকেট-এ উৎসাহ ছিল, তখনকার ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল ছাড়া, কোনো খেলোয়াড়ি যুদ্ধে, আমি সব সময় দুর্বল দলের পক্ষে। ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আমি সব সময় মহমেডান স্পোর্টিং কে সাপোর্ট করে এসেছি, কলকাতার ফুটবল-এ। অথবা টালিগঞ্জ অগ্রগামী, বা খিদিরপুর স্পোর্টিং। কোনো এক ফিফা বিশ্বকাপে, ক্যামেরুন কে খুব সাপোর্ট দিয়েছিলাম। নাদাল বা ফেডেরার কোনো অনামী দুর্বল, ৱ্যাঙ্কিন-এ যোজন দুরে-র কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোর্টে নামলে, মনে প্রাণে চাই দুর্বল অনামী খেলুড়ে-ই জিতুক। এই ব্যাপারটা সুধু ... ...

“এই এক আশ্চর্য সময়।যখন আশ্চর্য বলে কোন কিছু নেই।যখন নদীতে জল আছে কি না আছেকেউ তা জানে না।পিতামহ, আমি এক আশ্চর্য সময়ে বেঁচে আছি।যখন আকাশে আলো নেই,যখন মাটিতে আলো নেই,যখন সন্দেহ জাগে, যাবতীয় আলোকিত ইচ্ছার উপরেরেখেছে নিষ্ঠুর হাত পৃথিবীর মৌলিক নিষাদ – এই ভয়। ”হ্যাঁ ভয়। আমার সন্ততির জন্য। আমার নিজের জন্য। প্রিয়জনদের জন্য। অপ্রিয়জনদের জন্যও। ভয় ছাড়া আর কী অনুভব করতে বা পারি? যখন আমার চারিদিকে পরিচিত অপরিচিত অসংখ্য মানুষ, বন্ধু-স্বজন সকলকে দেখি এক অদ্ভুত উন্ম ... ...

সামাজিকতা মেটার পরে, যে ঘরটায় কোনোদিন থাকতে চাইনি সেখানেই জায়গা হলো। একটামাত্র খুপরি জানলা। দেয়ালের দিকে মুখ করে ছবির দিকে তাকিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে। এই জামাটাই। ছবিতেও। সেই ধর্মতলার দোকান থেকে এনেছিলুম, ঠিকঠাক ফিটিং হতো তখন, কিন্তু দিনদিন শুকিয়ে কেমন হাড়সর্বস্ব হয়ে গেলেন মানুষটা। এখনো দেখছি সেইরকম। জেগে আছে পিঠের ডানা দুটো। পাশে গিয়ে দাঁড়াতে একবার দেখে বললেন : খাওয়া শেষ করতে পেরেছিলে ? বললুম : না। গলায় আটকে গেলো তো। হাসলেন : আমার ও তো তাই, জলের গেলাস অবধি হাত ... ...

ভিজে ঝাপসা হয়ে জ্যোতি ঘরে ঢোকে। ভুক্তান ইশারায় জুতো খুলতে বলে। জ্যোতি হেঁটে যায় সোফা অবধি। সাদা বেডকভার জড়ানো সোফায় থেবড়ে বসে টেনে টেনে চামড়ার মত জুতো ও মোজাজোড়া খুলে ঘরের মেঝেতে ছুঁড়ে দেয়। ভুক্তান নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে। লেখাটা শেষ করতে হবে। কালকেই জমা দেওয়ার শেষ দিন। অগ্রীম টাকা নিয়েছে তারওপর। পিরিয়ড ড্রামার বরাত বলে কথা। "মনময়ের ক্ষুধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছিল অথচ ঘরে দুইটি বাসী রুটি ভিন্ন কিছুই নাই " - এই অবধি লিখে ভুক্তান থেমে যায়। ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে : রু ... ...

- হু ওয়াজ নজরুল মামমাম?- সাচ অ্যা শেম তাতাই! ইউ ডোন্ট ইভেন নো নজরুল তাতাই? হি ওয়াজে গ্রেট বেঙ্গলি পোয়েট, রাইটার অ্যান্ড মিউজিসিয়ান। উই অল রেড হিস পোয়েম ইন আওয়ার চাইল্ডহুড। দিল্লী মেট্রো তে আড়ি পেতে শোনা এই কথোপকথনের মত, গত পাঁচ বছরে আরও গণ্ডা খানেক উদাহরণে ঋদ্ধ হয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, দিল্লীর কনটেম্পোরারি বাঙালি বাপ-মা’রা কদাচিৎ ব্যতিক্রম ছাড়া আর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন না। আজকাল তো শুনছি কলকাতাতেও বলেন না। গ্লোবালাইজেশনের দুনিয়ায় ক্লাস টু’র বাচ্চা'দের ইংরেজিতে ঢেকুর তোলাটাও ন ... ...