বেফাঁস কাজকর্ম করাই কাশীপুরের ওসির উন্নতির মূল কারণ। ঝুটঝামেলা তেমন নেই, আর ওসি সায়েব একটু সমাজসেবা করতে ভালোবাসেন, তাই মাঝেমধ্যে থানায় ছেলেপুলেদের ডেকে সাহিত্য পড়ান। সেই থেকেই কেলোর সূত্রপাত। একদিন গফুর বলে এক ছেলেকে পড়াচ্ছেন। নাম দেখেই প্রশ্নটা মাথায় এসে গেছে, বল তো মহেশের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী? ছেলেটা প্রশ্ন শুনে আমতা-আমতা করছে, ইশকুলের আজকাল এই হাল হয়েছে, শরৎচন্দ্রের গল্প পড়ে-টড়েনি নির্ঘাত, কিন্তু সেই নিয়ে বকাঝকা করার আগেই ... ...
হিন্দি সিরিজ পারতপক্ষে দেখিনা। কিন্তু স্কুপ দেখলাম নেটফ্লিক্সে। কারণ জিগিতা ভোরার 'মাই ডেজ ইন প্রিজন' বইটার নাম শুনলেও পড়া হয়নি। তো, সিরিজ দেখে বুঝলাম, পড়া উচিত ছিল। মহিলা একজন সাংবাদিক। অন্য একজন সাংবাদিক খুন হওয়া, এবং নিজের জেল খাটা, পুরোটাই ওঁর বর্ণনায় সত্যকথন। গপ্পের বর্ণনা দেবনা। কিন্তু সংবাদজগৎ, অপরাধজগৎ, তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের আঁতাতকে একদম বে-আব্রু ... ...
আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে, মহারাষ্ট্রের ভীমা-কোরেগাঁও নামক একটা ছোট্টো জায়গায় কিছু দলিত সংগঠন বনাম হিন্দুত্ববাদীদের একটা গোলমাল হয়। অভিযোগ, দলিতদের মিছিলে হিন্দুত্ববাদীরা আক্রমণ করেছিল। প্রতিবাদ ছড়ায় রাজ্য জুড়ে। হিন্দুত্ববাদী একজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারপর ধাপে-ধাপে আসরে নামে বিশেষ-তদন্তকারী-দল এবং এনআইএ, যে কেন্দ্রীয় সংস্থা ভারতবর্ষের নিরাপত্তারক্ষার মহান দায়িত্বে। না, হিন্দুত্ববাদীদের আর কিছু হয়নি। এক এক করে গ্রেপ্তার করা হয় ... ...
শেষমেশ ব্যাপারটা এসে দাঁড়িয়েছে এখানে, যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এত লোক দক্ষিণে যায় কেন, আর আসেই বা কেন। কেন এত পরিযায়ী। ব্যাপারটা ঠিকই। এত লোকে যাতায়াত করে বলেই রেল। না করলেই রাখার দরকার পড়তনা। আর রেল না থাকলে দুর্ঘটনার প্রশ্নই নেই। মোদ্দা কথা হল, সমস্যাটা রেলের না। পশ্চিমবঙ্গেরই। যদি ভাবেন, যে পশ্চিমবঙ্গগামী আর বঙ্গনির্গত ট্রেনে তো বাংলার লোকই বেশি থাকবে, তাহলে ভুল ভাবছেন। পূর্ব দিকের এই রাজ্যটি গরীব, হাভাতে ... ...
কেন শচিন কেন অমুক কুস্তিগিরদের হেনস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেননা, কেন মনিপুর-কান্ড নিয়ে টুইট করে ফাটিয়ে দিচ্ছেননা, এই নিয়ে হাহাকার করে কোনো লাভ নেই। শচিন-টচিনরা বড় খেলোয়াড়, খুবই মন দিয়ে খেলেছেনও, ব্যস ওই টুকুই। তার বাইরে কিছু ভাবলে যাঁরা আইকন বানিয়ে মাথায় তুলে নেচেছেন, তাঁদের নিজেদের নাচটাকে বরং ফিরে দেখা দরকার। শুধু শচিন কেন, এই কুস্তিগিররা নিজেরাও ... ...
অপটিক্স, অর্থাৎ কিনা আপনাকে কীভাবে দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির একটা বড় ব্যাপার। গত বিধানসভা ভোটের আগে, দলে-দলে তৃণমূল নেতা দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেননা। সব্বাই বিজেপিতে চলে যান। এদের মধ্যে এক-দুজন বাদ দিলে, কেউই বিজেপির বিশেষ কাজে লাগেননি। না নিলেও পারত, তবু নিয়েছিল। কারণ অপটিক্স। তখন মনে হচ্ছিল তৃণমূল ডুবন্ত নৌকো, সব্বাই তৃণমূল ছাড়ছে, পতন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এই হাওয়াটা তৈরি হয়ে অবশ্য উল্টো ফল ... ...
- আচ্ছা, এই যে উনি একটা লাঠি হাতে নিলেন, এর মানে কী? মুখপাত্র তথা গোদী মিডিয়ার সঞ্চালকঃ রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন? বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী, রাজদণ্ডরূপে। মানে, এর আগে উনি বেওসায়ি ছিলেন, এবার রাজা হলেন। এখানে অবশ্য একটা স্লাইট বানানভুল আছে, ওটা শর্বরী না, শবরী হবে।- বলেন কি? কবিগুরুর বানানভুল? সঞ্চালকঃ এতে আশ্চর্যের কী আছে? উনি হরবখৎ বানানভুল ... ...
জামাইষষ্ঠী কতরকম? এক ধরুন, বিলেতের এমপিষষ্ঠী। বিলেত হল পোড়ো জমিদারবাড়ি, আগে জগৎজোড়া রাজত্ব ছিল, এখন ঘটি ডোবেনা। ওদের পার্লামেন্ট যদি দেখেন, সে এক মান্ধাতার আমলের হলঘর। জামাই এবং বৌমারা সব ঠাসাঠাসি করে বসে আছে। যেন পাতা পেড়ে কাঙালিভোজনের আসর। দেখলেই বুঝবেন, এ হল ছবি বিশ্বাসের জলসাঘরের জামাইষষ্ঠী। খুব নাকি অভিজাত, কিন্তু নতুন ... ...
ইতিহাস, এক্কেবারে টিভি চ্যানেলের মতোই বস্তু। কোনটা দেখাবেন, কতটা দেখাবেন, কীভাবে দেখাবেন, তার উপরেই পুরো গপ্পোটা দাঁড়িয়ে আছে। একটু আগে রামমোহন রায়কে নিয়ে একটা লেখা পড়ছিলাম, পড়তে পড়তে আরেকবার মনে হল। জিনিসটার একটা বিচ্ছিরিরকম মজা আছে। ধরুন, আমি যদি বলি সতীদাহ কী, তাহলে আপনি কী বলবেন? শুধু আপনি কেন, প্রসঙ্গটা এলেই আমি আপনি সবাই দুলে দুলে বলব, পুরাতন ভারতীয় সমাজে ... ...
ডাব্লুবিসিএস পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক হবার পরই চারদিকে শোনা যাচ্ছে, এতে নাকি প্রচুর অসুবিধে। কথাটা ঠিকই, যাঁরা বাংলা বলতে, লিখতে, পড়তে পারেননা, এতে তাঁদের চাকরি পেতে খুবই অসুবিধে হবে। কিন্তু সমস্যা হল, তাঁরা বাংলা না জানলে আবার জনতার অসুবিধে। এ তো ইংরেজ আমল না, যে, বিলেত গিয়ে খ্যাটখ্যাটে ইংরিজিতে পরীক্ষা দিলেই কেল্লা ফতে ... ...