জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৮ ২৪ পরগণা সেই সময় একটাই ছিল, উত্তর আর দক্ষিণে ভাগ হয়নি। শেয়ালদা দক্ষিণ লাইনে বারুইপুর তখনো শহরের তকমা পায়নি। অঞ্চলটা একটা বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিল। দিগ্বিজয় মিত্র ছিলেন ওই গ্রামের একজন প্রভাবশালী লোক। দিগ্বিজয় আলীপুর কোর্টে ওকালতি করতেন। ভাল পসার ছিল, ফলে পয়সাও প্রচুর ছিল। অনেকটা জমি জায়গা সমেত বেশ বড় বাড়ি ছিল। দিগ্বিজয়্বর এক ছেলে এক মেয়ে। রজতের মা বাণী বড়, ছেলে রণজয় ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৭ শ্রীমন্ত রহড়া সংঘের ফুটবল টিমের প্রথম একাদশে সুযোগ পেত না। খুব ঠেকায় না পড়লে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ওকে মাঠে নামাত না। ও ছিল বিশ পঁচিশ মিনিট খেলার প্লেয়ার। সেদিন ট্রেনের গোলযোগের জন্য রহড়া সংঘ টিমের দূরের যাদের বাড়ি, তারা কেউ আসতে পারেনি। শ্রীমন্তকে নিয়ে কোনমতে এগারো জন হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে টিম হলেও খেলা সমানে সমানে চলছিল। হাফ টাইম হতে তখন আর মিনিট পাঁচেক ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৬নয়নের বাড়ি সাঁতরা পাড়ায়। রজতদের চৌধুরী পাড়ার একেবারে গায়েই। নয়ন আর রজত বাল্যবন্ধু। ক্লাস ওয়ান থেকে মিশনে একসাথে পড়াশুনা করছে। একেবারে নিচু ক্লাসে শিবু স্যার ছিলেন ওদের হেডমাস্টার। সব ছাত্র ওনাকে খুব ভয় পেত। কোনরকম বেচাল দেখলেই হুংকার ছাড়তেন। বাণীর দৃঢ় বিশ্বাস শিবু স্যারের দাবড়ানিতেই ওর দামাল ছেলেটা পথে এসেছিল। মিশন পাড়ার গৌতমও ওদের ক্লাসেই পড়ত। গৌতম লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিল। ও প্রতি বছর ওদের ক্লাসে ফার্স্ট হত। নয়ন লেখাপড়ায় খারাপ ছিল না। নম্র, ভদ্র আচরণ ছিল। দেখতে সুন্দর, স্বভাব সুন্দর, এমন ছেলেকে সকলেই ভালবাসবে। কিন্তু নয়ন ছিল মিচকে বদমায়েশ। তখন ওরা ক্লাস ফাইভে পড়ে। সেশন ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৫রজতদের আদি বাড়ি মদনপুরে। ওখানেই ওদের কয়েক পুরুষের বাস। রজত যখন খুব ছোট তখন ওর বাবা বিকাশ পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে রহড়ায় চলে আসে। বিকাশ গুপ্ত তখন ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বাংলার অধ্যাপক। কিছুটা কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধা আর অনেকটাই ছেলেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াবার বাসনায় রহড়ার মিশন পাড়ায় বাসা ভাড়া নেয়। কলেজের এক সহকর্মী রহড়ার নন্দন কাননে থাকতেন, উনিই মিশন পাড়ার বাড়িটায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেন। বাড়িওয়ালা ভাল মানুষ। কলকাতায় চাকরি করে। বিপত্নীক, বছর দুয়েক আগে স্ত্রী মারা গেছে। একটিমাত্র ছেলে, বিকাশেরই কলেজে পড়ে। বাড়িওয়ালা দোতলায় থাকে আর বিকাশরা একতলায়। দিনের বেলা এক এক করে যে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৪ পাহারার প্রথম পর্বে পাড়াটা একবার প্রদক্ষিণ করে একদিন তেমাথার মোড়ে সকলে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ দেখা গেল বাজারের দিক থেকে একটা লোক ছুটে আসছে। ডিফেন্স পার্টির এতগুলো লোক, একজনকে আটকানোয় কোন রিস্ক নেই। বীর দর্পে এগিয়ে গিয়ে সকলে ওকে ঘিরে ধরল। ও তার মধ্যে থেকেও ফাঁক দিয়ে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৩আড্ডায় তপন নামে একটি নতুন ছেলে একদিন যোগ দিল। ওর সাথে কোন সূত্রে রজতের পরিচয় ছিল, ওই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। তপনের বাড়ি কৃষ্ণনগরে। ও মাসকয়েক আগে কোলকাতায় চাকরি পেয়েছে। কয়েক মাস বাড়ি থেকেই যাতায়াত করেছে। অত দূর থেকে যাতায়াতে কষ্ট হয় বলে এখানে বাড়ি ভাড়া করেছে। রজতই চৌধুরী পাড়ায় ওর বাড়ির কাছাকাছি তপনের জন্য থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তপন ছোট গ্রুপের অনেকের থেকেই বয়সে কিছুটা বড় ছিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই সকলের সাথে বন্ধুর মত মিশে গিয়েছিল। আড্ডাস্থল থেকে একটু এগিয়ে একটা পুজো মন্ডপ আছে। ওখানে বেশ বড়সড় একটা জগদ্ধাত্রী পুজো হত। হত বলা ভুল হল, ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ২ আড্ডার অকুস্থলেই ঘটেছিল আর একটা মজার ঘটনা। তখন ফুটবলে এখনকার মত টাকার জোয়ার তেমনভাবে আসেনি। কালিদাস বিভিন্ন সময়ে অনেক খেপুড়ে খেলোয়াড়কে এনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলাত। সেদিন ছিল রবিবার। চায়ের দোকানে তখন ভরা আসর। হঠাৎ দেখা গেল এক যুবক দোকানের দিকে এগিয়ে আসছে। পরনে বিচিত্র এক প্যান্ট, যা হাঁটুর বিঘৎ খানেক নিচে গিয়ে থেমে গেছে। অনেকটা এখনকার থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের মত। বয়স তিরিশের ... ...
গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়। দুঃস্বপ্নের বেশ কয়েকটা বছর পার হবার পর হানাহানি স্তিমিত হয়ে গেছে। বারুদের গন্ধ নিত্যদিন বাতাসকে আর ভারি করে না। সন্ধের পরেও তখন বাড়ির জানলাগুলো খোলা থাকে, অজানা আতঙ্কে আর বন্ধ করে দিতে হয় না। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবন অনেকটাই চেনা পথে চলে এসেছে। স্কুল-কলেজ, ডেলি প্যাসেঞ্জারি, দোকান, বাজার, সামাজিক কাজকর্ম, দৈনন্দিন যাপনের সব কিছুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কয়েক বছরে মনের কোনে জমে ওঠা ভয় আর সন্দেহকে দূরে সরিয়ে চায়ের দোকান আর রকের আড্ডাগুলোও ফিরে পেয়েছে তাদের পুরনো ছন্দ।সে সময় রহড়া বাজারের কাছে বুড়োদার চায়ের দোকান আর পাশেই হাঁড়ি পুকুর ঘাটে ... ...