
এই ডবল ডোজের গোবর খেয়ে মহাভারতের শুদ্ধতা না হয় ফিরিয়ে আনা গেল, কিন্তু বাংলার পোড়া পেটের শুদ্ধতা বাঁচে কি করে? অফিসের ক্যান্টিনের খাবার টিফিন হিসেবে চলতে পারে, কিন্তু কালা ছোলে (আলকাতরার মধ্যে চাট্টি সেদ্ধ ছোলা ফেলে দিলে যেমন দেখায়) দিয়ে লাঞ্চ? অনেকে যেমন খায়, তেমনি পেপসি বা কোকাকোলা সহযোগে? নাঃ, অমন সাঙ্ঘাতিক ফিউশন আমার চলবে না। অতএব তিন কোর্সের লাঞ্চ চালু করলাম – ভাত, ডাল আর অমলেট। আমার আর তথাগতর সঙ্গেই এই অফিসে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতার এক বাঙালি – দাশগুপ্ত। কালা ছোলে দিয়ে লাঞ্চ করতে বিরক্তি প্রকাশ করায় তাঁকে আমার মেনু সাজেস্ট করেছিলাম। তিনি নাক সিঁটকে বললেন, “অমলেট! সেটা তো লোকে ব্রেকফাস্টে খায়”। ... ...


আমি শুরুতে ছিলাম, বুর্জোয়া চলচ্চিত্র পরিচালক, তারপর প্রগতিশীল পরিচালক, তারপর এখন আর চিত্র পরিচালক নই; বিপ্লবী, চলচ্চিত্র কর্মের কর্মী বিশেষ, যখন কর্তব্য-কর্ম হিসাবে রাজনৈতিক কর্ম শিখতে হয়েছে ... ...

এমন খবরের আগমনী নানা জায়গায় নানা সুরে বাজে, কিন্তু বস্তুত তার শরীরটি এই তিন শব্দেই গড়া, সর্বত্র - তিনি আর নেই। জানান দিয়ে, সে ইতস্তত করে একটু, দাঁড়ায়। চারদিক দ্যাখে, মাটি দ্যাখে, আর সবশেষে মানুষ দ্যাখে। ওই, দূরে দাঁড়িয়েই। কাছে এসে, ঝুঁকে পড়ে খবরের চ্যানেলের মতো জিজ্ঞেস করে না, "আপনার প্রতিক্রিয়া কী এতে?" ... ...


এটা ছোটদের গল্প নয়। এটা একজন ছোট্ট মানুষের গল্প। নাম তার সাবু। সাবুকে আমরা এই ৫ পর্বের খুদে গল্পে খুঁজে পাই বয়ঃসন্ধির গোড়ায়। তার পৃথিবী বদলে যেতে দেখি আকস্মিক পরিবর্তনের ঝড়ে। তার কিশোর হৃদয়ে জাগতে দেখি নতুন অনুভুতি - হারানোর নীরব বেদনা, হেরে যাওয়ার ভয়, ক্ষোভ, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। কিন্তু সব ছাড়িয়ে দেখিয়ে সাবুর কোমল মনে জীবনের প্রতি ভালবাসা। ... ...

কোথায় ভয়? কোথায় উদ্বেগ? কিসের চিন্তা? দুটোয় মিলে সে কী সাঙ্ঘাতিক লুটোপুটি খেলা মাঝ আকাশে – এই ধাওয়া করছে একে অন্যকে, এই পাল্টা আক্রমণ, এই দু'দিকে ছুটে গিয়ে আবার একে অন্যের গায়ে এসে ধাক্কা খাওয়া। ... ...

দেবরাজ ইন্দ্র অসুর ও দৈত্যদের সঙ্গে যুদ্ধে প্রায়শঃ পরাজিত ও স্বর্গ থেকে বিচ্যুত হয়ে পরিত্রাণের জন্য ত্রিদেবের শরণ নিয়ে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে দেবী পার্বতীর কোলে থাকা একটি শিশুকে বধ করার জন্য তাঁকে প্রথমেই হাতে বজ্র তুলে নিতে হল! আবার শিশুরূপী দেবাদিদেবের হাতের ইশারায় তিনি একেবারে জড়বৎ পুতুল হয়ে গেলেন! দেখা যাচ্ছে ভাগবত এবং শৈব - উভয় পুরাণকারই সুযোগ পেলে বৈদিক দেবরাজ ইন্দ্রকে অপদস্থ করতে দ্বিধা করেননি। ... ...

আন্দালীব কত বড় কবি সেই হিসেব কোনদিন করতে বসি নি – কারণ তার থেকেও বড় অজুহাত আমার কাছে ছিল তার কবিতার নিয়মিত পাঠক হবার। ভাবতাম মাঝে মাঝেই – আহা, এমন যদি লিখতে পারতাম! সেই ছিল আমার কাছে আমাদের সেই সময়ের কবিতার ‘কমলকুমার’ যেন। তুলনাটা হয়ত ক্লীশে হয়ে গেল, কিন্তু এমন সাযুজ্যের তুলনা আর মাথায় আসছে না এই মুহুর্তে। বলতে দ্বিধা নেই যে এমন সময়ও গেছে যে আন্দালীবের কোন কবিতা প্রথমবার পড়ছি, কেবল কবিতা পড়ার ঘোরেই – সে এক প্রবল আকর্ষণ, কত অজানা শব্দের ঝঙকার, কত চেনা শব্দের অচেনা প্রয়োগ – বিমুগ্ধ করে রাখত আমাকে। ... ...

তাঁরা দুঃখেষু অনুদ্বিগ্নমনা সুখেষু বিগতস্পৃহঃ। চা খেতে খেতে তাদেরই এক জন বললেন, "ইহার পূর্বে কি কোনও কেলেংকারি ঘটে নাই এই দেশে ? রাজনীতিকরা কি অভিযুক্ত হন নাই পূর্বে ? সে সকল লইয়া প্রবল তদন্ত হইয়াছে এবং তাহা যে অতি বৃহৎ গ্রিন ব্যানানা ব্যতীত অন্য কিছু প্রসব করে নাই, তাহা বুঝিতে চিন্তন বৈঠক নিষ্প্রয়োজন। অতয়েব, হে অর্বাচীন, তুমি নিশ্চিন্তে পানভোজনে নিরত থাক এবং বাহুমূলকে বাদ্যযন্ত্র রূপে ব্যবহার কর।’’ ... ...

কিভ নগরীর উত্তর পশ্চিমে একটি শহরতলির নাম ইরপিন। সেখান থেকে আর পাঁচ কিলোমিটার গেলেই বুচা। আমরা জানি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম দিকে এই অঞ্চলে রাশিয়ান সৈন্যরা নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপরে অকথ্য অত্যাচার, বলাৎকার এবং লুণ্ঠন চালিয়েছে। বুচার রাজপথ ভরে গেছে শবে। মহামান্য লাভরভ বলেছেন ইউক্রেনের মানুষ নিজেদের লোককে মেরে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। আমাদের সৈন্য ভদ্র শিক্ষিত মার্জিত। রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে এ আরেকটি পশ্চিমি চক্রান্ত।রাশিয়ানরা এই রণক্ষেত্র ত্যাগ করে আজ অনেকটা পুব দিকে চলে গেছে। রেখে গেছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী কালে ইউরোপের মাঝে অনুষ্ঠিত ক্রুরতম ধ্বংস ও হত্যালীলার ইতিহাস। ... ...


আজকে শিক্ষক দিবসে ... ...

ঠাকুরের কথা, "মানবগুরু মন্ত্র দেন কানে, জগৎগুরু মন্ত্র দেন প্রাণে।" সেই সকল মানুষ – যাঁদের মধ্য দিয়ে কথায়, লেখায়, সুরে, কাজে জগৎগুরু, পরম আমাদের প্রাণে সৃষ্টির বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন – সব্বাইকে আমার শ্রদ্ধা জানাই আজকের দিনে। ... ...

ব্রজরাজ নন্দ, তাঁর দুই রাণি – রোহিণী ও যশোদা, বলরাম (যিনি বিষ্ণুর অংশ-অবতার) এবং ব্রজের সকল গোপ ও গোপীগণ স্বর্গ থেকে আবির্ভূত, তাঁরা কৃষ্ণের আগে জন্ম নিয়েছিলেন, শিশু ও বালক কৃষ্ণকে লালন-পালনের জন্য। রাজা কংসের চোখে ধুলো দিতে, কৃষ্ণের সঙ্গে একই সময়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন, দেবী যোগমায়া। দেবরাজ ইন্দ্র স্বর্গের এই সব সংবাদ কিছুই জানতেন না? কেমন দেবরাজ তিনি? নাকি পুরাণকারেরা কাহিনী কল্পনার সময়, এই দিকটি খেয়াল রাখেননি? নাকি অনার্য বা হিন্দু দেবতার কাছে বৈদিক দেবরাজের লাঞ্ছনার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ভাবেই উপস্থাপিত করেছেন? ... ...

সেবারে ইংল্যান্ড এসে প্রশান্ত মহলানবীশ গেলেন রামানুজনের সাথে দেখা করতে কেমব্রীজে, তখন ১৯১৯ সালের শেষদিক। রামানুজনের স্বাস্থ্য তখন ভেঙে পড়েছে – শরীর খুব একটা সুবিধার নয়। পরের বছরেই মারা যাবেন তিনি। কিন্তু অঙ্ক নিয়ে মেতে থাকলেই তিনি ভালো থাকেন বলে ডাক্তারে সেই নিয়ে আর নিষেধ করেন নি। প্রশান্ত মহালনবিশও ভাবলেন হাওড়া ব্রীজের সমস্যাটা শুনিয়ে যদি রামানুজন-কে চিয়ার আপ করা যায় একটু। খুব মন দিয়ে শুনলেন ব্যাপারটা রামানুজন – বললেন, “আমাকে দুদিন সময় দাও প্রশান্ত। খুবই ইন্টারেষ্টিং এটা”। ... ...

বামপন্থী কে? এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে কি বামপন্থী বলা যায়? এই নিয়ে তর্ক হচ্ছিল আমার এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে। সেই আলোচনার সুত্রে উঠে আসা কিছু ভাবনা একত্র করে লিখে ফেললাম। বলাই বাহুল্য, এই সব প্রশ্নের কোন নিশ্চিত উত্তর নেই। কিন্তু এই ধরণের প্রশ্ন নিয়ে কীভাবে ভাবা যায় তার একটি দিকনির্দেশ আছে। ভাবনা চলতে থাকুক। চরৈবতি! ... ...

আমাকে একটু রাত্রি দাও, আমাকে একটা রাত্রি দাও ... ...

কবিতা কৃষ্ণন নাকি টুইটে লিখেছেন, "সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল একনায়কতান্ত্রিক, সংসদীয় গণতন্ত্রের চেয়ে ঢের খারাপ"। আমি টুইটার দেখিনা। হিন্দু তে দেখলাম ( **লিংক লেখার নিচে)। টুইটারের আড়াই লাইনে এইসব তত্ত্ব লেখার কী মানে জানিনা, অবশ্য গোটা পৃথিবীতেই রাজনীতি এখন রেটোরিক সর্বস্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব কিছু দেখিওনা, উত্তরও দিইনা। কিন্তু এইটা কবিতা কৃষ্ণন বলেই লিখতে হচ্ছে, কারণ, "প্রগতিশীল"রা একরকম করে আদর্শ পতাকাবাহক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কবিতাকে উপস্থাপন করছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যের কিছু ওজন আছে। এবং এটা ঠিক প্রেক্ষিতহীনভাবে একটা টুইট তুলে আনা নয়। হিন্দুতে দেখলাম, একই লাইনে কিছু কথাও বলেছেন। যেমন সোভিয়েত মডেলকে বিশ্বের খারাপতম একনায়কতান্ত্রিক মডেল হিসেবে দেখতে হবে। ... ...

এবার রাশিয়ান আক্রমণ প্রকট হলো দূর হতে নিক্ষিপ্ত রকেটের রূপে। তার কতগুলো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছে তা সঠিক জানা যায় নি। তবে নিরাপদ আস্তানায় বসে ছোঁড়া রাশিয়ান অনেক রকেট বাহী বোমা দেখা দিয়েছে অসামরিক মানুষের ঘরবাড়ির জানলায়, দরোজায়, হাসপাতালে, গোশালায়। প্রতিদিন, প্রতি রাতে সশব্দে সেই সব রকেট নাগরিকের প্রাণ ও শিশুর নিদ্রা হরণ করেছে। যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কবিহীন কোনো প্রকারের সামরিক গুরুত্ব হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সাধারণ নাগরিকের জীবন এবং জানলা চুরমার দ্বারা সামগ্রিক গণভীতি উৎপাদনে সক্ষম মহামতি পুতিন দেশছাড়া করেছেন বহু মানুষকে। অন্য কোন উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে কিনা সেটা তিনিই জানেন। অধিকন্তু ন দোষায় বিধে রাশিয়ান করদাতার অর্থে কেনা অজস্র লক্ষ্যভ্রষ্ট রকেট আছড়ে পড়েছে যেখানে সেখানে, গোয়ালে, স্কুলের মাঠে, হাইওয়েতে, বনে বাদাড়ে । ... ...