
দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর। আর তেমনই বৈচিত্রময় জীবন। কী করেননি? গুরুর জুতো পালিশ, ঘর ঝাঁট দেওয়া, নিজের ছবি ফেরি করা... শিল্পীর নিজের কথায় এবং তাঁর স্ত্রী চারুলতা রায়চৌধুরীর ভাষ্যে সেই চিত্তাকর্ষক জীবনের কথা। একটি বই। পড়লেন শিল্পী কৃষ্ণেন্দু চাকী ... ...

সম্প্রতি প্রকাশিত তিনটি বইয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা। লিখেছেন নবকুমার ... ...

আজ ঠাকুমা চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দিয়ে জোলাপাড়ায় ঢুকে যায়। জোলাপাড়ার বাড়িগুলোর উঠোনে উঠোনে চরকি। আর সুতো ভরা লাল নীল নলিগুলো বারান্দায় স্তুপ করা। ও ঠাকুমা, আমার পুতুলের জামায় সুতোর ফুল তুলে দেবে বলেছিলে। দেবো দিদি, ঠাকুমা খেজুর চাচার বাড়ি পেরিয়ে যায়। করিম জোলার বাড়ির উঠোনে মুরগীগুলো খোঁপ থেকে বেরিয়ে আসছে। পেছন পেছন ছানাগুলোও। করিম জোলার বাড়ি ছাড়ালেই কলেজের মাঠ। সে মাঠের ওই কোণায় মান্দার গাছ। ... ...

রাগপ্রধান ও রাগাশ্রয়ী গানগুলি শুনলে খুব মনে পড়ে যায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সেই অ-শিক্ষকদের, যাঁদের সাংগীতিক মধ্যমেধা বাঙালির ঘরে ঘরে ঢুকে রাগ সঙ্গীতের প্রতি সহজাত আগ্রহগুলিকে যত্নে নষ্ট করেছে। বিগত দুই প্রজন্মের এই ‘গানের মাস্টার-নাচের মাস্টার’ দৃষ্টিভঙ্গির এবং উলটো পক্ষের সেই অশ্রদ্ধার কাছে মাথা নোয়ানোর ফলাফল — জাতিগতভাবেই বাঙালির রাগ সঙ্গীতের উৎকর্ষতা তলানিতে এসে ঠেকা। ... ...

রেস্ট হাউজের বারান্দায় দুটো চেয়ার পেতে দিয়ে চৌকিদার গেলো সাহেবকে খুঁজতে। বিক্রম বললেন, কনের বাড়িতে আপনি থাকতে চাইবেন তা আমি জানি। কিন্তু সত্যি-সত্যিই থাকা যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। আপনি আমার নামটা যদি খেয়াল করে থাকেন তা হলে বুঝতে পারবেন আমি ঠিক আপনাদের মতো ভদ্দরলোক সমাজের মানুষ নই, আমিও, যাকে আপনারা বলেন ট্রাইবাল, মুণ্ডা। তবে মুণ্ডা আর সাঁওতালরা সংখ্যায় বেশি, অনেক আগেই ক্রিশ্চান মিশনারিদের সংস্পর্শে এসেছে, অনেকেই লেখাপড়া শিখেছে ওদেরই দয়ায় – ইনক্লুডিং মী। কিন্তু খাড়িয়ারা সংখ্যায় অনেক কম। ওদের মধ্যে আবার তিন রকমের ভাগ আছে। যাদের বলে দুধ-খাড়িয়া আর ধেলকি-খাড়িয়া তারা জঙ্গল ছেড়েছে আগেই, এখন চাষবাস করে, সাঁওতাল-মুণ্ডাদের থেকে ওদের চট করে আলাদা করতে পারবেন না। ... ...

জন্মপরিচয়ের উপর এত গুরুত্ব কেন? তার কারণ দারায়ুস সাইরাসের বংশজাত ছিলেন না, আর সাইরাস এবং তিনি একই বংশজাত সেটা প্রমাণ করার দায় তাঁর ছিল। তার জন্য আমাদের দেখতে হবে দারায়ুস কীভাবে সিংহাসনে বসেন। সাইরাসের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসে তাঁর পুত্র দ্বিতীয় ক্যাম্বিসেস, আর তার মৃত্যুর পর সাইরাসের অন্য পুত্র বরদিয়া। কিন্তু রাজদরবারের সাতজন সম্ভ্রান্ত মানুষ দাবি তোলেন এই বরদিয়া সত্যিকারের বরদিয়া নয়, সে আসলে একজন ম্যাজাই (জাদুকর), যে ছদ্মবেশ ধরে বরদিয়া সেজে বসে আছে- যার আসল নাম গৌমাত। সাতজন সম্ভ্রান্ত মিলে এই গৌমাতকে হত্যা করে- দারায়ুস তাদেরই একজন। ইতিহাস কোনওদিনই জানতে পারবে না এই গৌমাত আদৌ কোনও ছদ্মবেশী বহুরূপী ছিল, না কি সিংহাসনের ন্যায্য উত্তরসুরী বরদিয়াই ছিল, যাকে ছলনা করে সরানো হয়। ... ...

১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বর। বাঁকুড়ার ছোট্ট মফস্সল শহর বিষ্ণুপুর থেকে বিশ্বভ্রণে বেরিয়ে পড়লেন দুই তরুণ। আফ্রিকা। একজন হাল ছাড়েন কিছু পরেই। অন্যজন চলতে থাকেন—১৭ বছর। ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। ১৫৪ টি দেশ। আজও এ কীর্তিতে তিনি অদ্বিতীয়। এই প্রথম দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সে পরমাশ্চর্য সফরের অনুপুঙ্খ কাহিনি শোনাচ্ছেন জয় মণ্ডল। আলাপে নীলাঞ্জন হাজরা ... ...

ডেভিড লিভিংস্টোন। আফ্রিকায় বেপাত্তা। কিংবদন্তি মানুষটির খোঁজে আফ্রিকা পৌঁছেছেন মার্কিন সাংবাদিক হেনরি মর্টন স্ট্যানলে। জাঞ্জিবার থেকে শুরু হল আফ্রিকার গভীরে অভিযান। প্রথম লক্ষ্য বাগামোয়ো শহরে পৌঁছে পাক্কা দেড় মাস ধরে সেখান থেকে একে একে রওনা হলো অভিজানের মোট পাঁচটি কাফেলা। স্ট্যানলের সেই বিখ্যাত সফরনামা ‘হাও আই ফাউন্ড লিভিংস্টোন’। এই প্রথম বাংলায়। তরজমায় স্বাতী রায় ... ...

স্থানীয় ভাষায় বলে ‘তামু’। আলু, পটল, ঢ্যাঁড়শ, কুমড়ো। লকলকে সবুজ শাক। পুঁটি, মৌরলা, পাবদা। মায় কাছিম পর্যন্ত। এক্কেবারে যেন বাংলার হাট। থলি হাতে ঘুরলেন সুকান্ত ঘোষ ... ...

মনুর ধর্মশাস্ত্র সহ নানা শাস্ত্রে খাদ্যকে একটি বিশেষ আর্থসামাজিক ব্যবস্থা কায়েম রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যে নির্দেশ রয়েছে খিচুড়ির ইতিহাস খুঁজতে বসলেই মেলে পুরাণগুলোতেও ঠিক সেই চতুর কৌশল। নীলাঞ্জন হাজরা ... ...

গণভোট প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অংশ। অর্থাৎ যেমন বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়করা জিতে মুখ্যমন্ত্রী বানান, কিংবা লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদরা স্থির করেন প্রধানমন্ত্রী, তার থেকে অনেক বেশি করে জনমতের সরাসরি প্রতিফলন গণভোট। সেই প্রত্যক্ষ পথে যিনি নির্বাচিত হন, ধরাকে সরা জ্ঞান করার অধিকার তার অনেক বেশি। সেই মহান নেতাকে যে অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কিছুটা দমিয়ে রাখবেন সেই সুযোগ কম। তাই যেসব দেশে সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্ধারিত হয়, সেখানে একনায়কতন্ত্রের অধিকার প্রত্যক্ষ করা যায় আরও বেশি তীব্রতায়। ... ...

আমাদের মস্তিষ্ক বাইনারি চয়েসে বেশি অভ্যস্ত। সাদাকালোতে বেশি অভ্যস্ত। বলা যায় গ্রে-স্কেলে দেখতে শিখতে হয়। সরকার গঠনের জন্যে নির্বাচনে এই দুটি বর্গই তো সম্ভব। যে রাজনীতি সরকার গঠনে বিশ্বাস করে না, অথচ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় তাদের চয়েসের সমস্যার কথাই বলা হচ্ছে এখানে। কিন্তু সেটা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার। সমাজসেবী কেউ সরকার গঠনে বিশ্বাস করলে তার এই দুটি বর্গে সমস্যা থাকবে না। ... ...

মানুষ কেন ভোট দেয়? নব্বই কোটি ভোটারের দেশে এ প্রশ্নের অন্তত এক কোটি আলাদা উত্তর পাওয়া যাবে। বছর পাঁচেক আগে চমকে দিয়েছিলেন একজন রেলের হকার, বলেছিলেন ভোট না দিলে ভোটার কার্ড ভ্যালিড থাকবে না. পরবর্তীতে জানতে পারি এইরকম অদ্ভুত গুজব গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত, এমনকি শহরেও। ভোটার কার্ড ভ্যালিড না-থাকাটা খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এক দু:স্বপ্নের ব্যাপার। ... ...

আয়ুর্বেদ সহ বিভিন্ন প্রাচীন চিকিৎসাবিধিতে বিভিন্ন সময়, পরিবেশ ও কালে স্থিত মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে কেমন আচরণ হওয়া উচিত এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা আছে। আমি আয়ুর্বেদ খানিকটা জানি। অন্য দেশের এবং চিকিৎসাব্যবস্থার কথা কথা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারবোনা। এজন্য আয়ুর্বেদে সীমাবদ্ধ থাকছি। আয়ুর্বেদে “সাত্ম্য” বলে একটি ধারণাকে ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণাটি হল – বিপুল বিশ্ব জগৎ বা (macrocosm)-এর মাঝে মানুষ বা অন্য যেকোন জীবিত কণা হচ্ছে অণুবিশ্ব বা microcosm। এ দুয়ের ভারসাম্য দিন, ঋতু, স্থান, সময়, ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বিঘ্নিত হয়। এ ভারসাম্যকে সমস্ত দিক থেকে রক্ষা করতে পারলে মানুষ সুস্থ থাকে, না পারলে অসুখের আবির্ভাব হয়। ... ...

স্বাস্থ্য বাজারের সওদাগররা – অর্থাৎ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল - এই সার্বজনীন বিমা ব্যবস্থার পুরো ফয়দা তোলার জন্য নানারকম রাস্তা নিতে পারে যার সবগুলিই খুব স্বচ্ছ বা সৎ নয়। বস্তুত এরকম ব্যবস্থায় চিকিৎসার ব্যয় আরও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, কারণ হাসপাতাল বা রোগী কারোরই খরচ কমানোর কোন উৎসাহ থাকে না। উভয়েই জানে সরকার টাকা দিচ্ছে; সেক্ষেত্রে একটি অসাধু হাসপাতাল প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিকিৎসা দেখিয়ে বিল ফাঁপিয়ে তুলতে পারে রোগীর অজান্তেই বা রোগীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে। এই দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করা খুবই কঠিন, বিশেষত যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির অস্তিত্ব খুব দৃশ্যমান নয়। ... ...

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদান অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রতিটি দেশ তাদের জনসংখ্যার ২০ শতাংশকে যাতে টিকাকরণ করাতে পারে সেই অনুপাতে ভ্যাক্সিন হাতে পাবে। কিন্তু ফারমা-কোম্পানি গুলি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ব্যাবসার সুযোগ সুবিধের ক্ষেত্রে দেশীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল। বহু দেশেই কোভিড মোকাবিলা, যার একটি চূড়ান্ত পর্যায় হল ভ্যাক্সিন নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা গ্রহণ করবে। ... ...

চোখ ধাঁধানো স্পট লাইটের নীচে রাজা বিশ্বাসকে না খোঁজাই ভাল। বরং খেয়াল করুন, ঝকঝকে শপিং মলের পিছনের বস্তিগুলোর অন্ধকার গলি। প্রথমে আমাদের শিখে নিতে হবে আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার পরও ঘন অন্ধকারে কীভাবে দেখতে হয়। আমরা ছোট থেকে বিজ্ঞানের বইয়ে পড়ে এসেছি কোনও বস্তুতে আলো পড়ে সেই আলো আমাদের চোখে আঘাত করলে তবেই আমরা নির্দিষ্ট বস্তুকে দেখতে পাই। এবার এই ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে অন্ধকারের ভেতর কী ভাবে দেখতে হয় – সেই প্র্যাকটিস করা যাক, বন্ধুরা। ... ...

উৎসাহী পর্যটক গোটা অঞ্চলটির গায়ে লেপে দেন একটিই নাম—দার্জিলিং। নস্টালজিয়ায় ভরপুর অনেক রোমান্টিক যাতায়াতের পরেও তাঁর নজরের বাইরেই থেকে যায় সেই পাহাড় জুড়ে নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি, বঞ্চনা, ক্ষোভ নিয়ে বেঁচে থাকা বিবিধ জনগোষ্ঠীর একদিন প্রতিদিনের বাস্তব। সেইসব মানুষের কথা। নেপালি ভাষায় লেখা উপন্যাস—ফাৎসুঙ্। লেখক ছুদেন কাবিমো। বাংলা তরজমায় পড়লেন বিমল লামা ... ...

আব্দেল্লাতিফ লাবি। মরক্কোর প্রথম সারির কবি। লেখেন ফরাসি ভাষায়। বহু পুরস্কারে সম্মানিত। কিন্তু দীর্ঘকাল মরক্কোর শাসকশ্রেণির চক্ষুশূল। ফলত প্রথমে আট বছর কারাবাস ও পরে নির্বাসন। তিরিশ বছর দেশছাড়া হলেও মরক্কো তার কবিতার প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি উচ্চারণে। লিখছেন পার্থপ্রতিম মণ্ডল ... ...

ব্রিটেনে তো তুলো হয় না। ইউরোপে কোথাও না। তা হলে সে মহাদেশে কী করে অষ্টাদশ শতক থেকে গড়ে উঠেছিল এত বিপুল সংখ্যক সুতিবস্ত্র কারখানা—উন্নত অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি? যুগ যুগ ধরে তুলো চাষের প্রধান ক্ষেত্র ভারতীয় উপমহাদেশ। কীভাবে সেই ভারতীয় তুলো পৌঁছে গেল ইউরোপীয় কারখানা হয়ে দুনিয়ার বাজারে? মর্মন্তুদ সে ইতিহাস। একটি সাম্প্রতিক বই। পড়লেন বিশ্বেন্দু নন্দ ... ...