
ওঁদের ১৫ অগাস্ট সরকারি ছুটি নেই। অথচ এ দেশেই জন্মেছেন ওঁরা। ভিন দেশের নাগরিক হয়ে যাওয়া পাঁচ বাঙালি লিখছেন এ দেশের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁদের বোধ। ... ...

করোনা অতিমারির সময়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অসামান্য গুরুত্ব আমাদের সবার দৃষ্টিপথ, শ্রুতি এবং ভাবনার ক্ষেত্রপথের একেবারে বাইরে চলে যাচ্ছে। অতি উচ্চ মুল্যের আইসিইউ পরিষেবা, উচ্চচাপের অক্সিজেনের ব্যবস্থা, ECMO ইত্যাদি জন মানসিকতায় ক্রমশ গ্রাহ্য হয়ে উঠছে, মান্যতা পাচ্ছে। মনে ক্ষোভ পুষে রেখেও সাধারণভাবে মানুষ চাইছে বেশি দামের রেমডেসিভিরের চিকিৎসা – নিতান্ত কমদামের এবং একমাত্র “improved survival” ঘটাতে পারে ডেক্সোমেথাসোনের চিকিৎসা নয়। চিকিৎসকেরাও এই সোশ্যাল সাইকি বা গণমানসিকতার বশে থাকছেন বেশিরভাগ সময়েই। বাজারের, মিডিয়ার এবং বিজ্ঞাপনের দুর্মর শক্তি উভয়কেই নিয়ন্ত্রিত এবং প্রভাবিত করছে। ফলে চিকিৎসা আরও বেশি করে হাই-টেক হয়ে উঠছে, ভার্টিকাল প্রোগ্রামের দিকে ঝুঁকছে। এবং ক্রমাগত ঝুঁকবে। ... ...

টার্কি দেশ হিসেবে প্রথম ২০১১-এ কাউন্সিল অফ ইউরোপে ভিক্টিম প্রোটেকশন এবং গার্হস্থ্য হিংসা কমানোর জন্য অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটি লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে যা, ইস্তানবুল কনভেনশন নামে পরিচিত। ২০১২ সালে তা র্যাটিফাইও করা হয়। তারপর থেকেই এই এরদোগান সরকার এই কনভেনশনের পেছনে হাত ধুয়ে পড়ে আছে, যাতে তা কার্যকরী না হয়। সরকারের মতে এই আইন পারিবারিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে, যা চালু হলে সামাজিক মূল্যবোধও নষ্ট হবে। ... ...

গুরুচন্ডালির পাঠক দের বৃহদংশের কাছে এই কথোপকথন আগ্রহ জাগাতে পারুক বা না পারুক, ব্যক্তিগত ভাবে এই ভাবেই এই বিচিত্র অতিমারীর প্রকোপে মানুষের মধ্যে সংযোগহীন অবস্থায় এই ভাবেই ভদ্রলোক কে স্মরণ করলাম, তাঁর মৃত্যুর বেশ কিছু বছর পরে। ... ...

স্বয়ং অযোধ্যাবাসীর আজকের অনুষ্ঠান নিয়ে বক্তব্য কী? বাইরে থেকে জানা খুবই কঠিন, কারণ আজকের অনুষ্ঠানের আগে আদিত্যনাথের পুলিশ অযোধ্যাকে নিরাপত্তার বলয়ে প্রায় মুড়ে দিয়েছে। মাত্র দুটি প্রতিক্রিয়া আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি - একজন, রামমন্দিরের ঠিক পার্শ্বস্থিত রাম-জানকি মন্দিরের মহান্ত শ্রী যুগল কিশোর শাস্ত্রী, অন্যজন আজকের অনুষ্ঠানের কারণে উচ্ছেদ হওয়া একটি চায়ের দোকানের মালকিন রজনী। মূল লিঙ্কটি লেখার নীচে দেওয়া রইল পাঠকের সুবিধার্থে। ... ...

সারা দেশ জুড়ে ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নয়। এই রাজনৈতিক দলটি এবং এদের শাখা প্রশাখা নানা সংগঠন একই সঙ্গে অসহিষ্ণুতার জয়গান করে এবং নিজেদের রাম ভক্ত বলে দাবি করে। অনেকেই মেনে নিয়েছেন, রামায়ণের ইজারা এখন এদেরই হাতে। কিন্তু সত্যিই কি রামায়ণ এমনই অসহিষ্ণুতার কথা বলে! ... ...

এটা কি শুধুই সমাপতন যে একবছর আগে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেবার দিনটি অর্থাৎ ৫ আগস্টকেই বাছা হয়েছে রামমন্দিরের শিলান্যাসের জন্য? নাকি মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো সম্পূর্ণ বঞ্চিত ও হতোদ্যম কাশ্মীরের ক্ষতে আঙুল দিয়ে খুঁচিয়ে দেশজোড়া সংখ্যালঘুকে বোঝানো হল তার দৌড় কতটা? তৈরি করা হল দুষ্টের দলন শিষ্টের পালন জাতীয় একটি মিথ? বলার চেষ্টা হল কি যে তুমি যদি মুসলমান-বিদ্বেষী হও তবে রামলালা স্বয়ং তোমার রক্ষাকর্তা? সরাসরি সেলিব্রেশন বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, সুতরাং আইস, আমরা অপ্রত্যক্ষভাবে দুষ্ট-দলন দিবসটিকে যথোচিত মর্যাদায় পালন করিয়া ছাড়ি। ... ...

আমাদের ব্যাংক-কর্মী সকলেরই এইটুকু সাধারণ বুদ্ধি আছে বলে মনে করি যাতে করে আমরা কোন্টা ‘মানবিক’ এবং ‘স্বাভাবিক’ তার সঙ্গে প্রায় অনৈতিক চাপ তার পার্থক্য করতে পারব। আমরা এটাও বুঝি যে সব কিছু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না—তাই এই লেখায় সেই সব বিষয়ই কেবল উল্লেখ করব যে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কর্তৃপক্ষ চাইলেই সমাধান করতে পারতেন। গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নতির এক প্রধান অভ্যন্তরীণ অন্তরায় হল সঠিক টেকনোলজি এবং কম্পিউটিং ব্যবস্থা ঠিকমতো না করা। অন্য সব ব্যাংকে যে কাজ কম্পিউটার দিয়ে সারা হয় বহু বছর ধরে, সেই সাধারণ বেসিক টেকনোলজিও প্রদান করা হয়নি বহু ব্যাংকে। এবং তাই স্বাভাবিক ভাবেই কর্মীদের কাজ বেড়ে গেছে ম্যানুয়ালি সব কিছু সম্পন্ন করতে করতে। ... ...

গুজরাল এবং জাফরি কমিটি এ ব্যাপারে যা সূত্র দিয়েছিল, তা হল এইঃ হিন্দিভাষী রাজ্যে শিখতে হবে তিনটি ভাষাঃ ১। হিন্দি (সংস্কৃত সমেত), ২। উর্দু বা অন্য কোনো আঞ্চলিক ভাষা, ৩। ইংরিজি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় ভাষা। অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে যে ভাষাগুলি শিখতে হবেঃ ১। আঞ্চলিক বা স্থানীয় ভাষা। ২। হিন্দি। ৩। উর্দু বা অন্য কোনো আঞ্চলিক ভাষা। ৪। ইংরিজি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় ভাষা। অর্থাৎ, কার্যত, হিন্দি এবং ইংরিজি শেখাটা প্রতিটি ভারতীয় শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। ... ...

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া ইলাসট্রেটেড উইকলি লিখছে, "বৃহস্পতি এবং শুক্রবার সর্বত্র বাঙালিরা মাথা উঁচু করে সগর্বে চলাফেরা করছিলেন। ট্রামে, অফিসে, রাস্তার মোড়ে- সর্বত্র বাঙালিবাবুদের আলোচ্য বিষয় কেবল মোহনবাগান। খালি পায়ে খেলে বাঙালি ছেলেদের বুট পায়ে দেওয়া ব্রিটিশ সৈন্যদের হারিয়ে দেওয়া গল্প।" অন্যদিকে ইংরেজরা একেবারেই ভাল চোখে দেখেননি মোহনবাগানের এই আচমকা উত্থান। ৪ অগস্টের হিতবাদী পত্রিকা জানাচ্ছে, সেমিফাইনালের দিন সন্ধ্যায় একই ট্রেনের বগিতে ভ্রমণরত একজন ভারতীয় খ্রিস্টান সরল মনে ইংরেজ সহযাত্রীর কাছে খেলার ফল জানতে চান। উত্তরে ইংরেজটি ওই ভারতীয় ভদ্রলোকের গালে সজোরে একটি চড় কষিয়ে দেন। ... ...

পার্মাফ্রস্ট বলে প্রকৃতিতে একটা ব্যাপার আছে যা স্থলভাগের প্রায় ২৪% এলাকা জুড়ে এর অবস্থান করে। পার্মাফ্রস্ট মানে মাটির নিচে সহস্র-অযুত বছর ধরে জমে থাকা চিরবরফ অঞ্চল। এই হিম-মৃত্তিকাই ধারণ করে আছে মানব সভ্যতার আদিম অস্তিত্বকে। এর বুকেই দাফন আছে বরফ-যুগের প্রাণীদের হাড়-কঙ্কাল, এমনকি কিছু গাছপালার অংশও। এগুলি এতটাই গভীর এবং পুরু বরফের স্তর যে, সাইবেরিয় অঞ্চলের বাসিন্দারা মাটি খুঁড়ে ঘর বানিয়ে তাতে শার্কের মত বৃহৎ প্রানীর মাংস অব্দি সংরক্ষণ করে বছরের পর বছর ধরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এই বরফও নাকি এখন দ্রুত গলে যাচ্ছে। কেননা, বিশ্ব-উষ্ণায়ণের জেরে এই সব অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে লাগামছাড়া হারে। ২৩ জুন, ২০২০ জানা গেল যে, রাশিয়ার মস্কো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর মেরুবৃত্তের অন্যতম শীতলতম এলাকা ভেরখোয়ানস্ক শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে সচরাচর লোকজন বছরের বেশরভাগ সময়ে মাইনাস ৫০ ডিগ্রির তাপমাত্রায় জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অংশে অনেক দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে, তাও ধীরে ধীরে নয়, প্রায় রাতারাতি। ... ...

প্রতিটি কোশের মধ্যে আয়ন চ্যানেল (ion channel) নামক একটি ফাঁপা অংশ থাকে এবং charged particles বা আয়ন ওই চ্যানেলের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করে। এই চ্যানেলের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম দরজা থাকে, যা নিয়ন্ত্রণ করে ওই পথে কতটা আয়ন কোন্ গতিতে ও কোন্দিকে যাবে। কোশগুলি আবার অন্যান্য কোশের সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করে গ্যাপ জাংশান (gap junction)-এর মাধ্যমে। লেভিনের উদ্দেশ্য ছিল একটি মাইক্রোস্কোপিক যন্ত্র কেনিউরোটক্সিনের মতো কাজ করিয়ে যে-কোনো চ্যানেলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা, যার ফলে যে-কোনো কোশের বিভাজন, অঙ্গগঠন, আকার ও অবস্থান নির্ধারণ করতে পারা যাবে ইচ্ছেমতো। মানে খুব সহজ ভাষায়—একটা ত্রিভুজাকৃতির ব্যাং বা আমাদের বিখ্যাত প্রবাদ অনুযায়ী ‘সাপের পাঁচ পা’ গঠন করাও সম্ভব হতে পারে! ... ...

নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে এই মুখ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয় মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে অজানা ভয়। সন্দেহ তালিকায় না থাকার আপ্রাণ চেষ্টা স্বরূপ সে ক্রমশ গুটিয়ে নেবে তার স্বাভাবিক অভিব্যাক্তিটুকুও। ভুলতে বসবে সংবিধান তাঁকে দিয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমবেত হবার অধিকার, মিছিল-মিটিং করার অধিকার। শিরদাঁড়া বেয়ে এক অজানা ভয় নেমে আসবে, নিয়ন্ত্রণ করবে তাঁর সমস্ত গতিবিধি, ঘুম ভেঙে ওঠা থেকে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত। সামগ্রিক এই ভয়ের চর্চায় কি গণতন্ত্রের মূল ভিতটাই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে না? ... ...

এর মধ্যে নতুন উপদ্রব করোনা সেন্টার এবং মানুষের আতঙ্কে বিকারগ্রস্ত আচরণ। বাড়ির পাশের হস্পিটাল সামান্য জ্বর কাশি হলেও পাঠিয়ে দিচ্ছে করোনা সেন্টারে। সেখানে সুস্থ স্বাভাবিক কোনো মেন্টেনেন্স নেই। যে কেউ, যার সরকারি হস্পিটালের অভিজ্ঞতা আছে, সে আন্দাজ করতে পারবে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার কিরকম হতে পারে। শুধু অব্যবস্থা তো নয়, সাথে জড়িয়ে আছে ভয়। যে ভর্তি তারও মানসিক অবস্থার অবনতি হবে। যারা কাজ করছে ওই সেন্টারে, তারাও ঢাল তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দার হয়ে দুরুদুরু বুকে কতটাই বা পরিষেবা দেবে। এরপর আশে পাশের মানুষজন যদি শোনে কোভিড সেন্টারে গেছে, রোগী এবং তার পরিবারের করোনা হোক না হোক, বাড়িতে-এলাকায় স্বাভাবিক ভাবে থাকা যে আর হবেনা এটা নিশ্চিত। যদি বাড়ি বয়ে একদল আতঙ্কগ্রস্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকজন মারতেও আসে, মৃত্যুর আগে যে প্রশাসন এসে পৌঁছাবে না এ গ্যারান্টি দেওয়াই যায়। পৌঁছালেও সেটা ওই ১-২% ব্যতিক্রম লিস্টে। ফলে বাবা এবং বাবার মতো বহু মানুষ যে কোনো ধরনের অসুখই অত্যন্ত যত্নে লুকিয়ে রাখছে। এমনকি নিজের বাড়ির লোকের থেকেও। ... ...

ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট তৈরি করার সময়ে আন্দাজ পেয়েছিলাম এটা সরকারি সদিচ্ছা এবং অর্থ জোগাড় করে ফেললেই তক্ষুনি করে ফেলা যায় না। এমবিবিএস ডিগ্রি থাকলেই যে এটা সামলাতে পারবেন যে-কোনো ডাক্তার এমন নয় ব্যাপারটা। এখানে কাজ করতে হলে পাস করার পর অন্তত বছর দুয়েক ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা চাই তাঁর, বয়স হতে হবে পঞ্চাশের নীচে, কারণ শারীরিক পরিশ্রমও প্রচুর একাজে, সবকটা ইন্দ্রিয় সজাগ রেখে কাজ করতে হয়। প্রয়োজনে রোগীকে অজ্ঞান করে, তাঁর ফুসফুসে টিউব ঢুকিয়ে, ভেন্টিলেট করার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে এই চিকিৎসকের। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই প্রাণসংশয় হবে রোগীর। অতএব এ কাজ ডাক্তার মাত্রেই করতে পারবেন, এমন নয়। ... ...

একটা কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে – যদি ৭০% থেকে ৯০% জনসংখ্যার সংক্রমণ ঘটে (১০.০৪.২০২০-তে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাব্লিক হেলথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী) তাহলে আমরা হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছি এমনটা ভাবতে পারি। যদি এ পরিমাপ ৪০-৫০%-ও হয় তাহলেও এরকম একটা পরিসংখ্যানে পৌঁছুনো কার্যত অসম্ভব। নিউ ইয়র্কের মতো করোনা-বিধ্বস্ত শহরে যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৪,২৯৯ জনের (সমগ্র ভা্রতের চেয়ে অনেক বেশি) সেখানে শহরের সমগ্র জনসংখ্যার মাত্র ১২.৩ থেকে ১২.৭% আক্রান্ত হয়েছে। ফলে ওখানেও হার্ড ইমিউনিটির কোন ভরসা বৈজ্ঞানিকেরা দেখতে পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে ভারতবর্ষ উজার হয়ে গেলেও শেষ অবধি হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে কিনা সন্দেহ আছে। ... ...

তবে ডিনার পর্বের এখনও বাকি আছে। অর্ডার নিয়ে সুন্দরী ওয়েট্রেস চলে যাবার পর আবার শুরু হল আলাপ। বিষয় থেকে বিষয়ে ভাসছি যেন বানের জলে কলার ভেলার মতন। এরই মধ্যে কিঞ্চিৎ পানীয়। এ বিষয়ে ভাষার অবতার বোধগম্যতা সমস্যা হয়নি অবশ্য। এবং তারপর অপূর্ব ক্রিম ও গাজরের স্যুপ। যদি অভয় দেন তো বলি, ইউরোপীয় কন্টিনেন্টালস্যুপ এখনও চিনে স্যুপকে দশ উইকেটে ইনিংসে হারাবে। তা চিনেরা সারা পৃথিবী যতই তাদের খাবারে ছেয়ে ফেলুন না কেন। তারপর একসময় প্রধান পদটিও এসে গেল। অবশ্য মাছ বাদে তাতে আছে চটকে মাখা আলু সেদ্ধ আর একজামবাটি সালাদ, যার অনেকগুলো পাতা যে খাদ্য আগে জানতাম না। সেদ্ধ মাছটি একাই যদিও কাফি ছিল। ট্রাউট জাতীয় কোনো মাছ, বিঘৎ খানেক সাইজ। ইন নদীতে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় এমনটাই শুনলাম। অস্ট্রিয়ান জার্মান নামটাও শুনেছিলাম, কিন্তু ওইটুকু মাছের অত বড়ো খটোমটো জার্মান নাম মনে রাখার মতো এলেম আমার নেই। ... ...

সময় যত গড়িয়েছে সাইরাকিউজ রণক্ষেত্র ছেড়ে ততই পিছিয়ে চলেছে এথেন্স বাহিনীও। আর কিছুদূর যেতে পারলেই নিশ্চিন্ত হবেন তাঁরা। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল এতক্ষণ, এক্কেবারে পরিকল্পনা আনুযায়ী, নিখুঁত। হঠাৎ, চাঁদের আলোটা যেন কেমন কমে যেতে লাগল। অবাক বিস্ময়ে এথেন্স বাহিনী আকাশে চেয়ে দেখে—চাঁদের অনেকটা অংশই নেই, পুরো গায়েব। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? আজ তো পূর্ণিমা। আকাশে তো পুরো চাঁদই থাকার কথা। সন্ধ্যায় তো পুরো চাঁদই দেখেছিল তাঁরা। তাহলে, ব্যাপারটা কী হল? আর যত সময় যাচ্ছে ততই ক্ষয় পেতে থাকছে চাঁদ। চারিদিকে অমাবস্যার আঁধার নেমে আসছে যেন! সবাই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সৈন্যদল মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল। সেনাপতি নিসিয়াসের নেতৃত্বে বসল জরুরি মন্ত্রণা সভা। এদিকে ক্ষয়তে ক্ষয়তে ক্রমেই অদৃশ্য হলেন চন্দ্রদেব। ... ...

কথা শুরু হয় রূপকলা কেন্দ্রের সঙ্গে, যার অধিকর্তা তখন আইএএস অনিতা অগ্নিহোত্রী। ইসরো এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে মউ সাইন হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে সই করেন এম এন রায় ও অনিতা অগ্নিহোত্রী। ইসরোর পক্ষে ডিরেক্টার মি ভাটিয়া। আজ থেকে পনেরো বছর আগের, পনেরো কোটি টাকার প্রজেক্ট। ইসরো আর্থস্টেশন থেকে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইডথ ফ্রি দিয়েছিল। এমওপিআর এবং ডিএফআইডি প্রজেক্টের টাকায় পশ্চিমবঙ্গেও রমরমিয়ে শুরু হয়েছিল এডুস্যাট গ্রামস্যাট প্রজেক্ট। একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সারা ভারতের এডুস্যাট নেটওয়ার্কের বেস্ট ইউটিলাইজেশন স্টেট। যেখানে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে, প্রতিটি ব্লক প্রাইমারি হেল্থ সেন্টারে, ব্রডকাস্টিং মোডে শিক্ষাদান সম্পূর্ণ হতে পারে। ... ...

এই সামগ্রিক পরিকল্পনা সফল করার জন্য NCERT-র বিভিন্ন কমিটি বদলে দেওয়া হয়, প্রতিথযশা ঐতিহাসিকদের পদচ্যুত করা হয়। কিন্তু নতুন পাঠক্রম অনুযায়ী কারা বই লিখবেন, কারাই বা পর্যালোচনা করবেন? শেষ পর্যন্ত এসব বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি, যদিও NCERT-র তৎকালীন অধিকর্তা জানিয়ে রাখেন, নতুন বইগুলোর বিষয়বস্তু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে কি না, ধর্মবিশেষজ্ঞদের দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে! সেইসময়ের শিক্ষা তথা মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী এতে যোগ করেন, ধর্ম-সংক্রান্ত যে-কোনো বিষয় ধর্মের প্রধানদের অনুমোদন সাপেক্ষেই পাঠ্যবইয়ে ঢোকানো যাবে [Mukherjee, Mridula and Mukherjee, Aditya, 2001]! অর্থাৎ যুক্তি, তথ্য, ঐতিহাসিক সত্য, বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়ে আর জ্ঞানচর্চা করা যাবে না, জ্ঞানচর্চা পরিচালিত হবে ধর্মগুরুদের নির্দেশে। ... ...