
কালো টাকার সমস্যা সমাধানের জন্য অন্যান্য অনেক রাস্তা নেওয়ার ছিল। এই কালো টাকা সত্তর বছর ধরে তৈরি হয়ে আসছে এবং এক মুহূর্তে কোনও এক জাদুদণ্ড বুলিয়ে তা নির্মূল করা সম্ভব নয়। গোটা ব্যবস্থাকে দায়বদ্ধ করে তোলার জন্য লোকপাল নিয়োগ করা সম্ভব। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আমলা, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা – এরা দায়বদ্ধ নয়। এদের দায়বদ্ধ করে তোলার মধ্যে দিয়েই কালো টাকাকে ধ্বংস করা সম্ভব। ... বড় বড় ঋণ খেলাপী শিল্পপতিদের পাশাপাশি লাভ হয়েছে, হতে চলেছে কাদের ? পেটিএম কোম্পানির। শপিং মলগুলোর। বিগ বাজার, মোর, রিলায়েন্স ফ্রেস, স্পেনসার্স এর মতো একচেটিয়া খুচরো ব্যবসার কারবারিদের,যারা খুচরো ব্যবসায়ে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসেছে গত কয়েক দশকে আর অধিকার করে নিতে চাইছে দেশের খুচরো ব্যবসার বিশাল বাজারটা,যার সিংহভাগ এখনো ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের দখলে আছে। লেসক্যাশ ও ক্যাশলেস ট্রানজাকশান এর প্রায় বিকল্পহীন বন্দোবস্তের মধ্যে দিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের হটিয়ে খুচরো ব্যবসার বৃহৎ বাজারে একচেটিয়া ব্যবসায়ীদের জাঁকিয়ে বসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ... ... ...

ডিজিটাল ব্যবসার বহর বেড়েছে, জেটলিজি বলেছেন। প্রথমত, আদৌ বেড়েছে কিনা সন্দেহের ঊর্দ্ধে নয়। নভেম্বর ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, চেক, ইত্যাদি অ-নগদী লেনদেন এক ঝটকায় বেড়ে গেছিল। তারপর কিন্তু ডিজিটাল বা অন্যান্য অ-নগদী কেনাবেচার পরিমাণ ক্রমাগত কমে আসছে। দীর্ঘকালীন প্রবণতায় যতখানি বাড়ার কথা ডিজিটাল কেনাবেচারপরিমাণ তার বেশি বাড়ে নি। কারণ সহজবোধ্য। লোকে ঠেকায় পড়ে ডিজিটালে গিয়েছিল, শখ করে যায় নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের অভ্যাসে ফিরে এসেছে, কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট অনেক সময় খরচা বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যে সরকার এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার মাশুল বাড়িয়েছে। লোকজন নগদ খরচায় আরো হিসেবি হয়ে পড়েছে। ফলে ডিজিটাল ব্যবসা বেড়েছে। তৃতীয়ত, প্রাক-নোটবন্দীর তুলনায় আজকের বাজারে নগদের পরিমাণ কমেছে। এই কমাটা সরকারের সচেতন সিদ্ধান্ত। সরকার কম নগদ ছাড়ছে যাতে লোকে বাধ্য হয় কম নগদ ব্যবহার করতে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিজিটাল ব্যবসা শুরুতে যত বেড়েছিল তার থেকে নেমে এসেছে। শেষ হিসেবে যত বেড়েছে তার পেছনে নোটবন্দীর কতখানি অবদান তা তর্কসাপেক্ষ। ... ...

সেই মাস্টার মশাইরা কোথায় গেলেন?যাদের স্কুল ছাড়ার সতেরো বছর পরেও রাস্তায় দেখলে ছুটে গিয়ে প্রণাম করতে ইচ্ছে করে।আমাদের প্রতিষ্ঠার গর্বে যারা গর্বিত হোন। তাঁরা কি সত্যিই হারিয়ে গেলেন? ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে প্রাণ ব্যাপারটা কি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা? হারিয়ে বোধহয় যান নি। তবে সংখ্যাটা তো কমেছে ভালোই। শিক্ষকতা নিছক চাকরিতে পর্যবসিত হচ্ছে। তবে এরমধ্যেই কোথাও না কোথাও রূপোলি তো দেখাই যায়। SCERT এর প্রোজেক্টে গিয়ে দেখেছিলাম প্রত্যন্ত জেলা স্কুলগুলোতে কিছু মাস্টার মশাই সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে স্কুলের ছেলে মেয়েদের জন্য কত কী করে যাচ্ছেন।অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোতেই ছাত্র-দরদী শিক্ষকেরা মানুষ তৈরির আলোকবর্তিকাকে জ্বালিয়ে রাখছেন ভব্যিষতের জন্য। তারা দেখাচ্ছেন কীভাবে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে অনেক পরিকাঠামোজনিত অভাব সহজেই ঢেকে দেওয়া যায় কী সহজে। ... ...

ক্লাস সিক্সের ঘরটা মস্ত বড় হল্, প্রায় ৭০ জন ছাত্রী অনায়াসে ধরে যায়, কিন্তু অত ছাত্রী তো হয় না এই স্কুলের সিক্সে| ফাইভে উঠে যারা পরীক্ষা দিয়ে অন্য কোনও স্কুলে চান্স পায়, তারা সবাই চলে যায়| যারা ফেল করে থেকে যায়, তাদের সাথে সাধনাদির প্রাথমিক বিভাগ থেকে আসা মেয়েরা আর কোনও স্কুলে ক্লাস সিক্সে কেউ তিনবার ফেল করলে যখন সেখান থেকে টিসি দিয়ে দেয়, তারা তখন এখানে এসে সিক্সে ভর্তি হয়| অন্য সব স্কুলেই নিয়ম হল একই ক্লাসে তিনব্ছরের বেশী থাকতে দেওয়া হয় না, তৃতীয়বারেও ফেল করলে টিসি দেওয়া হয়| ভাগাড়পাড়া স্কুলে অবশ্য এমন নিয়ম নেই, যতবার খুশী ফেল করে থাকা যায় এখানে| শুধু তিনবারের বেশী হয়ে গেলে সারা বছরের মাইনে ২৪ টাকার জায়গায় ৩৬ টাকা হয়ে যায়| এই হলঘরে বড়সড় পাঁচটা জানলা, মোটা মোটা লোহার শিক লম্বালম্বি বসানো| দুটো শিকের মধ্যের ফাঁক দিয়ে একটা রোগা মেয়ে দিব্বি গলে বেরিয়ে যেতে পারে| ক্লাসের পাশেই একটা কচুব্ন| আসলে ওটাও একটা মস্ত মাঠ, তবে শুধু মাঝ্খানে অনেকটা অংশ পরিস্কার আর পশ্চিম, উত্তর আর দক্ষিণে কচুবনে ভর্তি, পূবদিকে আমাদের স্কুলের মাঠ| দুপুরে ছেলেদের স্কুলের ছেলেরা নাকি দুটো মাঠজুড়েই খেলে| পশ্চিমের কচুবন ঘেঁষে একটা মস্তবড় শিমূলগাছ, এপ্রিল মাসভর লাল টকটকে ফুলে ভরে থাকে| কিন্তু নীচে পড়ে থাকা শিমূলফুলগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় কেমন বিশ্রীমত দেখতে, উঁচুতে যখন ফুটে থাকে শুধু লাল টকটকে পাপড়ি দেখা যায়, তাই সুন্দর দেখায়, মাটিতে খসে পড়লে আসল রূপটা দেখা যায়| ক্লাসের পেছনে পাকা রাস্তা, রিকশা, সাইকেল চলে অনবরত| লোকজন বাজার করে ফেরে, ডোরাকাটা নাইলনের ব্যাগের মুখ দিয়ে উঁকি মারে কচুর লতি কি মুলোশাকের ডগা, ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা উর্ধশ্বাসে দৌড়ায় ট্রেন ধরতে| রাস্তাটার পাশেই সেই যে সেই পুকুরটা, ক্লাস থ্রীয়ের জানলা দিয়ে যাকে দেখতাম| সোমবার সকালে এই পেছনের জানলা দিয়েই আমরা নজর রাখতাম রেখাদি আসছেন কিনা| রেখাদি আমাদের ক্লাসটিচার, সোমবারে কলকাতা থেকে আসেন তাই ট্রেন থেকে নেমে এদিক দিয়ে আসতে দেখা যায়, অন্যদিন বাড়ী থেকে আসেন, সে এদিক দিয়ে দেখা যায় না| ওঁকে আসতে দেখলেই আমরা লক্ষ্মী শান্ত হয়ে বই নিয়ে বসে যাই| উনি এসে ক্লাসে গন্ডগোল হতে দেখলে এলোপাথাড়ি বেত চালান, অনেকটা পুলিশের লাঠিচার্জ করার কায়দায়, কারুর চোখে লাগল কি নাকে ঢুকে গেল সেসব খেয়ালও করেন না| ... ...

ছেলেবেলার সে ফলসা গাছের মত এখনও মায়া আঁকড়ে জেগে থাকে কিছু বনেদীবাড়ি। মাথা উচুঁ করা নাজনীন, মোহময়ী ইতিহাসের পরতে পরতে তার মুহব্বত। যবনিকা পড়ে গিয়েও কোন এক ফাঁকে ধরা দেওয়া ক্ষীণ আয়ু। গাছ নেই, ফুল-পাতা শূন্য তবু শেকড়ের কোনো এক ভাঙা মূলটপের মত লেজুড় সে 'বড়বাড়ি'র ইতিহাস। যে জমিদার জমানায় কেউ বিলেত ফেরত কেউবা ডাক্তার-প্রফেসর, সে জমানা ক্রমে বেগানা হতে হতে ধুলো বালি, বালি ধুলো। জমিটুকু সম্বল করে বংশপরম্পরায় বনেদিয়ানা দেখাতে দেখাতে বিস্মৃত হয়েছে শিক্ষা-সাবেকিয়ানা। মেয়েরা হাঁড়ির তলানিটুকু খেতে খেতে বড় হয়েছে অভ্যেসে, গড়পাঠ শেষে তারপর ঢুকে গেছে বিয়ে প্রতিষ্ঠানে। ... ...

কথায় কথায় আমরা সাদা চামড়ার মানুষদের অনুকরণ করি, কদর করি। সেক্ষেত্রে শিকাগো, লন্ডন, নিউইয়র্কের উন্নত মানুষজন পশুহত্যায় সেন্টিমেন্ট দেখান না। ‘ঘোড়া ঘাসের সাথে বন্ধুত্ব করবে তো খাবে কী।” এই সত্যটা সহজে বুঝে নিলেই এতো তর্কের অবকাশ আসে না। ধর্মের প্রসঙ্গ না টেনেও দিব্যি মাংসের উৎসব হওয়া প্রয়োজন। যে মুসলিম ভাইটি কুরবানিতে গরু বা মোষ খাচ্ছেন বলে আপনার এতো অভিযোগ, ঠিক সেই দিনেই আপনি প্রাণভরে মাটন বা চিকেন সাঁটাচ্ছেন। স্থান পৃথক হলেও, কার্যকারিতায় উনিশবিশ। আপনার খাবারের প্লেটও একটি প্রাণের বিনিময়ে সেজেছে। ... ...

গত বছরেও প্রাইম টাইমে আমরা নিয়মিতভাবে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলাম। শুধু আমরাই নয়, চ্যানেলের পর চ্যানেলে, মধ্যবিত্তের সান্ধ্যকালীন অবসরযাপনে, আমাদের এই প্রিয় দেশের অ্যাঙ্করেরা এই বিষয়ে তাদের পারদর্শিতা দেখিয়ে চলেছিলেন, সর্ব সময়ে এই মধ্যবিত্ত দর্শক শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় তাঁদের নিজেদের ধরে রাখার একটা দায় ছিল। এবং তার কিছুদিন পরেই তাঁরা ফিরে গেছিলেন তাঁদের সেই চিরাচরিত হিন্দু-মুসলমান টপিকে। অন্যদিকে, মাসের পর মাস ফ্ল্যাটের ক্রেতারা প্রতি রবিবার নয়ডা আর গ্রেটার নয়ডা এলাকায় বিল্ডারদের অফিসের বাইরে বসে ধর্ণা সমাবেশ করতেন। কিন্তু কিছুই বদলায় নি। মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেন না যে তাঁরা তাঁদের জনতার আইডেন্টিটিকে ধীরে ধীরে সন্ধ্যেবেলার টেলিভিশনের উপচারের অনুষঙ্গে বদলে ফেলছেন, দিনের পর দিন ধরে। অ্যাঙ্কররা এই জাতীয়তাবাদী উপচারের নতুন পুরোহিত। জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে তাঁরা উপস্থিত সবাইকে নিজের আইডেন্টিটি বিসর্জন দেবার আহ্বান জানান। জনতার হাতে যত বেশি ক্ষমতা থাকে, গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী হয়। জনতার আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেললেই আপনি মহাশক্তিধর সেই সিস্টেমের ক্ষমতার সামনে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন – হ্যাঁ, সেই সংখ্যালঘু, যার মৃত্যুতে আপনি আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠেন। এই হাততালি দিতে দিতে আপনি ভুলে যান যে, আপনিও সেই সংখ্যাগুরুর শক্তির সামনে ধীরে ধীরে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছেন। ... ...

এই ধরণের নানান বঞ্চনা আর অত্যাচার এই মানুষগুলোর মোহভঙ্গ ঘটাচ্ছিল, সেই সঙ্গে জন্ম নিচ্ছিল ক্রোধ এবং হতাশা। অথচ এর থেকে বেরোনোর কোন রাস্তা তাদের সামনে খোলা ছিল না। ফলস্বরূপ সমাজের একটা বড় অংশ ড্রাগ এবং অন্যান্য নেশার ঝোঁকে পড়ে যাচ্ছিল। এক সময় প্নজাব আর নেশা প্রায় সমার্থক হয়ে গেছিল – অশিক্ষা আর দারিদ্র পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলছিল ক্রমশঃ। মানুষগুলো উদভ্রান্ত, দিশাহারা হয়ে পড়ছিলেন। স্বভাবতঃই এই প্রেক্ষিতে যখন ডেরা সাচা সৌদার মত আশ্রম এগিয়ে এল তাদের ত্রাতা হিসাবে, এরাও সাড়া দিলেন। না দেবার কোন কারণ ছিল না, কারণ ডেরা তাদের সম্মানজনক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ডেরায় এই মানুষগুলির শিক্ষালাভের ব্যবস্থা আছে, তাদের ড্রাগ ও অন্য নেশা থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা আছে এবং সর্বোপরি, খাদ্যসংস্থান আছে। ডেরা তাদের কর্মসংস্থান দেয়, জীবনের উদ্দেশ্য দেয়। দিশাহারা অসহায় মানুষের কাছে খড়কুটোর মতন যে বাবাজী দিশা দেখাচ্ছে, সে রেপিস্ট কি না জানতে বা মানতে তাদের বয়ে গেছে। ভুললে চলবে না – পেটে সর্বগ্রাসী খিদে থাকলে কে আমাকে খাবার দিচ্ছে, সে খুনী না ধর্ষক, তাতে আমার কিছুই এসে যায় ... ...

শুধু এদেশে বলে নয়, সারা পৃথিবীতেই টাকা থাকলে আইন আদালত ন্যায়বিচার সবই কেনা যায় কোন না কোন পর্যায়ে। সে গল্প আমাদের খুব একটা অজানা এমন নয়। কিন্তু দিনের শেষে আমরা – যাদের হাড্ডি এখনো পিলপিলায়ে যায়নি সবটা, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে থাকি? নেতাজী তো ফিরবেন না – জ্যোতিবাবুও না, তাহলে বিপ্লব কবে কখন, কোথায় হবে? আমরা কি অপেক্ষা করব কবে সেই মহামানব আসবেন, বিপ্লবের ভ্যানগার্ড, আমরা তাঁর পিছনে ছুটে যাব হ্যামলিনের ইঁদুরদের মত – বিপ্লবকে কুলোর বাতাস দিয়ে বরণ করে আনতে? নাকি আমরা ফিরে যাব সেই সব মানুষের কাছে, যারা প্রতিনিয়ত লড়াইটা লড়ছেন? মার খাচ্ছেন, কখনো পাঁচকুল্লার রাস্তায় তো কখনো সিঙ্গুরের মাটিতে, কখনো ভাঙরের জমিতে কখনো বস্তারের জঙ্গলে? মার খাচ্ছেন, গুলি খাচ্ছেন, আবার আরো হাজারে হাজারে লড়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে? আরে দাদা এত ঘাবড়াবেন না – আমাদের কাছে বেছে নেবার জন্য রাস্তা আছে তো। পিঠে বেঁধেছি কুলো, কানে গুঁজেছি তুলো, এখন কত কিলোবি, কিলো – এমনি করে যায় যদি দিন যাক না। চলতে থাকুক – ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না আমার সন্তানকে নিয়ে যেতে আসে ওরা। ... ...

একাত্তরে বাংলাদেশ যুদ্ধের পর সেই ইতিহাসটা আবার রিপিট হল। দুর্ভাগা এই রাজ্য! এমনিতেই জমি বাড়ন্ত, ব্যবসাবাণিজ্য সব চলে যেতে শুরু করেছে তখন, কলকারখানাগুলো ধুঁকছে। তার ওপর এসে আছড়ে পড়ল এই বিপুল মানুষের ঢেউ। ফের একটা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শামিল হওয়া। তারপরে তো ক্ষমতায় এল পার্টি। অপারেশান বর্গা হল। দশটা বছরে ভূমিহীনদের মধ্যে যত পাট্টা বিলি হয়েছে, স্বাধীনতার পর এতগুলো বছরে সারা দেশে আর কোথাও হয়েছে কি? খোঁজ নিয়ে দেখো। যদিও সেটা শেষ কথা নয়। সেটা হতে পারত একটা শুরু। হল না। কিন্তু মেজকা, ভূমিসংস্কার করতে গিয়ে গ্রামের আসেপাশে সব পতিত নাবাল জলা জংলা জমিগুলোকে খাস করে নেওয়া হল। ওর মধ্যে কিন্তু নদীর প্লাবনভুমিও ছিল, বছরের পর বছর পড়ে থাকত ওড়কলমি শেয়াকুল বনডুমুরের ঝোপঝাড়ে ভরা। সবার জন্য অবারিত - গ্রামের আতুরি বুড়িরা পাতালকোঁড় হিঞ্চে-ব্রাহ্মী-গিমে শাক শাপলা তুলে নিয়ে বাজারে আসত। পুজোপার্বণে গরীবগুর্বো মেয়েবউরা তুলে আনত আকন্দকুঁড়ি ধুতরোর ফুল, দুর্ভিক্ষের সময় গেঁড়িগুগলি। পাঁচ-দশ বছরে একবার বড়োসড় বন্যা হলে জলে ভরে গিয়ে বসতিগুলোকে বাঁচাত, কিন্তু ... ... ...

দাড়িওয়ালাদের অবির্ভাব ঘটল। তীব্র অসন্তোষে গনগন করছে ওদের মুখ, আমাদেরও তো ঘর ভেসেছে --- রায়হান গা বাঁচায়, আরে ভাইসাব আমরা তো সামান্য সাংবাদিক। এই যে ছবি টবি তুলে নিলাম এগুলো পত্রিকায় দিয়ে নিউজ করলে আপনাদের জন্যে ত্রাণ চলে আসবে। সুন্দর চেহারার এক দাড়িওয়ালা চোখ ঘোঁচ করে জানতে চায়, কিন্তু লিস্টি যে করলেন আপনারা আমাদের নাম তো লিখলেন না? রায়হান মাখনের মত হাসে, ভাইরে আপনারা ত এখানে ছিলেন না তাই লেখা হয়নি। এবার হবে দেখবেন। কায়দা করে দাড়ি রাখা বেঁটে মত একজন সামনে এসে মারমুখী দাঁড়ায়, এখন ত এসেছি, নিন আমাদের নাম লিখেন লিস্টিতে। ... ...

আজ সেই বহুপ্রতীক্ষিত ও বহুপ্রতিশ্রুত ৫০ (x ৬) দিন পর আমাদের দেশ দুর্নীতিগ্রস্ত মশা থেকে মুক্ত, গঙ্গা নদীতে বইছে পবিত্র টাকা, বয়স্কদের ওষুধের জোগান নিশ্চিত, সন্ত্রাসবাদ, নক্শালপন্থা, মাওবাদ, জালটাকার বাণিজ্য, ড্রাগ ব্যবসা, মানব পাচার সব কিছু উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, এখন দয়া করে সেই 'অর্ধেকের বেশি সাংসদ', যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার যুদ্ধকে বাধা দিয়েছিলেন, তাদের নাম গুলো প্রকাশ্যে আনুন। দুই তৃতীয়াংশের বেশী সাংসদ তো আপনারই জোটের। দয়া করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন তাদের ওপর। অন্তত আপনার ঘরের সাংসদদের ওপর তো বটেই। ইংরেজীতে কথাই আছে, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম, তাই না? ... ...

উপসংহারে লেখকরা লিখছেন, “ফাঁসীর আগে ধনঞ্জয় বলেছিল সে নিরপরাধ। গরিব বলে তার ফাঁসী হচ্ছে।" অতি সাধারণ কথা। যেকোনো ফাঁসীর আসামীই একথা বলতে পারে। পুরো বইটা পড়বার পরে এই বাক্যের অভিঘাত কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। একটা সিস্টেমের কাছে মানুষ কি পরিমাণ অসহায়, সেটা বারবার মনে হচ্ছিল এই লাইনটা পড়ে। বইটা যেদিন শেষ করি, সেটা কালীপূজোর রাত। যেরকম হয়, রাতের স্তব্ধতা ভেঙে মাঝে মাঝে পটকা কি তুবড়ির আওয়াজ আসছে। আমার কাছে তখন কিরকম অবাস্তব লাগছিল সবকিছু। একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। আমার ধারণা, বইটা পড়লে যে কারোর মধ্যেই এই ঘোরটা তৈরি হবে। মানুষ যে framework এ বাস করে, তার ভিত ধরে টান দিলে এরকম হয়। ... ...

ফের এবছর ভয়াবহ বন্যার কবলে নিম্ন দামোদর এলাকা। ১৯৭৮ এবং ২০০১ সালের বন্যাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে এর তীব্রতা। তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে ডিভিসি-র বাঁধগুলির কার্যকারীতা এবং পরিচালনা। একটি বড়ো দৈনিকে হেডিং হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের জলে ডুবল বাংলা। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দুটো প্রশ্ন তুলেছেন, এক) ডিভিসির জলাধারগুলোতে ড্রেজিং করছে না কেন কেন্দ্র সরকার? দুই) জল ছাড়ছে ডিভিসি। এই অবস্থায়, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ‘ডিভিসি-র ছাড়া জলে বন্যা হলো’ – এটা লব্জে পরিণত হয়ে গেছে যেমন, তেমনি সম্ভবতঃ সামনের দিনে আরেকটি লব্জ তৈরি হতে চলেছে, ‘ঝাড়খণ্ডের জলে বন্যা বাংলায়’। মুশকিল হলো, এই কথাটা বলা আর ‘সূর্যের তাপে খরা বাংলায়’ বলার মধ্যে কোনো তফাত নেই। এই ধরনের কথা, সমস্যাটি ঠিক কী, তা গুলিয়ে দেয়। সমস্যাটির সমাধান করার উদ্যোগ নিতে বাধা দেয়। এবং একইসাথে ভেতরে ভেতরে, এটা কোনো সমস্যা না, এই বোধও তৈরি করে। যার অবশ্যম্ভাবী ফল নিষ্ক্রিয়তা। আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছি, সমস্যাটি ঠিক কী, তা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তুলে ধরার। এবং তা এখনও পর্যন্ত দামোদরের বন্যা নিয়ে যা যা গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে। তার মধ্যেই থাকবে, কী করা যায়, কতটা করা যায়, সেসবও। আমরা অবশ্যই বাস্তবের মাটিতে দাঁড়ানোর পক্ষপাতী। সমস্যাটিকে বর্তমানের নিরিখে বোঝার পক্ষপাতী। এবং আমরা প্রশ্ন তীক্ষ্ণতর এবং সূক্ষতর করার পক্ষপাতী, যাতে ফারাকটিকে চেনা যায়। মোটা দাগের কোনো মতামতের তুলনায় সূক্ষতর প্রশ্নের মধ্যেই সমস্যাটি এবং তার মোকাবিলার ভবিষ্যৎ নিহিত বলে আমরা মনে করি। তাই পাঠকরাও যদি পারেন, সাহায্য করুন, সূক্ষতর প্রশ্ন করে। বা তার উত্তর দিয়ে। ... ...

ফের এবছর ভয়াবহ বন্যার কবলে নিম্ন দামোদর এলাকা। ১৯৭৮ এবং ২০০১ সালের বন্যাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে এর তীব্রতা। তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে ডিভিসি-র বাঁধগুলির কার্যকারীতা এবং পরিচালনা। একটি বড়ো দৈনিকে হেডিং হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের জলে ডুবল বাংলা। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দুটো প্রশ্ন তুলেছেন, এক) ডিভিসির জলাধারগুলোতে ড্রেজিং করছে না কেন কেন্দ্র সরকার? দুই) জল ছাড়ছে ডিভিসি। এই অবস্থায়, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ‘ডিভিসি-র ছাড়া জলে বন্যা হলো’ – এটা লব্জে পরিণত হয়ে গেছে যেমন, তেমনি সম্ভবতঃ সামনের দিনে আরেকটি লব্জ তৈরি হতে চলেছে, ‘ঝাড়খণ্ডের জলে বন্যা বাংলায়’। মুশকিল হলো, এই কথাটা বলা আর ‘সূর্যের তাপে খরা বাংলায়’ বলার মধ্যে কোনো তফাত নেই। এই ধরনের কথা, সমস্যাটি ঠিক কী, তা গুলিয়ে দেয়। সমস্যাটির সমাধান করার উদ্যোগ নিতে বাধা দেয়। এবং একইসাথে ভেতরে ভেতরে, এটা কোনো সমস্যা না, এই বোধও তৈরি করে। যার অবশ্যম্ভাবী ফল নিষ্ক্রিয়তা। আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছি, সমস্যাটি ঠিক কী, তা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তুলে ধরার। এবং তা এখনও পর্যন্ত দামোদরের বন্যা নিয়ে যা যা গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে। তার মধ্যেই থাকবে, কী করা যায়, কতটা করা যায়, সেসবও। আমরা অবশ্যই বাস্তবের মাটিতে দাঁড়ানোর পক্ষপাতী। সমস্যাটিকে বর্তমানের নিরিখে বোঝার পক্ষপাতী। এবং আমরা প্রশ্ন তীক্ষ্ণতর এবং সূক্ষতর করার পক্ষপাতী, যাতে ফারাকটিকে চেনা যায়। মোটা দাগের কোনো মতামতের তুলনায় সূক্ষতর প্রশ্নের মধ্যেই সমস্যাটি এবং তার মোকাবিলার ভবিষ্যৎ নিহিত বলে আমরা মনে করি। তাই পাঠকরাও যদি পারেন, সাহায্য করুন, সূক্ষতর প্রশ্ন করে। বা তার উত্তর দিয়ে। ... ...

এইখানে, ঠিক এইখানে তার নাড়ীর ওপর হাত রাখে দুর্বার মহিলা সমণ্বয় সমিতি। আলেকজান্দ্রা কলন্তাই যখন দেহোপজীবিনীর সংজ্ঞা দেন এই বলে যে সে এমন এক ব্যক্তি যে অন্যদের ওপর বেঁচে থাকে, যার শক্তি যৌথতার জন্য ব্যবহৃত হয় না, যে "শ্রমপরিত্যাগকারী", তখন তার সামনে যে বিষয়গুলি অনুপস্থিত থেকে যায় তা হল হিউম্যান ট্র্যাফিকিং, রাজনৈতিক মদত আর ব্যক্তিস্বাধীনতার চূড়ান্তকরণ। হ্যাঁ, তার কথা ঠিক, শুধু উঁচু হিলের জুতোর জন্য এই পেশায় যায় কিছু মেয়ে, কিন্তু সংখ্যায় তারা নগণ্য। গতকালের TOI তে খবর আছে পুণে থেকে উদ্ধার করা এক বাঙালি মেয়ের হাসপাতালে শুয়েও যে আরো চারজনকে উদ্ধার করার কাজে সার্থক হয়েছে একটি এন জি ও র সহায়তায়। একজন বাংলাদেশি মাইনর। কাজ দেবে বলে নিয়ে গিয়ে যে ব্রথেলে বিক্রি করা হয়েছিল তার মালিক এক শিবসেনা নেতা। ভয়ে পুলিশ প্রথমদিকে নিকম্মা হাবভাব করছিল। পরে যাই হোক সাহায্যও করে। ... ...

কলকাতা-কেন্দ্রিক ন্যাকাচিত্তির সাহিত্যের এঁদো কপচাবাজি এবং তার ভেক্টর প্রতিষ্ঠানের মুখে জোর থাপ্পড় মেরে তার গিল্টি-করা দাঁত উখড়ে তার ভেতরকার মালকড়ি ফাঁস করে দিতে আজ থেকে তিপ্পান্ন বছর আগে দানা বেঁধেছিল বাংলা সাহিত্যের প্রথম আভাঁগার্দ আন্দোলন ----- হাংরি জেনারেশন। যা ছিল আক্ষরিক অর্থেই কলকাতার বাইরের কবি-লেখকদের নয়াল সংযোজন। তাঁরা এসেছিলেন এমন এক মিলিউ থেকে যেখানে বাংলার তথাকথিত ভদ্রায়তনিক সংস্কৃতির কোনও শিস-ই গজাবার নয়। জীবনের অনেকরকম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় যেখানে। হাংরি সাহিত্যের কলিন অধ্যয়নে এই প্রেক্ষাপটটি সর্বাগ্রে মাথায় রাখতে হবে। এই হাঙ্গামার প্রধান স্রষ্টা মলয় রায়চৌধুরীর শৈশব অতিবাহিত হয়েছিল বিহারের ভয়ঙ্কর কুচেল অধ্যুষিত বাখরগঞ্জ বস্তিতে। তাঁর টায়ার ছোটবেলা অতিক্রান্ত মুসলিম অধ্যাসিত দরিয়াপুর মহল্লায়। সেই অস্বাচ্ছন্দ্য, অখল জ্বালা, ক্ষোভ আর বিদ্রোহকে বুকে করে মলয়ের বেড়ে ওঠা। সংস্কৃতির একেবারে নিচেকার পাদানি থেকে আসা, নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে ওঠার প্রতিটি মানুষী শঠতার সাক্ষী, স্পেঙলারের সংস্কৃতি ও অবক্ষয়কালীন সর্বগ্রাস তত্ত্বে তা-খাওয়া একজন বাইশ-তেইশ বছরের কৃষ্টিদোগলা বা কালচারাল বাস্টার্ড লেখালেখির মাঠে এলে যা ঘটবে, সেটা তো রফা হয়েই ছিল। ... ...

উপন্যাসটি বিবৃত হয় কখনও সহজ বর্ণনায়, কখনও লম্বা-নেকো সেপাই নামের এক পাহারাদারকে আচাভুয়ার মত দাঁড় করিয়ে মনোলগের আকারে, কখনও টুকরো সংলাপে। উপন্যাসে বিধৃত হয় মাটির মায়াবন্ধন, ভোগবাসনার এই দুনিয়া, জীবনের রহস্যময়তা, শফির ক্রমাগত মেটামরফোসিস, ক্রমশ কিংবদন্তীর দিকে উড্ডীন এক নাচার পিরের অসহায় আত্মসমর্পন এবং জীবনের প্রতি ঘৃণা ও ভালোবাসার টানাপোড়েনে তৈরি একটি আলো ও অন্ধকারের নকশাদার জামদানি। কিন্তু আশ্চর্য এই যে, ওই নক্শায় আলো ও অন্ধকারের চৌখুপি সমান উজ্জ্বল। এমন কী, অন্ধকার যেন তীব্রতায় আচ্ছন্ন করে প্রচলিত সমস্ত বোধ, আমাদের বেস্ট-সেলার গ্যাদগেদে রচনাসমূহ। নির্মাণকৌশলের ভেতরে চারিয়ে যাওয়া Negetivism এক অসামান্য দক্ষতায় প্রচলিত, মান্য এবং তথাকথিত শাশ্বত জীবনবোধকে অতিক্রম করে। অন্য এক অপরিচিত ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় পাঠককে। সাদা জিন ও কালো জিন সমস্ত উপন্যাসজুড়ে অদৃশ্য দোরঙা সুতোর বিনুনি বুনতে থাকে। লৌকিক আর অলৌকিকের দ্বন্দ্বে জমিনে ফোটে বিস্ময়কর কুসুম। ... ...

আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। দেশে এখনো পর্যাপ্ত পরিমানে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। তবুও সকাল সকাল এমন মানবগ্যাসের দুর্গন্ধময় আইডিয়া কেন ছড়িয়ে দিতে চাইছি। না পেটখারাপ হয়নি, আপনি হয়তো জেনে গেছেন গ্যাসে ভর্তুকির খবর। এই অবস্থায় গ্যাসে রান্নার অভ্যাস ছেড়ে মাটির উনুনে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। বিদ্যুতের বিলের কথা মাথায় রেখে ইন্ডাকশন কুকার বা হিটার চালানোর আগেও আপনাকে ভাবতে হবে। সাধারণ পরিবারের এসব কিনে ওঠার সামর্থ্য নেই। সর্বোপরি আপনি যদি প্রকৃত দেশপ্রেমিক হন, দেশের ছাপান্ন ইঞ্চির ছাতিধারী প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর মা-বোনেদের গ্যাসে রান্নার স্বপ্নকে সফল করতে এই মানবগ্যাসের সাহায্য নিতে হবে। কারন স্বাভাবিক এল.পি.জি কেনার মতো পরিস্থিতি হয়তো আগামীতে থাকবে না। মানবগ্যাস ব্যবহারে উদ্যোগী হয়ে অচ্ছেদিনের এই ধারাকে এগোতে দিন। বেশি চিল্লাচিল্লি করলে পাকিস্তান টুরিজম আছে...। সরকার যখন ভর্তুকি দিতে অপারগ, তখন আমাদের আম্বানী বা আদানীদের মতো দেশপ্রেমীদের মুনাফার কথা চিন্তা করে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হবে। নচেৎ চুপ থাকতে হবে, কারন সেনারা সীমান্তে লড়ছেন। কাজেই মধ্যপন্থা হিসেবে মানবগ্যাসের ব্যবহার অতি উত্তম উপায়। ... ...

বাড়িতে অনেকে কানাঘুষো করলেও আমার খুব ভাল লেগেছিল যখন জানতে পারলাম বিয়ের পর দিদি-জামাইবাবু এই বাড়িতেই থাকবে। আমার কাছে তো এটা মেঘ না চাইতেই জল ছিল। এক তো দিদি বাড়িতেই থাকবে আর উপরি হিসেবে ডাক্তার জামাইবাবু। বিজ্ঞানে লবডঙ্কা এই শালিকে কি দয়া করে একটু পড়া দেখিয়ে দেবে না? যখনই সময় পেতাম ঘুরঘুর করতাম নতুন দম্পতির আশেপাশে। জামাইবাবুও আমাকে খুব পছন্দ করে। দোকানে নিয়ে যায়, পড়া দেখিয়ে দেয়, কত গল্প বলে। আর কত কত গল্পের বই আছে জামাইবাবুর কাছে। এর মধ্যে এসে যায় অন্যরকম একটা দিন। দুপুরবেলা দিদি-মা-জ্যেঠিমারা বাইরে যেতে ডাক পড়ে আমার নতুন জামাইবাবুর ঘরে। আমি লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যাই। ... ...