এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • শিশু টক (২)

    Samik
    অন্যান্য | ০১ ডিসেম্বর ২০০৬ | ৫২৩৫৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • r | ২৮ মে ২০০৮ ২০:২৯693169
  • এম্ব্যারাসিং প্রশ্নের কোনো সীমা নেই। আমার মেয়ে গোগ্রাসে মহাভারত পড়ছে আর আমরা ক্রমাগত সেই সব ভয়ঙ্কর প্রশ্ন কি করে অ্যাভয়েড করতে হয় তাই শিখছি।
  • Blank | ২৮ মে ২০০৮ ২১:২৬693170
  • :-D
  • Paramita | ৩০ মে ২০০৮ ২৩:৪৩693171
  • আজ সকালে দুদিকে দুটো ঝুঁটি বেঁধে দিয়েছি মেঘকে। আয়নায় নিজের হেয়ার-ডু দেখে সে জানায়, "In English, this is called ponytail আর বাংলায় কলে (call-এ) ঝুঁটি"। কিছু বলার নেই, বাংলা ও ইংরেজী না মেশানোর অমোঘ নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার প্রয়াস।

    (এবং সেটা শুনে আমি "কলে?" বলে হেসে ফেলাতে আরো একটু রসিকতা দেওয়ার চেষ্টায় বলে ওঠে, "কলে না, কলে না, কলেজ"।)
  • rimi | ০১ জুন ২০০৮ ০০:৩৩693172
  • পোস্ট অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সাম্পান দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ওর হাতটা ধরতে না পেরে ধরেছি কানটা। টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করাতে সাম্পান বলল "কান টানিস না। কানটা ভেঙে যাবে।"
  • h | ০১ জুন ২০০৮ ১২:১৩693173
  • সিভকা বুরকা র গল্পে নায়ক ছিলো ছোটো খোকা ইভান। কিন্তু পুঁটির পাঠে আসল হিরো হল মেজখোকা বা মেশোখোকা। মেশোখোকা এখন অবশ্য রুশ গল্পটা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন গল্পে বা বলা ভাল জিনিস পত্রের দৈনন্দিনে ঢুকে পড়েছেন। যেমন এই মুহুর্তে কোন বিগুনী অঙের পোশাপতি আর মেশোখোকা উয়ে উয়ে পলিয়ে যাচ্ছেন আর নিজেই গল্পটা বলতে বলতে পুঁটিরানী হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্চেন। পুরোটাই দরজার বাইরের করিডোরের ধুলোয়। ধুলোতেও খুব স্বাভাবিক ভাবেই ওড়াটা তেমন সমস্যা কিসু না।
  • aja | ০২ জুন ২০০৮ ০৯:১৬693174
  • আমার বড় মেয়ে তখন ফোর্থ গ্রেডে পড়ে। খেলতে গিয়ে হাতের হাড়ে চিড় ধরিয়েছে। ডাক্তার হাতে প্লাস্টার করে দিয়ে ইস্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। ইস্কুল থেকে মেয়ে যখন ফিরল তখন কাস্ট ভর্তি করে অনেক সই আর গেট ওয়েল শুভেচ্ছা। জিজ্ঞেস করলুম ক্লাসে কি এত্ত ছাত্র! মেয়ে উত্তর দিল - ক্লাসে ছাত্র আরো অনেক বেশী। কিন্তু যারা বন্ধু, তাদেরই শুধু সই করতে দেওয়া হয়েছে। এরকম মীন ব্যবহারের কারণ কি? না বাপি, আমি হিপোক্রিটদের একদম সহ্য করতে পারি না। শত্রুরা কি আর মনের থেকে গেট ওয়েল বলবে?
  • rimi | ০২ জুন ২০০৮ ২৩:৩৩693175
  • মিষ্টুর গল্প:
    মিষ্টুকে আমি প্রথম দেখি যখন ও সবে চার বছরে পড়েছে। আলাপ হবার দু মিনিটের মধ্যে আমার জানা হয়ে গেল পৃথিবীতে মিষ্টুর সব চেয়ে ভালো লাগার বস্তু হল ক্যান্ডি। যদিও যে কোনো ক্যান্ডিই চলে, তবু ক্যান্ডির মধ্যে সেরা ক্যান্ডি হল এমেনেম (M&M)। রাস্তায় কিম্বা গ্রসারি স্টোরে চলতে চলতে ক্যান্ডির জায়গায় গিয়ে মিষ্টুর পা দুটো আটকে যায়, মিষ্টু সেখান থেকে আর নড়তে পারে না। কিন্তু বড়রা আর কবে ছোটোদের কথা বোঝে বা ভাবে? মিষ্টুর জীবনের প্রধান ট্রাজেডি ছিল এটাই। সে এমেনেম পেতো ঠিকই, কিন্তু কালেভদ্রে, যখন বড়দের ইচ্ছে হত তখনই শুধুমাত্র।

    এক সুন্দর শরতের সকালে আমরা সবাই মিলে ইউনিভার্সিটি চত্বরে হাঁটছি। সামনে পড়ল এক ছোট্ট দোকান, তাতে থরে থরে ক্যান্ডি সাজানো, এমেনেমও আছে।
    মিষ্টু যথারীতি দাঁড়িয়ে পড়ল। টুক করে দেখে নিল ওর মা দূরে কারোর সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত। তারপরে দোকানদার ছাত্রটিকে:Can you pleeeeease give me that M&M?
    ছাত্র: First you need to pay me.
    মিষ্টু: Okay. Then give me some money.
    ছাত্র ঘাবড়ে ঘ। ভাগ্যিস এই সময়ে মিষ্টুর মা এসে পড়েন। আমরা পালাই।
  • rimi | ০২ জুন ২০০৮ ২৩:৩৬693176
  • ক্যাম্পাসে আরো এক দিন। কাফেটেরিয়ার চত্বরে অনেক লোকজন। আমরাও বসে আছি, আমি, মিষ্টু, ওর মা আর দিদি। দুই বালক বালিকা ওর মধ্যেই এক কোণ খুঁজে নিয়ে প্রবল ভাবে প্রেম করছে। চার বছরের মিষ্টুর কাছে ব্যপারটা বোধ হয় খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হল। সে ওদের খুব কাছে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। বালিকাটি হাজার হোক মেয়ে। মিষ্টুর মতন অমন মিষ্টি একটি বাচ্চা কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে, সে একটু না হেসে পারল না। মিষ্টু বেজায় সোশ্যাল। সঙ্গে সঙ্গে বলল:Hi. I am Mishtu.
    বালিকা:I am **.
    মিষ্টু: Who is he?
    বালিকা:He is my boyfriend.
    মিষ্টু গম্ভীর হয়ে :Ok. Where is your girl friend?
    এমন সুন্দর কনভার্সেশনের মাঝে ছন্দপতন, মিষ্টুর মাএর আগমন, বকুনি, কান্না ইত্যাদি, জীবন যেমন হয়ে থাকে।

    এরপর এক ছুটির দুপুরে ঝিমোতে ঝিমোতে আমি জেগে উঠি প্রবল কান্নার শব্দে। দেখি মিষ্টু রান্নাঘরের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ানক কাঁদছে। কি হয়েছে?
    মিষ্টু কাঁদতে কাঁদতে বলল:I don't want you. I don't want you. All I want is chips.
    তখন তাকিয়ে দেখি মিষ্টুর মা চিপ্স-এর প্যাকেট রেখে গেছেন রান্নাঘরের সবচেয়ে উঁচু তাকে। সেখানে মিষ্টু চেয়ারে উঠেও হাত পাবে না। তাই এই প্রবল দু:খ।
  • S | ০৪ জুন ২০০৮ ২০:৫৪693177
  • চোখের আড়ালেই সাঁঝ দ্রুত বড় হয়ে যাচ্ছে। এইমাত্র ফোন করলাম, কী গুছিয়ে কথা বলল! সেই পিঙ্ক কালারের বারবি ডলটা নিয়ে তুমি কাল আসছো তো? (বেচারিকে আসলে রোজই প্রবোধ দেওয়া হয় বাবা তোমার জন্য ডল কিনতে গেছে, কালই ডল নিয়ে আসবে)। আগের সপ্তাহ পর্যন্ত আমাকে জিজ্ঞেস করত "তুমি কবে আসবে?' এই প্রথম জিজ্ঞেস করল "ডল নিয়ে কাল তুমি আসছো তো?' পেছন থেকে মা আর দিদা শুনে একটু খিল্লি করেছে, অমনি শুনলাম পেছন ফিরে তাদের কষে ধমক দিল, "অ্যাই তোমরা চুপ করো, আমি বাবার সাথে কথা বলছি'।

    কত ভোক্যাব্‌স বেড়ে যায় এক এক সপ্তাহে।
  • raatri | ২৮ জুন ২০০৮ ১৬:২৪693179
  • টুংকাইবাবু পাশের বাড়ি বেড়াতে গেছিলেন।ভারী আনন্দ পেয়েছেন সেখানে।ও বাড়ির দাদু-দিদা-বুইয়াবুইয়া(আরেকজন দিদা) বলেছে যে তুমি এসেছো আমরা খুব খুশী হয়েছি।খুব পছন্দ হয়েছে উৎপাত করা যাবে এমন নতুন জায়গাটা।তারপর থেকে জেগে থাকার পুরো সময় একটাই বায়না 'বুয়াবুয়ার বাড়ি যাবো'।জানলা দিয়ে ওদের ডেকে দেখি বলছে 'এই,তোমরা খুশী হয়েছো?' কাকিমা ওর দেখা পেয়ে খুশীই হয়েছে।বলল-'হ্যাঁ,খুব খুশী হয়েছি!'সংগেসংগে-'না,খুশী হওনি,আমি তো এই বাড়িতে আছি।'

    আমাকে সারাদিনে অষ্টাশিবার তর্জনী নেড়ে নেড়ে 'তুমি খুব দুত্তু হয়েছো,তোমাকে আর বুয়াবুয়ার বাড়ি নিয়ে যাবো না।কালকে ভালো ছিলে,নিয়ে গেছিলম।আজকে দুত্তু হয়েছো,আর নিয়ে যাবো না'।আর মেজাজ ভালো থাকলে 'চলো,তোমাকে হাত ধরে একতু বুয়াবুয়ার বাড়ি নিয়ে যাই'।

    আমাদেরটিও গুছিয়ে বাক্য বলছেন 'আমি কি করেছি আমাকে একটু বলবে?আমি কি করেছি যে তুমি রেগে গেছো?'
  • raatri | ০৩ জুলাই ২০০৮ ১৬:০৩693180
  • কবে টিভিতে মনস্টার দেখে নাকি ভয় পাইনি,তাই নিয়ে একদিন কি হম্বিতম্বি।আমি যত বলি ভয় পেয়েছিলাম তো...সে চোখ পাকিয়ে আমায় তত বলে 'আবার সত্যি কথা?'
  • rimi | ০৩ জুলাই ২০০৮ ১৯:৩১693181
  • ওরে বাবা হাসতে হাসতে মরলাম টুংকাই-এর গপ্প শুনে। :-))
  • Abhyu | ০৩ জুলাই ২০০৮ ২০:৩৯693182
  • একটা মিষ্টি বাচ্চা মেয়েকে বলা হল - "তুই কতো কাজের।" তার প্রম্‌প্‌ট উত্তর -
    "মাকে গিয়ে বলো।"
    "তোর বাবাও খুব কাজের।"
    "মাকে বলো।"
    "তোর মাও তো কতো কাজ করে"
    "এটা আর মাকে বলে কাজ নেই"।
  • Paramita | ১১ জুলাই ২০০৮ ০০:৩২693183
  • আজ গাড়িতে আসতে আসতে জীবনের অনিত্যতা নিয়ে একটু লম্বা কথোপকথন:

    মেয়ে : মা, তোমার দিদা-দাদু কোথায় থাকে?
    মা : আমার দিদা দাদু স্টার হয়ে গেছে
    মেয়ে : বাবার দিদা কোথায় থাকে?
    মা : বাবার দিদাও অনেকদিন আগে স্টার হয়ে গেছে
    মেয়ে : কিন্তু আমার দিদা স্টার হয়নি
    মা : না
    মেয়ে : আমার দিদা তোমার মা
    মা : হ্যাঁ
    মেয়ে : আর আমার দাদু তোমার কে? (হেসে নিজেই উত্তর) তোমার বাবা।
    মা : হুঁ
    মেয়ে : আর সম্বিৎকাকু আমার বাবা
    মা : সম্বিৎ"কাকু"! বাবাকে কাকু বলতে নেই।
    মেয়ে : কিন্তু কেউ যদি সামনে আছে না(অর্থাৎ না থাকে) তাহলে তার নাম বলতে হয়। আর তুমি বলেছ বড়দের নাম ধরে বলতে হয় না, কাকু আর মাসি বলতে হয়
    মা : ওকে। কিন্তু বাবাকে শুধু বাবা বলতে হয় কাকু বলতে হয় না। নামও বলতে হয় না
    মেয়ে : ওকে।
    (কিছুক্ষণ পরে)
    মেয়ে : কিন্তু সবাই কেন স্টার হয়ে যায়? (নিজেই উত্তর) ওল্ড হয়ে গেলে স্টার হয়ে যায়।
    মা : হুঁ।
    মেয়ে : ওরা তখন ডাই করে
    মা : হুঁ
    মেয়ে : মরে যায়?
    মা : হুঁ
    (নামার আগে)
    মেয়ে : কিন্তু তুমি যদি ওল্ড হয়ে গেলে স্টার হয়ে যাও আমি খুব স্যাড হব
    মা : আমার স্টার হওয়ার এখনও দেরী আছে।
    মেয়ে : কিন্তু যখন হবে তখন আমি স্যাড হব
    মা : ওকে। ঐ নিয়ে এখন ভাবার দরকার নেই।
    (এই লুপ চলতে থাকে)
  • rimi | ১১ জুলাই ২০০৮ ০১:৫২693184
  • ওফ! অসাধারণ!

    সাম্পানও "নেই" কে বলে "আছে না" ... বাচ্চাদের চিন্তা ভাবনাগুলো বেশ একরকম।
  • S | ১১ জুলাই ২০০৮ ১১:২৫693185
  • সাঁঝ এখন অফুরন্ত স্বপ্ন দ্যাখে। রোজ রাতে এবং শেষরাতে। ফলে ওর গল্পের স্টক আনলিমিটেড। খুব মন দিয়ে স্বপ্ন দ্যাখে এবং মনেও রাখে।

    সেদিন সকালে উঠে মা-কে গুডমর্নিং বলার পর মা রোজকার মতই জিগ্যেস করেছে, রাতে ড্রিম দেখলে? মেয়ে খুব লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলল, কাল না, আমি ড্রিমে বাবাকে দেখেছি। আমি বেশ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী দেখলে?

    মেয়ে বলল, বাবা যখন ছোট ছিলে, তখন আমাকে "মা-মা' বলে ডাকতে। তারপর যখন বড় হয়ে গেলে, তখন আমাকে "কুতু-কুতু' বলে ডাকলে।

    ********************

    সেদিনই রাতে ঘুমোবার সময়ে আমায় গল্প শোনাল:

    আমি তো স্ট্রং হয়ে গেছি। খাওয়া হয়ে গেছে। এবার ঘুমু করব। আজ কুলার চলবে না। কুলার তো টায়ার্ড, ওর কোমরে ব্যথা করছে, ও ঘুমু করবে। ওপরের ফ্যানটা চলবে শুধু। টিভিও টায়ার্ড, টিভিরও কোমরে ব্যথা করছে, তাই টিভিও ঘুমু করছে। মা-ও ডিসটার্ব করছে না টিভিকে। আমি তো বড় হয়ে গেছি, আমি তাই ভূতকে ভয় পাই না।

    আমি বললাম, ভূত কোত্থেকে এল?

    -- না, একটা বড় ভূত আছে। আমি ভয় পাই নি, চটি দিয়ে ওকে এত জোরে মেরেছি, ভূতের মাথা থেকে খুন বেরোতে লাগল, তারপর ভূতটা মরে গেল! (টু মাচ!!! হরিব্‌ল! ) তারপর ডাক্তার এল ম্যাডিসন (মেডিসিন) নিয়ে, এসে বলল, বা-বা, তুমি তো খুব স্ট্রং হয়ে গেছ রুটি খেয়ে, তুমি ভূতটাকে চটি দিয়ে মেরে দিয়েছো? তুমি গুড গার্ল। বলল মাঙ্কি ডক্টরটা।

    আসলে সেদিনই সকালের দিকে ও জুতো দিয়ে পদাঘাত করে একটা পিঁপড়ে মেরেছিল। সেখান থেকে এই গল্পটা পুরো নিজে নিজে বানালো।
  • udayan | ১১ জুলাই ২০০৮ ১২:০৩693186
  • অসম্ভব দুরন্ত পাপান-কে যদি বলা হয়, যে তুমি এমন কেন, তাহলে বলে, "কি করবো, ভগবান এরকম-ই বানিয়েছে।

    এর পর আর কি বলা যায়?
  • raatri | ১১ জুলাই ২০০৮ ১৫:৪৫693187
  • মেঘ অনবদ্য!
    টুংকাই-ও ঐরকম বলে 'আমি খেলে না তুমি নিয়ে যাবে না?'ক্ষুদেদের কি মিল!!
  • r | ১১ জুলাই ২০০৮ ১৫:৫২693188
  • মেয়ে যে কোনো পোকামাকড় দেখলেই চিলচীৎকার, সাথে প্রবল লম্ফঝম্প। সেদিন একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মথ দেখেও সেই একই ব্যাপার। তারপরের কথোপকথন:

    - আচ্ছা বাবা, লোকে নাকি "মথ" খেয়ে খেয়ে খারাপ হয়ে যায়?
    - তুই জানলি কি করে?
    - চারদিকেই তো শুনি।
    - কে জানে!
    - কিন্তু একটা কথা বল। "মথ" তো ওড়ে, খায় কি করে?
  • raatri | ১১ জুলাই ২০০৮ ১৫:৫৯693191
  • আমার এক সহকর্মী সপরিবারে পুরী যাবে।হোটেল বুকিং পাবে কিনা তাই নিয়ে চিন্তা করছে।ওর ছেলে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এলো 'এতো চিন্তার কি আছে?এপারে না পেলে ওপারে থাকবো!'

    আমার বন্ধু রাজীব আর ওর মেয়ে খেলছে,নাটক নাটক খেলা।মেয়ে পরিচালক,বলাই বাহুল্য।বেশ সাংসারিক নাটক। রাজীব বলবে'ওগো,একটু চা দেবে?'দিয়া বলবে 'চা-ই তো করছি তোমার জন্য'।একটু পরে দিয়া চা নিয়ে আসবে।রাজীব এবার পুর্বনির্ধারিত ডায়লগ ছেড়ে নিজের একটা লাইন যোগ করল।রাজীবের নিজের একটা ফোটো দেয়ালে ঝুলছিলো।সেটা দেখিয়ে দিয়া-কে বললো 'ওটা কে গো?'দিয়া নির্দ্বিধায় 'আমার বাবা।মরে গেছে!'
  • raatri | ১১ জুলাই ২০০৮ ১৬:০০693192
  • আমারটি তো পোকা-অন্ত প্রাণ।দিয়া তো ওর গল্প শুনে ওর নামই দিল 'পোকে-মন'!
  • Arpan | ২৫ জুলাই ২০০৮ ১২:৪১693193
  • মেয়ের মুখে কথার খই ফুটছে।

    বাড়িতে টাইমস অব ইন্ডিয়া দিয়ে যায়। তার পেজ থ্রি সেকশনে মেয়ের বেশ আগ্রহ। বেশ রঙচঙে জীবন্ত অসংখ্য কার্টুন ক্যারেক্টার একসাথে আর কোথায়ই বা মেলে? তো, সেদিন হঠাৎ দুজনে খেয়াল করলাম মেঝেতে কাগজ পেতে বসে যাবতীয় ছেলেদের দেখিয়ে বলছে "বা-বা'। বলা বাহুল্য এরূপ অভাবনীয় সম্ভাবনাসমূহ সম্বন্ধে মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু এই নিয়ে মেয়ের মাকে বিশদে পুছতাছ বা সেইসম্বন্ধে গভীর ভাবনাচিন্তা করার আগেই বুঝলাম আমাদের জানকারির আরো বাকি ছিল!

    ওই পাতায় ম্যাচো বীরপুরুষেরাই শুধু ছিল না, তাদের বেষ্টন করে ছিল তন্বী শিখরদশনা লবঙ্গলতিকাদের দল। "আর ওরা কে?' এই নিয়ে প্রশ্ন করা মেয়ে গম্ভীর মুখে জবাব দিল "আতিন' (আন্টি)।

    এর পরেও বলুন, গৃহযুদ্ধ হবে না?
  • Arpan | ২৫ জুলাই ২০০৮ ১২:৪৪693194
  • ** প্রশ্ন করলে
  • S | ২৫ জুলাই ২০০৮ ১৩:১৩693195
  • যা-তা! :-)
  • ri | ২৬ জুলাই ২০০৮ ০৩:১১693196
  • টুবাই-এর গল্পো,

    দূর্গাপুরে বিয়েবাড়ি খেতে যাওয়া হয়েছে, চারদিন থাকা হবে। বিয়ের দিন বাড়ির পেছনে প্যান্ডেলে রান্নার ব্যাবস্থা হচ্ছে। ও আমায় হাতের ঈশারায় সেখানে ডেকে বলল... দেখ দিদিভাই 'পাচকটি বড়ই বৃদ্ধ'।

    আমার মাধ্যমিকের test paper দেখে, 'আমিও বড় হয়ে দিদিভাইয়ের মতো মোটা মোটা test paper পড়ব আর ভাবব, উপন্যায়সস্‌স পড়ছি'।

    মামার বিয়ের সময় টুবাই গেলো নীতবর হয়ে। ছোট্টো ফুটফুটে নীতবরকে নতুন মামীর পাশে কেউ বসিয়ে দিয়েছে। নতুন মামী-কে টুবাই-এর প্রশ্ন,'তোমার স্বামী পছন্দ হয়েছে তো?' এখানে উল্লেখযোগ্য, মামী-কে এই কথা এর আগে মামীর দিদাও জিগ্গেস করে নি কারন ওদের,love marriage

    সেই বিয়েবাড়িতে, বিয়ের আগে পরে কোন একদিন, খাটে বসে একদল মেসো মাসি মামা-র দল তাস খেলছে। টুবাই আরও কয়েকটী খুদের সাথে সেই ঘরের মেঝেয় দেশলাইয়ের বাক্স, জুতো প্রভৃতি নিয়ে গাড়ি চালাতে ব্যস্ত।খেলার মাঝে নববিবাহিত মামা মামীর হাতে মেরে দিয়েছে ভুলভাল দান দেবার জন্য, তাই দেখে খেলা ফেলে বিরক্ত টুবাইয়ের উক্তি...'স্বামীরা স্ত্রীদের রক্ষা করে, তুমি এটা কি করছো!'
  • Arpan | ২৮ জুলাই ২০০৮ ১১:৫০693197
  • অদ্রিজা নতুন শব্দ শিখেছে "আবাল' (আবার)।

    অতএব বায়নাক্কা পেশ করার খুব সুবিধে হল। যেমন, পার্কে দোলনায় চাপিয়ে দিলে থামা চলবে না। থামলেই বলবে "আবাল'।

    তো, শোবার ঘরের খাটটার হাইটটা একটু উঁচু। সোফা-টোফায় নিজেই উঠতে নামতে পারে, কিন্তু খাটটায় এখনো নিজে নিজে চড়া হয় না। সেদিন অফিসের কাজ নিয়ে বসেছিলাম, এসে বারবার দাবি জানানো শুরু করল খাটে চড়বে আর নামবে। বিরক্তির একশেষ! শেষে মাথায় বুদ্ধির গাছ গজালো। খাটের নিচে একটা শক্তপোক্ত দেখে বাক্স রেখে বললাম এতে দাঁড়াও। দাঁড়ানো হলে বললাম এবার ওঠো। :)

    ব্যস, প্রবলেম সলভ্‌ড। কিছুক্ষণ পরে ঘরে উঁকি মেরে দেখে উঠলাম মহা উৎসাহে সে উঠছে আর নামছে। আর নিজেই নিজেকে বলছে "আবাল, আবাল'।
  • I | ৩০ জুলাই ২০০৮ ২০:০৯693198
  • মোড়লি ১
    ---------
    মোড়লমশাই আজ স্কুলে যাচ্ছিলেন মা-র সঙ্গে। গাড়িতে পাশে বসে নার্সারি টু-য়ের একটি বাচ্চা কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছিল, সাউথ পয়েন্টেরই। টুংকাই উপযাচক হয়ে তাকে অনেক বুঝিয়েছে- কাঁদো না, ছি ! কুলে (স্কুলে) যেতে হয়, কাঁদতে হয়না। কুলে লিফ্‌ট আছে। আমি তোমার হাত ধরে লিফ্‌টে নিয়ে যাবো। ছি, কাঁদো না।
    বাড়িতে ফিরে বলেছে-একটা বেবি কাঁদছিল, কুলে যেতে চায় না। বেবিটি অবশ্য ওর থেকে এক ক্লাশ ওপরে পড়ে।
  • I | ৩০ জুলাই ২০০৮ ২০:১৬693199
  • মোড়লি ২
    ---------
    এষ্ণা দেবারুণকে ধরে পেটাচ্ছিল, যেমন সব মেয়েরাই করে থাকে। আমাদের ছোট্ট মোড়ল যেচে গিয়ে এষ্ণাকে অহিংসা শিখিয়েছে-মারতে হয় না। ও তোমার ফেন্ড না? ফেন্ডকে মারতে হয় না।
    এষ্ণার তাতে কোনো উত্তরণ হল কিনা সে খবর পাওয়া যায়নি।
    সালোনির তো নিশ্চিতভাবেই হয়নি। অবিশ্যি টুংকাই তাকেও অহিংসা পড়িয়েছে কিনা জানিনা। সম্ভবত: না, কেননা মাঝেমধ্যেই সালোনিকৃত ক্ষত নিয়ে ফিরে আসে স্কুল থেকে। তারপরেও অতটা "কলসীর কানা'-ভাব কি সইবে?
    আজ এসে বলেছে- আন্টি সালোনিকে দূরে বসিয়েছে, বলেছে তোমায় জু-তে রেখে আসবো।
  • I | ৩০ জুলাই ২০০৮ ২০:৪০693200
  • মায়ের গল্প
    ----------
    এটাকে সালোনির গল্পও বলা যেত। সালোনি পক্ষপাত করেনা, সব ছেলেদের ধরেই মারে। প্রথম প্রথম অবশ্য আমরা সন্দেহ করতাম যে টুংকাইয়ের ওপর ওর বিশেষ টান আছে।
    সে সন্দেহ দূর হওয়ার পর টুংকাইয়ের (হতাশ?) মায়ের প্রতিক্রিয়া : আসলে সব্বাইকে পিটিয়ে দেখে নিচ্ছে, কার এনডিওর‌্যান্স বেশী।
    এটা অবশ্য একটা ভাববার মত কথা।
  • d | ৩০ জুলাই ২০০৮ ২৩:২১693202
  • :)))))
    কিন্তু এষ্ণা মানে কি? আর সালোনি মানে সেই "শাঁওলী সালোনি তেরি ... ' সেই সালোনি তো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন