ক্লাস টেন এর টেস্ট পরীক্ষার রেসাল্ট নিয়ে হটাৎ ই বেরিয়ে পড়া গোটা দশ বারোজন। চলো আমতলা ঘাট। বদনাম আছে ওই ঘাটের। জলের তলায় ঘূর্ণি! একদিনে পাঁচ- পাঁচ টা ইস্কুলের ছেলেকে খেয়েছে ও নদী! তবু কৈশোর পেছনে তাকাতে পারেনা! পেছনে কতটুকুই বা সে মনে করতে পারে? তাই কল্পনা তার সামনের বাঁকটি ঘিরে, যদি না ইতিমধ্যে কোনো অঘটন ঘটে! তাই হিহি করতে করতে রাঢ় বাঙলার পৌষের ... ...
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ফুলচোর উপন্যাসে এক মাস্টার মশাই ছিলেন যিনি কিনা কোয়ালিফিকেশন খ্যাপা! টাইপ শেখো, ইলেকট্রিকের কাজ শেখো.. দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে শুধু শিখে যাও!এতগুলি বিজাতীয় যোগ্যতা ধুয়ে কী ভাবে জল খাবো সেটি জিজ্ঞেস করেছো তো মরেছো! বাস্তব জীবনে এরকম নানান কিসিমের উৎসাহদাতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত।এক অংক স্যার বিদঘুটে সময়ে অংক করাতে আসতেন, শীতের রাত সাড়ে দশটা ... ...
জানুয়ারি একটা ভুলভাল রকমের ভালো মাস! শীত জব্বর, অথচ দুপুরের পর হারিয়ে যাওয়া সোনালী বিকেল আবার ফিরতে থাকে, আসে স্পোর্টস আর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী। প্রাইজ পাওয়া গুটিকতক ব্যক্তিগত আনন্দ ক্যাবলা হেসে নিজেদের সমর্পণ করে তাদের চারপাশ ঘিরে রাখা প্রাইজ না পাওয়াদের উদ্দাম গুষ্টিসুখের দরাজ বুকে। তা, সে বছর কলকাতা ... ...
ইতালিদেশের যেমন তাস্কেনি, যুক্তরাজ্যের যেমন স্কটল্যান্ড, মেদিনীপুরের তেমন ধর্মা (দেশ ও শহরের বিস্তারগত পার্থক্য মাথায় রেখে এখানে আনুপাতিক হিসাবটি কষে না নিলে আতিশয্য দোষ হবে)। যাই হোক,পাতনে নিষ্কাসিত থির বিজুরি অথবা নিপাতনে সিদ্ধ ফেনিল উচ্ছ্বাস---দুই ধরণের মদিরতার আশ্বাস নিয়েই ধর্মা ভ্রু পল্লবে ডাক দেয় রসিকজনকে! সে এক আশ্চর্য এলদোরাদো ! রাতের অন্ধকারে মাঠের মধ্য থেকে আলো ওঠে। আলেয়া বলে ভয় পায়না কেবল তারাই, যারা জানে ... ...
খুব ভোরে মহুয়া ফলটির একলা ঝরে পড়ার মতোই প্রায় নিঃশব্দে ঘটে যায় অধিকাংশ ব্যক্তিগত অন্যায় আর প্রবঞ্চনাগুলি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জরা, মরণ, রোগ শোকের উপর আবার মানুষ সৃষ্টি করে এসব অতিরিক্ত ! এসব আসলে ছোট্ট ছোট্ট শক্তির খেলা। যে যখন যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। জেনে, না জেনে বা দুটোর মাঝখানটিতে হয়তো ... ...
কোনো মেয়ের নাম ফেলি হলে ধরেই নেওয়া যায় যে সে মা বাপের কাছে ফেলনা হয়েই উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলো। কিন্তু এই ঘটনাটা ঠিক তা না। শিশুর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতেও অনেক সময় বাজে একটা নাম রাখা হয়... চশমে বদ্দুর ! ফেলির আগের কন্যা সন্তানটির মৃত্যুতে শোকাহত বাপ ছুতোর মিস্ত্রি পাঁচু দাস ফেলিকে বুকে আঁকড়ে রাখতেই বুঝি এই নাম দিয়েছিল। কিন্তু বাবরের প্রার্থনা তারই গায়ে লেগে গেলো! এগারো ... ...
সেই লালমাটির দেশে বড়দিন আসতো ঠান্ডা হাওয়ায় শুকনো শালপাতা আর লাল ধুলোর স্পিন বলে ঘুরতে ঘুরতে। পাতাঝরা গাছগুলো শীতার্ত বুড়োবুড়িদের মত শীর্ণ, রিক্ত দুহাত তুলে সূর্য দেবতা আর যীশু ---- দুজনকেই ডেকে চলতো আর একটু উত্তাপ আর আনন্দের জন্যে। মোটাসোটা চিরহরিৎ গাছগুলো কিন্তু গেরাম ভারী অফিসারের মত গোমড়া আর অহংকারী মেজাজেই দাঁড়িয়ে থাকতো। এদিকে তাদেরই ডালপালায় বাসাবাঁধা ... ...
এটাই জয়, এটাই ইতিহাস। খেটে খাওয়া বা খেটে না খেতে পাওয়া মানুষের! ইঁদুর তার কাজ করে। আসলে আমরাই দৌড়োই ইঁদুর কে দোষ দিয়ে। যেমন সুপার ম্যান দৌড়চ্ছেন ভোটের লোভে, রণে বনে জঙ্গলে অন্তরীক্ষে। ... ...
আমরা এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। নতুন শহরে গিয়ে আবার রেলের ইস্কুলে ক্লাস থ্রীতেই পড়বো। বাবা বলেছে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা এই দু কামরার কোয়ার্টার ছেড়ে যাচ্ছি। সামনের ছোট বারান্দায় কাঠের জাফরি আছে। আমি পড়ি।সকালের রোদ ওখানে ভেঙে যায়। পিছনের উঠোনে মস্ত বড়ো গোলাপ গাছ। চান ঘরের ছাদ ছাড়িয়ে গেছে। কত কত গোলাপ। আর পিছনের ছোট্ট দরজাটা খুলেই ... ...
যেতে তো ইচ্ছে করে, কিন্তু যাওয়া কি কম ঝক্কি? রেঁধে বেড়ে, খেয়ে গুছিয়ে, ঢাউস জামা কাপড়ের ব্যাগ, হাত ব্যাগে জলের বোতল,ছাতা, সব নিয়ে বেরোতে বেরোতে বেলা বেশ বেড়ে গেল। দুটি ভাতে ভাত বাচ্চা দুটোকে গিলিয়ে দিতে পারলে নিশ্চিন্তি। হাওড়া যেতেই সে ঘন্টা দেড়েক, কোন ট্রেন তারপর পাবে, সিটিও ঠিক সময়ে আসবে কিনা, রবিবারে জায়গায় জায়গায় লাইনের কাজ…সব ফিরিস্তি মিটলে তবে নাবতে পারবে তুমি দিনের আলো থাকতে থাকতে। মরা আলো, সেও ভালো, তাও তো খানিক দু চোখ ভরে দেখতে পাবে আদরের স্টেশনটির চারপাশের চেনা পথঘাট,গাছপালা,দোকান বাজার, মন্দির মসজিদ! আলো জ্বলে গেলে কি আর সেই মুখগুলি দেখা যায়? তখন কেবল আঁধার বনাম ... ...