
পুলিশকে কিছু কথা বলতে যাচ্ছেন কেউ। তর্কাতর্কি হচ্ছে। পুলিশের দিক থেকে যেহেতু বলার কিছু নেই, তাই তাঁরা কিছুক্ষণ বাদেই তেড়ে এসে তুমুল মারধোর করছেন দু-চারজনকে, এবং টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ঘোষণা করছেন, গ্রেপ্তার করা হল। আমার দিকেও তেড়ে এসে ঘুষি চালিয়ে দেন এক পুলিশ মহাবীর। যদিও, আমি শান্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু করিনি। স্লোগান-টোগান তো দূরস্থান। হিন্দুত্ববাদী কোনো হামলাকারীর গায়ে বলাবাহুল্য একটুও আঁচড় পড়েনি। পুলিশের তর্জন-্গর্জন, মার-্ধোর শুধু একপক্ষের উপরেই বর্ষিত। এবং পুরোটাই পরিচালিত হয় নীল কোট পরিহিত একজন পুরুষ ও সাদা পোশাকের একজন মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে। তাঁরা বস্তুত জনতাকে প্ররোচিত করছিলেন। যে ভঙ্গীতে কান্ডটা করছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, যে, পুরোটাই ইচ্ছাকৃত। হয় তাঁরা মব কন্ট্রোলের কিছুই জানেন না, কিংবা জানেন, কিন্তু তাঁদের গেরুয়াকরণ সুসম্পন্ন হয়েছে। ... ...

রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন যে এনআরসি, সিএএ, এনপিআর বিরোধী কোনও আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতন হবে না। আজকের ঘটনা ঠিক তার উল্টো প্রমাণ রেখে গেলো। সর্বোপরি; বিজেপির স্টল থেকে বেরিয়ে এসে হামলা করা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যতো গ্রেপ্তারি হয়েছে আমাদের দিকে। যারা এনআরসি, সিএএ, এনপিআর বিরোধী জনমত তৈরি করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে; তাদের ওপর এহেন পুলিশি অত্যাচার নামিযে এনে আপনার কোন লাভ হলো মাননীয়া? ... ...

যতবার,যতজন, শান্তভাবে কথা বলতে গেছেন, প্রতিবারই পুলিশ প্রায় বিনা প্ররোচনায় একই ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একের পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ যে আচরণ করে, যে ভাষায় কথা বলে, এবং যে পরিমান মারধোর করে, বইমেলার সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তা অভূতপূর্ব। প্রায় অর্ধশতকের বইমেলার ইতিহাসে কলঙ্কলেপনের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ। ... ...

যে দেশে এক্কেবারে চলতি ভাষাতেই টুরিস্টকে বলা হয় ‘মুসাফির’ তার রোদ্দুর তো আলাদা হবেই। অন্ধকার আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে সবার আগে সেই কথাটাই মনে হল। আমার ভাঙাচোরা ফারসিই আমাকে বুঝতে দিয়েছে, সৈয়দ তার স্ত্রী তহমিনেহকে মোবাইলে জানাচ্ছে, ‘হিন্দ-এর মুসাফির এসে গিয়েছে। আমরা শিগগির বাড়ি পৌছাচ্ছি’। ‘মুসাফির!’ সে কি সহজ কথা! চকিতে মাথায় খেলে যায়– দিল-এ-ম্যান, মুসাফির-এ-ম্যান! ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ-এর ফারসি শিরোনামের সেই কবিতার গোড়ার পঙক্তিগুলি—‘প্রাণ আমার, মুসাফির আমার/হয়েছে যে আদেশ আবার/দেশ ছাড়ি, তুমি-আমি, আরও একবার।... ইরান শেষে আমাকে মুসাফির করলে! ... ...

খণ্ডিত ভারতের স্বাধীনতার কথা শুনে তৎকালীন বাংলার মুসলিম নেতাদের একাংশের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, এই ভেবে যে, পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলে বাঙালি মুসলমানদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসকগণ। সুতরাং বাঙালি মুসলমানের পরাধীনতা থেকেই যাবে। তাই তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী সইদ সোরহাবর্দি, বাংলা মুসলিম লিগের সম্পাদক জনাব আবুল হাসিম প্রমুখ নেতা প্রস্তাব করেন, ভারতকে দুই ভাগ নয়, তিন ভাগে ভাগ করা হোক, যথা পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ। মোদ্দা কথা, বঙ্গভঙ্গ বন্ধ করে, বাংলাকে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশে পরিণত করা হোক। এ প্রস্তাব নিয়ে তারা সর্বশ্রী শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশংকর রায় ও সত্য বকসীর সাথে বহু বৈঠক করেন। এমনকি স্বাধীন বাংলার সংবিধান কী হবে, তার জন্য একটি সাব কমিটিও গড়া হয়। শরৎচন্দ্র বসু এ বিষয়ে গান্ধিজির সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। গান্ধিজি বঙ্গভঙ্গ বন্ধ করার এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন বটে, কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি আচার্য কৃপালনী ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাব ভেস্তে যায়। এ সব ঘটনাই ১৯৪৬ সনের মে মাসের। ... ...

কিংবদন্তীর ভেতরে একরকম আখ্যানমালা আড়মোড়া ভাঙে। পাশ ফেরে, শিথান বদল করে। বালি খাতের নিচে অন্তঃসলিলা হয়ে বইতে থাকে নদী। খাতের ওপরে কান পাতলে হয়তো অস্পষ্ট শব্দ শোনা যায়। জাদুসঙ্গীতের মত একপ্রকার লোকায়ত গান ও বাজনা বয়ে যায় গোপনে। শব্দ বাজে গানের মত। ... ...

অচিন্ত্য প্রান্তর আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন একজন মানুষ। তার মার্জিত ব্যবহার, পরিশীলিত বাচন, তার কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান আমাকে মুগ্ধ করে। যদি সে সম্পূর্ণ অচেনা কেউ হতো, রূঢ় এবং শিক্ষাহীন, তাহলেও আজ বিমানবন্দরে সিআই এসএফ যে ভাবে তাকে পরীক্ষা করেছে তার আপত্তি সত্ত্বেও, তার তীব্র প্রতিবাদ করতাম। কারণ লিঙ্গ পরিচিতি যে কোন মানুষের একেবারে ভেতরের উপলব্ধির বিষয়, তার একান্ত মানসিক এবং অনুভূতির ব্যাপার। ... ...

উদ্দেশ্য আমার কাছে অন্তত খুবই স্পষ্ট ছিল। এন আর সি, সি এ এ এবং ছাত্র ছাত্রীদের উপরে পুলিশ তথা সরকার সমর্থক গুন্ডা দের হামলা ইত্যাদি নিয়ে সারা দেশে যে নানা প্রতিবাদ হচ্ছে, কলকাতায় থেকে তার যতটুকু আঁচ পাওয়া যায়, সেটা অনুভব করার, চাক্ষুষ করার চেষ্টা করা। এবং গুরুচন্ডালি তে লিখে ফেলা, যতটা পারা যায়।। ... ...

পার্ক সার্কাসে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই আমার মনে পড়ে রক্তবীজের কাহিনী। আকাশ-চাটা আগুন-চিতায় সহমরণে মরতে যাওয়া মায়ের অসহ্য যন্ত্রণার চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে জরায়ু উন্মোচনে তার জন্ম। একফোঁটা রক্ত যেখানে পড়ে সেখানেই জন্ম হয় রক্তবীজের। এক থেকে একশ, হাজার, লক্ষ -- লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তরুণাসুর রক্তবীজের সংখ্যা। ... ...

এ এক অদ্ভুত শিউড়ে ওঠা সময়ের কাহিনী। আমরা সেই সময় অতিবাহিত করছি যখন আমাদের মনে পড়ে যায় “পিচ্ছিল নেপথ্যে আজও রয়েছে মানুষ – একা – নরক দর্শন করে, তবু অন্ধ নয়, খোঁড়া নয়; ... ...

তেত্রিশ বছরের একটা জোয়ান কিন্তু রুগ্ন ছেলে শুয়ে আছে জেলখানার ঠান্ডা মেঝেতে, গায়ে হয়ত শুধু একটা কম্বল। গরাদের ফাঁকে তাকে কড়া নজরে রেখেছে এদেশের কুখ্যাত ট্রিগারহ্যাপি পুলিশ বাহিনী, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে নিজেরাই সরকারি বাস পোড়ায়, গুজরাত মডেলে সংখ্যালঘুর দোকান ভেঙে দামী মাল লুঠ করে। আর দমাদম গুলি ছুঁড়ে শুইয়ে দেয় শিশুদেরও। আটক নাবালকদের সোডোমাইজ করার অভিযোগও ওঠে এদের বিরুদ্ধে। ... ...

এই লেখা লিখতে লিখতেই শোনা যাচ্ছে বিশ্বভারতীতে সঙ্ঘের পেটোয়া লোকজন নিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছিল এক সেমিনার যাতে সিএএ ও এনআরসির সুফল ব্যখ্যা করার কথা ছিল। সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় রড লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে আরেক গুন্ডাবাহিনী। বিশ্বভারতী থেকে আসা এই খবর কোনদিকে গড়াবে আমরা জানি না, কিন্তু গোটা দেশজুড়ে যে সমস্ত ক্যাম্পাসগুলিতে আরেসেস এবিভিপির যাতায়াত ছিল সীমিত সেগুলিতেই নানা ফিকিরে ঝামেলার পরিবেশ তৈরী করে এক একটা ফেনোমেনন বানাতে চাইছে তারা। কিন্তু তাদের এই বর্বরতা কোনোভাবেই শেষ কথা হয়ে যে উঠবে না তার প্রমান প্রায় প্রতি মুহুর্তে দিয়ে চলেছেন এই দেশের ছাত্রছাত্রীসমাজ ও তাদের পাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ। আরেসেস বিজেপি যত হিন্দুরাষ্ট্র বা অন্যকে টুকরে গ্যাঙের নাম করে আসলে নানাভাবে ভারতের বিভাজনে ব্রতী হবে ততোই তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হবে এবং অতীত থেকে ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করার শিক্ষা তাদেরও দেওয়ার জন্য একত্রিত হবেন এদেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। যে আজাদীর স্লোগান উঠে এসেছিল বিক্ষুদ্ধ কাশ্মীর থেকে আজ তা শোনা যাচ্ছে কলকাতায় মুম্বইতে সব জায়গায় এবং তা দিচ্ছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ গৃহবধু বাচ্চা বুড়ো সবাই। ফয়েজের কবিতার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি বসাতে বাধ্য হচ্ছে ভীতু কর্তৃপক্ষ। ... ...

এখানে আসতে থাকুক সব আপডেট। কোথায় কী হবে, কী হল। ... ...

দৃপ্তার কাছে অরাজনীতির বিলাসিতার সুযোগ ছিল। কিন্তু, ও শপিং মল, নেটফ্লিক্সের জীবনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরাসরি ময়দানে নেমেছে। যখন ওর কাছে রাস্তায় নামার সুযোগ ছিল না, তখন ও ক্রমাগত উচ্চমানের রাজনৈতিক মীম বানিয়েছে। আর আজ এই সঙ্কটকালে ও কম্পিউটারের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়েনি। জামিয়ায় আক্রমণের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেছে সেখানে। আজ সকালে এবিভিপির গুণ্ডাবাহিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে হামলা করেছে। র আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন তারা আক্রমণ করেছিল, তখন চোখের সামনে দেখেছি সাংবাদিকের মাথা থেকে টুপ টুপ করে পড়া রক্তবিন্দু ভাঙা কাচের গুঁড়োয় মিশে যাচ্ছে, চারদিকে আগুন জ্বলছে এবং এ টি এমের ভিতরে একলা মেয়েকে ঘিরে ধরে সঙ্ঘীগণ অত্যাচার চালাচ্ছে। তারপর ঘটে গেছে জামিয়া, আলিগড়ের ঘটনা। রাষ্ট্রের নৃশংসতার মাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর প্রদেশ ভয়াবহ অত্যাচার চলছে। আর কাশ্মীরের কথা তো আমরা জানতেই পারছি না। দেশজুড়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দৃপ্তা নিজেও হুমকি শুনেছে। এই হুমকিগুলো আমাদের ভয় কাটিয়ে দিতে সাহায্য করে। আজ বিকেল বেলা দৃপ্তা যখন বলল ওকে ঘিরে ধরে লাঠিপেটা করা হয়েছে, তখন আমার হাড় হিম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, বুঝতে পেরেছিলাম যে, ... ...

ফিরোজ - দেখ, তোমায় তো বললাম জামিয়া আর 'জেএনইউ' এর ছাত্রছাত্রীরা শুরু করেছিল অবরোধের তা ক্রমে মানুষের প্রতিরোধে পৌঁছেছে। এর বেশিরভাগটাই সামলাচ্ছেন মহিলারা। আট থেকে আশি, এমনকি অন্তসত্ত্বা মহিলারাও রয়েছেন এই দলে। পালা করে তারা আসছেন। বাড়ির কাজ সামলে। পুরুষেরাও আছেন, তবে তাদের ভিড় বেশি সন্ধ্যার পর। আর এই জমায়েতে যে শুধু মুসলমানরাই রয়েছেন তা কিন্তু নয়। এতে অনেক হিন্দু শিখ এরাও রয়েছেন একসঙ্গে জোট বেঁধে। ... ...

আজ মুখোশে মুখ ঢেকে বড় রড হাতে নিয়ে জেএনইউ হস্টেলে ঢুকেছে গুন্ডাবাহিনি, যা ছাত্রদের অভিযোগ অনুযায়ী এবিভিপির। রাষ্ট্রপোষিত গুন্ডা। ফি বাড়ানোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, এনার্সি, সিএএ-র বিরুদ্ধে ছাত্রদের একতা, শাহিনবাগ ধর্ণা,গোটা দেশে বিশাল আন্দোলন, দেশবিদেশে বেইজ্জত হবার অপমান, আর কতো সইবে ফ্যাসিস্ট সরকার। জেএনইউয়ের অধ্যাপক, ছাত্র নির্বিশেষে আজ তাই রক্তাক্ত। নির্বাচিত ছাত্রসংসদ প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষ সাংঘাতিকভাবে আহত। হাসপাতালে ভর্তি। অনেক সহযোদ্ধারও একই হাল। আহত অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন। জোর করে জয়শ্রীরাম বলানো হচ্ছে, আর তাও নাকি হচ্ছে সংঘপরিবারঘনিষ্ঠ অধ্যাপকের অংুলিহেলনে। ... ...

সকাল আরো কাছ এগিয়ে আসে, বিছানায় যাওয়া জরুরী, কাল সকালে মিটিং আছে। ঘড়িটা ড্রয়ার থেকে টেনে বের করতে গিয়ে চোখ পড়ে যায় সেই মরফিন প্যাচ্-গুলোর প্যাকেটে। এখনো রয়ে গ্যাছে এরা? বেশ কয়েকটা প্যাচের প্যাক দেখলাম, হাত দিয়ে সরিয়ে আরো পেলাম মরফিন ট্যাবলেটও। মনে পড়ে গেল সেই ক্যানাল রোডের দোকান থেকে কেনা – সাথের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনটা এগিয়ে দিয়েছিলাম, সেটা শুধু মরফিনেরই জন্য। ওরা আবেগহীন আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেয় যন্ত্রণা – এই ডাক্তারের হাতের লেখা খুব সুন্দর, কালি পেনে লিখেছে। আমিও পড়ে নিতে পারি, ডাক্তার লিখে দিয়েছে চাইলে মাস দুয়েকের জন্য স্টক করে নিতে পারি মরফিন প্যাচ এবং ট্যাবলেট। ওরা প্যাচ এনে দেখায়, আমার চোখ চলে যায় ছোট ছোট ট্যাবলেটে। কেমন প্রশান্তি এনে দেবে এরা? ... ...

আমরা আগে জানতাম যে শিল্পী প্রতিভা নিয়ে জন্মায়, আজকের দিনের কথা হচ্ছে যে, শিল্পী তৈরি করা হয়, শিল্পী কিছু নিয়ে জন্মায় না। শিল্পীকে বানিয়ে তোলা হয়। একটা দল, দলের কতগুলি ভাবনা, শৃঙ্খলা আছে, সেই শৃঙ্খলা দিয়ে শিল্পীকে তৈরি করা হয়। An artist been made, been born না, সেই ‘মেড’ যেহেতু তখন তার নিশ্চয় কোনো শৃঙ্খলা থাকবে, কার্যকারণ থাকবে, সেই কার্যকারণ দিয়ে শিল্পী তৈরি করা হয়। ... ...

এনআরসি, ক্যা, এনপিয়ার - সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল এখন এদেরি দখলে। বড়দিন, নববর্ষে পালাপার্বণের ভরা মোচ্ছবের বাজারেও। এরকম গম্ভীর বিষয় নিয়েও ইয়ার্কি, ফাজলামি, খোরাক, খিল্লি, ব্যংগবিদ্রূপে ছেয়ে যাচ্ছে ফেসবুক ট্যুইটার ফেসবুকের দেওয়াল, রাস্তায় নেমে যুদ্ধের সংগে সমানতালে চলছে মায়াদুনিয়ায় পোস্ট আর পোলের লড়াই। সেসব যুদ্ধেরই কিছু আঁচ, দেয়ালের কিছু ভেংচি কাটা ছবির টুকরো, রইল এই সংকলনে।আপনাদের নজরে মণিমুক্তো কিছু এলে পাঠান এই ঠিকানায়, পরবর্তী দেয়াল লিখনের জন্য, [email protected] ... ...

তারপরই আসরে নামেন, হিন্দু বীর রা। একে তো নারীর শ্লীলতাহানি অতি স্পর্শকাতর বিষয়, জনসমাজে আলোড়ন ফেলার পক্ষে যথেষ্টর অধিক। তদুপরি মুসলমান ছেলে ও হিন্দু মেয়ের সমীকরণ। এসব ব্যাপারে রামচন্দ্রের যুগ থেকেই 'হিন্দু ভীর'রা কখনই অভিযোগের যাথার্থ্য বিচার করে কবে রাবণকে পুলিশে ধরবে, বা আদৌ ধরবে কিনা সেই 'ডিউ প্রসেস'এর জন্য অপেক্ষা করেননি। ফলে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেটিকে গণপিটুনি দেন। ছেলেটি মারা যায়। কীভাবে মারা গেল, এই দ্রুতগতির যুগে নিশ্চিত করে জানা যায়নি। একটি কাহিনী শোনা যাচ্ছে, যে, ছেলেটিকে ক্লাবে আটকে রাখা হয়,পরে সে বাড়ি গিয়ে আত্মহত্যা করে। ... ...