
এসে পড়েছে ১৪২৫ নববর্ষ সংখ্যার বকেয়া কবিতা। এই পর্বে লিখেছেন মিতুল দত্ত, চিরশ্রী দেবনাথ, সোনালী সেনগুপ্ত, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, কল্পর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়, হিন্দোল ভট্টাচার্য। ... ...

পয়লা একলা - ঐ একই হলো, এমনিতেও পয়লা হলে সচরাচর একলা হয়। সে যাই হোক, সংক্রান্তি পেরিয়ে গেল, আজ কবিতার শুভ হালখাতা মহরৎ। কবিতার ভৌগোলিক গন্ডী হয়না, কিন্তু সাহিত্যের ভূগোল কিছু থাকে তো। ক'দিন আগেই আলোচনা হচ্ছিল বাংলা সাহিত্যের কলকাতা-কেন্দ্রিকতা নিয়ে। সেই ভূগোলের সীমানা ভাঙার চেষ্টা করছি, আপাতত তার সামান্য ছোঁয়া এখানেও থাকবে। হুগলী কপোতাক্ষ আড়িয়াল খাঁ বুঢ়া লুঈ ছুঁয়ে সুদিন আসুক, নতুন বছরের কবিতা পড়ি আমরা। এই পর্বে লিখছেন যশোধরা রায়চৌধুরী, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, মিঠুন ভৌমিক, সোমনাথ রায়, জারিফা জাহান, সায়ন কর ভৌমিক, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুমন মান্না। প্রকাশিত হল নববর্ষ ১৪২৫ সংখ্যার প্রথম পর্বের কবিতাগুলি। খুব শিগ্গিরই বেরুবে আরো কবিতা, এই সংখ্যার পরের পর্বে। ... ...

তোমাকে পড়ছি রাষ্ট্রদ্রোহী, তোমাকে খুঁড়ছি নিরন্তর যাওয়া-আসা সেও চলতেই থাকে, পুড়ে যায় পোড়ো মাটির ঘর ... ...

যাহা ষোল তাহাই আঠেরো। রইল আঠেরোজন কবির ষোড়শোপচার। ... ...

আফজল আহমেদ সৈয়দ। উর্দু কবি ও অনুবাদক। জন্ম অবিভক্ত ভারতবর্ষের গাজীপুরে। ১৯৪৬ সালে। ১৯৭৬ থেকে বসবাস পাকিস্তানের করাচিতে। পেশায় কীটপতঙ্গ বিশারদ। উর্দু নাজম-এর অন্যতম আধুনিক কবি। নাজম লেখা হয় ছন্দোবদ্ধভাবে এবং মুক্ত বা গদ্যছন্দেও। তাঁর উর্দু নাজমের অনুবাদ প্রকাশিত হয় ইংরিজিতে। ... ...

যাত্রামুখে দেখি চোখ বড়ো করা কালো মেঘ গায়ে লালাভা মেখে ওত পেতে আছে, শিলাপাতের সম্ভাবনাসহ, ‘আকাশের শিলাস্তূপ থেকে তিনি বর্ষণ করেন শিলা, আর এ দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন’, শঙ্কা জাগে মনে, আমার খেতের গর্ভিণী ধানের ছড়া, আমার গাছের আমের যত বোল, আমার খড়ের প্রিয় চালাঘর, এ যাত্রা সর্বনাশের সামনে দাঁড়িয়ে গেল তাহলে, হঠাৎ এ-ও মনে হয়ে যায় যে ‘...আর যাকে ইচ্ছা তার ওপর থেকে এ অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন’, সহসাই এরকম বিশ্বাস জেগে ওঠে মনে যে আমার ওপর থেকে তা ফিরে যাবে অন্যদিকে, হ্যাঁ, যাবেই ফিরে ইচ্ছাশক্তির বলে, এ বিশ্বাস আমাকে দেন ভারতবর্ষীয় কৃষি ও আবহাওয়াবিদ খনা, তাঁর ‘ধলা মেঘে গলা পানি/ কালা মেঘে ছাগল দৌড়ানি’ আর্যাযোগে, ঝরঝরে লাগতে থাকে নিজেকে, মেঘের দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং কনিষ্ঠাঙ্গুলি দুটোই একযোগে তুলে ধরি, বলি যে, দুটোর যেকোনোটা খুশি ঢুকিয়ে বসে থাক, শান্তি পাবে, বেচারা মেঘের লালচোখ মুহূর্তে নত হয়ে যায়, ব্রেভো, গর্বে আবারও সাঁইজির চরণ জাগে পোড়া মুখে, কেন যে জাগে, ‘মানুষে মানুষের বিহার/ মানুষ হলে সিদ্ধ হয় তার/ সে কি বেড়ায় দেশ-দেশান্তর/ যেজন পিড়েয় পেরুর খবর পায়’, বারকয় চরণটি ভাঁজতে ভাঁজতেই আমার বোরাক এসে পৌঁছায় কদমতলে, এ কদম সেদিন যে সে কদম ছিল না, নিচে তার ছিল যথেচ্ছ প্রশ্রয়, কামনার ইঙ্গিত ... ...

সাহেব--বিবি - গোলাম : শ্রীদর্শিনী চক্রবর্ত্তী / জ্বর : রমিত দে / বাজিগর : শর্মিষ্ঠা ঘোষ / বিমূর্ত স্বর : ত্রিশাখ জলদাস / শীতকাল : দীপ্তেন / লিবিডো (১) : আষিক / এক শীত থেকে আরেক শীত : সায়ন্তন গোস্বামী / কবন্ধকথা : উদয়ন ঘোষচৌধুরি / অবগাহন : সৌনক দত্ত তনু / আয়না কিম্বা ফুলঝুরি : মজনু শাহ ... ...

পুরনো প্রেম যশোধরা রায়চৌধুরী নৌকার গায়ে আলো বিক্রম পাকড়াশি শান্তি সম্পর্কিত মাজুল হাসান দৃষ্টিবিভ্রম দোলনচাঁপা চক্রবর্তী তোমাকে ছাপিয়ে যায় পালক বিক্রেতার হাসি অরণ্য খয়েরী বাতাস শাকিলা তুবা না-মানুষ অধ্যায় অথবা নিছক ক্ষুধার গল্প সায়ন্তন ... ...

প্রেম সরে গেলে, লিখনটি - অলীক দেওয়ালে সুমন মান্না কথা তো কাহিনিময় স্তব্ধতা কবিতার মতো অলক্ষ্যে ছুঁয়ে গেল স্মিতরূপ বেদনার ক্ষত বুক জুড়ে শূন্যতা যেন পরিযায়ী পোষাকের ভাঁজ কাল ফিরে গিয়েছিল ঘুম, জেগে থাকা সারারাত আজ- তোমাকে লুকিয়ে রেখে মৃদু ভয় খোঁজা সাপখোপ আলোর ঘোমটা টানা মুখ ঢাকা গাঢ় ঘেরাটোপ ... ...

অষ্টবসুর আট আহ্ণিকে মৈথিলি শব। রোদ রাইসর্ষের মাসতুতো দিদির দ্বিতীয় পক্ষ ননদের মেয়ের মামী হ’লেও, সম্পর্কে আমার বউদি লাগে। খেজুর রসে ধোয়া চোখ জারুল ছায়া। ... ...

ঘুরেছি প্রেতের মত জ্বলনে স্খলনে প্রত্নপোড়া মায়া এসে ঘিরেছে শরীর মাংস-শোধনে মেখে নির্বাপিত রোদ পতঙ্গকরোটি ঘিরে অনুপম খনিজ খাদক পুরুষ্টু ওষ্ঠে, দেখি, ক্লেদ লেগে আছে গর্ভনুনে ছেয়ে আছে সামুদ্রিক জোঁক ঘোষিত-আঘাতে তন্তুময় পুরুষ-পাবক ঋতুতাপসীরা আজ স্নাত ও উভলিঙ্গ হোক! ... ...


প্রিয়মুখ শরতের মেঘে আলস্য অনুরোধ পেলে মুখ টিপে, পাশ ফিরে, জেগে। কিবা দিন উচাটন তোলা ফুলছাপ চাদরে দরোজা দমকা বাতাস ছুতো খোলা। ... ...

'তারে খুঁজিয়া পাইবে' এমন কথা পেয়ে দেখো, মাতাল হয়ে কেমন বসে আছি যদি যন্ত্রণাতে সঙ্গী হতে চেয়ে আমি যন্ত্রণাকে সঙ্গে করে বাঁচি? প্রেম ভীষণ ভালো। ভেঙে যাওয়াও ভালো। শুধু খারাপ লাগে, নিজের ভেঙে পড়া যেন বমির মতো, থকথকে আঠালো কিছু সত্যি মিথ্যে কথার নড়াচড়া ... ...

যখন তুমি পুরুষমানুষ থেকে দূরে আছ, খাও যত ইচ্ছে পপকর্ণ, নিজের ভয়ংকর গোপন কথাগুলো নিজেকেই আরেকবার শোনাও ফিসফিস করে। একখানা জ্যান্ত কবিতার বই সঙ্গে রেখ, তোমার দিকে এগিয়ে আসা বিচ্ছুগুলো পিটিয়ে মারার জন্য ওটা লাগবে। খবরদার, ভুলেও বেড়াল কোলে নিও না, যা দিনকাল পড়েছে, স্তনে আঁচড় দেবার ঘটনা গত পরশুও ঘটেছে ভূতের গলিতে। এ সময় ইউক্লিডের উপপাদ্যগুলো মনে আছে কিনা, সেটা আঙুল দিয়ে লিখে দেখতে পার বালিতে। ... ...

উলের বলের মত ক্ষয়মান প্রতিটি বিকেল অতএব হে পাঠক অকালপ্রবীণ কাঁটা ও চুলের মাঝে এইবেলা মাছ খুঁজে নিন সায়াহ্নে আপন পুচ্ছ ধাওয়া করা বিড়ালের শোভনীয় নয় | ... ...

সেই যে জারজ পিঁপড়ে, জারে জন্ম যার জারে মৃত্যু জারে বিয়ে জারেতে সংসার... ... ...

শতপথ ব্রাহ্মণের | আমি একা এক পথে হেঁটে হৈমবতী রাজকন্যা পরবাসে কুলটা হলাম... ... ...

হে ধর্ষিতা, তুমি জান, শরীর কোথায় শেষ হয় কোথা থেকে শুরু হয় অদ্ভুত, দ্বিতীয় অপমান... ... ...

তোমরা ক্ষমা ক'রো আমার যৌনতা, আমার ক্রোমোজোম এতদিন ধরে শোষণ জ্বালিয়ে রেখেছে তোমাদের ত্রস্ত বিস্রস্ত করেছে ছিন্নমূল করেছে, মা। ... ...