প্রিয়তমাসু কী? ভূবনদা, সিস্টেম থেকে নোটিফিকেশন এসেছে, তুমি একটি লুজার আমিও বড় বেশি তোমার মতআমার আশু সতর্ক হওয়া দরকার। আমি কেটে উড়িয়ে দিতে পারিনিবসে বসে ভেবেছি, ভেবে ভেবে মন খারাপ করেছিলাভ কিছু হয়নি ;আবার নোটিফিকেশন এসে চলেছে। একটা সময়ের পর আমিও তুমি হয়ে যাব তোমার মত ব্যর্থ হয়ে যাব.. এইসব ঠারেঠোরে লেখা | তবু দেখ, আমার করার কিছু নেই,একেবারেই কিছু .. নেই। তবু দেখ ভূবনদা, তোমাকে এইসব জানানোর উপায় নেই। ... ...
আজ বাসে একটা মেয়ে উঠেছিল। আমার পাশের সিটে বসেছিল। খুব রোগা। অপুষ্ট কঙ্কালসার চেহারা। কোলে একটা বাচ্চা। বাসটা এয়ারপোর্টের, এ সি। হাওড়া থেকে ভাড়া পঞ্চাশ। মেয়েটা ২৫ বা ৩০ টাকা বের করে দিচ্ছিল। সম্ভবত সেটা নন্-এসি বাসের ভাড়া, মেয়েটাকে বাড়ির কেউ বলে দিয়েছিল। মাঝবয়েসী ভুড়িওয়ালা সৌখিন চেহারার কন্ডাক্টর ভাড়াটা দেখে প্রথমে খুব তাচ্ছিল্যের একটা ভাব আনলেন, তারপর বললেও হয় না বললেও হয় এরকম একটা দার্শনিকতার সুরে বললেন, " কি ? ভাড়া আছে না নেই ? না থাকলে ছেড়ে দাও দিতে হবে না !...বাচ্চাটার মুখটা তুলে মোছাও .. কি নোংরা লাগছে .. ... ...
এক বন্ধুর সঙ্গে দেখে এলাম "অপরাজিত" ৷ একটা দৃশ্যে আমার চোখ ভিজে গেল, সেটা হরিহরের ঘরে ফেরার পরের দৃশ্য ৷ পথের পাঁচালী দেখতে গিয়েও ওইখানেই চোখ ভেজে, এখানেও ভিজল দূর্গার কথা ভেবেই ৷ প্রাণের প্রাচূর্যে উচ্ছল এক কিশোরী যাকে মেনে নিতে হয়েছে, জীবনে আনন্দের সব উপকরনে তার অধিকার নেই I তার ভাই অপুকে তার মা বেশী ভালবাসে, অন্যায়ভাবে বেশী ভালবাসে। পরের ঘরে চুরি করতে গিয়ে সে প্রায় ধরা পড়ে যায় .. একঘর লোকের সামনে ৷ বড় নির্মমভাবে তাকে মেরেছিলেন বিভূতিভূষন I আমি পথের পাঁচালী পড়েছিলাম ক্লাস সেভেনে ৷ সেই জন্যেই হয়ত পথের পাঁচালী সিনেমাটা কোনোদিনই আমার পুরোটা ... ...
ভেবে দেখলে বলার অনেক কিছু ছিল। বিলম্বিত সাত সুর কিংবা দরদী চোখের চাহনি। সব ছেড়ে চলে যেতে পারি, এমন আশ্বাসও দিতে পারতাম ৷প্রশ্নটা সময় নিয়ে, কতটুকুই বা নিজেকে ভালবাসা যায় অন্যের বেঁধে দেওয়া সময়ে ? পৃথিবীতে যথেষ্ট সময় নেই আজকাল ৷সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে তর্ক করি ৷ আসলে তর্কটা আগে থেকেই ছিল ... ...
অনেক দিন ভাল কিছু লিখিনি, মানে লিখে ভাল লাগেনি ৷ আমার ভাবনাচিন্তার মধ্যে অনেক মেঘ ছড়ানো, কিন্তু বৃষ্টি হয় না ৷ ইশ্বরের সঙ্গে রোজ দেখা হয়, তবু তিনি ডেকে বলেন না, বৃষ্টি হোক। চাইলেই ... বৃষ্টি হতে পারত ৷ মাঝে মধ্যে চোখ জ্বালা করে ৷ "কান্না পায়" লিখে আবার কাটি। না কান্না ফান্না এত রাতে পায় না l বদলে বুকে সর্দি জমে যায় ৷ হেঁটে হেঁটে চলে যাই সমুদ্রের দিকে ৷ গলায় একটা দড়ি বাঁধা থাকে তবু, বৃত্ত পেরোতে পারিনা ৷ সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষের স্বপ্ন ...কথা কথা কথা, অযথা ৷ হরদম, বিস্তর ... ...
গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা / কূলে একা বসে আছি... / তারপর জিঙ্ক বেরিয়ে যাচ্ছে, ভিটামিন বেরিয়ে যাচ্ছে / দীর্ঘদিন ধরেই / কী আর করা যাবে ? ... ...
সাফল্য আর ব্যর্থতার মাঝে আমি পাগলামী করে বেড়াই বাস্তবের ঝুলবারান্দা থেকে অবাস্তবের দিকে ঝুঁকে পড়ে, প্রায়ই ৷যতটা সহজে ব্যাপারটা লেখা গেল চমৎকার,ব্যাপারটা তেমন সহজ নয়আপনারা যারা অনেকটা আমার মতই, একমাত্র তাঁরাই বুঝবেন আমার বিশ্বাস ৷আমার মতই দেখতে হলে ভাল হয়ভুড়িটুড়ি সমেত, কদম ছাঁট চুল, ছাগুলে ঘোলাটে চোখ এসবই দরকার। নামটাও এক হলে ভাল হয় আর ইয়ে, আপনাদের কারও রুমের দরজায় ভেতর থেকে লাগাবার ছিটকিনি কি প্রায়ই আটকে যায় ? আপনাকে শুদ্ধ রুমে আটক করে ? এইটেও খুব দরকার কবিতাটা বোঝার জন্য। ... ...
অনেক কথাই তো বলা যায়, কিন্তু বলব কেন? / রাস্তার দুধারে গাছ, গাছ মানেই সবুজ / আসলে ধূসর বাদামী ভাবটাও আছে / ওই ধূসর ভাবটা দেখি না, দেখতে চাইনা বলে। দেখব কেন? ... ...
কাজের চাপ বাড়ছিল, আর যতই জোরালো গলায় কাজ আমাকে চ্যালেঞ্জ করছিল, ভীতু সৈনিকের মত, ততই বেশী আমার পেট গুড়গুড় করছিল, ততই বেশী আমি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলাম I পড়ার ঘরে আমি আর পড়তে পারছিলাম না, ঘুরতে বেড়িয়েও কাজ সংক্রান্ত দুশ্চিন্তার হাত থেকে বাঁচতে আমাকে সিনেমা বা থিয়েটারে ঢুকে পড়তে হচ্ছিল ৷ খাওয়ার টেবিলে আমার পাশে বসে থেকে এই দুশ্চিন্তা আমার ক্ষিধে নষ্ট করছিল, এমন কী বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তার সময় এই দুশ্চিন্তারই নাছোড় ছায়া এসে দাঁড়াতে শুরু করেছিল আমার আর বন্ধুদের মাঝে ৷ ফলে বলার কথা আমার ঠোঁটেই শুকিয়ে যাচ্ছিল, শুষ্ক সৌজন্য বিনিময়ের পর আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম ভূতগ্রস্থের মত। এইরকম একটা ... ...
বেচারী যুবতী, উষার স্নান নিয়ে বুড়োর যে পরিমান আহ্লাদ আর যা নিপুন বর্ণনা, গাছ ফাছের ওপর থেকে নিয়ম করে নজর রাখতেন, সন্দেহ হয়। বনে বনে অনুসন্ধিৎসু প্রকাশ-পিয়াসী নারীটিকে দিব্যি কল্পনা করতে পারছি .. বহু জনতার মাঝে একা হওয়ার টেকনিকটা আমি জানতাম, বস্তুত আমার পক্ষে একা না হওয়াই ছিল কঠিন। কিন্তু "অপূর্ব " একা হওয়াটা বুড়োর ইস্পেশাল ক্যারিশমা। (গানটা জর্জ বিশ্বাসের গলায়, আমার খুব প্রিয় গানগুলোর একটা) ... ...