এক বিমনা সময়, আরো এলোমেলো হয় বিষণ্ণ চিন্তায়। দুই জল দর্পণে স্মৃতি হাতড়ে দেখি - তোমায়। তিন তোমার দুখে আমি ব্যথিত হই, সম্বেদনায়। চার শীতের কামড় বাড়তে না বাড়তেই, পাতা ঝরে যায়। পাঁচ যা হারিয়েছি, তার জন্য আমার আক্ষেপ নেই। ছয় ... ...
মাগো জাহ্নবীর জলে, কাল তোমার অস্থি ভাসিয়ে এলাম। নদীতে তখন বিদায়ী ভাঁটার টান। অথচ আমাদের সবার হৃদয়ে তোমার অজস্র স্মৃতির, উদ্বেলিত ... ...
তার নাম মিগজাউম। আদপে একটি ক্রান্তীয় সামুদ্রিক ঝড়। মায়ানমারের ভাষায় মিগজাউম শব্দের অর্থ শক্তি অথবা সামর্থ্য। ইংরেজি বছরের শেষ মাসে আমাদের দেশের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের অতিথি হয়ে তার আকস্মিক আগমন। ইতোমধ্যে এই বছরে আরও তিনটি অতিথি ঝড়ের সাক্ষী হয়েছি আমরা - তেজ, হামুন আর গতমাসের মিধিলি। এবারের অতিথি মিগজাউম। ইনস্যাট উপগ্রহের পাঠানো ঘনায়মান চক্রবাতের ছবি দেখেই আশঙ্কিত আবহবিজ্ঞানীদের প্রমাদ গোণা শুরু হয়েছিল। সেই আশঙ্কাকে সত্যি প্রতিপন্ন করে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপের ক্ষেত্রটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আগামীকাল মধ্যাহ্নে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরের কাছে আঁছড়ে পড়ার জন্য উপকূলীয় সমুদ্রের ওপর অপেক্ষা করছে। এইমুহুর্তে চেন্নাই ভাসছে প্রবল বর্ষণের ফলে। তামিলনাড়ুর জল সম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন, ... ...
“ভেনুউউউ……! কোথায় গেলি ?” মাঠ থেকে ফিরেই হাঁক পাড়েন বাসবা। বাসবান্না রেড্ডি। ভেনুর ঠাকুরদাদা। এমন ডাক শুনে তড়িঘড়ি পাশের মাঠ থেকে ছুটে আসে ভেনুগোপাল। হাঁপাতে হাঁপাতে দাদুর সামনে এসে দাঁড়ায় সে। দাদুর একান্ত অনুগত অনুচর। শ্বশুর মশাইয়ের উপস্থিতি টের পেয়েই বৌমা ললিতা বড়ো এক ঘটিতে জল আর খানকয়েক বাতাসা এনে হাজির করে। রোজকার অভ্যাস। কাঁধের ওপর রাখা মোটা গামছা দিয়ে মুখটা মুছে আলতো করে রেকাবি থেকে একটা বাতাসা তুলে নিয়ে মুখে পোরেন বাসবান্না।– কি গো ! ডাকলে কেন? তোমার হাঁক শুনে আমার খেলার দান ছেড়ে ছুটে এলাম। জবাব না পেয়ে ভেনু বুঝি খানিকটা অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে ভেতরে ভেতরে। ভেনু জানে ... ...
প্রথম প্রহর প্রতিদিনের খবরের কাগজটা গোপিকাই বাইরে থেকে তুলে এনে রাধাকান্তকে পৌঁছে দেয়। কর্তা মশাই তখনও গতর এলিয়ে আয়েশ করছেন রাত শয্যায়। গোপিকার সে সুযোগ কোথায়? সে মনে করে এমন সুখের জন্য অনেক কপাল করে আসতে হয়। সকাল মানেই গোপিকার কলের ইঞ্জিন হয়ে ছুটে চলা। কেবলই শতেক কাজের প্যাচে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা।কাজের কি আর অন্ত আছে? সদর দরজার ... ...
মাননীয় পাঠক, আপনি কি শহরতলির বাসিন্দা? আপনার বাড়িতে কি এক চিলতে জমি বা বাগান আছে? সেখানে আপনার যত্নে বা অযত্নে ডালপালা মেলে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর গাছগাছালিও নিশ্চয়ই আছে? তাহলে আপনি অশেষ ভাগ্যবান। ভাবছেন, কেন বলছি এমন কথা, তাইতো? এমনটা যদি সত্যি হয়, জানবেন আপনি জীববিজ্ঞানের এক আশ্চর্য প্রয়োগশালার কর্মমুখর পর্যবেক্ষক তথা গবেষক। একখণ্ড জমি, গুটিকয়েক গাছ, একটু ভালোবাসা আর প্রবল অনুসন্ধিৎসা থাকলে আপনি খুব সহজেই এক অকল্পনীয় প্রাণময় জগতের খোঁজ পেয়ে যাবেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবর্ধনের জন্য।এতো আলোচনা, এতো বিধিনিয়ম জারি করার হয়তো কোন প্রয়োজনই হয়না যদি আমরা সবাই আমাদের একান্ত প্রতিবেশ সম্পর্কে আরও একটু আন্তরিক হই। আমার বাড়ির ... ...
আজ দুর্গা নবমী তিথি। বুকের ভেতর দুখ ভাবনার উতরোল হবার দিন। কেন এমন হয়? সে কি মৃন্ময়ী দেবীর কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের সময়কাল সমাগত বলে? নাকি উৎসবের কাল পরিসমাপ্ত হতে চলেছে, আবার সেই গতানুগতিক যাপনে ফিরে যেতে হবে ভেবে অন্তর্দাহে জর্জরিত হয় আমাদের হৃদয়? হয়তো এই দুই কারণেই মনের ভেতর কিছু হারিয়ে ফেলার অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপরও কিন্তু আমাদের দীর্ঘ সময় উৎসবের আবহে অবগাহনের পর্ব ... ...
সকালে হালকা মেঘ থাকলেও এখন আকাশ ঝকঝকে। শরতের এমনটাই দস্তুর। চারিদিকে যত বেনিয়মের বিশৃঙ্খলা, আকাশ তার থেকে আলাদা হয় কি করে ! আজ সকালেই এক সংবেদনশীল চিকিৎসক বন্ধু বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁর অধীনে থাকা সমস্ত অসুস্থ মানুষকে পুজোর এই আনন্দঘন মুহূর্তে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে চান তিনি। এমন আন্তরিক অভীপ্সার কথা পড়ে মনটা খুব ভালো লাগছে। উৎসব মানে তো কেবল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, আসলে এ হলো আমাদের আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ সময়। নিজেকে একটু ইতিবাচক ভাবনায় বদলে ফেললেই গোটা সমাজ বদলে যাবে। এ কিন্তু আমার আন্তরিক বিশ্বাসের কথা।আজ এই সকালে চারিদিক থেকে ভেসে আসছে নানা রকমের শব্দ। ভেসে আসছে পল্লীর আবাসিক সহনাগরিকদের ... ...
পুজোয় দেশের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ আমাদের কোনোদিনই হয়নি, কারণ দেশভাগের ফলে আমাদের মতো অনেককেই বাপ পিতামহের ভিটেমাটি ছেড়ে, হঠাৎ করে সীমারেখা টেনে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া জমিতে নতুন করে বসত গড়ে তুলতে হয়েছে অনেক অনেক শ্রম আর অধ্যবসায়ের দ্বারা। আমি অবশ্য জন্মসূত্রে একশো ভাগ এপারের। তাই মা বাবা ঠাকুমার মুখে তাঁদের ফেলে আসা দেশের বাড়ির নানান গল্প শুনলেও ... ...
ঝরা শিউলির গন্ধ – ২ বাঙলায় শরৎ আসে কাশ আর শিউলি ফুলের হাত ধরে। বাড়ির বাগানে ঝরা শিউলির আলপনা আর প্রকৃতির প্রাঙ্গণে কাশ ফুলের সফেদ ঝালরের ঝলকানিতে শুরু হয় শারদলক্ষ্মীকে আমন্ত্রণের উদ্যোগ। প্রকৃতি দেবী নিজেই নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে উৎসবের তোরজোড় শুরু করেন আপন খেয়ালে মূল উৎসবের মাসখানেক আগে। আর বারোয়ারী পুজোর তোরজোড় শুরু করতে হতো পাঁজিতে নির্দ্ধারিত দিন ক্ষণের কমবেশি মাস পাঁচেক ... ...