


আমাদের দুটো গ্রাম। পাশাপাশি। দুটো জমি পেরোতে হয়। একটা চার বিঘা। আরেকটা তিনবিঘা। চার বিঘা এক সময় আমাদের ছিল, ফুটবল খেলার ম্যাচে বুট না থাকায় মার খাচ্ছে গ্রামের ফুটবল দল। অতএব বুট কিনতে চার বিঘা জমি বিক্রি করে দিলেন বাবা। এ-সব শোনা। মায়ের পতি নিন্দার আবশ্যিক উপাদান: উড়িয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিলে। এবং অবিস্মরণীয় উদ্ধৃতি: ঘর জ্বালানে পর ভালানে। ... ...

আপনার ধন কেমন ভাবে নিবেশিত হবে তার স্ট্রাটেজি তৈরি করেছিলেন ফান্ডের দুই ডিরেক্টর – অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত মাইরন শোলস এবং রবার্ট মেরটন। নোবেল বিজেতারা আম জনতাকে জানালেন, নির্ভয়ে থাকুন। আমাদের নিবেশন কৌশলটি এমনই ফলপ্রসূ এবং অভ্রান্ত, যে কোনো ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয় না ঘটলে আপনাদের অর্থ এবং তার মুনাফা সুনিশ্চিত থাকবে। আমাদের হিসেব অনুযায়ী এ ধরণের ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয় এক শতাব্দীতে একবার মাত্র ঘটতে পারে। চার বছর বাদে রাশিয়াতে প্রভূত লোকসান করে এল টি সি এম তাঁদের গ্রিনিচ কানেকটিকাটের অফিসে তালা দিলেন। ... ...

দাদু বলেন, একে নবজাগরণই বলা যায়। ইংরেজ আমলেও ইংরাজী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে থাকা বাঙালি বঙ্গের ভাবধারা – তার চিন্তন মনন ও আদর্শকে রূপদান করতে লাগল। শাসক আর শাসিতের মধ্যে সংঘর্ষ, কখনও বা সম্মিলনে গড়ে উঠতে থাকল বঙ্গের রূপরেখা। সেই নবজাগরণের কালে দক্ষিণ রাঢ়বঙ্গ ও দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের প্রেমচাঁদ তর্কবাগীশ হলেন তার একজন সহযোগী। ... ...

কাজিকে এতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে দেখে খারাপ লাগে মুজফ্ফরের। একেই ওর শরীর ভালো নেই, তার ওপর আবার বকাবকি করল সে। সত্যিই তো, বেচারার স্বভাবই এরকম। কাজি বিশ্বাস করে না ভূ-ভারতে এমন কোন মানুষই নেই। কেউ যদি ঠকিয়েও নেয়, কাজি হজম করে নেবে বিনা বাক্যব্যয়ে। মুজফ্ফর বলে, তোমার শরীর ঠিক আছে, কাজি? ... ...

উমমম, দারুণ জিনিস এনেছে আজ, মাঝারি সাইজের একেবারে টাটকা জীয়ন্ত চিংড়ি মাছ। পুরোনো স্মৃতি মনে আসে। ওয়েটল্যান্ডে যখন দু’জনে চাকরি করতাম, কর্তা একবার পুকুরের গলদা চিংড়ি রান্না করে অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। চিংড়িগুলো এতটাই তাগড়া ছিল, যে দুটো চিংড়ি ছ’ টুকরো করে আমরা ল্যাবের ছ’জন প্রোজেক্ট সায়েন্টিস্ট টিফিনে হাপুস হুপুস করে খেয়েছিলাম। সে গলদার দাঁড়াগুলো একেবারে নেভি ব্লু আর মোটা মোটা। কাঁকড়ার দাঁড়ার মতো দাঁতে চেপে ভেঙে খেতে হয়েছিল। কিন্তু এগুলো গলদা নয়, চাপড়া চিংড়ি। রান্নার বৌদের হাতে ছাড়লে ওরা সেই একটাই জানে – সেটাই করবে। ডুমো ডুমো আলু, নারকেল বাটা, আর সেই কাঁচা কাঁচা পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি ঝোল। ওরা যা পারে করুক। আমি একটু চিংড়ি আলাদা করে চিংড়ি থেঁতো বানাব। ... ...

উগুহহা বন্দর থেকে একদল ব্যবসায়ীর সঙ্গে তিনি রওনা হলেন প্রায় সোজা পশ্চিমদিকে, উরুয়ার উদ্দেশে। পনের দিন হেঁটে পৌঁছালেন বামবারেতে। এটা মান্যেমার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ হাতির দাঁতের ভাণ্ডার। স্থানীয়রা জায়গাটাকে বলে, মান্যুয়েমা। প্রায় ছ'মাস ধরে তিনি বামবারেতে আটকে রইলেন। পায়ে একটা ঘা হয়েছিল, মাটিতে পা ফেললেই সঙ্গে সঙ্গে তার থেকে পুঁজ-রক্ত বেরচ্ছিল। সেরে ওঠার পরে, তিনি উত্তর দিকে রওনা হন। বেশ কিছু দিন পর লুয়ালাবা নামের এক প্রশস্ত হ্রদ-জাত নদীর পাশে এসে পৌঁছান। এই নদী উত্তর ও পশ্চিম দিকে বয়ে চলেছে। কিছু কিছু জায়গায় আবার দক্ষিণ মুখোও তার চলা। সব মিলিয়ে বেশ গুলিয়ে দেওয়া ব্যাপার। এক থেকে তিন মাইল পর্যন্ত চওড়া নদী। নিজের জেদ ছেড়ে তিনি এর আঁকাবাঁকা গতিপথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, শেষকালে দেখলেন লুয়ালাবা গিয়ে পড়েছে সরু, দীর্ঘ কামোলোন্ডোর হ্রদে। যেখানে গিয়ে পড়েছে সেই জায়গাটা মোটামুটি ৬° ৩০' অক্ষাংশ। আর একে দক্ষিণে অনুসরণ করে, তিনি আবার সেইখানে এসে পৌঁছেছিলেন যেখানে তিনি লুয়াপুলাকে মোয়েরো হ্রদে প্রবেশ করতে দেখেছিলেন। ... ...

আজ সকালের পাতে ঠাকুমা দিল ভোগের সাবুখিচুড়ি, তার সাথে মনিপিসির হাতে বানানো সাবুর পাঁপড়। পাত উঠে যেতেই মা ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। আমার অবশ্য আজ সেসবে মন নেই। স্কুল না যাবার আনন্দে আমি ঠাকুমার পেছন পেছন ঘুরে বেড়াচ্ছি। উঠোন জুড়ে ধুয়ে দেওয়া কাপড়ে জাম-জামরুল গাছের পাতা গলে পড়েছে রোদ। সে রোদ তেতে উঠছে একটু একটু করে। ভাদুড়ি বাড়ির বাগানে একটানা ডেকে চলেছে ঘুঘুপাখিটা। আমাদের বাজারের ব্যাগ উঠোনে পড়ল। মুসা’র মা কচুর পাতায় ব্যাগ উপুড় করতেই বেরিয়ে এল বরিশালী চওড়া ইলিশ আর বেলেমাছ। চকচকে বেলে মাছগুলো নদীর মাছ, বড়বাজারে খুব কমই এমন মেলে। ঠাকুমার খুব পছন্দের মাছ এটা। এ ক’দিনে বাবা এই মাছ জোগাড় করে উঠতে পারেনি। ... ...

মোচ্ছব কাকে বলে? যখন কলকাতা ডুবুডুবু, গ্রামে খরা। যখন মুখ্যমন্ত্রী গান গাইছেন, এক পুরোনো মেয়র ফোটোশুট করছেন, আরেকজন মামলা। যখন কাশফুল বাড়ন্ত, দিগ্বিদিকে দেদার ডিজে-বক্সের কলধ্বনি। যখন বিচারক টিভিতে টিআরপি বাড়াচ্ছেন, যখন আন্দোলনরতরা রাস্তায়, আর পাবলিক সেজেগুজে পথে নেমেছে।যখন শারদসম্মানে ঢুকে যাচ্ছে "সেরা সেলফি জোন"এর পুরষ্কার, মেয়েরা আক্ষেপ করছে, কেন এবারই "সেরা রিল এলাকা"টা হলনা। চিন্তার কিছু নেই, আসছে বছর নিশ্চয়ই হবে। তখন রিলে রিলে কিলবিল করবে নেট-দুনিয়া। টিকটককে পিছনে ফেলে মেটা আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। একে কেউ কেউ ফালতু ক্যাকোফনি বলেন, আমরা বলি বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। এইসবই আমাদের উৎসবের যুগলক্ষণ। উৎসব তো আকাশ থেকে পড়বেনা, জীবন যেরকম, তেমনই হবে। এরই মধ্যে কলকাতার পুজো আবার হেরিটেজ তকমা পেয়ে গেছে। রাস্তার শিল্পে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্ভার, নিঃসন্দেহে কলকাতারই। আমাদের দীনতা আর হীনতার মধ্যেও, আমাদের পারা আর না পারার মধ্যে, আমাদের যুদ্ধ আমাদের স্বার্থপরতার মধ্যে, থাকনা আমাদের ভালোটুকুও, থাক না, আমাদের হুল্লোড়, আমাদের ক্যাকোফনি। ... ...

‘রাইনার, এই যে সব মানুষ তোমাদের ব্যাঙ্কের হলঘরে বসেছিলেন, এঁরা কারা? এদের কাউকে ব্যাঙ্কার কেন, এমনকি শিল্পপতি বলেও তো মনে হল না?’ রাইনার বললে, চুপ কর দেখি (জাই রুহিগ)। তুমি কি মনে কর তোমাদের গোষ্ঠীবদ্ধ ঋণের পারিশ্রমিক নিয়ে আমাদের ব্যাঙ্ক চলে? ঘরভাড়া ওঠে না। এখানকার খরচা জান? যাদের দেখলে, তারা আমাদের প্রাইভেট ব্যাঙ্কের গণ্যমান্য মক্কেল। সোজা বাংলায় (এর সরাসরি জার্মান আছে – আউফ ডয়েচ গেজাগট) করপ্রদানের পরিমাণ কমানোর জন্য আমাদের সঙ্গে এখানে কারবার করে। অ্যাকাউন্ট খোলে। টাকা তোলে। জমা দেয়। তারাই আমাদের রুটি রুজির মালিক’। আমার প্রশ্ন তখনো ফুরোয়নি। আমি বললাম, রাইনার, এদের পোশাক-আশাক, এমনকি সম্পূর্ণ বেমানান স্পোর্টস জুতো দেখলে তো হাঘরে মনে হয়। এরা তোমাদের মূল্যবান মক্কেল? কী গুল দিচ্ছ?’ ... ...
কিন্তু আজ থেকে সহস্রাধিক বছর আগেও কি পৌরুষ আর নারীত্ব আজকের মতো একইরকম বিপ্রতীপ মাপকাঠিতে নির্ধারিত হতো, নাকি এই দুই সমান্তরাল রেখা মিলেমিশে সেসময় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মানবের অন্যতর কোন পরিচয়? গত দশকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছিলেন নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটানভিল কলেজের অধ্যাপিকা তথা শিল্প ঐতিহাসিক মেগান সিফারেলি। প্রাপ্ত যে কোন প্রাচীন দেহাবশেষকে নারী ও পুরুষ নামক দুটি লিঙ্গে দেগে দেওয়ার বাঁধা গতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন এক উত্তরের আশায় গবেষণার জন্য ইরানের মরু-মালভূমির গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নকেন্দ্র তথা লৌহ-ব্রোঞ্জযুগের বাণিজ্যনগরী টেপ হাসানলুর প্রাচীন সমাধিগুলিকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি এবং খুঁজে বেরও করেছিলেন মানব যৌনতার তৃতীয় স্বরের বেশ কিছু অসামান্য নিদর্শন। ... ...

প্রায় এক হাজার বছর আগের বাংলা। ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দ, পাল রাজবংশের অন্ধকার যুগ চলছে। সিংহাসন নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই শুরু হয়েছে। সাম্রাজ্যের পরিধি ক্রমশই ক্ষুদ্র হচ্ছে। বাঙালীর গর্ব অতীশ দীপঙ্কর বিক্রমশিলা মহাবিহার ছেড়ে তিব্বতে চলে গেছেন প্রায় ত্রিশ বছর হলো। চারদিকে শুধুই অন্ধকার। তার মধ্যে একটি প্রদীপের দীপ্ত শিখার মতো জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন চিকিৎসক চক্রপাণি দত্ত। প্রথম বিখ্যাত বাঙালি চিকিৎসক, যার রচিত পুস্তক এক হাজার বছর পরেও আজও সমস্ত ভারতবর্ষের আয়ূর্বেদিক কলেজগুলিতে পড়ানো হয়। সে দীপ শিখাও কি নিভে যাবে? ... ...

কিন্তু কাল রাতে একটা জব্বর নাম এসেছে মাথায়। সেটা নিনিকে বলতে হবে। আর দশটা কাজে জড়িয়ে পড়ার আগে। তাই অপেক্ষা করে পৃথা। মেপে মেপে ক্যারাফেতে জল ঢালে। বসিয়ে দেয় বার্নারে। তারপর গ্যাসের নব ঘোরায়। খোলা জানলা দিয়ে চুইয়ে আসে ভোরের তরল, পাতলা অন্ধকার। এক দৈবী আলোর মত গ্যাসের শিখারা লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে। হাইড্রোকার্বনের অণুগুলো ক্যারাফের তলা ছোঁয়। পৃথার মনে পড়ে যায়, ওর মায়ের কথা। প্রথম যেদিন ওকে কাঁচের ক্যারাফে গ্যাসের আগুনে বসাতে দেখেছিল, কি ভয়টাই না পেয়েছিল! যদি আগুনের শিখায় কাঁচ ফেটে যায়! ওই ভয়টা! ভয়টাও ওদের পোর্টফোলিওতে চাই। মনে মনে নোট করে পৃথা। হয়ত এক্ষুণি কাজে লাগবে না। কিন্তু ইটস ইউনিক। কিছুটা না-জানা, ফ্লেম প্রুফ ব্যাপারটাই মা বোঝে না, কিছুটা মেয়েকে সব বিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাওয়া, সব কিছুর একটা পারফেক্ট পাঞ্চ। ... ...

পারমিতার অবিশ্বাস্য লাবিয়ার তুলতুলে কুচুরমুচুর গোলাপি অনায়াস ঠোঁটের মাঝে চারভাঁজ করা দুটো দু’হাজার টাকার করকরে পিঙ্কি-পিঙ্কি নোট কালো বেঁটে কদমছাঁট চাপদাড়ি সোনার বোতাম হাফকুর্তা হেটোধুতি কুলীন খদ্দের চার্বাক টিরিনচাগা (বংপুং) গুঁজে দেবার পর ব্যাপারটা স্পষ্ট হল গলা খ্যাঁকারির পর দরোজায় তিনটে টোকা পড়তে ফুলকলি ওরফে নিভা ওরফে রানি ওরফে মৌসুমী ওরফে পারমিতা সন্ধ্যা হলে যার নাম রোজই পালটে যায় ... ...

"আদ্যাশক্তি মহামায়া" বা "দুর্গা দুর্গতিনাশিনী" এইসব নামে ছবি হত এককালে। আরো অনেক ছবিতেই মা দুর্গা থাকতেন। মাটির মূর্তির পেছন থেকে জলজ্যান্ত মা দরকারে অদরকারে আসতেন। কিছুটা আবছা মনে আছে। কারণ সেইসময় আলেয়া সিনেমা নামে একটি হল ছিল আর দিদু ম্যাটিনি শো' তে নাতনীকে নিয়ে আদ্যাশক্তির শক্তি দেখতে যেতেন। আমার কিন্তু মনে আছে "অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি"। তনুজা গরদ পরে বেশ বাংলার বধূ হয়ে পিদিম জ্বালাচ্ছেন, গ্রামের লোক ঘরে আগুন লাগাচ্ছে, অ্যান্টনি বাইরে বাইরে কবিগান করে বেড়াচ্ছেন। দুর্গাপূজা এইছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। একটা ইস্যু ছিল। যে ফিরিঙ্গির বাড়িতে তার একদা বাঈজী এখন বধূ দুর্গাপূজার আয়োজন করতে পারে। এটা, এখন মনে হয় একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈপ্লবিক ঘটনা। দুর্গাপূজার একটা বিশাল সামাজিক দিক আছে। একটা প্রিজম যেন। অনেক অনেক আলোর বিচ্ছুরণ। তার কিছুটা অ্যান্টনি সাহেবের দুর্গাপূজার আয়োজনে ধরা পড়ে। তাও প্রায় একক আয়োজন। সেটা কতদূর সম্ভব জানি না। মানে কে তাঁকে প্রতিমা গড়ে দিল? কেই বা জোগাড় দিল এই বিশাল পূজার? তবু নাহয় গল্পের খাতিরে মানা গেল যে স্বামী স্ত্রী মিলে একটা যেন আনন্দোৎসব করছেন, ঘটনা তো আসলে উত্তমকুমার। ... ...

ঋষি গৌতম খুব অন্যমনষ্ক থাকেন ৷ কোন কাজে মনসংযোগ করতে পারেন না৷ কেন এমন হয়েছে তা তিনি বুঝতেই পারছিলেন না৷ আশ্রমের চারিদিকে বসন্তের রঙ লেগে যায় ৷ গাছে গাছে পাখিরা কলরব করে৷ হাওয়ার রঙ বদলায়৷ ঋষি গৌতম তাঁর আশ্রমের মাথার চাল মেরামত করছিলেন। তাঁর দিন কাটে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। তাঁর পক্ষে পিছনের ছায়া দেখা সম্ভবপর নয়৷ এমন সময় ঋষি নারদের আগমন ঘটে। ঋষি গৌতম একটুও আশ্চর্য্য হলেন না নারদকে দেখে। তাঁরা একসাথে কাজ করেছেন ধর্মসূত্র নিয়ে এবং গৌতম জানেন ঋষির আগমনের সম্ভাব্যতা৷ নারদের চরিত্র ভীষণই অকল্পনীয়! সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে উপস্থিত হন তিনি৷ ... ...

যতই হোক, কাকভোরে ওঠাটা তিরিশ বছরের অভ্যাস বলে কথা। সে অভ্যাস তার জীবনের সঙ্গী হয়ে গেছে। এসব নানা ভাবনার মাঝেই কুরুরু কুরুরু করে রাতের শেষ পালার বা দিন শুরুর ঢ্যাড়া-ঘোষণ দিতে প্যাঁচা ডেকে ওঠে। রাইসমিলের পুব দিকের গেটের পাশের আমড়াগাছে একজোড়া কোটরেপ্যাঁচা থাকে। সুকুমণি শব্দ শুনে নির্ভুল দিক গণে দিতে পারে। সেই ডাকে শেষ রাতটা কেমন ঝমঝম করে ওঠে। উসখুশ ভাব জাগে আকাশে বাতাসে। মিল থেকে লরীর শব্দ আসে। ইঞ্জিন গর্জে উঠে খানিক মকসো করে বেরিয়ে যায় লোড করা চাল নিয়ে কোন হিল্লিদিল্লি। ড্রাইভার খালাসীদের গলা খাঁকারি শোনা যাবে তখন। কারও বা আচমকা জোরে ডেকে ওঠায় কেমন যেন পরিবেশটা সজাগ হয়ে উঠে চোখ কচলে বড় করে তাকাবে। আরও বেশ খানিক পরে মশাগ্রাম থেকে বাঁকুড়াগামী দিনের প্রথম ট্রেনটিও এসে পড়বে হুড়মুড়িয়ে। ... ...

জ্ঞান হওয়া ইস্তক শ্যামাপিসিমা কে দেখে এসেছি। একমাত্র দাদু তাকে ডাকতেন "কই গ্যালা, শ্যামা? " বলে। আর কারো বোধহয় শুধু নাম ধরে ডাকার অধিকার ছিল না ... হিম্মতও নয়। ঠাকুমা, ছোট ঠাকুমা কোন অদ্ভুত কারণে তাকে বেশ সমীহ করেই ডাকতেনঃ 'স্যাকরা বৌ ' বলে। বাবা-কাকা-পিসিরা ডাকতো 'শ্যামা দি ' আর আমরা বলতাম - 'শ্যামা পিসিমা '। উনি ঠাকুমাদের ডাকতেন বড়-মা, ছোট-মা নামে, বাবা-পিসিদের সরাসরি নাম ধরে আর আমাদের তো ধর্তব্যের মধ্যেই আনতেন না। একেবারে নিজের ইচ্ছেমতো নাম দিতেন ... এবং ২০০% বাঙ্গাল অ্যাকসেণ্টে। যে কোন কারণেই হোক সেই নাম গুলিও হতো প্রাক স্বাধীনতা আমলের নেতৃবৃন্দের স্মরণে। ... ...
.jpg)