এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • চাগ্রীর গপ্পো

    সে
    নাটক | ১৩ নভেম্বর ২০১৪ | ৩০৭৮০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Atoz | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০০:১১652208
  • অক্সফোর্ড না, কেম্ব্রিজ আর লন্ডনের কথা ভাবছিলো। এখুনি ফিরে পড়ে দেখলাম আবার। ঃ-)
  • $ | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪৪652209
  • রাশিয়ান ভাষায় ডায়রিও লিখেছিলো। ফ্লুয়েন্ট। আশাভঙ্গ, কি-করবো-জানি-না পাজলড অবস্থা। নিশ্চিত সোভিয়েত ভাঙার পরের। ফিরে এসে। এখন জানা যাচ্ছে সেটা ১৯৯৬। পরে। কিন্তু অবাক হচ্ছি মেয়ের উল্লেখ নেই কোথাও।
  • Atoz | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪৯652210
  • ছিয়ানব্বুই কী করে বোঝা গেল? জন্মভূমি টিভি সিরিয়াল এর উল্লেখ থেকে?
  • | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:৩০652211
  • চাকরির গপ্পে খামোখা মেয়ে, ছেলে মাসি পিসে এসব থাকতে যাবে কেন? :-O
  • sosen | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০৯:৫৯652213
  • সে তো লিখে দিয়েছেন
    IP Address : 203.108.233.65 (*) Date:14 Nov 2014 -- 12:50 PM

    লিখবো। কিন্তু একটা কথা। এখানে সব চরিত্রই কাল্পনিক।

    তাইলে আর রাশিয়া নিয়ে টানাটানি কেনো।
    আফটারনুনে ফোং করে কি হোলো???
  • কল্লোল | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ০৯:৫৯652212
  • আমি জানি না, কিন্তু বিশ্বাস করি এটা সে'র নিজের কথা। বিবাহবিচ্ছিন্ন একলা মায়ের ঝঞ্জাট আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। চাগ্রী? মিথ্যা তথ্য দিতে রাজি না থাকলে, চাগ্রী, বাড়িভাড়া, পাড়া, মুদীর দোকান কি কি সব হয় কিছুটা জানি। আর সে তো অবিবাহিত একলা মা।
  • DB | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৩:৪৯652214
  • ঐ লোকদুটো কিছু নাই করতে পারতো। ভিলেন বানানো হচ্ছে কেন?
  • সে | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৫:০১652215
  • ওমা! সত্যিই ওখানে একটা দরজা লুকোনো আছে। এতবার এসেছি এই পাড়ায় কোনোদিনো চোখেই পড়েনি। ওষুধের দোকান সেলুন টেলারিং শপ মনিহারি দ্রব্যের দোকান ব্যাগের দোকান বাহারি জুতোর দোকান আরো মনিহারি দোকান আরো জুতো এসবের আড়ালে চুপটি করে লুকিয়ে রয়েছে সার্ভিস এন্ট্রান্স। সে দরজা দিয়ে ঢুকে দারোয়ান কে বলি আমার আসার উদ্দেশ্য। সে আমায় দেখিয়ে দেয় রাস্তা সোজা সেই আসল বাড়িটার দিকে।
    কী আশ্চর্য! সার্ভিস এন্ট্রান্স থেকে মূল বাড়ীটায় ঢুকবার আগে অবধি সমস্ত কেমন সাদামাটা, ওপরে খোলা আকাশ দেখা যায়।
    খুব যত্ন করে শাড়ী পরেছি আজ। সিল্কের শাড়ী। ব্লাউজটা সুতীর। নিজেকে তো নীট অ্যান্ড ক্লীনই লাগছে, যদিও শাড়ীর কুঁচিটা বারবার ছড়িয়ে যাচ্ছে। তার ওপরে বাসে ওঠানামা করে শাড়ী নীট রাখার কৌশল আমার জানা নেই। নেল পলিশ তো কাল ছিলো না নখে, কিন্তু মিসেস শর্মার ঐ নো চিপ্‌ড্‌ নেলপলিশ শুনে মনে হোলো লাগিয়েই ফেলি। দুহাতের নখই এখন রাঙানো। এবারে কী করে খুঁত ধরে দেখি।
    ভেতরে গিয়ে একটা ছোটো রিসেপশান মতো জায়গা। অনাড়ম্বর। এই হোটেলের সামনের গেটের ঠাটবাটের সঙ্গে তুলনা না করাই ভালো। যারা চাকরি করতে ঢুকবে, তারা এখান দিয়ে ঢুকবে, তার পরে আরেকটা দরজা আছে ভেতর দিকে, সেদিকে মনে হয় এই হোটেলের অফিস। এই রিপেপ্‌শানের মেয়েটিকে জানালাম আমার আসবার কারন। সে আমায় অপেক্ষা করতে বলে নিজের কাজে মন দিলো।
    বহুক্ষণ দাইঁড়িয়ে থাকার পরে আমার ইন্টারভিউয়ের ডাক পড়ল। ভেতরে।
    সেই ভেতরের দরজা দিয়ে ঢুকলে সরু করিডোর, তার দুপাশে ঘর। তারই একটাতে গেলাম।
    যিনি আমায় এসে ডেকে নিয়ে গেলেন, তিনিই ইন্টারভিউ নেবেন। সিল্কের ছাপা শাড়ী কীকরে এত নিখুঁত ভাবে পরেছে দেখে তাজ্জব হয়ে যাই। একেবারে এয়ারহোস্টেসদের মতো।
    অল্প দুটো কথা হয়, সাধারন কথা। ওনার হাতে একটা কাগজে আমার সমস্ত ডিটেল লেখা আছে, মিসেস শর্মা পাঠিয়েছেন হয়ত। উনি শুধু আমায় তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেন, লক্ষ্য করে যান। তারপরে বলেন, থ্যাঙ্কিউ, আমরা আপনাকে খবর দেবো।
    আমাকে খবর দেবেন?
    না, মিসেস শর্মাকে জানিয়ে দেবো।
    থ্যাংক্স।
    বেরোনোর সময়ে আরো দুজন মেয়েকে দেখি হেঁটে যেতে, হুবহু একইরকম প্রিন্টের ছাপা শাড়ী পরা, একই রকম নিখুঁত। তাহলে এই হচ্ছে এদের ইউনিফর্ম।
    হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে এরকমই পরিপাটি শাড়ী পরা মেয়েরা কত বিনয়ী, কি মিষ্টি করে করে কথা বলে। আবার সার্ভিস এন্ট্রান্স দিয়ে ঢুকলে তেমনি সুন্দর শাড়ীপরা মেয়েই কেমন গম্ভীর রুক্ষ্ম হয়ে যায়। ইন্টারভিউটা কেমন হলো বুঝতে পারলাম না। কিছুই তো জিগ্যেস করল না। শুধু একদৃষ্টে চেয়েছিলো, খুবই অস্বস্তিকর।
    চিন্তা করে তো কিছু হবে না। বিকেলে মিসেস শর্মাকে ফোন করে নেবো।

    এমন একটা দিনে এত সুন্দর একটা দুপুরে বেশ খানিকটা হাঁটলে বেশ হোতো।
    এই ভীড়ের পাড়াটা থেকে বেরিয়ে যেতে হবে সবার আগে।
    ফ্রী স্কুল স্ট্রীটে ঢুকবার মুখটায় ফায়ার ব্রিগেডের কাছটায় এক্কেবারে সামনাসামনি দেখা হয়ে যায় চেনামুখের সঙ্গে।
    ভিকি।
    সে অবশ্য একা নয়। সঙ্গে আরো একজন রয়েছে।
  • সে | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:০৪652216
  • রিকশাওয়ালা ছাড়া তো আজকাল কোলকাতার ধুতি পরা লোক দেখাই যায় না প্রায়, তা ভিকির সঙ্গে যিনি রয়েছেন, তিনিও ধুতি শার্ট পরা। বছর পঞ্চাশেক বয়স, শীর্ণ।
    দিদি! এত দিন পরে!
    সত্যিই অনেক দিন পরে। সেই গতবছর গ্রীষ্মে চাকরি ছেড়ে দিলাম, তারপরে এই আজ।
    কেমন আছেন? নিউ জব?
    তুই কেমন আছিস?
    গুড।
    ভিকাস?
    উস্‌কো নিকাল দিয়া। জ্যাদা স্মার্ট বন্‌তা থা, ইসি লিয়ে।
    অবাক লাগে।
    হাঁ। তারপরে আরো দুটো ম্যাডাম এলো। একজনও থাকল না, রিজাইন করে দেয়।
    আমি হাসি।
    অনুরাধা ম্যাডাম ছিলো খুব ভালো। আপনার মতো। নেপালি।
    আমি নেপালি?
    না। বলছি খুব ভালো। চলুন, অফিসে আসুন।
    ওরে বাবা! না!
    আজ ভ্যাঁয়স নেহি হ্যায়। হি ইজ ওয়ার্কিং ফ্রম হোম। ফাদার সিরিয়াস।
    অ্যাঁ?
    হাঁ। ফাদারকো হার্ট অ্যাটাক আয়া। একে চিনেন?
    সেই ধুতি শার্ট লোকটি আমাদের কথা শুনছিলো। সে একটু অধৈর্য।
    দাসবাবু। ভিকাসের পরে এলেন।
    নমস্কার।
    দাসবাবু বলেন, আপনারা কথা বলুন। আমি বরং এগোই।
    না না, আমিই চলে যাচ্ছি। আপনাদের তাড়া আছে।
    তাড়া আর কোথায়? আমি এখন বাড়ী ফিরব। আমার তো ছুটি।
    এত তাড়াতাড়ি?
    ভিকি দাসবাবুর দিকে তাকায়। দাসবাবু বলেন, আপনি তো কাজ করেতেন ওখানে, জানেনই তো সব। এক নম্বরের শয়তান। এখন বাড়ীতে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল আর আসতে হবে না। মাইনের টাকাও দেয় নি। বলছে মাসের শেষে যেতে। এখন হাওড়া স্টেশান থেকে দুটো নারকোল আর গুড় কিনে নিয়ে ট্রেন ধরব। আজ পিঠে পার্বনের দিনতো, বাড়িতে খুব আশা করে বসে থাকবে বাচ্চারা।
    কোথায় আপনার বাড়ি? চলুন না হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
    মিদনাপুর। একটু ভেতর দিকে। এখন পা চালিয়ে গেলে হাওড়া থেকে একটা গাড়ি ধরা যাবে।
  • de | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:২৪652218
  • আমার মেয়েটা আর একটু বড়ো হোক -- আম্মো এ'রম চাগ্রী ধরবো আর ছাড়বো!
  • Lama | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৯:৩১652219
  • আরে! নিউ মার্কেট এলাকায় এরকম একটা পুরনো বাড়িতে তো আমিও কাজ করতাম। যতদূর মনে পড়ে পাঁচ নম্বর লিন্ডসে স্ট্রিট।

    বাদশা রেস্তোরাঁ অর সুমঙ্গল জামাকাপড়ের দোকানের ওপর আড়াইতলায়। বেল্ট আর রোদচশমার দোকানের পশে ছোট দরজা দিয়ে উঠে যাওয়া অন্ধকার কাঠের সিঁড়ি। ম্যাজেনাইন ফ্লোরে বিদেশী মুদ্র ভাঙ্গানোর দোকান। পোরে জুড়ে দেওয়া একটা বেখাপ্পা ধরণের কাঠের সিঁড়ি, চওড়ায় মূল সিঁড়ির অর্ধেক, খাপছাড়াভাবে অন্য একটা ফ্লোরে উঠে গেছে, একটা কাঁচের দরজা ঠেলে ঢুকলে নিচু সিলিং আর কাঠের মেঝেওয়ালা একটা ঘর। অন্য একটা ঘরে ঘূনধরা আলমারি ভর্তি ধূলোর গন্ধ মাখা বই। সবচেয়ে ওপরের তলায় মালিকের বাড়ি। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও অনেক কাজের লোক। ছাদভর্তি দোকান, বই বাঁধাই, কম্পিউটার সারানো, ট্রাভেল এজেন্ট, আরো কি সব। পাশের গলিতে চা আর রোলের দোকান। দালাল গোছের কিছু লোক ঘুরে বেড়ায়- তারা বাস কন্ডাকটরদের মত চামড়ার ব্যাগে খুচরো পয়সা রাখে। আমার টেবিলের পাশের ছোট জানালা দিয়ে নিউ মার্কেট দেখা যেত।

    বছর বারো পর কৌতূহলবশত সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গিয়েছিলাম। কাউকে দেখতে পাই নি।
  • সে | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ২০:২৩652220
  • আমাদের ছেড়ে এগিয়ে যান দাসবাবু।
    ভিকি একটু দাঁড়ায়, তারপরে কী একটা ভেবে দৌড়ে যায় দাসবাবুর দিকে। আমিও অল্প হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে ভিকির পেছন পেছন। কী হলো?

    ভিকি ধরে ফেলেছে দাসবাবুকে।
    কী আবার?
    আপকা ব্যাগ পড়া হুয়া হ্যায় না অফিস মেঁ।
    ও হ্যাঁ, থলেটা ফেলে এসেছি।

    তারপরে একটু ভেবে দাসবাবু বলেন, ওর মধ্যে মুড়ি এনেছিলাম। ও থাক। পরে তো আসবো তখন নিয়ে যাব। নাহলে তোমরা খেয়ে নিও। আমি পালাই এখন।
    হনহনিয়ে হেঁটে যান দাসবাবু লিন্ডসে স্ট্রীটের ভীড়ের মধ্যে দিয়ে।

    আমিও বিদায় নিই এবার।
    সারাটা দিন অনেক ঘুরে টুরে বিকেল নাগাদ একটা এস্টিডি বুথ থেকে ফোন করি মিসেস শর্মা কে। লাইন এনগেজড। একটু সবুর করে আবার ডায়াল করি। আবারো এনগেজড। তারপরে আরো একবার। ফোন বেজে যায়, কেউ ধরে না।
    দোকানদার বলে, আপনার হয়ে গেছে? লোক দাঁড়িয়ে আছে।

    কী করা যাবে? পরে আবার ট্রাই করব।

    এবার ঘরে ফেরার পালা। এখন অত দূরে থাকিনা। এখন অত হাঁটতে হয় না বাসরাস্তার জন্যে।
    লোহার গেট ঠেলে ঢুকছি তিনটে বিল্ডিং ঘেরা কম্পাউন্ডের ভেতরে। কিচির মিচির শব্দ। পাখি তো পাওয়া যায় না কলকাতায়। শিশুরা খেলছে কম্পাউন্ডের ভেতরে। তিন, চার থেকে শুরু করে সাত আট বছর বয়স। দৌড়চ্ছে। শীতের বিকেলে রঙীন রঙীন সোয়েটারে প্রজাপতির মেলা। সাউথ পয়েন্ট, পাঠভবন, কমলা গার্লস। নার্সারী, কেজি, প্রাইমারী, ছোটো ছোটো শিশুর ঝাঁক।
    এক পাশ দিয়ে হেঁটে চলেছি। পিঠে একটা আঘাত পেলাম। ছোটো ইটের টুকরো। তারপরে আরেকটা হাতে। ঘুরে তাকাতেই, দৌড়ে সব পালালো। সব লুকিয়েছে আনাচে কানাচে সিঁড়ির তলায়, দরজার পেছনে, দেয়ালের আড়ালে। সেখান থেকেই উঁকি দিয়ে দেখে নিচ্ছে। চলতে শুরু করতেই আবার সব ছুটে এসেছে। দারুন মজার খেলা এটা। আবার পেছন ফিরতেই হো ও ও ও শব্দ করে দৌড়ে ছুটতে গিয়ে একটা আবার পড়েও গিয়েছে খোয়ার ওপরে। ব্যাথা পেয়েছে। আমি দাঁড়িয়ে গেছি। নানাবিধ জানলা, বারান্দা থেকে দেখছে মায়েরা। কিছু বলছে না তারা। আমি ঢুকে গেলাম আমার বিল্ডিং এর দরজা দিয়ে। শুনতে পাচ্ছি, রনি আয়, ডোনা আ আ, চলে এসো আর খেলতে হবে না। এক ঝাঁক পাখি খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে ঘরে ফিরে গেল।

    সন্ধে নেমেছে। বিনবিন করে মশা ঢুকছে। জানলা বন্ধ করতে হবে। তবু শোনা যায় হারমোনিয়ামের সঙ্গে গান গাইছে শিশুরা।
    তারসপ্তকে
    তোমার উপমা তুমি ই তো মা তোমার রূপের নাহিতো শেষ
    এতজনে মিলে কোরাস?
    হাতে হাত রেখে মিলি একসাথে আমরা আনিব নতুন ভোর
    এতো খুব চেনা গান
    আঁধার রজনী ভয় কি জননী আমরা বাঁচাব এ মহাদেশ
    জানলা খুলে শুনতে পাই
    রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ বীর সুভাষের মহান দেশ...
    এইবারে বুঝেছি, সামনেই তেইশে, ছাব্বিশে জানুয়ারী, তারই প্রস্তুতি নিচ্ছে ভবিষ্যৎ নাগরিকেরা।

    ভীষণ, ভীষণ ভুল কিছু হয়ে চলেছে।
  • সে | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ২০:২৫652221
  • এখন বিরতি।
    এই গানটা শুনুন।
  • সে | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ২১:২৫652222
  • গ্র্যান্ড হোটেলের চাকরিটা আমার হয় নি।
    কিন্তু অন্য একটা চাকরি হয়ে গেল। একটা অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সীতে। অ্যাড্‌হিয়ার অ্যাড্‌ভার্টাইজিং। ক্ষেত্র দাস লেন। এটা হচ্ছে খাদি গ্রামোদ্যোগ ভবনের উল্টো ফুটে গনেশ চন্দ্র অ্যাভেনিউতে পড়েই ডানহাতি প্রথম গলি। প্রচুর ব্যবসা অফিস দোকান এজেন্সী আছে ঐ গলিতে। এই এরিয়াটা খুব সম্ভবত হেয়ার স্ট্রীট থানার আন্ডারে। মজার কথা হোলো এই এরিয়ায় যারা ব্যবসা করে তারা নিজেরাও এব্যাপারে সেরকম শিওর নয়। জিগ্যেস করুন। বলতে পারবে না।
    তো এই অফিসে যেদিন ইন্টারভিউ হয়, আমি পরিষ্কার করে জিগ্যেস করেছিলাম ড্রেস কোডের ব্যাপারে। তাতে মালিক বললেন, কোনো ড্রেসকোড নেই। আপনি বারমুডা পরে এলেও আমরা কিছু বলব না। আমরা হচ্ছি অ্যাড্‌ এজেন্সী। ব্যবসা আনা দিয়ে কথা। আপনাকে ব্যবসা এনে দিতে হবে। আপনার ডেজিগনেশন হচ্ছে অ্যাকাউন্ট্‌স্‌ এক্জেকিউটিভ। দুহাজার দেবো মাসে। পরে কাজ দেখে ঠিক করব। আপনি আঠাশ তারিখ জয়েন করুন। আপনার এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশান আমাদের কাজে লাগে না। আমিও গ্র্যাজুয়েট, জানেন তো? এখনো গর্মেন্টের চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আছে পকেটে। কিন্তু করব না। জেদ করেছি ব্যবসা করব। খাটতে হচ্ছে। না খেটে কি কিছু হয়?
    মালিকের আসল নামটা কেউ বলে না। ডাকনামেই পরিচিত। নবাব।
    অফিসটা একটা ভজকট সাইজের বাড়ির ভেতরে মেজানাইন ফ্লোরে। বেশি লম্বা লোক হলে ছাদে মাথা ঠেকে যাবে। ইংরিজি এল শেপের একটা ঘর। তাতে কোনো জানলা নেই। একটাই দরজা। ঐ ঘরটায় যাবার জন্যে উঠে গেছে একটা কাঠের সিঁড়ি। সিঁড়ি না বলে মই বলাই বেটার।
  • সে | ২৫ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:০০652223
  • এই অফিসে চাকরি করি আমরা পাঁচজন। যদিও মালিক নবাবদা নিজেকে কাগজে কলমে চাকুরে হিসেবে দেখিয়ে আলাদা করে মাইনে নেন। আছে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-কাম সেক্রেটারী-কাম-টেলিফোন অপারেটর, বাসবী। আমরা দুজন সেলসে অর্থাৎ অ্যাকাউন্টস এক্জিকিউটিভ, আমি ও আমার প্রায় সমবয়সী একটি ছেলে দেবরূপ, আর্টিস্ট তপন, পিওন কাম ঝাড়ুদার নরেশ। আমরা ফুলটাইমার।
    মালিক আসলে দুজন। নবাবদা ছাড়াও আছেন অর্জুনদা। তিনি থাকেন শিলিগুড়িতে। তাঁর অন্যান্য ব্যবসাও আছে। মাঝে মাঝে আসেন, আমি দুবার দেখেছি টোটাল।
  • সে | ২৬ নভেম্বর ২০১৪ ১২:১৮652224
  • ঐ এল আকৃতির ঘরের এক কোণে নবাব্দার ছোট্টো কেবিন। এই ঘরেই ইন্টারভিউ হয়েছিলো।
    চাকরিতে জয়েন করবার প্রথম দিনে ঐ ঘরেই ডাক পড়ল। প্রথমে মূল ঘরটায় দেয়ালে লাগানো বাক্স-কাম-বেঞ্চির ওপরে বসে ছিলাম। এই বেঞ্চিটাই ভিজিটরদের বসবার জায়গা, পায়ের কাছটায় স্লাইডিং ক্যাবিনেট- কাগজপত্র ফাইল ওখানেই থাকে। সেটার ওপরে লোকজন বসে। কেউ ফাইল বের করতে এলে উঠে দাঁড়াতে হয়। স্পেস খুব কম। প্রায় মুখোমুখি বড়োসড়ো টেবিলের ওপরে কম্পিউটার প্রিন্টার টেলিফোন সহ আরো কাগজপত্র। তার ওপারে বসে আছেন বাসবী। কম্পিউটারে কাজ করছেন, আড়চোখে আমায় দেখছেন।
    এমন সময় টিং টিং করে একটা ঘন্টা বাজল। বাসবী আমাকে বললেন, আপনি ভেতরে যান।
    নবাব্দার কেবিনে ঢুকে দেখি তিনি হাতে বাজানো একটা ঘন্টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দম দিচ্ছেন। দম দেওয়া হয়ে গেলে সেটা তেবিলের ওপরে রেখে আমায় বললেন, বসুন। আপনার কাজটা আপনাকে বুঝিয়ে দিই।
    নবাব্দার সামনে গোটা কয়েক খবরের কাগজ যেগুলোয় এই এজেন্সীর মাধ্যমে পাঠানো কিছু বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে।
    নবাব্দা হাতে তুলে নিলেন বড়ো সড়ো একটা কাঠের স্কেল।
    মন দিয়ে শুনুন যেটা বলছি। আমি বারবার বোঝাবো না।
    টেবিলের অন্যপ্রান্তে আমি নিরাপদ দূরত্বে ওঁর স্কেলসহ্হাতের গতিবিধি লক্ষ্য করছি। একটু ভয় ও করছে। মারবে না তো? স্কেলটা নামিয়ে রেখেও তো কথা বলা যায়। মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায় এভাবে।
    আমরা সব রকমের অ্যাডই নিয়ে থাকি। যতরকমের সম্ভব আরকি। প্ল্যাকার্ড, কিওস্ক, রেডিও, টিভি, যদিও রেডিও-টিভির কোটেশান হাতের কাছে নেই, কিন্তু কাস্টমারকে সবরকম অপশানই দেবেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যেটা করি সেটা হচ্ছে নিউজপেপার অ্যাড।
    এই অবধি বলে তিনি একটা বাংলা খবরের কাগজ টেবিলের ওপর পেতে ফেললেন।
    উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
    এইবার তিনি বোঝাতে লাগলেন বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন, ইয়ার প্যানেল, সোলাস, থেকে আরম্ভ করে ক্ল্যাসিফায়েড অবধি।
    এতক্ষনে বোঝা গেল স্কেলের উপকারিতা। খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনের দরকারি ইউনিট, কলাম-সেন্টিমিটার। সেই কলামের প্রস্থ আবার পত্রিকা বিশেষে পাল্টাচ্ছে। এই ইউনিটেই অ্যাডের দাম ঠিক হয়,তাছাড়া কোন কোন খবরের কাগজদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া খাতির রয়েছে সেসবও। যেমন আনন্দবাজার ও টেলিগ্রাফে একসঙ্গে বিজ্ঞাপন দিলে কনসেশন পাওয়া যায়। সেটা প্রথমেই কাস্টমারকে বলবার দরকার নেই অবশ্য। তেমনি স্টেট্স্‌ম্যানের সঙ্গে বর্তমানেরও স্পেশাল ডীল আছে। আর আছে এশিয়ান এজ।
    আধঘন্টার এই সেসশ্ন শেষ হতে না হতেই নবাব্দা উঠে পড়লেন।
    চলুন আমার সঙ্গে, ঘুরে আসি।
  • de | ২৬ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:৪৫652225
  • তারপর?
  • সে | ২৬ নভেম্বর ২০১৪ ১৭:৪৫652226
  • রায়দা, আপনি কিন্তু দেখতে পাচ্ছেন না আমাকে।
    একথা নবাব্দা বললেন প্রকাণ্ড টেবিলের ওপাশে বসা চশমাচোখে আধবুড়ো ভদ্রলোককে।
    দেখতে পাচ্ছি তো।
    রায়দা আড়চোখে আমায় দেখে নিলেন আপাদমস্তক।
    কোথায় দেখছেন?
    আরে বাবা দেখছি। দেখছি না? সবসময়ই তো দেখছি।
    কোথায় আর দেখছেন? একটু ভালো করে তাকান আমার দিকে।
    তুমিও তো আমাকে দেখবে, নাকি?
    সেতো সবসময় দেখবো। কোনো অভিযোগ থাকলে বলুন, এইখানে আপনার সামনে নাক্খৎ দেবো। দেখবেন?
    এই নাও। আপাতত দুটো আছে ক্লাসিফায়েড।
    রায়দা খাতা খুলে নবাব্দাকে কীসব দেখালেন, নবাব্দা নোট করছেন।
    চা খাবে তো?
    এটা একটা প্রশ্ন হোলো?
    আপনিও খাবেন তো? এই! দুটো চা এদিকে দিয়ে যাও বাবা।
    না, না, আমি চা খাই না।
    সেকি!
    মানে দুধ দেয়া চা খাই না।
    লাল চা?
    না, আমি চা খাবো না।
    খেয়ে নিন, খেয়ে নিন। (নবাব্দা আমায় ইনসিস্ট করেন)।
    তো রায়দা, মাত্র দুটো? তাও ক্লাসিফায়েড।
    কেন? দুটো কম নাকি!
    কমই তো। বড়ো কিছু নেই? (নবাব্দা কান এঁটো করে হাসে)
    ওঃ! এই নাও। (এদিক ওদিক তাকিয়ে) কাউকে বলতে যেও না।
    না না!
    এটা দ্যাখো।
    কির্লোসকার?
    হুঁ।
    থ্যাঙ্ক্‌স্‌ রায়দা।
    আমার একটা কাজ আছে। চা খেয়ে যেও।
    রায়দা ধীর পদক্ষেপে চলে যান তাঁর টেবিল ছেড়ে।
    নবাব্দা ও আমি চায়ের অপেক্ষায় বসে থাকি।

    নবাব্দা বলেন, এসব আপনাকে শিখে নিতে হবে। অবশ্য এখানে আমি নিজেই আসবো, আপনাকে আসতে হবে না।

    আমরা স্টেট্স্‌ম্যান অফিসের ওপরে তলায় অ্যাডভার্টাইজিং ডিপার্টমেন্টের একটা ঘরে। এই ঘরে অনেকে বসেন। সকলে অবশ্য নিজের নিজের সীটে নেই। যেমন রায়দা। কোথায় যেন চলে গেলেন উঠে।

    অ্যাতোক্ষন বুঝছিলাম যে বিজ্ঞাপন আসে অ্যাড এজেন্সীর মাধ্যমে খবরের কাগজের অফিসে। এখন দেখলাম, কাগজের অফিস থেকে ঘুরে অ্যাড এজেন্সীতে যায় বিজ্ঞাপন।
    খুব শক্ত লাইন মনে হচ্ছে।
  • সে | ২৬ নভেম্বর ২০১৪ ১৮:৩৩652227
  • ওখান থেকে বেরিয়ে আমরা যাই এশিয়ান এজ এর অফিসে।

    অফিসটা এমন জায়গায় নিয়েছি যেখান থেকে সবকটা কাগজের অফিসই হাঁটা পথ, বুঝলেন তো? হাঁটাহাঁটি আছে। আনন্দবাজার, স্টেট্স্‌ম্যান, এশিয়ান এজ। অবশ্য আপনাকে ঘোরাঘুরি একটু বেশি করতে হবে, ক্লায়েন্টরা তো সব এপাড়ায় নয়। সেরকম দরকার হলে কোলকাতার বাইরেও ট্র্যাভেল করতে হয়, অসুবিধে নেই তো?
    না না।
    অবশ্য এখনি বাইরে যাবার দরকার নেই।

    এশিয়ান এজের অফিসে দেখা করি আমরা অর্ধেন্দুবাবুর সঙ্গে। ইনি অবশ্য কোনো বিজ্ঞাপন হাতে ধরিয়ে দেন না। কার্ড বিনিময় হয়। নবাব্দার পছন্দ (অর্থাৎ আমি) কে খুব তারিফ করেন অর্ধেন্দুবাবু। মেয়েদের দিয়ে কাজ নিয়ে আসা অনেক ভালো অ্যাপ্রোচ। আমাদের কফি খাওয়ান।

    সেখান থেকে বেরোনোর পরে নবাব্দা কয়েকটা ইন্‌ফর্মেশান দিয়ে দেন।

    অর্ধেন্দু খুব স্মার্ট লোক। আজ কিছু দিলো না, কিন্তু দেবে। খোঁজখবর থাকলেও দেবে। আপনি এবার থেকে একা নিজেই নিজেই চলে আসবেন এখানে। চিনে নিলেন তো। ওর এখন ডিভোর্স চলছে, ওকে হাতে রাখলে কাজ পাওয়া যাবে।

    অফিসে ফিরে এসে দেখ্লাম একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা খুব চেনা চেনা। পরে বুঝেছিলাম ভারতীয় ক্রিকেট টিমের ওয়ার্ল্ড কাপ বিজয়ী ক্যাপ্টেনের মুখের সঙ্গে ওর মুখের প্রচণ্ড মিল। ও ই হচ্ছে দেবরূপ। আমার আর ওর কাজ একই। বিজ্ঞাপন জোগাড় করে আনা।

    একি! তুমি এখনো বেরোও নি?
    বেরিয়েই তো ছিলাম, এখন ফিরছি।
    আবার বেরোবে তো?
    হ্যাঁ, লাঞ্চের পরে বেরোবো। নবাব্দা, আপনি কিন্তু ঐটা আমায় দিলেন না।
    কোনটা বলো তো?

    দেবরূপ শূন্যে দুই হাতের তর্জনী দিয়ে একটা অদৃশ্য আয়তক্ষেত্র আঁকে।

    নবাব্দা তাও আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসু চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।
    কোনটা?
    ভিডিওকন, ওরা লঞ্চ করছে না?
    ওহ্যাঁ, রোব্বার। আমার কাছে কার্ড আছে। একজনের এন্ট্রি, তাজে। তোমায় দিয়ে দেবো বিকেলে।

    বাসবী এবার নবাব্দাকে জানাতে থাকে কে কে ফোন করেছিলো।

    দেবরূপ আমায় বলে, নতুন?
    হ্যাঁ, আজ জয়েন করেছি।
    বাইরে চলো।
    এসি ঘরের বাইরে এসে দেবরূপ সিগারেট ধরায়।
    তুই করে বলি?
    ঠিক আছে।
    আগে কোথাও কাজ করেছিস?
    করেছি কিন্তু অ্যাড্‌ভার্টাইজিং এ নয়।
    এ লাইনে নতুন তাহলে। খুব ছোটোলোকের লাইন। লাঞ্চ হয়ে গেছে?
    না আমি, বাড়ী ফিরে খাবো।
    তাতে কি? আমি তো বাড়ী থেকেই টিফিন আনি। আয় বাইরে একটু ঘুরে আসি।

    নীচে নেমে রাস্তায় বেরোনোর পরে দেবরূপ বলে, এটা শুনেছিস?
    কোনটা?
    নবাব কিনলে আরাম ফ্রি!

    আমরা দুজনেই সশব্দে হেসে উঠি ক্ষেত্রদাস লেনের গলিতে।
  • সে | ২৭ নভেম্বর ২০১৪ ০২:১০652229
  • তুই এর আগে কোথায় চাকরি করতিস রে?
    আমার মাথার ভেতরটা কেমন যেন দপদপ করে, সবকিছু মনে করতে পারি না, অনেক কিছু যেন উড়ে গিয়েছে মেমারি থেকে। তবু খুব চেষ্টা করে ভেবে ভেবে বলি, কয়েকটা জায়গায় কাজ করেছি, খুচরো কাজ। আর তুই কোথায় কাজ করতিস এর আগে? নাকি এটাই প্রথম?
    আমিতো আগে যুগান্তরে ছিলাম। যুগান্তর বন্ধ হয়ে গেল।
    যুগান্তর তো বহুকাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে না? তুই তখন কতো বড়ো ছিলি যে চাকরি করবি?
    পুরো বন্ধ হয় নি, অনেকদিন ধরেই ঝামেলা চলছিলো। আমি জয়েন করলাম, বুঝলি তো। তার পরে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল।
    কী করতিস ওখানে?
    অ্যাডভার্টাইজিং-এ ছিলাম।

    এই একটা সমস্যা আমার রয়েছে। অনেক কিছু জিনিস মনে পড়ছে না। জিগ্‌ জ পাজলের কয়েকটা টুকরো উধাও। খুঁজে পাচ্ছি না। এ যে কি তীব্র অস্বস্তি, কি ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা তা যার হয় নি সে বুঝতে পারবে না।

    দেবরূপ নিজের কথা বলে চলে।
    সাউথ পয়েন্টে পড়েছি। অর্ডিনারি স্টুডেন্ট ছিলাম। বাবা খুব স্ট্রীক্ট। বাবার সঙ্গে আমার কোনোদিনো বনেনি, বনবেও না। কমার্স নিলাম। বিকমে ফেল করলাম, বাড়ী থেকে বিয়ে ঠিক করে বিয়ে দিল। আমার বৌয়ের সঙ্গে আমার কিরকম মিল জানিস? আমি বাবামার একছেলে, ও ও একমাত্র মেয়ে। আমি বিকম ফেল ও বিয়ে ফেল।
    সরস্বতী পুজো হবে অফিসে। আসবি। আমার বৌকে নিয়ে আসব সেদিন। আর শোন, এই শুক্রবার বাসবীর ছোটো বোনের বিয়ে। আমাদের নেমন্তন্ন করেছে। তোকে বলেছে?
    বাসবী মানে ঐ মেয়েটাতো?
    হ্যাঁ, আর কতগুলো মেয়ে আছে এখানে? তুই আর বাসবী।
    আমাকে বলেনি।
    বলবে।
    বললে যাব।
    হ্যাঁ, অফিসের পরে যাব আমরা সবাই। কী প্রেজেন্ট করা যায় বলতো? তোরা মেয়েরাই তো ভালো বলতে পারবি।
    আমি চিন্তা করতে থাকি। খুব স্পীডে খুব একটা ভাবতে পারিনা আজকাল। একটু সময় লাগে। হয়ত আস্তে আস্তে এটা ঠিক হয়ে যাবে। তার ওপরে জিগ জ পাজলগুলো হারিয়ে যায়। তখন কান্না পায়।
    আচ্ছা শোন, আমি ভাবছিলাম কি, ভিমল-এর একটা ভালো শাড়ী যদি কিনে দেওয়া যায়। এই ধর দুশো আড়াইশোর মধ্যে?
    ভিমল?
    হ্যাঁ। ওন্‌লি ভিমল, ওন্‌লি ভিমল্‌, ওন্‌লি ভিমল্‌, ভিমল্‌। শুনিসনি?
    শুনেছি। কিন্তু...
    দ্যাখ খুব বেশি দামি জিনিস আমরা দিতে পারবে না। নবাব্দার থেকে একশো নেবো, বাকিটা নিজেরা ভাগাভাগি করে দেবো।
    আমার খালি মনে হয়,আরেকটা কোম্পানীর শাড়িও হয়, ভালো শাড়ি। কিন্তু নাম মনে পড়ে না। আমি জিগ্‌ জ পাজল হাতড়াতে থাকি।
    চল্‌। অফিসে চল। এসব আবার বাসবীর সামনে আলোচনা করিস না।
    না না।

    সেদিন বিকেলে নবাব্দা আরো কিছু কাজের জিনিস জানান, শেখান। বলেন - কালকে আপনি দেবরূপের সঙ্গে বেরিয়ে যান সকালে। দেখে নিন কীভাবে কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলতে হয়।

    দেবরূপ বলে, আমি সকাল নটা সাড়ে নটার মধ্যে চলে আসব।
    আমিও তাড়াতাড়ি আসব।
    তুই কি মেট্রোয় আসিস?
    না। ট্রামে বাসে। আমাদের ওদিকে মেট্রো নেই। তুই কোত্থেকে আসিস?
    লেক গার্ডেন্স্‌।

    গার্ডেন!
    আমি নিজের মনেই প্রায় চেঁচিয়ে উঠি।
    গার্ডেনের শোরুম থেকে শাড়ি কেন্‌ না বিয়ের প্রেজেন্টের জন্যে।
    ভিমল না গার্ডেন কে বেশি ভালো, এই নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়।
  • spa | ২৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:২৩652230
  • লেখা কোথায়?
  • de | ২৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:২৮652231
  • কি যেন বুঝতে পারি - আবার পারিও না - ঠিক বুঝতে চাইও না অবিশ্যি -

    লিখুন -
  • সে | ২৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৫:০২652232
  • (লেখা থামিয়ে রেখেছিলাম, কারন একটা ভুল নাম দিয়েছিলাম - কিছুতেই ঠিক নামটা মনে পড়ছিলো না। এতক্ষনে মনে পড়েছে। ভিডিওকন নয়, ওটা হবে থমসন। থমসন টিভি।)
  • cm | ২৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:৫৫652234
  • নবাব্দা গোব্দা পাব্দা আর জাব্দা দিয়ে একটি বাক্য লেখার জন্য হাত নিশ্সপিশ করছে।
  • cm | ২৮ নভেম্বর ২০১৪ ১৬:৫৫652233
  • নবাব্দা গোব্দা পাব্দা আর জাব্দা দিয়ে একটি বাক্য লেখার জন্য হাত নিশ্সপিশ করছে।
  • সে | ৩০ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৪৭652235
  • গনেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ ধরে এক ধারসে রয়েছে ইলেট্রিক্যাল যন্ত্রপাতির দোকান। অধিকাংশই পাম্পের। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডীলার কির্লোস্কারের। চাষবাসের ক্ষেত্রে কির্লোস্কারের শক্তিকে অস্বীকার করবার উপায় নেই। যে বিজ্ঞাপনগুলো আমরা পাই, সেগুলো অবশ্য সরাসরি কির্লোস্কারের থেকে আসেনা, এগুলো ডীলারদের দেওয়া বিজ্ঞাপন। ছবি থাকে এবং লোগো। ব্যাক অ্যান্ড হোয়াইট। আমাদের আর্টিস্ট তপন অফিসঘরের শেষপ্রান্তে সরু সেই একফালি জায়গাটায় টেবিলল্যাম্পের আলোয় বিজ্ঞাপনের ছবিগুলোয় তুলির টাচ্‌ দেয়।সেটাই ফাইনাল হয়ে পরে কাগজে ছেপে বেরোয়।
    তপনের তবু বসবার একটা জায়গা আছে। দেবরূপ ও আমার তা ও নেই।
    আমরা হচ্ছি সেলসের লোক, সকাল সাড়ে নটার পরে আমাদের অফিসে থাকার অধিকার নেই, তা সে রোদ বৃষ্টি জল ঝড় যা ই হোক না কেন। আবার বিকেলেও যত বেশি সন্ধে পার করে ফিরব, ততই ভালো।
    আমার শুধু চিন্তা হয় যে, এখন নয় শীতকাল সবচেয়ে মনোরম আবহাওয়া, সামনে আসবে গরমকাল, বর্ষা, তখন সারাটাদিন রাস্তায় রাস্তায় কাটাবো কাঁহাতক? দেবরূপকে জিগ্যেস করলে ও হাসে। বলে - ওসব ওব্যেস হয়ে যাবে, দেখবি।
    অবশ্য আমার কোনো ব্যাপারেই এখন খুব গভীর কোনো দুশ্চিন্তা হয় না। সব কিছুই লাইটলি নিচ্ছি।
    বাসবীর বোনের বিয়েতে যাবার আগে দেবরূপ বের করল ফেস ওয়াশ। সিঁড়ির নীচে কলতলায় ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলো। দেখে আবরা সব হাসাহাসি করছি, তা শুনে ও বলছে, আরে কত সুন্দর সুন্দর মেয়ে আসবে বিয়েতে, ঝাড়ি মারতে হবে না? সাধে বৌয়ের ফেসওয়াশ লুকিয়ে নিয়ে এসেছি?
    সবাই মিলে ট্যাক্সি করে বাসবীর বোনের বিয়েতে যাই, চেতলায়। নরেশ দেবরূপ তপন আমি চারজনে পাশাপাশি খেতে বসি। বাসবী খুব খুশি হয়ে আমাদের সঙ্গে অনেকের আলাপ করিয়ে দেয়, দেবরূপ যথারীতি ঝাড়ি মারে দু একটা মেয়েকে। বাসবী দেবরূপের কাছে এসে বলে, কোনো লাভ নেই - এদের সবার বয়ফ্রেন্ড আছে।
    নরেশের অবশ্য একাগ্রতা নিয়ে একের পর এক বাটার ফিশ্‌ খেয়ে যায়।
    কেমন বদলে গিয়েছে সব কিছু। বিয়ের খাবারের মেন্যুসহ একটা কাগজ প্রথমেই পেয়ে গেলাম হাতে। কলাপাতা উঠে গিয়েছে। আরো অনেক কিছু বদলেছে নিশ্চয়, সেসব অবশ্য আমি আর এখন মেলাতে যাচ্ছি না।
  • সে | ৩০ নভেম্বর ২০১৪ ০৫:২৫652236
  • খুবই অদ্ভুতভাবে একটা জিনিস আমার কিছুতেই মনে পড়ছে না, নবাব্দা বিয়েবাড়ীতে গেছলেন, না যান নি। নাঃ, মনে নেই।

    ফেব্রুয়ারীর গোড়ায় জয়েন করেছিলো একটি মেয়ে, সেলসেই। সে চার পাঁচদিন কাজ করেছিলো। তার নাম বাসবদত্তা। এতটুকু একটা অফিসে এত নামের মিল ভাবা যায় না। বাসবদত্তা যদিও সেলসের, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে মিশতে চায় নি। সল্টলেক থেকে আসত। নবাব্দার সঙ্গেই কথাবার্তা যা বলার বলত। ওর কীসব চেনা জানা ছিলো কোল ইন্ডিয়ার কোন বড়োসাহেবের সঙ্গে। ওর নিজের চেনা নয় যদিও, বাবার চেনা।
    বাসবীর মুখে পরে শুনতাম, নরেশকে দিয়ে চাইনীজ আনিয়েছিলো টিফিনে বাসবদত্তা।
    তারপর?
    তারপর আবার কী? নবাব্দার ঘরে বসে দুজনে কচর মচর করে খেলো।

    আমরা যেচে আলাপ করতে গিয়েছি মেয়েটার সঙ্গে কিন্তু আলাপ ঠিক জমত না।
    তারপরে অবশ্য সে আর আসেনি। প্রথমে জানালো ফোন করে - অসুখ, জ্বর। তারপরে আর ফোনও করেনি। নবাব্দা কেমন মুষড়ে গেছল কদিন। তাই দেখে তপন মুচকি হেসে বলেছিলো, অ্যাতো অ্যাড যায় আমাদের অফিস থেকে, এবার নবাব্দার জন্যে একটা ক্লাসিফায়েড অ্যাড ছাপাতেই হচ্ছে।

    কিন্তু এসবের আগেই একদিন দুপুরে একটা কান্ড ঘটে গেল। তখনো বাসবদত্তা আছে। সে সকালে এসেই যথারীতি কোল ইন্ডিয়ায় বিজ্ঞাপনের তদ্বির করতে চলে গেছে। দেবরূপেরও কোথায় কোথায় যেন সব যাবার আছে। সেই সমস্ত যাবার জায়গাগুলোর নাম সে গড়গড় করে মুখস্থ বলে গেল নবাব্দাকে। এবার আমার পালা। আমার সত্যিই জানা নেই কোথায় যাবো।
    আমি হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছি দেখে দেবরূপ বলল, তুই আমার সঙ্গে সিএম্‌সি চল। দুজনে গেলে ভালো হবে।
    নবাব্দাও থতমত খেয়ে রাজি হয়ে গেলেন।
    সেদিন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে সিএম্‌সির একটা বড়ো অ্যাড তুলে আনি। আমার প্রথম সাফল্য এই কোম্পানীতে। ওদের ক্যামাকস্ট্রীটের অফিস থেকে বেরিয়ে, দেবরূপকে বললাম, এবার তুই কোথায় যাবি চলে যা, আমি অফিসে যাই।
    আরে ধুর্‌! আমার আর কোনো কাজ নেই আজ, ঐ লিস্টটা ঢপ ছিলো।
    তাহলে?
    বইমেলায় যাবি?
    এদিক সেদিক ঘুরে হেঁটে হেঁটে পার্কস্ট্রীটের মোড়টুকু পেরিয়ে রাস্তা ক্রস করতেই দেখি কয়েকজন দৌড়ে আসছে ওদিক থেকে। আমরা তাও এগিয়ে চলেছি গেটের দিকে। গেটে লোক নেই টিকিট চেক করবার। সব কেমন হাট করে খোলা। হঠাৎ সামনে নজর যায়, ধোঁয়া আগুন। আরো বেশি দৌড়য় লোকজন। কিছু লোক খুব হাঁউমাউ করে। অফিস আওয়ার, তাই ভীড় কম। একটা সাইডে দাঁড়িয়ে থাকি আমরা কিছুক্ষণ। তারপরে ধীরগতিতে অফিসে ফিরে আসি।
  • সে | ৩০ নভেম্বর ২০১৪ ০৫:৩৮652237
  • আজ সাউথের দিকে যাওয়া গেল না নবাব্দা।
    কেন? কী হয়েছে?
    আপনি এখনো জানেন না? বুকফেয়ারে আগুন লেগেছে তো!
    তাই নাকি?
    আপনি শোনেননি এখনো? দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর বই তো। কাগজ। হুহু করে জ্বলছে। বাসফাস সব বন্ধ এখন।
    কেন? বাস বন্ধ কেন?
    আরে বাবা, ফায়ার ব্রিগেড আসছে না?
    তা তোমরা ফিরে এলে?
    কীকরে যাব? ওকে জিগ্যেস করুন। (দেবরূপ এখন বলটা আমার কোর্টে ঠেলে দেয়)।
    আর সিএম্‌সি র কী হোলো?
    আরে! আপনাকে তো বলাই হয় নি, সিএম্‌সি তুলে এনেছি।
    যাঃ!
    সত্যি নবাব্দা। এই দেখুন। (দেবরূপ প্রমাণ দেখায়)
    যাক, তাহলে এটাতো ভালো খবর।
    হ্যাঁ, খাওয়াতে হবে কিন্তু।
    সে হবে। সন্ধেবেলা ধর্মতলার দিকে কোথাও একটা গিয়ে বসা যাবে আজ। আপনি ড্রিঙ্ক করেন তো?
    আমি কেন?
    বাঃ তুই তো তুললি অ্যাডটা (দেবরূপ খাওয়াটা মিস্‌ করতে চায় না)
    আপনাকে বাদ দিলে কীকরে হবে?

    আমার মাথার মধ্যে আবার ঝিম্‌ঝিম্‌ করে ওঠে।
  • সে | ০১ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৫:০৬652238
  • সবসময় দেখি খালি খাওয়া আর খাওয়া। চাকরি পেলে - খাওয়া, পাশ করলে খাওয়া, ভ্যানিটি ব্যাগ কিনেছিস - খাওয়া, সমস্ত কিছুতেই কেবাল খাওয়া। অন্যদিকে এরা কেমন যেন ধরেই রেখেছে ফ্রীতে মদ পেলেই সব ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যারা খাওয়ায় তারাও জানে, যারা খায় তারাও লোভীর মতো করতে থাকে।
    যাইহোক, এই ট্রিটটা মনে হয় সন্ধের দিকেই হবে অফিস ছুটির পরে। আমি খুঁজতে বেরোই বিজ্ঞাপন। চেনা জানা যদি কেউ থাকে পূর্বজন্মের।
    বিকেলের ধর্মতলায় ভীড় তো থাকবেই। তখনো বিক্রি হয়ে চলেছে ক্যালেন্ডার আর ডায়েরি। লাল খয়েরি কাপড়ের বাঁধাইয়ে সূরের ডায়েরির চেহারা বদলায় নি। ধর্মতলা স্ট্রীটে আমার চেনা রঙের দোকান দুটো। অবিনাশ চন্দ্র পেরিয়ে জিসি লাহার সামনেটায় দাঁড়াতেই হুড়হুড়িয়ে রং তার্পিনতেল ভার্নিশ রজন কাগজ সবকিছুর গন্ধ যেন আমার অস্থিমজ্জার মধ্যে ঢুকে যেতে থাকে। গন্ধের নেশায় দোকানের মধ্যে ঢুকে অভ্যেসমতো ডানদিকে ঘুরে যাই। কাউন্টার। আগে খুব ভীড় থাকত, এখন নেই।
    হ্যাঁ বলুন।
    ঠিক কেন ঢুকেছিলাম দোকানটায় মনে পড়ছে না। একটু আচ্ছন্ন মতো আছি। তাই ভেবে নিই কী কী বলব। রং লাগবে। কাগজ লাগবে। আরো কিছু লাগলেও লাগতে পারে।
    কী দেব বলুন?
    রং, মানে অয়েল প্যাস্টেল আছে? সফ্‌ট?
    আছে। বাচ্চদের আঁকার জন্যে তো? কীরকম বাক্স নেবেন? বারো, চব্বিশ, আটচল্লিশ..
    বারোটা। গীটারের।
    গীটার! ও বাবা। ও এখন আর পাওয়া যায় না।
    একদম নেই?
    না। বহুদিন সাপ্লাই নেই। ও অনেক বছর হোলো বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য কিছু দেব? ওজিনিস আপনি এখন কোথাও পাবেন না। উঠে গেছে মনে হয়। ভালো ভালো রং আছেতো। দেখাবো?

    দোকান থেকে বেরিয়ে গিয়ে খেয়াল হোলো আমার তো বিজ্ঞাপন চাইবার কথা ছিলো। কী করতে এসে কী করে ফেললাম। এখন আর ফিরে গিয়ে বিজ্ঞাপনের কথা বলা যায় না।
  • সে | ০১ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৫:৪৪652240
  • সন্ধে সাতটা সাড়ে সাতটা নাগাদ আমরা তিনজনে (নবাব্দা, দেবরূপ ও আমি) মিলে প্রথম যে বারটায় ঢুকতে গেলাম সেটায় দরজাতেই আটকে দিলো। নো এন্ট্রি ফর লেডিস। নবাব্দা নাকি বহুবার এখানে এসেছেন আগে কিন্তু এই নো এন্ট্রি ফর লেডিসটা কখনো লক্ষ্য করেননি আগে। এখানে হলে মদের দাম টা সস্তা হোতো। কিন্তু আমি সঙ্গে থাকায় এখানে ঢোকা যাচ্ছে না। এমনকি রায়দাকে নিয়েও নাকি এখানে আগে ঘুরে গেছেন নবাব্দা। সেসবের অনেক মজার মজার স্মৃতি আছে।
    আমরা আরেকটু এগিয়ে যেটায় ঢুকলাম সেখানে নো এন্ট্রি ফর লেডিস লেখা নেই, কিন্তু আমি ছাড়া আর কোনো লেডিস নেই। সবাই বিভিন্ন টেবিলে মনযোগ দিয়ে মদ খাচ্ছে। ফেব্রুয়ারী মাস হলেও ভেতরটা কেমন যেন বদ্ধ মতন। বিভিন্ন রকমের মদের গন্ধ মিক্স হচ্ছে বাতাসে। সেগুলোর সঙ্গে ফিশ্‌ ফ্রাই, চিকেন ব্রেস্ট কাটলেট, চিংড়ির কাটলেটের গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধ, ঘামের গন্ধ, পারফিউম, পানপরাগ, আরো অনেক কিছুর গন্ধ মিক্স করছে ঘটাং ঘটাং সিলিং ফ্যান। সবগুলো ঘুরছে না। দুটো ঘুরছে। একধারসে রয়েছে ছোটো ছোটো কেবিন। পর্দা ফেলা। তারই একটাতে গিয়ে ঢুকলাম তিনজনে।
    নবাব্দা ভীষণ খিদে পেয়েছে, আগে খাবারটা অর্ডার করুন।
    খাবার, ড্রিঙ্ক্স দুটোই বলছি।
    পর্দা সরিয়ে ওয়েটার ঢুকল। সঙ্গে মেনুকার্ড। একটা খাবারের। একটা মদের।
    একটা অদ্ভুত অনুভূতি আমার হয়ে চলেছে। এর আগেও হয়েছে। এরা নিজেরাই আগে আগে সব ঠিক করে নেয়। আমি কেবল লেজুড়মাত্র। আবার আমাকে সঙ্গেও নেবে। অথচ আমার কোনো বক্তব্য থাকতে নেই।
    নিজেরাই ওরা ঠিক করল কী খাবে। তিন প্লেট ফিশ ফ্রাই। এক একটা প্লেটে দুটো করে ফ্রাই থাকে। প্রথমে দু প্লেট দিয়ে যাক, তার পরে তিন নম্বরটা বলা হবে। তাছাড়া ওরা খাবে মদ। দু গ্লাস রাম এলো।
    নবাব্দা খুব করুন মুখ করে খাওয়াচ্ছে। দেবরূপ রামের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে, ঘন ঘন ঝাল ফিশ ফ্রাইয়ে কামড় দিচ্ছে। ওদের দুজনের মধ্যে খুব জমে উঠেছে আলোচনা। ক্লায়েন্ট, রায়দা, আরো ক্লায়েন্ট, পেমেন্ট, এ কী বলল, ও কী বলেছিলো, অনেক কথা। গ্লাস ফুরোলো, আরো গ্লাস এলো। তারপরে দেবরূপ বলল, আমরা তিনপ্লেট অর্ডার করেছিলাম না?
    নবাব্দা চুপ।
    দেখুন দুপ্লেট দিয়েছে, তিননম্বর প্লেট দেয় নি কিন্তু এখনো।
    তুমি আরো খাবে?
    তিননম্বর প্লেটটা দেয় নি তো।
    তুমি যদি খাও তবে বলে দিচ্ছি। আমার কিন্তু পেট ভরে গেছে।
    হ্যাঁ, খাবো তো।
    খুব বিমর্ষ মুখে নবাব্দা থার্ড প্লেটটা অর্ডার করে। করেই বলে, বিলটা পাঠিয়ে দিতে।
    দেবরূপ ওসব দিকে দেখে না। ও ছোটো ছোটো চুমুক দিয়ে রাম খায়, আর ফিশ ফ্রাইয়ের প্লেটে টম্যাটো সস ঢালে।
    আমি চিন্তা করি আজ আমার দেরি হলেও চিন্তা নেই। এক ড্রপও অ্যালকোহল খাই নি। এই জঘন্য দুনিয়াটা থেকে কখন আমার মুক্তি মিলবে? এখন যেহেতু আমায় আর সেই দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয় না, একদিক দিয়ে ভালো। রাত হলে আরো একটা সুবিধে আছে। ঐ শিশুর দলকে আর দেখতে হয় না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন