এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধরণী দ্বিধা হও :)

    kS
    অন্যান্য | ০৬ নভেম্বর ২০০৮ | ৬৪২৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kS | ০৬ নভেম্বর ২০০৮ ০১:৫১405800
  • কান লাল হয়ে ওঠার যে সমস্ত সরস খুদে/ বৃহৎ গপ্পো অন্য কোথাও মন খুলে বলা মুস্কিল, তাদের জন্য বিশেষ টই। স্বনামে/ বেনামে হাসিমুখে লিখুন। :)
  • Rockstar | ০৭ নভেম্বর ২০০৮ ১৪:১৯405824
  • শিলিগুড়ির গল্প। আমি একবার টুমপা নামের একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম। দেখতে ভালো ছিলো আর ভালো নাচ জানতো, গান জানত। আমদের পাড়াতেই থাকতো। একটু গরবিনী টাইপ ছিল। ভয় পেতাম খুব। তো তার চিন্তায় রাতে ঘুম বন্ধ হলো। দিলাম চিঠি, তার বোন রুম্পার হাত দিয়ে। তাতে লেখা ছিল, যোদি হ্যাঁ হয়, কাল বিকালে পার্কে দেখা হবে। পরদিন ঢিপ ঢিপ বুকে পার্কে গিয়ে দেখি, রুম্পা এসেছে দেখা কর্তে, কোনায় একটা বেনচে বসে আছে! মন কে অনেক বোঝালাম, তাহোলে টুম্পা হলো না, রুম্পাই বা মন্দো কি, একটু ছোট। নিশ্চোয় আগে থেকেই ভালোবাসে আমায়, নইলে কি আসতো। দিদির চিঠি আগেই পড়ে নিলো? দিয়েছিলো কি আদৌ টুম্পাকে? এই সব সাত-পাচ ভাবছি, দেখি রুম্পা আসছে আমারি দিকে, বল্লো "প্রিয় দা, দিদি তোমায় বলেছে ওরকম চিঠি না দিতে, সবাই খারাপ ভাব্বে আর দিদি শ্যাম দা কে ভালোবাসে, ওকেই বিয়ে করবে দিদি।' তরপর একটু গ্যাপ। আমি ভাবছি "এবার তোমার মনের কথাটা বলে ফেলো খুকি'। রুম্পা ফের মুখ খুল্লো, "প্রিয় দা, আমি কিন্তু তোমায় খারাপ ভাবিনি। ভাইফোঁটায় আমদের বাড়ি আসবে? ফোটা দিতাম তোমায়।'
    ধরণী---
  • Hukomukho | ০৮ নভেম্বর ২০০৮ ০১:১৪405835
  • হো: হো: হো: হো: :))))) অসা:
  • Binary | ০৮ নভেম্বর ২০০৮ ০২:৫৯405846
  • ধরণী দ্বিধা হও, তেল-টেল পাওয়া যায় কিনা দেখি।
  • Rockstar | ০৮ নভেম্বর ২০০৮ ০৪:২৫405857
  • যে যার তালে রে ভাই! :)
  • Binary | ০৮ নভেম্বর ২০০৮ ০৪:৪৭405868
  • এই অসময়ে বলাটা ঠিক নয়, তবে, রকস্টারের 'প্রিয়দা' শুনে, কেন জানিনা, 'তোমার পিয়ো আমার পিয়ো, পিয়োদাসমুন্সী জুগ জুগ জিয়ো' মনে পড়লো।
  • koyeli S | ০৮ নভেম্বর ২০০৮ ২১:৩৭405879
  • :-)
  • sayan | ১৬ নভেম্বর ২০০৮ ০১:৩৮405890
  • আরও কিছু মালপত্র এখানে আসুক দাবি রাখলাম।
  • kS | ০৭ ডিসেম্বর ২০০৮ ২৩:৪২405901
  • আর কারো কোনই গল্প নেই?
    নাকি বলবার সাহস নেই? :P
  • ranjan roy | ০৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ২৩:০৯405801
  • দ্যাকো দিকি!সাহস নেই বলে তোল্লাই দেয়া? আমার মত দু'কান- কাটাকে?
    বরাবরই গ্যাসখেয়ে ছড়িয়েছি। আজকে ওমনি এক গ্যাসখেয়ে ধরণী-দ্বিধা-হও গোছের ছড়ানোর গপ্পো বলি।
    বাড়িতে ""আমার'' বিয়ের জন্যে কথাবার্তা চলছে,( খানিকটা যেমন মেয়েদের জন্যে চলে, তেমনি গোছের)।
    ছুটিতে ভিলাইয়ে বাড়ি এসে জানলাম আমাদের পারিবারিক বন্ধুপরিবারের গিন্নি আমার মাকে নাকি বলেছেন-- দিদি, আমরাও আমাদের বড়মেয়ের জন্যে ছেলে খুঁজছি। আপনার যদি ভালোছেলে চোখে পড়ে তাহলে বলবেন। আমাদের জাতটাত নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই।
    ইতিমধ্যে রায়পুর থেকে হাজির আমার তোল্লাইদেয়ার জন্যে ছাপ্পামারা বন্ধু। সে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের থার্ড ইয়ারে দু'বছর ধরে আটকে আছে, রিটায়ার্ড আদর্শবাদী বাবার হোটেলে খাচ্ছেদাচ্ছে, ফাংশনে সেতার বাজাচ্ছে, কিন্তু নিজের উদ্যোগে বিয়ে করে ফেলেছে।
    সে আর আমার ছোটভাই মিলে বল্লো-- বাপ-মায়ের কথায় বিয়ে করলে সব ধার্মিক রীতি-রেয়াজ মানতে হবে, সপ্তপদী, যজ্ঞ ব্লা-ব্লা-ব্লা। তোর মত নাস্তিক আদমী আদর্শের সাথে কম্প্রোমাইজ করবে?
    তুই চাকরি করছিস, নিজে ইনিশিয়েটিভ নিয়ে বিয়ে ঠিক কর। তাহলে সিভিল ম্যারেজ করতে পারবি।
    ------ ওরে বাবা! আমার মত ক্যালানের দ্বারা ওসব হবে না। লাইফে সবাই সব কিছু পায় না। আমিএখন সাততাড়াতাড়ি কাকে প্রোপোজ্‌ করবো?
    ----- এসব এস্‌কেপিজম্‌। চারিটি বিগিনস্‌-- ইত্যাদি।
    ------(ছোটভাই) মেয়ে কিছু কম পড়িয়াছে? যা না, মাসিমারাও তো বড়মেয়ের জন্যে ছেলে খুঁজছেন। কালই তুই ওদের বাড়িতে গিয়ে মেয়েটিকে প্রোপোজ করে আসবি।
    ----- ধ্যেৎ, ওকে আমি সেই ছোটবেলায় ফ্রক-পরা অবস্থা থেকে দেখে আসছি।
    ----- সে তো ভাল কথা। দুজনেই দুজনকে চিনিস। কালকেই যা।
    তো' আমি তোল্লাই খেয়ে সক্কালে যখন ও বাড়ির মাসিমা- মেসোমশায় অফিসে বেরিয়ে গেছেন, বাড়িতে মেয়েটির ছোটবোন আর ভাই ছাড়া কেউ নেই,গিয়ে হাজির হলাম। ঘন্টা- চার বসলাম, আটভাট বকলাম, আলমারি থেকে কিছু বই নামিয়ে বগলদাবা করলাম, ডবল ডিমের ওমলেট খেলাম আর ওরা যখন দুপুরের খাওয়াটা খেয়ে যান, রঞ্জনদা, --- বলল তখন হাঁপ ছেড়ে বাড়ি চলে এলাম।
    বন্ধু ও ভাইকে বল্লাম-----আমার দ্বারা এসব হবে না।
    বন্ধু বল্লো-- আমি আর একদিন ছুটি বাড়াচ্ছি, কাল তোকে পারতেই হবে।এত সহজে ছাড়চিনে।
    পরের দিন সকালে আমাকে ধরে বেঁধে মোটরসাইকেলে বসিয়ে ওদের কোয়ার্টারের সামনে ছেড়ে দিয়ে গেল।
    ছোটভাই চোখ মেরে মাওয়ের রেড্‌বুক কোট করে বল্লো---- বি রেসোলুট, ফিয়ার নি স্যাক্রিফাইস্‌।
    তারপর ওরা কেটে গেল। আমি কম্পিতবক্ষে ধীরে ধীরে উক্ত পরিবারের বাটিকায়
    প্রবেশ করিয়া দ্বারঘন্টিকায় মৃদু আঘাত করিলাম।
  • ranjan roy | ০৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ২৩:১০405812
  • ডি: ফিয়ার নো স্যাক্রিফাইস্‌।
  • kS | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০০:৪২405816
  • তারপর কী হল?
  • sayan | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:১২405817
  • আরে দাঁড়াও না। সবে ডোরবেল বেজেছে। উনি এসে দরজা খুলুন তারপরে না ...
  • Hukomukho | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:৩১405818
  • যা: বাবা ডোর বেলের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেল যে। এবার দরজা খুলুক।
  • arjo | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:৩৪405819
  • রঞ্জন দা তো এইটা হেবি দিলেন। জমে ক্ষীর পুরো।
  • aja | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০১:৫২405820
  • এটা তো বোঝাই যাচ্ছে কি হয়েছিল। বাড়ীর সবাই সেদিন নেমন্তন্ন খেতে গেছিল, আর ফাঁকা বাড়ীতে অনেকক্ষণ বেল বাজিয়ে পড়শীদের তাড়া খেতে হয়েছিল।
  • Arpan | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০২:৪০405821
  • না না। পাড়ায় সেদিন কারেন্ট অফ ছিল। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিল না অতক্ষণ ধরে বেল বাজলেও কেউ দরজা খুলছে না কেন।

    তাই না রঞ্জনদা? :)
  • sayan | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০২:৫২405822
  • রঞ্জনদার হাতের নার্ভাসনেসজনিত ঘাম আর ইলেকট্রিসিটি বোধহয় এরপরে মিলেমিশে রঞ্জনদাকে সেই প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল - "শক লাগা ক্যায়া?'।
  • ranjan roy | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৩:৪৪405823
  • মাইরি, দু'দুবার লিখলাম। মজিলা ফায়ারফক্স আমার বোকামোয় লজ্জা পেয়ে দুবারই ক্র্যাশ করলো। কি গেরো!
    যাকগে, ছোট ছোট টুকরোয় পোস্ট করছি।

    মেয়েটি দরজা খুল্লো। আমাকে ড্রইংরুমে বসিয়ে বল্লো- ছোটন গেছে ডেলি নীডস্‌ এর দোকানে। এক্ষুণি আসবে। কালকে আপনি না খেয়ে গেলেন বাবা-মা জানতে পেরে খুব রাগ করেছে। বলেছে রঞ্জন আলাভোলা টাইপ, হাতে বই পেলে হুঁস থাকে না।ও কি নিজে থেকে খাবার কথা বলবে নাকি?ও আসলে খাইয়ে দিবি।
    আমার বুকের মধ্যে গান বেজে উঠলো-- ওহে বীর, হে নির্ভয়! হবে জয়, হবে জয়।
    মাথাটাথা চুলকে বসে বই নাড়া চাড়া করছি এমন সময় পেছনের বাড়ির চেনা ছেলে জনাদুই বন্ধুকে নিয়ে ঢুকলো। মেয়েটিকে বল্লো-- আমাদের ঘরে প্লেয়ারটা খারাপ হয়ে গেছে। ভুপিন্দরের এই গানটা, ঐ যে "" মিঠে বোল বোলে পায়েলিয়া'' একটু তোদের প্লেয়ারে বাজাবো? আমার বন্ধুরা পরীক্ষার পর ছুটিতে নাগপুর থেকে আমার বাড়ি এসেছে। ওরা শুনতে চায়।
    মেয়েটা প্লেয়ারটা এনেদিয়ে কোন কথা বলে রান্নাঘরে চলে গেল। ছেলেটা হটাৎ যেন আমাকে দেখতে পেয়ে বল্লো--- আরে রঞ্জন্দা যে! কতদিন পরে, ভালো আছো? গান বেজে উঠলো, আমি দেখতে লাগলাম ছেলেটার সুঠাম চেহারা, জিন্সের প্যান্ট, আর চারবছর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া কনফিডেন্স। আমার যে ওগুলোর একটাও নেই।
    গান শেষ হল। ছেলেটা মেয়েটিকে ডেকে একগ্লাস জল চাইলো। আমার ভেতরে গুবরে পোকা নড়ছে। ছেলেটা যায় না কেন? মেয়েটা কি জল আনতে সারাদুপুর পার করে দেবে? আমি তাহলে কখন প্রপোজ করবো?
    এবার আমার সঙ্গে আশকথা-পাশকথা শুরু হল। মাগো, কেন যে এতসব কথা?
    আমার মনের মধ্যে কাঁটা খচ্‌খচ্‌ করছে। এদের মধ্যে কি ইন্টু-মিন্টু আছে? এমন তো নয় যে আমিই "" কাবাব মেঁ হাড্ডি''? আমারই কি উঠে পড়া উচিৎ?
  • ranjan roy | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৩:৫৯405825
  • এমনসময় ওর ছোটভাই বাজার থেকে ফিরলো। ব্যাগ নামিয়ে রেখে সবাইকে হাসিমুখে বল্লো--- কফি কিনে আনলাম। সবাই খাবে তো?
    আমি মনেমনে ওর মুন্ডুপাত করতে লাগলাম।
    ( ওর বড় দু'ভাইআমার বন্ধু, কোলকাতায় থাকে।)
    কিন্তু ঐ ছেলেটা হটাৎ উঠে দাঁড়ালো, গ্লাস তুলে চোঁ-চাঁ জল খেয়ে বন্ধুদের নিয়ে চলে গেল। এবার মেয়েটি এসে ছোট ভাইকে বল্লো---- এসময়টা একটু ঘরে থাকিস তো, রোজ এসে বসে থাকে কোন-না-কোন ছুতোনাতায়।মাসিমাকে বলা ঠিক হবে না। আমাদেরই হ্যান্ডল্‌ করতে হবে।
    আমার বুকের মধ্যে হৃৎপিন্ড বলে যন্তরটি হটাৎ লাফালাফি শুরু করেছে। কার কথা হচ্ছে? ইশারায় আমার কথা নয়তো? আমি তো মাত্তর দু'দিন ধরে আসছি।
    না:, একটু পরে বুঝলাম কথা হচ্ছে ঐ ছেলেটিকে নিয়ে। যাক বাবা, লাইন ক্লিয়ার। আমি অনুলোম- বিলোম করতে লাগলাম, মনে মনে।
    এবার মেয়েটি নিয়ে এল প্লেটে করে চিকেন এর লেগ্‌পিস। বল্লো--খেয়ে দেখুন, কেমন হয়েছে।
    ওর ভাই বল্লো--- ভুপেন হাজারিকার নতুন রেকর্ড আছে, আর জিম রিভস্‌। শুনবেন?
    ( আহাহা! পাগলা খাবি? না আঁচাবো কোথায়!)
  • ranjan roy | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৪:১০405826
  • দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম। আবার দুপুর গড়াবে। আমি কিছু বই ফেরত দিলাম, কিছু তুললাম। এবার কি করি?
    (এবার ভেতরে টাকিলার মিউজিক্‌।---হাত কাঁপে, পা কাঁপে, গলা কাঁপে; হাত কাঁপে, পা কাঁপে, গলা কাঁপে।)
    আরও পনেরো মিনিট। এবার ওরা বল্লো -- আজতো খেয়েই যান, আমি চান করে আসছি।
    --- না না, মা বসে আছে। আমি যাচ্ছি। শোন ছোটন, রান্নাঘর থেকে এক গ্লাস জল নিয়ে এসো তো, ফ্রিজেরটা না।
    ব্যস, ঘরে মেয়েটা একা। টেবিলে প্লেট সাজাচ্ছে।
    ( জয়্‌মা কালী!)
    -- শোন, তোমাকে একটা কথা বলতে চাইছি।
    --কি কথা?
    --- দেখ, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি বল?
    সারা ঘর স্ট্যাচু! মেজেতে পিঁপড়ে হাঁটার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
  • aja | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৪:২৫405827
  • আরে পিঁপড়েরা কামড়াল কিনা বলবেন তো।
  • ranjan roy | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৪:২৬405828
  • আস্তে আস্তে নীচুগালার কটি কথা যেন হোঁচট খেতে খেতে ভেসে এল।
    ---- আমার বাবা-মা যা ঠিক করবেন---।
    (আমি তখন স্টেজ-ফ্রি।পর্দা উঠেছে, মুখে স্পট, লোকের অগুনতি কালো কালো মাথা দেখা যাচ্ছে। এইসময় স্তানিস্লাভস্কি কি বলেছেন? কি করতে বলেছেন? ও হ্যাঁ, মন:সংযোগ, মন: সংযোগ করতে বলেছেন।)
    --- শোন, বাবা-মা? নিশ্চয়ই বাবা-মা। আমিই ওদের সঙ্গে কথা বলবো। কিন্তু আগে তোমার মত। তুমি যদি বল হ্যাঁ, তা'লে তোমার বাবা-মা না বল্লেও এ বিয়ে হবে। তুমি যদি বল না, তালে ওনারা হ্যাঁ বল্লেও এ' বিয়ে হবে না।
    সন্নাটা! সন্নাটা!
    ---- শোন, এটা একটা প্র্যাকটিক্যাল ব্যাপার। একজন মানুষ আর একজন মানুষকে অনারেবলি প্রপোজ করছে। এর মধ্যে কোন নাটক-নভেল-মেলোড্রামা নেই। আমি খানিকক্ষণ বসছি। একটু ভেবে নিয়ে আমাকে বল।
    ইতিমধ্যে ওর ভাই ছোটন জল নিয়ে এসেছে। দেখছে ওর দিদি আর আমার টেন্স্‌ চেহারা।
    বল্লো- কি হয়েছে রঞ্জনদা?
    ---- কিছু না।আমি তোমার দিদিকে বলেছি যে ওকে আমি বিয়ে করতে চাই, এর মধ্যে কোন নাটক-নভেল নেই। ভেবে উত্তর দিক। তুমি বল--আমি কি কিছু অসম্মানজনক ---?
    -- না ঠিক আছে।
  • ranjan roy | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৪:৪৩405829
  • খানিকক্ষণ কাটলো। বল্লাম--- দিদিকে ডাকো। ওর মুখের কথা শুনে যাই।
    ছোটন ফ্যাকাশে মুখে ওর দিদিকে ডেকে আনলো। দিদি আর সামনে এলো না। পর্দার আড়ালে থেকে শুধু নাকটা দেখিয়ে বল্লো---- আমি ভেবেছি আমার বাবা-মা যা ঠিক করবেন--।
    আমি বাড়ি ফিরে এলাম। বন্ধুটি আর ভাই হেসে খুন। করেছিস কি? খালি বাড়িতে মেয়েটাকে একা পেয়ে প্রপোজ করেছিস? বিকেলে বাড়ি ফিরে ওর বাবা-মা শুনে আগ-ববুলা হয়ে আমাদের বাড়ি ধাওয়া করবে। তারপর আমাদের বাবাকে তো চিনিস? তোকে ত্যাজ্যপুত্র করবে।
    আমি নার্ভাস। সোজা পরের ট্রেন ধরিয়া ভিলাই ছাড়িলাম। চাকরি স্থলে গিয়া কইলকাতায় আমার মিত্র( মেয়ের বড়ভাইকে ) পত্র লিখিলাম।
    আমিতোমার ভগিনীকে নিম্নপদ্ধতিতে প্রপোজ করিয়াছি। আশা করি অসম্মানজনক কিছু করি নাই।আমি চাহি না যে তুমি আমার হইয়া ভগিনীর নিকট ওকালতি কর। কিন্তু আমাদের দুই পরিবারে ইহা লইয়া কোন মনোমালিন্য- বিবাদ-বিসংবাদ না হয়, ইহা অতি অবশ্য দেখিও।
    সাতদিনে জবাব আসিল।""" তোমার ব্যবহার যথেষ্ট সম্মান্‌জনক।আমার ওকালতির প্রশ্ন নাই। ইহা আমার ভগিনী ও তোমার মামলা।আমার পিতৃদেব ও মাতা ঠাকুরাণী অবুঝ নহেন''
    এরপর মেয়েটির ক'মাস পরে বিয়ে হয়ে গেল এক ব্যাংক কর্মীর সঙ্গে।ফর্সা, মার্জারচক্ষু, গাড়িবাড়িসম্পন্ন পরিবারের কুলপ্রদীপ।
    তবে আমার দন্তকেলাসিত হওয়ার ট্র্যাডিশন আজও অব্যাহত।
  • sayan | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৫:৪৩405830
  • মিষ্টি সুন্দর ফুটফুটে মাইল্ড ডোজের রঞ্জন্দা-কাহিনী।
    আরও কিছু ছাড়ুন ঝুলি থেকে।
  • arjo | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ০৯:৫৪405831
  • হেব্বি হয়েছে এই গল্পটা। :))))
  • siki | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ১০:১০405832
  • উফ্‌ফ্‌, রঞ্জনদার টাকে শ-খানেক FC। ছোওওও ছুইট !!
  • kS | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ১১:১৬405833
  • রঞ্জন বাবু,
    দারুণ লাগলো!
    আপনার লেখার স্টাইলটিও অসামান্য
  • Blank | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ১১:৫৬405834
  • উরিত্তারা, রঞ্জন দার কেত আছে মাইরি :-)
  • h | ০৯ ডিসেম্বর ২০০৮ ১২:০২405836
  • এক্স দের স্কুলে নাটক হবে, অবাক জলপান। অনেক কষ্ট করে এক্স একটা রোল পেয়েছে। বৈজ্ঞানিকের বাড়ির পরিচারক। তো রোলে কি আছে। না দরজায় ঠক ঠক হলে, দরজা উইংস এর ভেতরে হাওয়ায় খুলে পথিক কে নিয়ে আসতে হবে। বসাতে হবে। ভেতোরে গিয়ে এক গ্লাস জল এনে দিতে পথিকের সামনের টেবিলে সে জল ভর্তি গ্লাস টা দিয়ে আসতে হবে। এবং বলতে হবে, একটি ই বাক্য বসুন বাবু আসছেন অথবা বাবু বসতে বল্লেন। কিন্তু রোজ সেই পার্ট টেনশনে ভুলে যাওয়ায়, বাক্যটি বাদ গেছে।

    এদিকে কিন্তু সিরিয়াস নেসের কোন অভাব নেই। ব্রেখট স্তানিশ্লাভস্কি পড়া হয়ে গেছে। শম্ভু মিত্রর নাট্যকলা পড়া হয়েছে। মায় কন্টেকস্‌চুয়াল রিডিং এর জন্য উৎপল বাবুর কয়েকটি আর সুধী প্রধানের নাট্য আন্দোলনের ইতিহাস পড়া হয়ে গেছে, দাগ দিয়ে দিয়ে। কমেডি কে বোঝার জন্য তখন সবে অ্যারিস্থোফেনিস জোগাড় হয়েছে। ইতিমধ্যে নাটকের দিন এসে গেছে। জোর বাক্যহীন রিহার্সালের পরে, আজ স্টেজ। কোন কথা হবে না। সক্কলে ফাটাচ্ছে। ছেলে বুড়ো হাহা করে হাসছে। প্রম্পট এলো। ঢোক। বৈজ্ঞানিকের পরিচারক ঢুকলো। দৃঢ় অথচ বিনয়ী পদক্ষেপে গিয়ে অতিথি তৃষ্ণার্ত পথিক কে নিয়ে এসে বসালো। কনফিডেন্স লেভেল যাতা ভালো, কারণ খুব সহজ ভাবে একবার কাঁধের গামছা ঠিক করলো। মুখ কিন্তু একবার দর্শকদের দিকে আলে্‌তা ভাবে তুলে, আবার র নীচে। ঊনবিংশ শতকের বঙ্গীয় ক্লাস সিচুয়েশন সম্পর্কে আন্ডার্স্টান্ডিং প্রতিটি মুহুর্তে ফেটে পড়ছে। ফিরে গেলো উইংস এ রাখা জলের গেলাস নিতে, সমস্ত ব্যাপারটা ব্যাপক হচ্ছে, হাতে জলের গ্লাস নিয়ে পুন:প্রবেশ। একবারো দর্শকের দিকে পিঠ না দেখানো, আলো নেওয়া, মাইক নেওয়া, ঈষৎ ঘুরে আন্ডারউডের বোলিং রানাপের মত করে আসা - সমস্তটা ফ্যান্টাস্টিক। ভেতোরে পরিচালক রিলিভড, দেখেছিশ, আজ ফাটিয়ে দিলো এইসব বলছেন, ইতিমধ্যে ঠক শব্দে গ্লাস টা টেবিলে রাখলো পরিচারক। সমস্তটা ঠিক আছে, তাঙ্কিÄক ভাবে নির্ভুল, বাক্যহীন মূকাভিনয়ে পটুঙ্কÄ এবং তদনুসারে, পরের প্লে তে আরেকটু গুরুঙ্কÄপূর্ণ রোল পাকা, যেমন ফাল্গুনিতে ঠাকুর্দার গানের দলে সুযোগ প্রায় বাঁধা। কিন্তু ঠক, ঐ একতু অন্যরকম ঠক শব্দে পরিচালক এবং তৃষ্ণার্ত পথিক দুজনেরি একতু সন্দেহ জাগে। দেখা গেল আনডারুডের রানাপের গোটা টা জল পড়তে পড়তে এসেছে, পরিচারকের তাঙ্কিÄক ফলটলেসনেসের একমাত্র ক্যাজুয়ালটি। টেনশনে হাত কেঁপেছে এবং গোটা জলটা রাস্তায় পড়েছে। তৃষ্ণার্ত পথিকের সামনে ফাঁকা গ্লাস, এবং পরিচারক ও অতিথি সকলের মগজে শুধু সুকনো স্তানিশ্লাভস্কি।

    পরের বছর রোল বলতে, শেষের দিকে রিহার্সালের শেষে চা সিঙাড়া বিলি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন