খাপছাড়া স্মৃতিকথা
ঝুমা সমাদ্দার
জানালার ধারে ভ্যাবলা হয়ে বসে ছিলাম, কোথা থেকে যেন বেরিয়ে এলো একটা 'মন', অনর্গল বলে যেতে লাগল-
গরমের রাত্তিরে খাওয়া দাওয়ার পর সেই যে বাড়ির পেছনের রাস্তাটা ধরে যখন হাঁটতে বেরোতিস, সেই যে রে, যেখানে পুষ্পাদের বাড়ির বড় বট গাছটা ছিল, যেটা বেয়ে একটা মাধবীলতার গাছ উঠে গিয়েছিল, ফুল ফুটে আলো হয়ে থাকত, সবুজ বট পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল-সাদা ফুল, চাঁদের আলো গাছে পড়লে, গল্পের খেই হারিয়ে যেত, যেন রূপকথার দেশ, কোথায় যেন একটা হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করত, মনে আাছে ? মনে ... ...
অমৃতকুম্ভের সন্ধানে'
ঝুমা সমাদ্দার
১
"বিরিয়ানি ? সেটা কি বস্তু হে দেবরাজ ?"
"আরে, 'পলান্ন' রে, 'পলান্ন', পুরনো বোতলে নতুন মদ। "
ইন্দ্রের রাজসভায় মেনকার প্রশ্ন শুনে শুরুতেই এক দাবড়ানিতে থামিয়ে দিলেন দেবাদিদেব মহাদেব। অমনি লাফিয়ে উঠেছেন নারদ।
"না না, প্রভু, বিরিয়ানি অতি উপাদেয়, একটি অতি অভাবনীয় স্বাদের খাদ্যবস্তু। "
" হয়েছে রে বাপু, হয়েছে। ওই একই হলো। যাঁহা বাহান্ন, তাঁহাই তিপ্পান্ন। সেই মাংস মেশানো ভাতই তো ! "
" তাই ... ...
আতঙ্কিত ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার
পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি দু' দু'খানা ইন্ডিয়া। দেশের ভিতর দেশ।
একখানা দেশ শপিংমলে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ঢেঁকিছাঁটা চাল ( না হে, দিশী নাম নয়, নাম তার ‘ব্রাউন রাইস’), কিউয়ি-স্ট্রবেরীর মতো সাত-বাসী বিদেশী ফল(গাছ-পাকা পেয়ারা-কামরাঙায় কিস্যু নেই- ও কেউ খায় নাকি?), 'মিক্সড হার্বস' নামের বিদেশী মশলা(যদিও মশলার জন্য ভারত চিরকাল পৃথিবী বিখ্যাত) চড়া দামে কিনে নিয়ে আসে। 'উইকএন্ডে' আউটিংয়ে যায়, 'ড্রিঙ্ক' করে (মানে করতেই হয় আর কি !), নাচার জন্য আলো আঁধারি ঘরে যায়, চাপা ... ...
পিরীতি রীতি
ঝুমা সমাদ্দার
- কি বইলছিস রে , সহর যাক্যে ইসব তু কি সিখ্যে আইসেছিস, বট্যে ? একদিন চগ্লেট দিব্যে, একদিন পুত্যুল দিব্যে, একদিন কিস কইরব্যেক, একদিন জড়াইঞঁ ধইরব্যেক - ই কি ইনিস্টলমিন পিরিতি 'ট হইঞঁছ্যে ন' কি ? সাত দিন ধইরে ই সব কইরব্যে, আর কুনো কাম লাই ?
- হঁ ব ! সাতটা দিনই ত্য। পুরা বচ্ছর পর সাতটা দিন পিরীতি কইরব্যে, ‘ত কি হইঞঁছে ‘ট কি?
- কিছ্যুই হয় লাই। কি আবার হব্যেক ? তা'বাদে সমস্ত্য বছ্যর 'ট কি কইরব্যেক ? আর পিরীতি কইরবেক লাই ?
- কি আবার কইরব্যেক ? স ... ...
ইনি কে জানো না বুঝি ? ইনি সরস্বতী দেবী।
কোন সরস্বতী ? যার ফুলের দোকান আছে ?
আরে দুৎ ! তা কেন ? ফুলওয়ালী সরস্বতী নয় – মা সরস্বতী।
ইনি কি করেন ?
কি করেন আবার কি ?বিদ্যা দান করেন !
ও বুঝেছি ! ঐ যে অভিনয় করে, নেচে কুঁদে - মানুষজন সব টিকিট কেটে দেখতে যায় -
দূর মুখ্যু ! বিদ্যা বললেই বুঝি অভিনেতা বুঝতে হবে, বা টিকিট কেটে সিনেমা দেখতে হবে ? তাছাড়া বুঝি বিদ্যা হয় না ?
ও ! তাহলে ?
মানে বিদ্যে শিখে নানারকম বিদ্যে সক
শনিবার। হাফ ছুটি। কালবৈশাখীর মেঘ আকাশছেয়ে কালো করে এসেছে। দূর থেকে একটার পর একটা গাছের মাথা নাড়াতে নাড়াতে ঝড়টা এগিয়ে আসছে। শুকনো পাতা, বাঁদর লাঠি, তুলোর বীজ, আমের কুশীতে বাগান, উঠোন ভরে ফেলেছে। এমন একটা দুপুরের পু..রোটাই এক্কেবারে আমার। কোনো 'করতে হবে'র ভাগীদার নেই। স্কুলের যতো হোমটাস্ক থাক পড়ে, কাল তো ছুটি। আঃ, এইবেলা একটা গল্পের বই নিয়ে শুয়ে পড়া যাক, কিম্বা হাঁ করে বসে থাকলেও কারোর কিচ্ছু বলার নেই। এমনিতেই আমি 'বড়ো হাঁ-করা' মেয়ে। ... ...
কেমন লাগে ? এইবার ? পই পই করে বলেছিলুম, "ওরে, আমায় জ্বালাসনি, আমায় জ্বালাসনি। রেগে গেলে কিন্তু আমি বাপের কুপুত্তুর।" তা না, তেনারা নাকি আমায় টেষ্ট করে দেখবেন, আমি তাঁদের গাইদের গর্ভিনী করবার উপযুক্ত কি না !! হুঁঃ !! কী আমার বীরপুরুষ এলেন রে ! এই যে আমি এত্তগুলো লোককে জখম করলুম, মেরে ফেললুম, এবার হোলো তো প্রমান, আমি কেমন ইয়ে ষাঁড়? - তাতে কি হয়েছে ? তাতে কি হয়েছে ?? 'বৃষের খোঁচায় মরিনা আমরা, ঐতিহ্য নিয়ে ঘর করি।' তোকে আমরা 'বৃষসম্রাট' উপাধি দেব। ... ...
বিজাতীয় ভীমরতি ( বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বাবু' অবলম্বনে )
ঝুমা সমাদ্দার
জনমেজয় কহিলেন,হে মহর্ষে! আপনি কহিলেন যে, কলিযুগে রিয়্যালিটি শো নামে একপ্রকার জয়ঢাক পৃথিবীতে আবির্ভূত হইবেন। তাঁহারা কি প্রকার জয়ঢাক হইবেন এবং পৃথিবীতে আবির্ভুত হইয়া কি কার্য্য করিবেন,তাহা শুনিতে বড় কৌতুহল জন্মিতেছে। আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণন করুন।
বৈশম্পায়ন কহিলেন, হে নরবর! আমি সেই বিচিত্রবুদ্ধি,হাস্যক্রন্দনকুশলী রিয়্যালিটি শো গুলিকে আখ্যাত করিব, আপনি শ্রবন করুন। আমি সেই বহুবর্ণঅলঙ্কৃত, অদ্ভুতচর ... ...
আমার আকাশ
ঝুমা সমাদ্দার
এক টুকরো আকাশ ছিল আমার। দূ..উ..রে, ওই যে মাঠ…. মাঠের ও পারে সেই যে গাছটা …. কি যেন নাম ছিল সে গাছটার ….কি জানি…. কোনো নাম ছিল কি গাছটার ? কোনোদিন জানতাম কি তার নাম ? ….না, জানতাম না বোধহয়। জানতে চাই-ই নি কোনো দিন…. ওটা তো আমার গাছ ছিল…. তার নাম ছিল না তো ! সে..ই নাম-না জানা গাছটার ছোট ছোট পাতা গুলো যেখানটায় হেলান দিয়ে দোল খেত, তার ফাঁক দিয়ে দেখা যেত আমার আকাশটাকে। সেখানে কখনও উঁঁকি দিয়ে যেত, বর্ষার পরে নীল আকাশে সাদা তুলোর 'শ্বেত ভল্লুক' …... কখনও কোনোও গরমে ... ...
অ-খাদ্য ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার
যত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো। যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ, হোলোই বা তা একখান পরোটা। আমাদের গরিব বেচারা দেশ, কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না। কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই। আবার দুপুরে ডাল-রুটি দেওয়া হচ্ছে বলে কথা, তারও আবার কত না বাহানা ! আরে বাবা, চাকরি করতে এসেছিস, জমিয়ে বসে বিরিয়ানি খেতে থোড়াই না এসেছিস ! মাইনে পাবি, কাজ করবি। কি খেতে পেলি, ক'ঘন্টা ঘুমোতে পেলি, ঠান্ডায় নাকি গরমে মরতে বসেছিল ... ...