বাৎসরিক সনেটে শালিক ঝড়,কলতলাতে ক্র্যাশ হয়েছে এরোপ্লেন।ভিনদেশি প্রেমিক নিয়ে সাথে,গাঁটছড়ায় হৃদস্পন্দন বিলোচ্ছেন,বৈশাখী বধূ ও তার গ্রেগোরিয়ান বর।বাঙালি বলে, অনাচার।একতিরিশের চৈত্র রাতে,প্রেম বয়েছে হালখাতাতে,সিঁদুর মেখে সকাল হলো পার,আজ পয়লাবার।ঝগড়া মেটাও স্বস্তিচিহ্নতোমরা ভিনজাত, মিডিয়ামটাও ভিন্নক্রেজে যদিও গ্রেগোরি ইনমাদার টাঙ্গে আদরবাসা, রবি ঠাকুরে পুন্য। ... ...
একটা বেলাশেষের ছায়া, /একটা মোবাইল এড়িয়ে মুখের ওপর আয়তক্ষেত্র এঁকেছে, /ছায়ার পাড় ধরে বেয়াদবি টানাহ্যাঁচড়া। পাঁচটা সাঁইতিরিশে মোবাইলের লক খোলা /ও অসংখ্য নোটিফিকেশন, তিনটে সাতাশে একটা লিংক এনেছিল।চেনা নাম্বার, অচেনা ই-মোকাম। /অথচ আঙুল ছোঁয়ালে /"দি পেজ ইউ রিকোয়েস্টড ইজ নট ফাউন্ড"।ক্রমাগত ঘুরে চলা হাওয়ার দিকে তাকালে মনে পড়ে যায়, /সময় পেরিয়ে গেলে অনেক কিছুই খোলে না।পাসওয়ার্ড, জড়িয়ে ধরার হাত, বিপরীতার্থক জিভ ও কাম্যুর ডানা! অনুমানের গতর বেড়ে চলে অস্বাভাবিক।দরজা খোলার খটকায় মরচে ও স্পার্ক, কম্পাটিবিলিটি ও কপাল - এসব নেহায়তই বেকুফি।আসলে...পাঁচটা সাঁইতিরিশ থেকে তিনটে সাতাশ পর্যন্ত /তুমি যে দুপুর জড়িয়ে ঘুমিয়েছিলে এসব তারই নমুনা। ... ...
যেদিন হরকত সিলেরি গাওঁয়ে /সেদিন ভ্যাজাইনার মত রাস্তা।আকর্ষণ করে, হাঁটতে হাঁটতে /সোঁদা হয়ে যায় রোমকূপ।পায়ে উঠে আসে মরা ট্যাম্পন, /ছাড়িয়ে নিতে নিতে সহমর্মী বলে'জোঁক'…মনে পড়ে যায় কতদিন দেখিনি /তোমার হাসিমুখ।এখানে গোটাকুড়ি লোক, /হাতে নুন নিয়ে ঘোরে প্রতি-দিন।রাতে ঈশ্বর আসে, /একহাতে লেবু অন্যতে জিনশট।লেবুতে নুন ভেজানো নাকী তোমাকে! /বুঝবার আগে অনেকটা রক্তক্ষরণ হয়ে যায়।সূর্যোদয়ে যতটা লোহিতকণিকা লাগে /ঠিক ততটা না, তার চেয়ে অনেক বেশি। ... ...
(অফিস সিরিজ - ২) আমাকে দেখছো হে স্থানু বট?একপাতা ইংরেজিতে লেখা কাগজ!আমার পঁচিশ থেকে তিরিশের ভিনদেশি সালামতে দেয় ভোট।আমাকে দেখছো দুপুরটিফিন ও শালপাতার শঙ্কু?মুড়ি শেষ এখন। অতএব, আমি ও তুমি যমজ,এমন যেন, যুদ্ধশেষে ঘায়েল রাজার মুকুট লোটায়।এখন এখানে পঁয়শট্টি,দু'পায়ের ব্যাথা সামলাচ্ছে বেবাক শহরের মাইক্রোব।এখন কর্নিয়ায় কালেক্টরেট-ছানি, এখন স্মৃতিতে থৈথৈ বিদেশাভিমান, কৃতান্ত ও প্রণব।...অথচ ছিলাম বেশ, সরলরেখার অনায়াস।গথিক স্থাপত্যে চোয়ানো মানচিত্রের ঘাস।বীথি (betty!) ও আমার আয়াসে বায়রনের বাতাস। ...তথৈবচ দৃষ্টি ফেরালাম ঘরে, কাড়াবার ছিল জমি,জ্ঞাতি বললো আয়, আঁচড়াই উন্মাদ মাটি, কানাস্রোতে হবি হাঁস,কাছারিতে হবো জানুবৎ, আছড়াবো বারোমাস।সেই ফিরলাম,ফিরতে ফিরতে কাতর আঙুল, ফিরতে ফিরতে মেঘ,ফিরতে গেলাম টারমাক।ফিরতে ফিরতে দলিল, ফিরতে ফিরতে রিয়েলিটি চেক,ফিরে দেখলাম ... ...
(অফিস সিরিজ - ১) আসছে বেস্পতিবার ডেট দিয়েছে।ডেট দিলে আবার যেতে হয়। নিঃসঙ্গ শোভাযাত্রা। জিজ্ঞেস করতে হয় "কিছু হলো"?"আমার চিঠি চিনলো কত লাল মখমলের মুখ"?বার্নিশ টেবিলের গন্ধ ও কলিংবেলের ঘুমপাড়ানি গান,আমার ক্ষরোষ্ঠী লিপিগুলোকে কিদিতে পারছে সুখ? চিঠির কোনো পাসপোর্ট নেই, ভিসা নেই,তবুও ভ্রাম্যমান। মুসাফিরের পাতকুয়া ভ্রমণ।মফস্বলের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মফস্বলে।কখনো উদ্বাস্তু হয়ে এক পা ফাইলে,আরেক পা এসির হাওয়ায়। ভীষণ হলুদ শ্লেষ্মা জোটায়ও হলুদ হয়ে যায় আবেদন। আচ্ছা, আসছে বেস্পতিবার কি বুধবারের পরেই আসবে?"পরিশেষে আপনার প্রতি আমার বিনীত নিবেদন এই যে,আকাশগঙ্গার মধ্যে কোন বৃহস্পতিটি আমার জন্য বরাদ্দ,তা জানাইয়া বাধিত করিবেন"। ... ...
মিডিয়া পিষ্ট নাগরিক, সভ্য হও দেখছো না, ক্যামেরা-লেন্সরাজপথের ধুলোয় ছানিদুষ্ট হয়ে যায়!ভুক্ত দাবীর ওপর দোলে জলপাই হেলমেট,যেন না-ধোয়া প্লেটের ওপর সবুজ স্যালাড, যতটা শাসনের ততটা স্বাস্থের নয়, যতটা পার্লামেন্টের ততটা ধর্ণামঞ্চের পেটে সহ্য হলো না।অস্পষ্ট..কে ধুলো ছোঁড়ে মুখে,কে শরবত খাওয়ায়! অধিকারের পলকা দাওয়ায়।ন্যাজ বিশিষ্ট নাগরিক, আমাদের তুলে নিয়ে যাও,মধ্যরাতে কত ধিঙ্গিপনাই না দ্যাখা যায়, হেট-শরিকি।এখন সংবিধানচতুর্দশী, চোখ খোলো, চোখ নেভাও,ভূতেদের গুমঘর ও খুঁজে পাবার স্থান আলাদা, গর্ভ থেকে বিরোধপথ ও চ্যাংদোলা থেকে বিরুদ্ধমত।হে ছন্ন ছড়ার দূত, আমাদের অভিষিক্ত করো শাস্তিশিক্ষা ও বিক্ষুব্ধতায়। ... ...
সংসার! সে তো, মধ্যবিত্তের তরকারি। পকেটে রেস্ত নেই বলে খাচ্চ, নইলে কবে রেস্তোরাঁবিলগ্না হয়ে যেতে। তবে ঠিক ধরেছ, জিবে মশলা কি রোজ রোজ শানায়? তবে যাও না চলে, পাহাড়ের ডালপালা ধরে বুদ্বুদের মত ফাটো, ঢেউয়ের ম্যুরাল এঁকে ভাসিয়ে দাওযমুনার শোকসকালে। গালে রোদের চুমু মেখে,জিন্স সামলে শেখো, মেষপালক। তুমি অস্থির উপত্যকা হতে পারো,হতে পারো পাইনও। দেখো দ্বীপে দ্বীপে ঝরে পড়ছে জায়ফল-জৈত্রি। তুমি ওদের দু-মুঠোয় ভরে চেনো। তারপর একদল পিঁপড়ে দেখতে পেলে, ওদের অনুসরণ করে ফিরে এসো ঘরে, যেখানে বালিশের নিচে ফিকে হয়ে আছে,শত গল্পের রাত পোশাক। আর সেইসব ফেলে আসা পদচিহ্ন,খুঁজে বেড়াক তোমার রুকস্যাক। ধুলো হয়ে, জল হয়ে, ইন্ডিয়া গেট টপকে,নক্ষত্র সড়ক বেয়ে, ওরা একদিন এসে পড়বে তোমার ঘরে। বলবে, 'আমরা সংসার দেখিনি কোনোদিন'।হাত পেতে চাইবে পাঁচফোড়নের তরকারির ... ...
এই শাশ্বত দিন /এই ডিজেলের সাথে মিশেযতদূর পুড়ে যেতে চায় যাক।রাজকীয় মেঘমাসে/ আদিম শৈশব ভেসে/মৃদুমোহনা ও বার্ষিক এঁটোকাঁটা ছড়াক;এই ক্ষুধাক্রান্ত দীর্ঘ চড়ুইভাতি/অনুবাদ করেছো গ্রীষ্ম?উৎসবকল্পে যেন ভেট দিতে পারিউল্লাসক্রোধলেখা।আমি হাত পাতি, মাথা পাতি/লিঙ্গধর্মকলারবোন পেতে থাকি শুয়ে,দেখি..ওঃ, এই তবে সেই সুপরিকল্পিতজমজমাটকারাগার! ... ...
পাঠকদের জন্য রেখেছি সমস্ত উপাচারদল বেঁধে নেড়ি কুকুর, নিউজরুমের প্যান্ট্রিকার। এ তোমাদের ভ্যানিটি ভ্যান না,এ আমাদের বুড়ো শালিকের ঘুলঘুলি,বনবিবির তলিয়ে যাওয়া শাড়ির পা। আমাদের একতলায় জঙ্গল আছে, বেসমেন্টে সাজানো গ্রাম,আমরা থাকি সিঁড়িঘরে, শহরের রক্ত গায়ে অশরীরী পাতালাম। অশরীরী পাক খায়, গায়ে পড়ে আস্ফালনে যেন কবিতা শোনা যায়। হাড় জিরজিরে জনসভায় নগর পালক আশ্বাস দিয়ে যান, সমবেত কবিতা পড়া হবে, দিলখুশ মহলে এসো, শালপাতা মঞ্চে তোমাদের সাদর আমন্ত্রণ,অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে এসো দাস্তানগার। কাহানীর বিলুপ্ত কিতাব থেকে বৃষ্টি নামবে,ভিখিরি হবে রাতের আকাশ,দোহারের ধুয়ো থেকে জন্ম নেবেন রফিক, জব্বার, শফিউর,তারপর ছাপাখানায় অক্ষর সাজাবে বাঙালি,অক্ষর ফুটবে হাঁড়ির ভেতর, হাঁড়ির বাস্পে বাস্পে গান। গানের পাতলা আবদার প্লাসেন্টায় জমে,বাউল পাড়া থেকে বাইজি বাড়ির আছোলা আখ্যান। মোদের ... ...
তক্তাটা সরিয়ে নিলাম,যে তক্তা বুকের ওপর রেখে প্রতিরোধ করা যায়,সাবলাইম অনুন্নয়নের ওপর পেড়ে,কমা, ফুলস্টপ সদৃশ মানুষ দেখতে দেখতে পেরিয়ে যাওয়া যায়, নির্বাচনী তালুক। সেই তক্তা সরিয়ে ফেললাম;সেই তক্তা, যা আমাদের, হাতে চাররকমবেদ (যথা, আধার, রেশন, এপিক ও প্যান)নিয়ে ঘোরা, কালশিটে মানুষের প্রতীক। সরিয়ে ফেললাম কারণ, পড়ে থাকলে ও দিয়ে নির্ঘাত আরো একটা মূর্তি বানানো হবে। ... ...